মোঃ এমাদ মিয়া নরসিংদী প্রতিনিধি
০৩:১৮ পি.এম
নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় পুলিশের একটি অভিযান চলাকালীন গ্রেফতার করা হয়েছে এক মাদক কারবারিকে।
এ অভিযানে ৩৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ বেলাব থানার চর কাশিমনগর পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, বেলাব থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ফজলুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে জিডি নং-৩৪, তারিখ ১ আগস্ট ২০২৬-এর ভিত্তিতে চর কাশিমনগর পূর্বপাড়ার সাঈদ উকিলের বাড়ির সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালান।
এ সময় মো. হানিফ মিয়া (৩৭), পিতা- মো. মধু মিয়া, গ্রাম- চর কাশিমনগর পূর্বপাড়া, থানা- বেলাব, জেলা- নরসিংদীকে আটক করা হয়েছে।
তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ৩৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ১০০ গ্রাম গাঁজা যার আনুমানিক মূল্য ৩ হাজার টাকা এবং একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন কালো রঙের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতার হানিফ মিয়া পলাতক আসামি আলতাফ হোসেন ওরফে আলতা (৪০), মো. আমির হোসেন (৩৮) এবং উজ্জ্বল মিয়া (২৫)-এর সহযোগিতায় মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ওই এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন।
পলাতক তিনজনের বাড়িও বেলাব উপজেলার চর বাঘবের ঝালকান্দা এলাকায়।
এ ঘটনায় গ্রেফতার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে বেলাব থানায় নিয়মিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
বেলাব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের ব্যক্তিগত কক্ষে অবস্থানরত দুটি বহিরাগত অতিথির বিরুদ্ধে সমকামী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপটে হল প্রশাসন ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ার ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গত ২৭ জুলাই ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে অবস্থানরত দুই যুবক অনৈতিক ও সমকামী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করছেন। ভিডিওটি প্রকাশ না করার জন্য তারা অনুরোধ করে এবং তাদের ক্ষমা চাওয়ার দৃশ্যও থাকে।
ইব্রাহীম খলিলের রুমমেট ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অনয় চৌধুরী ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে বলেন, ওই দুই অতিথি ২৭ জুলাই খলিলের কক্ষে উপস্থিত হয়। পরে তাদের আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। তিনি এটি আরও জানান যে, উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্য ও স্বীকারোক্তি গ্রহণ করলেও বিষয়টির স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়নি। নিরাপত্তার কারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে।
সমালোচনার মুখে, ইব্রাহীম খলিল ফেসবুকে একটি বক্তব্যে বলেন, ঘটনা তার কক্ষে ঘটলেও তিনি এই সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসা পরিচিত ব্যক্তিদের মানবিক কারণে তার কক্ষে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। ঘটনার সময় তিনি কক্ষে ছিলেন না এবং পরে কেউ তাকে বিষয়টি নিয়ে কিছু বলেনি। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইব্রাহীম খলিল একটি অডিও কল রেকর্ড দেন, যেখানে অভিযুক্তদের একজনকে বলতে শোনা যায়, তারা 'শয়তানের ধোঁকায়' পড়ে ওই কাজে জড়াতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু কাজটি শেষ হওয়ার আগেই রুমমেট দেখে ফেলায় তা সম্ভব হয়নি।
এভাবে, ২০২৫ সালের ডাকসু এবং হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে শহীদুল্লাহ হলের এজিএস নির্বাচনের দিন ইব্রাহীম খলিলের নাম বেরিয়ে এসেছে এবং তিনি সংগঠনটির সক্রিয় কর্মী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন খান।
এ প্রসঙ্গে শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া বলেছেন, এই পরিস্থিতি উদ্ভবের কারণে ইব্রাহীম খলিলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সহায়তায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান বলেন, এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কাছে ইতোমধ্যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাঁর এবং রুমমেটের বক্তব্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে হলের পুকুরপাড়ে একদল শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে মিছিল ও বিক্ষোভ করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টায়। এই কার্যক্রম শেষ হবে আগামী ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে।
রোববার (২ আগস্ট) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ ইউনিটগুলো হলো - ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’, ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’।
সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৯ ডিসেম্বর, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১২ ডিসেম্বর, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৬ ডিসেম্বর, ‘চারুকলা ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) আগামী ২২ ডিসেম্বর এবং ‘আইবিএ ইউনিট’-এর পরীক্ষা আগামী ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
‘আইবিএ ইউনিট’ ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’ ব্যতীত অন্য তিনটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয় কেন্দ্রগুলো হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
সভায় চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের MCQ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের MCQ এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের MCQ এবং ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চারুকলা ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন/লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আইবিএ ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যান্য ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এর মাঝে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলাফলের উপর থাকবে ২০ নম্বর।
ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৪ সনের মধ্যে মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০২৬ সনের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।
‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।
‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।
‘চারুকলা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।
সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্লাস ২৮ মার্চ ২০২৭ তারিখে শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার সম্প্রতি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছেন। ওপার বাংলার দর্শকদের কাছে ‘পাখি’ নামেই পরিচিত এই অভিনেত্রী এবার ঢাকাই সিনেমায় আগমন করতে যাচ্ছেন।
মোহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’-তে তাঁকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে।
শুক্রবার ঢাকায় এসে তিনি সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা রেস্তোরাঁয় সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রথমবার বাংলাদেশে এসে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়ে তিনি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছেন।
মধুমিতা বলেন, ‘এই এক বেলার মধ্যেই এত আন্তরিকতা পেয়েছি যে মনেই হচ্ছে না আমি প্রথমবার কোথাও এসেছি। সবাই আমাকে যেভাবে আদর করে স্বাগত জানিয়েছেন, তার জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। আমি এত সুন্দর একটি টিমের সঙ্গে কাজ করছি, তাই নিজেকে প্রচণ্ড ভাগ্যবতী মনে করছি।’
তিনি নতুন সিনেমায় নিজের চরিত্র ও গল্প নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। মধুমিতা জানান, ‘ছবিটির গল্পঅনেকটাই আলাদা এবং ইউনিক। কলকাতায় আমি এর আগে এমন ধরনের চরিত্র করিনি। তাই সিনেমাটি নিয়ে আমি ভীষণ এক্সাইটেড।’
এছাড়া, তিনি শুটিংয়ের জন্য আবারও বাংলাদেশে আসার কথা জানান। তিনি বলেন, শুটিংয়ের সময় বাংলাদেশকে আরও কাছ থেকে জানার ও চেনার সুযোগ হবে। এখানকার মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা আরো সুন্দর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
‘গুলশানের চামেলি’র চরিত্রটি তাঁর জনপ্রিয় ‘পাখি’ চরিত্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মধুমিতার প্রতিক্রিয়া ছিল আবেগঘন। তাঁর বক্তব্য, ‘বোঝে না সে বোঝে না’র ‘পাখি’ চরিত্রটির জন্য আমি এত ভালোবাসা পেয়েছি, যা অভাবনীয়। আপনারা সবাই যখন আমাকে ‘পাখি’ বলে ডাকেন, তখন আমি চাইব বাংলাদেশে এমন একটি প্রজেক্ট হোক, যেটার নামেই সবাই আমাকে ন্যাচারালি চিনুক। আমি চাই এই সিনেমার চামেলি হয়ে সকলের ভালোবাসা পেতে। পাখি নয়, আমি চাই সবাই যেন এখানে আমাকে চামেলি হিসেবে চিনে, ভালোবাসা দেয়। সবার কাছ থেকে ভালোবাসা চাই, যেন আমি এখান থেকে নতুন একটি নামে পরিচিত হতে পারি।’
অ্যাক্সেল ফিল্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন আবদুল্লাহ জহির বাবু। এই সিনেমায় মধুমিতা সরকার ছাড়াও অভিনয় করছেন রোজিনা, আমিন খান, আজমেরী হক বাঁধন, ওমর সানী, মিশা সওদাগর, আশীষ খন্দকার ও মুকিত জাকারিয়া সহ অনেকেই। সিনেমাটির শুটিং আগামী নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের সামরিক গবেষকেরা ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক–এর মতো মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের আউটপুট ব্যবহার করে নিজেদের প্রতিরক্ষা–উপযোগী এআই সিস্টেম তৈরি করে চলেছেন।
এর জন্য তারা ব্যবহৃত প্রযুক্তিটির নাম হলো ‘মডেল ডিস্টিলেশন’, যার মাধ্যমে শক্তিশালী একটি এআই মডেলের উত্তর বা আউটপুট ব্যবহার করে ছোট, দ্রুত এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালনা করা যায় এমন নতুন মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তথ্যটি উঠে এসেছে। রয়টার্স ৮০টিরও বেশি চীনা গবেষণাপত্র ও পেটেন্ট পর্যালোচনা করেছে এবং দেখেছে যে, চীনের সেনাবাহিনী-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতিতে মার্কিন এআই মডেলের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নজরদারি, সাইবার যুদ্ধ, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো কাজে ব্যবহারের জন্য নিজস্ব এআই তৈরি করছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র উন্নত চিপ ও কৌশলগত প্রযুক্তি চীনের নাগালের বাইরে রাখতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করলেও চীনা গবেষকেরা বিকল্প পথ হিসেবে মডেল ডিস্টিলেশন ব্যবহার করছেন।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো ছাড়াই তুলনামূলক ছোট ও নিরাপদ এআই মডেল তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছেন।
রয়টার্সের যাচাই করা একটি গবেষণাপত্রে দেখা যাচ্ছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) একটি গোয়েন্দা ও সাইবার ইউনিট সংবেদনশীল সামরিক সফটওয়্যার কোড বিশ্লেষণে জিপিটি-৩.৫ ব্যবহার করে। পরে ওই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি দেশীয় এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণরূপে চীনের সামরিক নেটওয়ার্কের মধ্যেই পরিচালিত হতে পারে।
একটি অন্য গবেষণায় দেখা গেছে, চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি ডিস্টিলেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ইমেজ প্রসেসিং মডেলকে ছোট আকারে রূপান্তর করেছে। এর ফলে, ড্রোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও বিশ্লেষণ, নেভিগেশন ও লক্ষ্য নির্ধারণের মতো কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে।
এছাড়া চীনের অ্যাকাডেমি অব মিলিটারি সায়েন্সেস ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ ও চালকবিহীন সাবমেরিনের যৌথ অভিযানে লক্ষ্য শনাক্তকরণের জন্য একই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তবে ডিস্টিলেশন প্রযুক্তিরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যদিও এটি মূল মডেলের কিছু নির্দিষ্ট দক্ষতা স্থানান্তর করতে পারে, তবে সম্পূর্ণ সক্ষমতা বা বুদ্ধিমত্তা উপর নির্ভরশীলভাবে হুবহু অনুকরণ করতে সক্ষম নয়। সুতরাং এটি উন্নত এআইয়ের বিকল্প নয়, বরং বিভিন্ন কাজের জন্য কম খরচে স্থানীয়ভাবে ব্যবহারযোগ্য একটি সমাধান।
এদিকে এআই প্রযুক্তির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে এবং মডেল ডিস্টিলেশন এখন দুই দেশের মধ্যে নতুন বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান মার্কিন এআই মডেলের সক্ষমতা অনুমতি ছাড়াই কাজে লাগাচ্ছে। তবে চীন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এআই খাতে আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ