০৭:০৫ পি.এম
ময়মনসিংহ নগরীর ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকার আলোচিত রাজিব আহমেদ রুবেল ওরফে ‘কাইল্যা রুবেল’ হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বাসা ছাড়তে বলাকে কেন্দ্র করে বাড়িওয়ালাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ নিতেই ওই নারীর চার ছেলে মিলে ভাড়াটিয়া রুবেলকে হত্যা করেছেন। হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মধ্যেই ঘটনায় জড়িত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকালে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা সবাই বাড়ির মালিক পারুল বেগমের ছেলে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
পিবিআই জানায়, নগরীর ছত্রিশবাড়ি কলোনির বাসিন্দা পারুলের বাসায় প্রায় এক মাস আগে একটি কক্ষ ভাড়া নেন রুবেল। সেখানে তিনি নিয়মিত মাদকের আসর বসাতেন ও কেনাবেচা করতেন। এ নিয়ে বাড়ির মালিক পারুল ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রুবেলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে পারুল তাকে বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দেন।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে রুবেল প্রথমে বাড়িওয়ালা ও তার ছেলে জনির কক্ষের দরজায় লাথি মেরে তাদের ঘুম থেকে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি বাড়ির মালিককে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। মাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির বিষয়টি অন্য তিন ভাইকে জানান পারুলের ছেলে জনি।
এরপর পূর্ববিরোধ এবং মাকে মারধরের প্রতিশোধ নিতে চার ভাই মিলে রুবেলের ঘরে যান। সেখানে তাকে প্রথমে বাঁশ দিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যান তারা।
এ হত্যার ঘটনায় রোববার রাতেই নিহতের বাবা মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাড়িওয়ালা_parul_begum_সহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং পিবিআই সদর দফতরের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মধ্যে মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনার গভীরে আরও কিছু রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চারজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া তারা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করায় সোমবার বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, মামলার এক নম্বর আসামি বাড়ির মালিক পারুল বেগম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সুস্থ হলে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন