ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীনে কৃত্রিম টাইফুনের অভিজ্ঞতা নিতে পর্যটকদের ভিড়, বাড়ছে ‘ডার্ক ট্যুরিজম’


চীনে কৃত্রিম টাইফুনের অভিজ্ঞতা নিতে পর্যটকদের ভিড়, বাড়ছে ‘ডার্ক ট্যুরিজম’

চীনে বর্তমানে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার পরিবর্তে মারাত্মক কৃত্রিম দুর্যোগের অভিজ্ঞতা নেওয়া এবং প্রকৃত দুর্যোগ ও ট্র্যাজেডির স্থানগুলো পরিদর্শনের একটি নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই ‘ডার্ক ট্যুরিজম’ বা দুর্যোগকেন্দ্রিক পর্যটন। নতুন এই ধাঁচের ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃত্রিম দুর্যোগের মুখে জীবনরক্ষার কৌশল শেখা এবং দেশের অতীত ট্র্যাজেডি উপলব্ধি করা।

দ্য গার্ডিয়ান-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কৃত্রিম দুর্যোগ অভিজ্ঞতা প্রদানকারী কেন্দ্র ও জাদুঘর গড়ে উঠেছে। হ্যাংঝৌ-এর ‘লুজিং বেস’ নামক ২০২,০০০ বর্গমিটার জায়গায় কৃত্রিমভাবে টাইফুন ও ভূমিধসের মতো আবহাওয়া তৈরি করা হয়। এখানে হাজারো মানুষ অর্থের বিনিময়ে এসে দুর্যোগের ভয় এবং তা থেকে বাঁচার উপায় শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। বেইজিং ও গুয়াংঝৌ শহরেও ৪ডি প্রযুক্তি এবং বিশেষ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে জনগণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১০টি টাইফুন এবং রেকর্ড গরমের কারণে দেশের প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই কারণে সংকটকালীন সময়ে কিভাবে শান্ত থাকতে হয় এবং নিজেকে রক্ষা করতে হয়, তা শেখানোর জন্য স্থানীয় সরকারগুলোকে বাস্তবভিত্তিক দুর্যোগ শিক্ষার প্রসার ঘটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

কৃত্রিম পরিবেশের পাশাপাশি অনেকেই বেছে নিচ্ছেন প্রকৃত ট্র্যাজেডির স্থানগুলোকে। ২০০৮ সালে সিচুয়ানে ৮.০ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৭০,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিল। ধসে পড়া সেই শহর কিংবা নানজিং গণহত্যার মতো ট্র্যাজেডির স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে তরুণদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিনামূল্যে হলেও আগে থেকে বুকিং দিয়ে এসব স্থানে যাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের নতুন প্রজন্মের পর্যটকরা শুধু সুন্দর দৃশ্য দেখার জন্য নয়, বরং স্থান ও ঘটনার গভীর অনুভূতি পেতে চায়। দুর্যোগের মুখে কিভাবে টিকে থাকতে হয় তা শেখার পাশাপাশি, দেশের অতীত কষ্ট ও ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং দেশকে শক্তিশালী করার উদ্দীপনা পেতে তরুণরা এই ‘ডার্ক ট্যুরিজমে’ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ আহরণে জেলেদের অতিমাত্রায় আগ্রহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ আহরণে জেলেদের অতিমাত্রায় আগ্রহ

নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২২ দিনের আহরণ নিষেধাজ্ঞার সময় বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চলে এবার জেলেদের মধ্যে ইলিশ আহরণের প্রতি অতিমাত্রায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সরকার দক্ষিণ উপকূলের ১৬৮টি উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারের জন্য ২৫ কেজি করে মোট ১৬,১৫৭.২৫ টন চাল বিনামূল্যে বিতরণ সম্পন্ন করেছে। বরিশাল অঞ্চলের ৩,৫৮,৫১৬ জেলে পরিবারের মধ্যে ৮,৯৬২.৯ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উৎপাদিত ও আহরিত ইলিশের ৬৮ ভাগ বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নদ-নদী থেকে আহরণ করা হচ্ছে। এই কারণে বরিশালকে ‘ইলিশের রাজধানী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে আগামী ২৮ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত উপকূলের ৭,১৩৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এবং সারা দেশে এই মাছের আহরণ, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ রয়েছে। সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং কোস্টগার্ডসহ নৌবাহিনী কাজ করছে। বরিশালসহ উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

নিষেধাজ্ঞার প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৪শ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইন অমান্য করায় ৩শ জেলে ও মৎস্যজীবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং প্রায় ২০ কোটি টাকার ১.২৫ কোটি মিটার নিষিদ্ধ জাল বাজেয়াপ্ত করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানিক দল। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৪শ মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানিক দল বিভিন্ন নদী ও আড়ত থেকে প্রায় ৫০ টন ইলিশ আটক করে তা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিতরণ করেছে বলে মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের সঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তরের পরিদর্শন দল ইতোমধ্যে ২ হাজারেরও বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রায় ৫শ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, আড়াই হাজার মাছঘাট, ৬ হাজারের মতো মাছের আড়ত ও আরও সাড়ে ৬ হাজার বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে অভিযানিক দলের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন এলাকায় চোরাই মাছ শিকার ও বিপণন অব্যাহত রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে সফলতা অর্জনের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেছে মৎস্য অধিদপ্তর।

সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন মাছের মোকাম পরিদর্শন করেছেন। তিনি বরিশালে জেলে ও মৎস্যজীবীদের সঙ্গে আলোচনা সভায় নদ-নদীর প্রবাহ হ্রাস, নাব্যতা সংকট ও নদী দূষণের বিষয়গুলো স্বীকার করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইলিশের বংশ বিস্তারে নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চলমান ২২ দিনের আহরণ নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে পালনে তিনি জেলে ও মৎস্যজীবীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ১৩ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইলিশের সহনীয় আহরণ ও উৎপাদন ৫,৭১,৩৪২ টন থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫,০০,২৮৮ টনে হ্রাস পায়। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে ২২ দিনের আহরণ নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রজনন মৌসুমে বরিশালসহ অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নদ-নদীতে মা ইলিশের দল ৮,৮৪,৮০২ কেজি ডিম ছাড়লেও ২০২৫ সালে তা ৭,৯১,৫৬৪ কেজিতে হ্রাস পায়। ফলে ২০২৪ সালে জাটকার উৎপাদন ৪৪,২৪০ কোটি থেকে ২০২৫ সালে ৩৯,৫৭৮ কোটিতে হ্রাস পায়। গত বছরের ২২ দিনের আহরণ নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে বরিশাল অঞ্চলসহ সারা দেশের বিচরণক্ষেত্রসমূহে ইলিশের প্রজনন সফলতার হার ৪৯.২৭% বলে তথ্য পাওয়া গেছে। আগের কয়েকটি বছরে প্রজনন সফলতার হার ৫২-৫৪% পর্যন্ত ছিল। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন অনুসন্ধানে গত বছর বরিশাল অঞ্চলে প্রজনন সফলতার এই হার সর্বাধিক ছিল বলে জানা গেছে।

ইলিশের জীবনচক্রে স্বাদু পানি থেকে সমুদ্রের নোনা পানিতে এবং সেখান থেকে পুনরায় স্বাদু পানিতে অভিপ্রায়ণ করে। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, উপকূলের ৭ হাজার ১৩৪ বর্গ কিলোমিটারের মূল প্রজনন ক্ষেত্রে মুক্ত ভাসমান অবস্থায় ডিম থেকে ফুটে বের হয়ে ইলিশের লার্ভা, স্বাদু পানি ও নোনা পানির নার্সারি ক্ষেত্রসমূহে বিচরণ করে খাবার খেয়ে বড় হতে থাকে। নার্সারি ক্ষেত্রসমূহে ৭-১০ সপ্তাহ ভেসে বেড়ানোর পর জাটকা হিসেবে সমুদ্রে চলে যায় পরিপক্কতা অর্জনে। বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ১২-১৮ মাস অবস্থানের পর পরিপক্ক হয়ে পূর্ণাঙ্গ ইলিশ হিসেবে প্রজননের লক্ষ্যে আবার স্বাদু পানির নার্সারি ক্ষেত্রে ফিরে এসে ডিম ছাড়ে।

মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের ইকোসিস্টেমে সারা বছরই ৩০ ভাগ ইলিশ ডিম বহন করে এবং পরিপক্ক হয়ে ডিম ছাড়ে। প্রতিদিন স্রোতের বিপরীতে ৭১ কিলোমিটার পর্যন্ত ছুটে চলা অভিপ্রয়াণী ইলিশ অত্যন্ত সংবেদনশীল মাছ। তার অভিপ্রয়ণের পথ বাধাগ্রস্ত হলে এবং পানি দূষণসহ উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে সে তার গতিপথ পরিবর্তন করে সহনীয় আবাস ও বিচরণস্থল খুঁজে নেয়। এসব কারণেই ইতোপূর্বের বিচরণস্থল পরিবর্তন করে গত বছর বরিশাল অঞ্চলকেই ইলিশের প্রধান প্রজননস্থল হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

২০০৫ সালেই প্রথম ‘হিলসা ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’-এর আওতায় প্রধান প্রজনন মৌসুমে ১০ দিন ইলিশের আহরণ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে মৎস্য বিজ্ঞানীদের সুপারিশে ২০১১ সালে তা ১১ দিন এবং ২০১৫ সালে ১৫ দিন ও ২০১৬ সাল থেকে ২২ দিনে উন্নীত করা হয়েছে।

আগামী ২৮ অক্টোবর মধ্যরাতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ড. ইউনূসকে হেনস্তায় রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্মের ক্ষোভ ও নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


ড. ইউনূসকে হেনস্তায় রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্মের ক্ষোভ ও নিন্দা

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘রিটায়ার্ড বিসিএস অফিসার্স প্ল্যাটফর্ম (আরবিওপি)’ এর সভাপতি ও সাবেক সচিব জনাব মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম এবং মহাসচিব ও সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার মো. কবিরুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১২ অক্টোবর সফররত বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে কতিপয় দুষ্কৃতকারীর অসৌজন্যমূলক ও অপমানজনক আচরণে আমরা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাই।’

তারা আরও বলেন, একজন অশীতিপর জ্যেষ্ঠ নাগরিক (সিনিয়র সিটিজেন) হুইলচেয়ারে চলন্ত অবস্থায় তার সাথে যে অপমানজনক ও অসদাচরণ করা হয়েছে, তা চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি করা এ ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত দুর্ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানান।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার, তবে একজন অশীতিপর জ্যেষ্ঠ নাগরিকের পথ আটকে তাঁর প্রতি অসৌজন্যমূলক ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, ‘অধিকন্তু তাঁর বিষয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। বরং জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী জাতির চরম ক্রান্তিকালে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করে জাতিকে রাজনৈতিক সংকট থেকে উদ্ধার করেছেন এবং একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’

ফ্যাসিবাদের পতনের পর বাংলাদেশের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে দেশকে পুনরুদ্ধার, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম এবং সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালুর কর্মযজ্ঞ সফলভাবে শেষ করার জন্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি জাতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ ও ঋণী। তারা দেশবাসীকে আহ্বান জানান, ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট অন্ধ, জ্ঞানপাপী, গণতন্ত্র ও দেশদ্রোহীদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য।

অনতিবিলম্বে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় দেশের সম্মানহানিকারী এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারকে তারা জোর দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশু যৌন নিপীড়নের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন হলিউড অভিনেতা টিমোথি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


শিশু যৌন নিপীড়নের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন হলিউড অভিনেতা টিমোথি

যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য ওয়েস্ট উইং’ ধারাবাহিকের হলিউড অভিনেতা ও পরিচালক টিমোথি বাসফিল্ডের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলা আদালত খারিজ করে দিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের আদালতের বিচারক জানিয়ে দেন, মামলার শুনানির পূর্বে অভিযোগপক্ষের আইনজীবীরা নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগতভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেননি। তবে বাসফিল্ডের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ আনার সুযোগ রয়েছে, যদি অভিযোগপক্ষ চাই।

৬৯ বছর বয়সী বাসফিল্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি দুই যমজ শিশুকে অনুচিতভাবে স্পর্শ করেছেন। তিনি শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। নিউ মেক্সিকোর দ্বিতীয় বিচার বিভাগীয় অ্যাটর্নি কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের পর তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছেন।

অভিযোগপক্ষের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘দ্য ক্লিনিং লেডি’র শুটিং চলাকালীন সময়ে দুই শিশুর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের ঘটনা ঘটে। তখন তাদের বয়স ছিল ৭ ও ৮ বছর। প্রায় দুই বছর ধরে শুটিংয়ের বিরতির সময় এসব ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়। বর্তমানে ওই যমজ শিশুর বয়স ১১ বছর।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চারটি অভিযোগের ভিত্তিতে একটি অভিযোগপত্র গঠন করে বাসফিল্ডের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি শিশুকে যৌনভাবে স্পর্শ করার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে বাসফিল্ড এসব অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তার আইনজীবীরা মামলাটি খারিজ করার জন্য আবেদন জানান।

শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) রায়ে বিচারক জোসেফ মনতানো উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত সাক্ষী হাজির করার বিষয়ে অভিযোগপক্ষের আইনজীবী বিচারকদের সঠিক নির্দেশনা দেননি। বিশেষ করে, সাক্ষী হাজির করার অনুরোধে অন্তত আটজন বিচারকের সম্মতি প্রয়োজন বলে তিনি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন।

বিচারক আরও বলেন, অভিযোগপক্ষের আইনজীবীর এই আচরণ ন্যায়সংগত ও নিরপেক্ষ ছিল না। এর ফলে বিচারকদের অনুরোধ করা সাক্ষীদের হাজির করার সুযোগ কার্যত এককভাবে আটকে দেওয়া হয়েছিল।

টিমোথি বাসফিল্ড ‘দ্য ওয়েস্ট উইং’ ধারাবাহিকে হোয়াইট হাউসের একজন সংবাদদাতার চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ‘থার্টিসামথিং’ ধারাবাহিকে একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া কেভিন কস্টনার অভিনীত ‘ফিল্ড অব ড্রিমস’ চলচ্চিত্রেও তাকে দেখা গেছে।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪২ এম


ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করতে প্রধানমন্ত্রী আজ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে আকস্মিকভাবে যান।

দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ (অপারেশন থিয়েটার) বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বছরের এ সময়, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।"

তিনি আরও বলেন, "ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।"

যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, "নগরীর বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন বসানো হলেও তা চুরি হয়ে যাচ্ছে, একইভাবে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে।" এসব অপকর্ম প্রতিরোধে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, "একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে ওঠায় শহরে গরমের অনুভূতি বেড়েছে। গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।"

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন- এই তিনটি ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে নিজেদের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সহযোগিতা চান। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%