০৫:৫০ পি.এম
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গला কেটে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত সোহেল রানা নিজের কৃতকর্মের জন্য তার বাবা ও ছেলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) সকালে, কারা কর্তৃপক্ষের ফোনের মাধ্যমে নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে বসবাসকারী তার বাবা জেকের আলী ও ছেলের সঙ্গে কথা বলেন সোহেল রানা।
ফোনে, তিনি নিজে তার বাবার কাছে নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এটি ছাড়াও, সোহেলের প্রথম স্ত্রীর সন্তান ১০ বছরের মিনহাজ, যে তার দাদার বাড়িতে অবস্থান করছে, তার সঙ্গে তিন বছর পর কথা বলেন। ছেলের কাছেও ক্ষমা চাইতে ভোলেননি সোহেল।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
এছাড়া, আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর পরিবারের সদস্যরা বিমর্ষ হয়ে পড়েন। প্রতিবেশীদের মাঝে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের বিশেষ এই সাজা দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি, প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এই অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী (মা-বাবা) পাবেন। আসামিরা যদি এই ক্ষতিপূরণ না দেয়, তবে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে রামিসার পরিবারকে দেওয়া হবে বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আদালত গত ২৪ মে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে, শুনানির জন্য ১ জুন দিন নির্ধারণ করেন।
এরপর, গত ২ জুন মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে, কিভাবে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের তা উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে, প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘আমিও দোষ করছি, ডলারও দোষ করছে স্যার। আমাকেও সাজা দেন, সঙ্গে ওকেও দেন।’ তবে সে নিজের স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করেন। অন্যদিকে, স্বপ্নার বক্তব্য জানার জন্য, আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি কিছু করিনি স্যার, আমি নির্দোষ।’ আদালত উভয় আসামির বক্তব্য রেকর্ড করে রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে, রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মধ্যে (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। এরপর, ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন