ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধুপুরে পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক বেদখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন


মধুপুরে পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক বেদখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ও দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি জোরপূর্বক বেদখলের চেষ্টার প্রতিবাদ এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মধুপুর প্রেসক্লাবে ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিবারের সদস্য রিপন সরকার অভিযোগ করেন, মধুপুরের পুন্ডুরা মৌজায় সাবেক ২০৭/৩৫৪ দাগের এবং বর্তমান বিএস/বিআরএস ৫০৪ দাগের জমির মধ্যে তার বাবা দলিলের মাধ্যমে সাড়ে ৪১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড তার বাবা’র নামে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এরপর থেকে পৈতৃক দলিলের ভিত্তিতে ওই জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
রিপন সরকারের অভিযোগ, তার চাচা ফজলুল হক মনি একই দাগে তার দাদার কাছ থেকে ২২ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। তবে ওই দলিলে জমির সুনির্দিষ্ট চৌহদ্দি উল্লেখ নেই বলে দাবি করেন তিনি। চাচার ক্রয় করা জমির নির্ধারিত অবস্থান নিয়ে বিরোধের জেরে বর্তমানে তাঁর দখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রিপন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি দখলের প্রতিবাদ করলে তাকে গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি পরিদর্শন করেন এবং বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতেও তার দখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদের দখলীয় সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যগন সহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মমেক হাসপাতাল এলাকায় অনুমোদনহীন ক্লিনিকের সংখ্যা বেড়ে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


মমেক হাসপাতাল এলাকায় অনুমোদনহীন ক্লিনিকের সংখ্যা বেড়ে গেছে

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মমেক) এর চারপাশে নগরের বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে।

এই প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর চিকিৎসাসেবার মান এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদনহীন এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের পেছনে নিয়মিত তদারকির অভাব এবং অর্থ লেনদেনের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।

ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১ হাজার ৩৩২টি। এর মধ্যে ৭২৩টি প্রতিষ্ঠান নগরীতে অবস্থিত। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।

মমেক হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সংখ্যা বিপুল। তাদের ঘিরে হাসপাতালের আশপাশের চরপাড়া, নয়াপাড়া, কপিক্ষেত, মাসকান্দা, ব্রাহ্মপল্লী, বাঘমারা ও ভাটিকাশরসহ বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই সেবা প্রদান করছে।

সম্প্রতি, ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক ক্লিনিক মালিকের সঙ্গে এক অফিস সহায়কের টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগও রয়েছে। ত্রিশালের হাসিনা বেগম অভিযোগ করেন, ময়মনসিংহের হেলথকেয়ার ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর তার পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়। পরে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি ধরা পড়ে বলে তিনি দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, নগরের বলাশপুর এলাকার বাসিন্দা শান্তা নামে এক নারীর ভেনাস হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় মৃত্যু হয় বলে তার পরিবারের অভিযোগ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আপস হলেও তারা ন্যায়বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন শান্তার মা শেফালী বেগম।

এছাড়া, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর বিনিময়ে চিকিৎসকদের কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য জানা যায়নি।

নাগরিক নেতাদের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার নামে কোথাও কোথাও রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তাঁরা মনে করেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক— সুজনের ময়মনসিংহ মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইয়াজদানী কোরাইশী কাজল বলেন, চিকিৎসাসেবার নামে এক ধরনের প্রতারণার ফাঁদ তৈরি হয়েছে। যাদের এসব প্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্ব, তাদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ফখরুল হাসান চৌধুরী বলেন, কার্যালয়ে টাকা লেনদেনের ঘটনাটি স্বীকার করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে ১৮২ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে ১৮২ জন আটক

লক্ষ্মীপুরে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার একটি বিশেষ অভিযানে ১৮২ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জেলার ছয়টি থানার এলাকায় একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় সদর থানায় ৬০ জন, চন্দ্রগঞ্জ থানায় ২১ জন, রায়পুর থানায় ২৪ জন, রামগঞ্জ থানায় ২৪ জন, রামগতি থানায় ১৩ জন এবং কমলনগর থানায় ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটকদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া রোধে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্মীপুরে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে, খুশি ক্রেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


লক্ষ্মীপুরে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে, খুশি ক্রেতারা

লক্ষ্মীপুর, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জলবায়ুর প্রভাবের কারণে ভরা মৌসুমে ইলিশের অভাব দেখা দিলেও, মৌসুমের শেষভাগে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ায় লক্ষ্মীপুরের মাছবাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দাম কমে যাওয়ায় ক্রেতারা স্বস্তিতে রয়েছেন।

ইলিশ গবেষকদের মতে, নদীতে মৌসুমের শেষভাগে ইলিশের ঝাঁক ফিরে আসা জেলেদের জন্য স্বস্তির খবর বয়ে এনেছে। পাশাপাশি, এটি জলবায়ু ও নদীর পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে ইলিশের অভিযোজনের একটি গুরুত্বর্পর্ণ ইঙ্গিতও দেয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা কমে বর্তমানে ১৪ শ’ থেকে ১৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল ২ হাজার টাকার বেশি। দীর্ঘদিন পর জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় মাছঘাটগুলো আবারো সরগরম হয়ে উঠেছে। ফলে জেলে পল্লী ও মাছঘাটে জেলেরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। জালে ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে ও আড়ৎদারদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।

জেলা মৎস্য অফিসের সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ’ কিলোমিটার ইলিশের অভয়াশ্রম। এখানে জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় ৫৩ হাজার জেলে মেঘনায় ইলিশ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ সময় প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ার কথা থাকলেও, সে পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গত কয়েকদিন ধরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় মৎস্য পল্লীগুলো ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। তবে মাছের আকার ছোট।

গত সপ্তাহের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দামও কমছে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। বর্তমানে সেটি ৭শ’ টাকা কমে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে, প্রকারভেদে প্রতি হালি মাছের দাম গড়ে ৭শ’ টাকা কমেছে।

এদিকে, সাগরের ইলিশের মাধ্যমে ইলিশের চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৩০টি মাছঘাটে মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলে ও আড়ৎদাররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তারা আশা করছেন, জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।

জেলেরা জানান, এ মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ পাওয়ার কথা। কিন্তু সে পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ না পেলেও, কয়েকদিন ধরে মাছ পাওয়ায় জেলেরা খুশি।

জেলেরা আরও জানান, প্রকারভেদে মাছের দাম আগের তুলনায় একইভাবে কমছে। তারা আশা করছেন, সামনে আরো দাম কমবে। পাশাপাশি মাছের সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা করছেন জেলেরা।

মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতারা আশা করছেন, সামনে আরো দাম কমে আসবে। তবে, কোন তদারকি না থাকায় প্রতিনিয়ত ইলিশের দাম বাড়ছে। তাই ক্রেতা ও বিক্রেতারা বাজার স্থিতিশীল করার জন্য মনিটরিং করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, আজ বুধবার সকালে মুজচৌধুরীরহাট ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নৌকায় করে ঘাটে মাছ নিয়ে আসছেন জেলেরা। সবার চোখে-মুখে আনন্দের চিত্র। ক্রেতা-বিক্রেতার সরগমর জমে উঠছে মাছঘাট। সবাই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ঘাটে এক কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার টাকায়। গত তিনদিন আগে এ মাছের দাম ছিল সাড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। এর নিচে প্রকারভেদে কম দামে বিক্রি হচ্ছে রুপালি এ ইলিশ।

মতিরহাটের লিটন মাঝি বাসস’কে জানান, নদীতে মাছ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন নদীর পাড়ে অলস সময় কাটাতে হয়েছে। সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায়, ফলে ঘাটে মাছ বিক্রি করে আবারো নদীতে মাছ শিকারে নামছেন। এভাবে মাছ পেলে আর কোন কষ্ট থাকবে না।

ক্রেতা মো. তুষার ইসলাম ও সালামত উল্যাহ বলেন, মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কিছুটা কমছে। তবে, কোন তদারকি না থাকায় প্রতিনিয়ত ইলিশের দাম বাড়ছে। তাই তারা বাজার স্থিতিশীল করার জন্য মনিটরিং করার দাবি জানান।

জেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র পরিচালক মো. লুৎফুর রহমান বাসস’কে বলেন, গত কয়েকদিনের তুলনায় সাগরের পাশাপাশি মেঘনায় ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সামনে আরো বাড়ার আশা করছেন তিনি। তিনি জানান, ইলিশের সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম কমে আসবে।

তিনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৬ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এ সময় অভিযান সফল করতে প্রশাসন কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মির্জাপুরে স্কুল মাঠে মেলার অনুমোদন: সরকারি নিষেধাজ্ঞা জেনেও অনুমতি কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


মির্জাপুরে স্কুল মাঠে মেলার অনুমোদন: সরকারি নিষেধাজ্ঞা জেনেও অনুমতি কেন?

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মেলা পরিপত্র-২০২২-এর ৫(চ) ধারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি বরিশালের বাণিজ্য মেলা সংক্রান্ত হাইকোর্টের বেঞ্চের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও জনস্বার্থে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটি।

সংগঠনটির দাবি, সরকারি পরিপত্র ও হাইকোর্টের বেঞ্চের নথিপত্র WhatsApp-এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়। পরে মুঠোফোনেও জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানিয়ে আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ করা হয়।

এরপরও মির্জাপুর এস.কে. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ‘মির্জাপুর দেশীয় শিল্প ও পণ্য মেলা-২০২৬ ইং’ আয়োজনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মেলার আয়োজক দেওয়ান ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই মেলার অবকাঠামোগত কাজের শুভ উদ্বোধন করা হবে।

এক আবেদন নাকচ, অন্য আয়োজককে অনুমোদন

এর আগে জাগ্রতাময় এন্টারপ্রাইজ মির্জাপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে ৩৫ দিনব্যাপী মেলার আবেদন করেছিল। প্রশাসনের সরেজমিন প্রতিবেদনে এস.কে. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অবস্থা উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষার পরিবেশ ও পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্নের আশঙ্কায় ওই মেলা নিরুৎসাহিত করার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

কিন্তু পরবর্তীতে এস.কে. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠেই অন্য আয়োজককে মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে আগের আবেদন নাকচের কারণ এবং পরবর্তী অনুমোদনের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিধি ও আদালতের নথি জানার পরও অনুমোদন

সরকারি পরিপত্রের বিষয়টি এবং হাইকোর্টের বেঞ্চের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রশাসনের নজরে আনার পরও অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সেসব বিষয় কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আগের আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা ও আশপাশের স্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হলে পরবর্তী অনুমোদনের সময় একই বিষয়গুলোর মূল্যায়ন কীভাবে করা হলো, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

রিট পিটিশনের প্রস্তুতি

নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মির্জাপুরের মেলা অনুমোদন নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তারা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করে রেখেছে।

সংগঠনটির দাবি, বরিশালের বাণিজ্য মেলা সংক্রান্ত আগের মামলার নথি ও হাইকোর্টের বেঞ্চের নির্দেশনাও তাদের কাছে রয়েছে। ফলে মির্জাপুরের বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আগের মামলার সংশ্লিষ্ট নথি ও নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে।

রিট না করতে ফোনে অনুরোধের অভিযোগ

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতির কথা জানার পর স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তাদের রিট না করতে ফোনে অনুরোধ করা হয়েছে।

এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

আর্থিক প্রভাবের প্রশ্নও সামনে

একটি আবেদন বিধি ও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে নিরুৎসাহিত হওয়ার পর অন্য আয়োজককে একই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে অনুমোদন দেওয়ায় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোনো আর্থিক শর্ত, সুবিধা বা লেনদেনের প্রভাব ছিল কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করতে মেলা অনুমোদনের শর্ত, সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি ও সরকারি রাজস্ব জমার হিসাব প্রকাশের দাবি উঠেছে।

বরিশালের ঘটনাও আলোচনায়

এদিকে বরিশালের বাণিজ্য মেলা ঘিরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর দায়িত্বকালীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরিশালের ওই ঘটনার সঙ্গে মির্জাপুরের মেলা অনুমোদনের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তবে ওই ঘটনার পর মেলা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জবাবদিহি এখন মূল প্রশ্ন

সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও হাইকোর্টের বেঞ্চের নথিপত্র প্রশাসনের নজরে থাকার পরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার অনুমোদন—**তাহলে সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী ছিল?

নথিপত্র, অনুমোদনের শর্ত ও আর্থিক হিসাব প্রকাশ হলে সিদ্ধান্তের প্রকৃত প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হতে পারে। জনস্বার্থে পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন, দেওয়ান ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, এস.কে. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%