বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৯ পি.এম
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মেলা পরিপত্র-২০২২-এর ৫(চ) ধারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি বরিশালের বাণিজ্য মেলা সংক্রান্ত হাইকোর্টের বেঞ্চের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও জনস্বার্থে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটি।
সংগঠনটির দাবি, সরকারি পরিপত্র ও হাইকোর্টের বেঞ্চের নথিপত্র WhatsApp-এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়। পরে মুঠোফোনেও জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানিয়ে আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ করা হয়।
এরপরও মির্জাপুর এস.কে. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ‘মির্জাপুর দেশীয় শিল্প ও পণ্য মেলা-২০২৬ ইং’ আয়োজনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মেলার আয়োজক দেওয়ান ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই মেলার অবকাঠামোগত কাজের শুভ উদ্বোধন করা হবে।
এক আবেদন নাকচ, অন্য আয়োজককে অনুমোদন
এর আগে জাগ্রতাময় এন্টারপ্রাইজ মির্জাপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে ৩৫ দিনব্যাপী মেলার আবেদন করেছিল। প্রশাসনের সরেজমিন প্রতিবেদনে এস.কে. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অবস্থা উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার পরিবেশ ও পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্নের আশঙ্কায় ওই মেলা নিরুৎসাহিত করার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
কিন্তু পরবর্তীতে এস.কে. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠেই অন্য আয়োজককে মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে আগের আবেদন নাকচের কারণ এবং পরবর্তী অনুমোদনের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিধি ও আদালতের নথি জানার পরও অনুমোদন
সরকারি পরিপত্রের বিষয়টি এবং হাইকোর্টের বেঞ্চের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রশাসনের নজরে আনার পরও অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সেসব বিষয় কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আগের আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা ও আশপাশের স্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হলে পরবর্তী অনুমোদনের সময় একই বিষয়গুলোর মূল্যায়ন কীভাবে করা হলো, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
রিট পিটিশনের প্রস্তুতি
নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মির্জাপুরের মেলা অনুমোদন নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তারা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করে রেখেছে।
সংগঠনটির দাবি, বরিশালের বাণিজ্য মেলা সংক্রান্ত আগের মামলার নথি ও হাইকোর্টের বেঞ্চের নির্দেশনাও তাদের কাছে রয়েছে। ফলে মির্জাপুরের বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আগের মামলার সংশ্লিষ্ট নথি ও নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে।
রিট না করতে ফোনে অনুরোধের অভিযোগ
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করার প্রস্তুতির কথা জানার পর স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তাদের রিট না করতে ফোনে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
আর্থিক প্রভাবের প্রশ্নও সামনে
একটি আবেদন বিধি ও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে নিরুৎসাহিত হওয়ার পর অন্য আয়োজককে একই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে অনুমোদন দেওয়ায় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোনো আর্থিক শর্ত, সুবিধা বা লেনদেনের প্রভাব ছিল কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করতে মেলা অনুমোদনের শর্ত, সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি ও সরকারি রাজস্ব জমার হিসাব প্রকাশের দাবি উঠেছে।
বরিশালের ঘটনাও আলোচনায়
এদিকে বরিশালের বাণিজ্য মেলা ঘিরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর দায়িত্বকালীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বরিশালের ওই ঘটনার সঙ্গে মির্জাপুরের মেলা অনুমোদনের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তবে ওই ঘটনার পর মেলা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জবাবদিহি এখন মূল প্রশ্ন
সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও হাইকোর্টের বেঞ্চের নথিপত্র প্রশাসনের নজরে থাকার পরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার অনুমোদন—**তাহলে সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী ছিল?
নথিপত্র, অনুমোদনের শর্ত ও আর্থিক হিসাব প্রকাশ হলে সিদ্ধান্তের প্রকৃত প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হতে পারে। জনস্বার্থে পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন, দেওয়ান ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, এস.কে. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেনের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৭টি কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ২০ কোটি ৪৬ লাখ ৬২ হাজার ৬০৮টি ইউনিট ও শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর বিপরীতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৬৯৯ কোটি ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৮ টাকা দাঁড়িয়েছে।
আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৬ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৫০ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএস-৩০ সূচক ১৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৮ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ৪ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০২ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৯০টির শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে, ১৩০টির দর কমেছে এবং ৬৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে-প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, সায়হাম টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, নিটল ইন্স্যুরেন্স, ইভিন্স টেক্সটাইল এবং এনভয় টেক্সটাইলস।
দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে-সমতা লেদার, এসকে ট্রিমস, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ১ম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইবিবিএল মুদারাবা পারপেচুয়াল বন্ড, ডেল্টা স্পিনার্স, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, হামিদ ফেব্রিক্স, পিপলস লিজিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল এবং আল-হাজ্ব টেক্সটাইল।
অন্যদিকে, দর কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় রয়েছে ২০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড, ২০ বছর মেয়াদি বিজিটিবি, ফ্যামিলিটেক্স (বিডি), মাইডাস ফাইন্যান্স, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, ওরিয়ন ফার্মা, প্রাইম ফাইন্যান্স, আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং, নুরানী ডাইং এবং ১৫ বছর মেয়াদি বিজিটিবি।
আজ ডিএসইর বাজার মূলধন ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪৭৬ কোটি ৫৯ লাখ ২ হাজার ২২৯ টাকা দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুর, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি উল্লেখ করেছেন, একজন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য দেশপ্রেম থাকা আবশ্যক। তিনি সকল শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার কাউখালী উপজেলার সরকারি কাউখালী কলেজের অডিটোরিয়ামে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলেছে। শিক্ষার্থীদের অটোপাসের মাধ্যমে শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ভালো মানুষ হতে হবে এবং দেশকে ভালোবাসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম আহসান কবির এবং সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দীন মোহাম্মদ। প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ক্রীড়াক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে নয়মাইল ত্রিপুরাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মহিলা কাবাডি দলকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে দীঘিনালা জোন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দীঘিনালা জোনের ভারপ্রাপ্ত জোন কমান্ডার মেজর শিহাবুন সাকিব রূশাদ, পিএসসির নির্দেশনায় বিদ্যালয়ের মহিলা কাবাডি দলের হাতে এ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, নয়মাইল ত্রিপুরাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মহিলা কাবাডি দলটি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। ধারাবাহিক সাফল্যের পর দলটি এবার বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে যাচ্ছে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দীঘিনালা জোনের ভারপ্রাপ্ত জোন কমান্ডার বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতেও দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে এ ধরনের আর্থিক সহায়তা ও অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দীঘিনালা জোনের এ সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এ সহায়তা দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ আরও বাড়াবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের সহযোগিতা তাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলায় সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস রফা সম্পন্ন হয়েছে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছিল।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালতে এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন শুনানিতে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বিষয়টি তুলে ধরেন।
এদিন আদালতে মামলার বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ আপসনামা দাখিল করেন। সেখানে তিনি এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে দায়মুক্তি প্রদান করে বলেন, আসামিদের জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই।
তবে, শুনানি শেষে বিচারক মাকসুদার জামিন মঞ্জুর করলেও গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যা আছে আপসনামায়—
আপসনামার নথি থেকে জানা যায়, প্রথম পক্ষ এস এম মাসুম বিল্লাহ (মরিয়মের বাবা) এবং দ্বিতীয় পক্ষ আব্দুল হামিদ মোড়ল (আসামির স্বজন)। এই সমঝোতা দলিলটি তাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
আপসনামায় উল্লেখ রয়েছে, প্রথম পক্ষের মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে ১ নম্বর আসামি জি এম নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম জি এম নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সঙ্গে সদ্ভাব রেখে সংসার পরিচালনা করেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার বাসভবনে মরিয়ম আত্মহত্যা করেন। যেহেতু ঘটনাটি জামাইয়ের (নজরুল) বাসায় ঘটে, তাই মৃত মরিয়মের বাবা শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় জি এম নজরুল ইসলাম, প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও অন্য একজনকে আসামি করা হয়।
পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে প্রথম পক্ষ নিশ্চিত হন, আসামি জি এম নজরুল ইসলাম বা প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের কোনো প্ররোচনা ছাড়াই মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন। দুই পরিবারের মধ্যে পূর্ব থেকেই নিকট আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় থাকায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এই আপসনামা সম্পাদিত হয়।
আপসনামার শর্তাবলীতে উল্লেখ করা হয়েছে—
১. আসামি জি এম নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলাম আদালত থেকে জামিন পেলে মামলার বাদী বা তার পরিবারের কোনো আপত্তি থাকবে না।
২. জামিন পাওয়ার পর উভয় পক্ষ পুনরায় সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবেন।
৩. বিচারধীন এ বিষয়ে উভয় পক্ষ নিরপেক্ষ থেকে বিচার কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবেন।
এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা বেগমের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২৪ সেপ্টেম্বর এমপি নজরুলকে ফের চার দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শেষে এমপি নজরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাদেরকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনার পর ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার এবং একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।
এদিকে, ভিডিও ভাইরালের পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়ি চালক ও মৃত মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন পল্লবী থানায়। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিক্টিমের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকাস্থ সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিকটিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে বিভিন্ন সময় মোবাইল তার পরিবারকে জানায়। এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভিকটিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন বাসার ভেতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন। পরে শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে দেখতে পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ