০৪:২০ পি.এম
বন্যহাতি সুরক্ষার জন্য আন্তর্দেশীয় করিডর চালু করতে শিগগিরই ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে, এমনটি জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু। তিনি উল্লেখ করেন, গারোপাহাড়ে বিচরণরত প্রায় ১৩০-১৩৫টি বন্যহাতি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কারণে নিজ দেশে ফিরতে পারছে না। ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে গেট খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে। একইসঙ্গে, শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ শনিবার, শেরপুরে নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্কে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরও জানান, শেরপুরের অপরূপ সৌন্দর্যের গারোপাহাড় ও বন্যহাতিসহ প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনের কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এর ফলে মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে এবং বন্যহাতির সুরক্ষায় মানুষের সঙ্গে হাতির দ্বন্দ্ব নিরসন হবে।
শেরপুর জেলা প্রশাসন ও ময়মনসিংহ বন বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার হাতি অধ্যুষিত এলাকার সংসদ সদস্য, ইআরটি, গণমাধ্যমকর্মী এবং হাতি সংরক্ষণে নিবেদিত স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় বক্তব্য রাখেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল) মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম, পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্যে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম জানান, শেরপুর জেলার বনাঞ্চলে ১৩০ থেকে ১৪০টি হাতি বিচরণ করছে। এসব হাতির চলাচল ও খাবার নিয়ে মানুষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। হাতির চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতি দলে ১০ জন করে ৫৩টি ইআরটি টিম গঠন করা হয়েছে এবং ৪৫টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, "বন্যহাতি আপদ নয়, এটা আমাদের সম্পদ। বন্যহাতি সুরক্ষা এবং হাতি মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে হাতি চলাচলের জন্য করিডর সংরক্ষণ করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "এ জন্য আন্তর্দেশীয় সংলাপ শুরু করতে হবে।" পর্যটনের হাতিকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তবেই হাতি মানুষের দ্বন্দ্ব কমে আসবে।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, "শেরপুর জেলায় যে পরিমাণ বনাঞ্চল রয়েছে, তার তুলনায় হাতির খাবার সংস্থান ও বিচরণস্থল কম।" তিনি উল্লেখ করেন, "এসব হাতি আমাদের দেশের নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এসেছে।" কিন্তু বর্তমানে হাতিগুলোকে ওই দেশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব ও সংঘাত বাড়ছে। হাতি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাতি-মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮
অনুষ্ঠানে বন্যহাতির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ জনকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয় এবং ১০টি ইআরটি টিমের সদস্যদের মাঝে উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সভা শেষে মন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে ইকোপার্ক পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি ইআরটি (এলিফেন্ট রেসপন্স টিম) ও স্থানীয় জনগণসহ নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি জনপদে বন্যহাতির বিচরণক্ষেত্র পরিদর্শন করেন। পরে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একই ধরনের আরেকটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলসহ অন্যান্য অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন