ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২০২৬ হতে যাচ্ছে বিশ্বের উষ্ণতম বছর: কোপার্নিকাস পরিচালক


২০২৬ হতে যাচ্ছে বিশ্বের উষ্ণতম বছর: কোপার্নিকাস পরিচালক

বিশ্বের ইতিহাসে উষ্ণতম বছর হিসেবে ২০২৬ সাল আবির্ভূত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাসের পরিচালক কার্লো বুয়োনতেম্পো এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, যে প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি জানান, অতীতের এল নিনোর ধরন অনুসরণ করলে ২০২৬ সালে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৭ সালেও নতুন রেকর্ড হওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান।

এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের উষ্ণ পর্যায়, যেখানে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পায়। এই অবস্থায় আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন ঘটে, এবং খরা ও বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবও আরও তীব্র হতে পারে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশের গওয়ালিয়রে ট্রাকচাপায় ১২ দর্শনার্থী নিহত, তদন্ত শুরু

কোপার্নিকাস জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনো পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল নিনো ৩.৪-এ গত সেপ্টেম্বরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এটি ওই অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। এর আগে ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনো পর্বে এত বেশি তাপমাত্রা দেখা যায়নি।

চলতি বছরের জুন মাসে এল নিনোর বর্তমান পর্বটি শুরু হয়েছে। তবে, এটি কি ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো কিনা, তা বলার জন্য এখনো সময় আসেনি বলে জানিয়েছেন বুয়োনতেম্পো। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় সাম্প্রতিক এল নিনোর সঙ্গে অতীতের ঘটনাগুলোর তুলনা করা জটিল হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি রেকর্ডে থাকা সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছেছে। তবে, বিভিন্ন পূর্বাভাসদাতা সংস্থা এল নিনোর তীব্রতা নির্ধারণে একই ধরনের সূচক ব্যবহার করে না।

আরও পড়ুন: অরেগনের স্কুলে গুলিতে নিহত ৪, আহত ২; শোকে স্তব্ধ শহর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় বেনাপোল বন্দরে ৮ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


দুর্গাপূজায় বেনাপোল বন্দরে ৮ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে টানা আট দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে।

এটি আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকবে। ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি থাকায় দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মিলিয়ে টানা আট দিন বন্ধ থাকবে। ফলে ১৭ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে পুনরায় স্বাভাবিক নিয়মে বাণিজ্য শুরু হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন বলেন, "বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে শিল্পকারখানার কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য, ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করা হয়।" তিনি আরও জানান, "দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বেনাপোল বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।" দীর্ঘ সময় বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাময়িক স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা বিভিন্ন ধরনের কাঁচামালের ওপর দেশের অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম নির্ভরশীল। খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যও এ বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। ফলে দীর্ঘ সময় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলে কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। পাশাপাশি আমদানি করা পণ্যের বাজারজাতকরণেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাঁদের মতে, বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ বেড়ে গেলে দ্রুত পণ্য খালাস ও পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে পণ্যজট নিরসনে বাড়তি সময় লাগতে পারে, যা ব্যবসায়ীদের ব্যয়ও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি থাকায় দুই দেশের মধ্যে টানা আট দিন পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে। ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে যথারীতি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং দুই দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের পক্ষ থেকে ছুটির বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোল বন্দরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম ও কাস্টমসের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। এ সময় আগে আমদানি করা পণ্য খালাস করা যাবে। একই সঙ্গে পণ্য খালাস শেষে ভারতীয় খালি ট্রাকগুলো নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবে।

তবে নির্ধারিত ছুটির কারণে নতুন করে পণ্য আমদানি-রপ্তানি ও সীমান্ত পারাপারের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে পুনরায় স্বাভাবিক নিয়মে বাণিজ্য শুরু হবে বলে জানান তিনি।

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, দুর্গাপূজার সময় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল বাড়তে পারে। এ কারণে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ইমিগ্রেশন ডেস্কে অতিরিক্ত কর্মকর্তা নিয়োজিত করা হয়েছে। যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে এবং ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে ছুটির আগে ও পরে পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ, পণ্য খালাসের গতি এবং বন্দরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার ওপর বাণিজ্যিক কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা অনেকাংশে নির্ভর করবে। তাই ছুটি শেষে পণ্যজট ও যানজট এড়াতে দ্রুত পণ্য খালাস এবং ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান থেকে ৫০ বছর পর স্বজনদের কাছে ফিরলেন পরী বেগম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


পাকিস্তান থেকে ৫০ বছর পর স্বজনদের কাছে ফিরলেন পরী বেগম

পরী বেগম মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবারের কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে প্রথমে ভারত হয়ে পাকিস্তানে চলে যান। সেখানে কাটে তার জীবনের দীর্ঘ ৫০ বছর। সংসার গড়ে ওঠে, সন্তান জন্ম নেয়। তবে শৈশবের স্মৃতি, জন্মভূমি এবং আপনজনদের মুখ মুছে যায়নি। অবশেষে ৬০ বছর বয়সে পাকিস্তান থেকে ফিরে ভাইদের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন পরী বেগম।

পাকিস্তানে দীর্ঘ পাঁচ দশক বসবাস করার ফলে বাংলা ভাষায় কথা বলার অভ্যাস হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। ভাইদের সামনে বসেও বাংলায় মনের কথা বলতে পারছেন না। উর্দুতে কথা বলছেন। তবে ভাষার এই ব্যবধান ভাই-বোনের পুনর্মিলনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর একে অপরকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরী বেগমের পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। তার বাবার নাম মমিন মাতুব্বর। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ বছর আগে মাত্র ১০ বছর বয়সে নিখোঁজ হন পরী। পরে মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে প্রথমে ভারত এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে কয়েক দফা হাতবদলের পর নিঃসন্তান এক দম্পতির আশ্রয়ে যান পরী। ওই দম্পতি তাকে নিজেদের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের এক নাগরিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম হয়।

নতুন দেশ, নতুন পরিবার এবং সংসারের ব্যস্ততায় জীবনের পাঁচ দশক পার হলেও শৈশবে ফেলে আসা স্বজনদের স্মৃতি ভুলতে পারেননি পরী। বিশেষ করে বাবা-মা ও ভাইদের কথা মনে রেখেছিলেন তিনি। তবে এত বছর পর তাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে, এমন আশা একসময় প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

যেভাবে খোঁজ মিলল পরিবারের

পরী বেগমের হারিয়ে যাওয়া পরিবারের সন্ধান পাওয়ার ঘটনাটি বেশ চমকপ্রদ। এই যোগাযোগের সূত্র তৈরি করেন রাজশাহী থেকে পাকিস্তানে পড়তে যাওয়া দুই বাংলাদেশি যুবক। পরিবারের সদস্যরা জানান, পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ওই দুই যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীর নাতির। কথাবার্তার একপর্যায়ে নিজের দাদীর বাংলাদেশে হারিয়ে যাওয়া পরিবারের গল্প তাদের জানান তিনি।

বিষয়টি জানার পর ওই দুই যুবক পরীর সঙ্গে দেখা করেন। তার কাছ থেকে বাংলাদেশের বাড়ির ঠিকানা ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানার চেষ্টা করেন। এ সময় পরী বেগম জানান, তার বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দায়। বাবার নাম মমিন মাতুব্বর। বড় ভাই নওশের আলী মাতুব্বর, মেজ ভাই সাইফুল মাতুব্বর এবং ছোট ভাই সোলেমান মাতুব্বর।

এই নাম ও ঠিকানার সূত্র ধরে বাংলাদেশে ফিরে স্বজনদের খোঁজ শুরু করেন দুই যুবক। একপর্যায়ে নগরকান্দায় পরী বেগমের পরিবারের সন্ধান পান তারা। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছর পর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয় হারিয়ে যাওয়া ভাই-বোনের। একে অপরের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় সরাসরি দেখা করার অপেক্ষা। অবশেষে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন পরী বেগম।

ভাষা বদলেছে, কিন্তু ভালোবাসা বদলায়নি। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর বোনকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন ভাইয়েরা। ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া সেই বোনকে এত বছর পর ফিরে পাবেন, তা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তারা।

সময়ের ব্যবধানে বদলে গেছে সবার চেহারা। বয়সের ছাপ পড়েছে মুখে। শৈশবের পরিচিত পরিবেশও আর আগের মতো নেই। কিন্তু ভাই-বোনের প্রতি ভালোবাসা আগের মতোই রয়ে গেছে।

পুনর্মিলনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো, পরী বেগম এখন আর বাংলায় স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না। দীর্ঘদিন পাকিস্তানে বসবাস করায় তার দৈনন্দিন কথাবার্তার ভাষা হয়ে উঠেছে উর্দু। দেশে ফিরে গণমাধ্যমের কাছে উর্দু ভাষাতেই নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি।

ভাইদের সামনে বসে উর্দুতেই মনের কথা বলছেন পরী বেগম। তার সব কথা বুঝতে না পারলেও আবেগ ও অনুভূতি বুঝতে পারছেন স্বজনেরা। দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ শেষে একে অপরকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট।

পরী বেগমকে ঘিরে বাড়িতে আনন্দের আমেজ। এদিকে দীর্ঘ ৫০ বছর পর পরী বেগমের ফিরে আসার খবরে নগরকান্দায় তার পৈতৃক বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চলছে নানা আয়োজন। আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি আশপাশের প্রতিবেশীরাও তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন।

কেউ জানতে চাইছেন কীভাবে হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি, কেউ শুনছেন পাকিস্তানে কাটানো জীবনের গল্প। আবার কেউ অবাক হচ্ছেন এত বছর পরও জন্মভূমি ও পরিবারের পরিচয় মনে রাখার ঘটনায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পরী বেগমকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে মসজিদে দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া বোনকে কাছে পাওয়ায় পুরো পরিবারে যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

মাত্র ১০ বছর বয়সে যে মেয়েটি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অচেনা দেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়েছিলেন, সেই পরী বেগম জীবনের ৫০ বছর পর ফিরে এসেছেন নিজের শেকড়ে। এর মধ্যে বদলে গেছে তার জীবন, ভাষা ও চারপাশের পরিবেশ। কিন্তু মুছে যায়নি জন্মভূমির পরিচয় কিংবা আপনজনদের স্মৃতি।

দীর্ঘ পাঁচ দশকের বিচ্ছেদের পর পরী বেগমের এই ফিরে আসা শুধু একটি পরিবারের পুনর্মিলন নয়; এটি শেকড়ের প্রতি টান, স্বজনদের ভালোবাসা এবং হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক ফিরে পাওয়ার এক আবেগঘন ঘটনা।

পরীর ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, "পরী আপা হারিয়ে গেছিল। ৫০ বছর পর তাকে ফিরে পেয়ে আমরা অত্যন্ত খুশি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় সব মণ্ডপে পাহারায় থাকবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


দুর্গাপূজায় সব মণ্ডপে পাহারায় থাকবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএনপি মণ্ডপে মণ্ডপে পাহারার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।

তিনি উল্লেখ করেন, পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির নেতাকর্মী, ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করবেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন খায়রুল কবির খোকন।

খোকন বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে বিএনপি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় দলের নেতারা এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের পূজামণ্ডপে পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা কাজ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি এলাকায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা পূজা উদযাপন কমিটি ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। বিএনপি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষে।’

অতীতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিএনপির নেতাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে খোকন বলেন, ‘এবারও যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

বৈঠকে বিএনপির দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, অপর্ণা রায় দাস, অমলেন্দু দাস অপু, জন গোমেজ, অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, রমেশ দত্ত, পার্থ দে মণ্ডল, জয়দেব রায়, মিল্টন বৈদ্য ও গণেশ চন্দ্র রায় সাহস উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ার কারণে সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট বাতিল করেছে মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ার কারণে সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট বাতিল করেছে মালয়েশিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ বায়ুদূষণের কারণে ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়া ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতির কারণে মালয়েশিয়ার বিমান সংস্থা ফায়ারফ্লাই কুয়ালালামপুর-সিঙ্গাপুর রুটে বুধবার পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার সিঙ্গাপুর এবং কুয়ালালামপুর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছিল।

ফায়ারফ্লাই এক বিবৃতিতে জানায়, কুয়ালালামপুরের সুলতান আবদুল আজিজ শাহ বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে। ধোঁয়াশা ও আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের বায়ুমান সূচক ছিল ১৯৯ এবং কুয়ালালামপুরের ১৮৩। সূচকের মান ১৫০ ছাড়ালে বায়ু অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয় এবং ৩০০-এর বেশি হলে তা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়।

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া দাবানল থেকে এই ধোঁয়ার উৎপত্তি হয়েছে। চলতি বছর দাবানলটি গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এল নিনো নামের আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি আগুনের বিস্তারকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

এল নিনোর প্রভাবটি গত চার দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ারফ্লাই, মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যা মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের অধীনে রয়েছে। ধোঁয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় গত ১০ অক্টোবর প্রথম ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয় সংস্থাটি।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের মধ্যে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, তবে এটি আসন খালি থাকার ওপর নির্ভর করবে।

ধোঁয়াশার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিঙ্গাপুর সরকারও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশটি ধোঁয়াশাজনিত অসুস্থতার চিকিৎসায় ভর্তুকি সুবিধা পুনরায় চালু করেছে, যা ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়া কয়েক সপ্তাহ ধরে অঞ্চলটিকে আচ্ছন্ন করে রাখার সময়ও কার্যকর ছিল।

মালয়েশিয়ায় মঙ্গলবার অধিকাংশ রাজ্যে স্কুল খুলেছে। বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনটি রাজ্য, একটি ফেডারেল অঞ্চল এবং কয়েকটি জেলার স্কুল এখনো বন্ধ রয়েছে।

দাবানলের ধোঁয়া মোকাবিলায় আঞ্চলিক উদ্যোগ জোরদার করতে মালয়েশিয়া চায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান সোমবার জানান, আগামী মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই বিষয়টি তুলে ধরবেন।

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার তথ্য অনুযায়ী, সেপাংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহামাদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আসিয়ানের একটি ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ধোঁয়াশাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বা শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।’

চলতি বছর আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ফিলিপাইন জানিয়েছে, আগামী মাসের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ধোঁয়াশার বিষয়টি থাকবে। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডমিনিক জেভিয়ার ইম্পেরিয়াল বলেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করা হবে। ওই বৈঠকের পর ম্যানিলায় আসিয়ানের ৪৯তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

মোহামাদ জানান, দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়া প্রায় ৬০ হাজার কর্মী মোতায়েন করেছে। কিন্তু ঘন ধোঁয়ার কারণে বিমান ও হেলিকপ্টারসহ ৩৪টি বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্গম এলাকা ও পানির সীমিত সরবরাহও আগুন নেভানোর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। উপযুক্ত বৃষ্টিবাহী মেঘ না থাকায় কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিলেও আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ধোঁয়াশার কারণে মালয়েশিয়ার সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%