০২:৩৭ পি.এম
চূড়ান্ত অনুমোদনের এক ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্পের বিজয় তোরণ নির্মাণের ওপর ১৪ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন একজন ফেডারেল বিচারক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ গণশুনানির পর নাগরিকদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও, তোরণটির নকশা অনুমোদনের চূড়ান্ত ভোট পাস হয়।
ওয়াশিংটনের স্থাপত্য ও নকশাগত পরিবর্তন তদারককারী দুটি ফেডারেল সংস্থা, 'ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশন', বৃহস্পতিবার তার ভার্চুয়াল সভায় ২৫০ ফুট উঁচু এই স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণের চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেয়। সভায় যুদ্ধাহত প্রবীণ সৈনিকসহ ১২০ জনেরও বেশি নাগরিক এই প্রকল্প বন্ধ করার জন্য আকুল আবেদন জানান। আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সাধারণ মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণের পর, রাত ১০:২৯ মিনিটের দিকে কমিশন ৮-৪ ভোটে তোরণটি অনুমোদন করে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির দুইদিনের মধ্যে তড়িঘড়ি করে এ অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।
এই অনুমোদন পাসের এক ঘণ্টার মধ্যেই ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক তানিয়া চুটকান রুল জারি করেন যে, মামলার বিবাদী অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন তোরণের প্রস্তাবিত এলাকার কাছাকাছি কোনো ধরনের নির্মাণ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম শুরু, পরিচালনা বা কার্যকর করতে পারবে না। ওবামা প্রশাসনের আমলে নিযুক্ত বিচারক তানিয়া চুটকান এই তোরণ নির্মাণ বন্ধে দায়ের হওয়া একটি হাই-প্রোফাইল মামলা তদারকি করছেন।
আরও পড়ুন: এআই ব্যবহার করে সিইও সেজে ১৩০ মিলিয়ন ডলার প্রতারণার অভিযোগে মামলা
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, চূড়ান্ত ভোটের পরপরই তারা তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু করে দিতে পারে। তবে বিরোধীরা এই কাঠামোটিকে ট্রাম্পের অহংকার প্রকাশের একটি 'অসার প্রকল্প' হিসেবে নিন্দা করেছেন এবং এর পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন, যা কংগ্রেস দ্বারা অনুমোদিত হয়নি।
ট্রাম্পের মনোনীত সমর্থকদের দ্বারা পূর্ণ এই কমিশনের অনুমোদনটি ছিল মূলত ওয়াশিংটনের দৃশ্যপটকে নিজের পছন্দমতো পুনর্গঠন করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রচেষ্টার একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে জোরপূর্বক পাস করানোর চূড়ান্ত পদক্ষেপ। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেস আগামী জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই হোয়াইট হাউস এই কাজটি এগিয়ে নিতে মরিয়া ছিল। ট্রাম্প বলেছেন, তার লক্ষ্য হলো আগামী দুই বছরের মধ্যে অফিস ছাড়ার আগেই এই তোরণের কাজ শেষ করা।
তবে এই আগ্রাসী সময়সীমাটি প্রবীণ সৈনিক এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণবাদীদের দায়ের করা হাই-প্রোফাইল মামলার মতো আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে ক্রমাগত জটিলতার মুখে পড়ছে। বিরোধীদের মতে, এর বিশাল আকার এবং অবস্থান এমন এক সারিতে থাকা জাতীয় ল্যান্ডমার্কগুলোর দৃশ্যমানতা ব্যাহত করবে; যার মধ্যে রয়েছে লিঙ্কন মেমোরিয়াল, আর্লিংটন হাউস এবং রবার্ট ই. লি মেমোরিয়াল। এছাড়া এই সুউচ্চ স্মৃতিস্তম্ভটি আর্লিংটন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রের শেষকৃত্যের গম্ভীর পরিবেশকে নষ্ট করবে।
তারা যুক্তি দেখান যে এই প্রকল্পটি অবৈধ কারণ এতে কংগ্রেসের অনুমোদন নেই। তারা 'কমিমোরোটিভ ওয়ার্কস অ্যাক্ট'-এর কথা উল্লেখ করেন, যা ওয়াশিংটনে নতুন কোনো স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা দেয়।
আরও পড়ুন: কেন ভারত, চীনসহ চার দেশকে হরমুজে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে ইরান?
বৃহস্পতিবার দিনভর প্রকল্প এলাকার কাছাকাছি বিক্ষোভ চলে। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি ডন বেয়ার বলেন, ’একক ব্যক্তির অহংকারের এই স্মৃতিস্তম্ভরূপী বিকৃতি সেখানে সমাহিত প্রতিটি সেনা সদস্যকে অসম্মান করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন