শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩৫ পি.এম
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং একটি শ্যামল-সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে চাঁদপুর সদরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে একটি বিস্তৃত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এই উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের উত্তর মনোহরখাদী লায়ন্স ক্লাবের সহযোগিতায় ৩৫০টি ফলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) উত্তর মনোহরখাদী এলাকায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় শিশু-কিশোর, যুবক ও এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গোটা এলাকায় এক আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা। তিনি বলেন, “দেশব্যাপী পরিবেশ সুরক্ষার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে আমরা বৃক্ষরোপণ চালিয়ে যাচ্ছি। গাছ আমাদের শুধু অক্সিজেন, ফল কিংবা ছায়াই দেয় না; একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ মানুষ ও পশুপাখি উভয়ের বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়ে ওঠে। তাই কেবল চারা রোপণ করলেই চলবে না, প্রতিটি গাছের নিবিড় পরিচর্যা ও সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।”
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও নির্মল পৃথিবী গড়ার আহ্বান জানিয়ে ইউএনও আরও বলেন, “আজকের রোপণ করা এই ছোট্ট চারাগুলোই আগামী দিনে আমাদের খাদ্য, শীতল ছায়া ও বিশুদ্ধ বাতাসের জোগান দেবে। পরিবেশ রক্ষায় সমাজের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই সবুজ বিপ্লবে এগিয়ে আসতে হবে।” এ সময় তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে উত্তর মনোহরখাদী লায়ন্স ক্লাবের প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে উত্তর মনোহরখাদী লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি কালাম বেপারী বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের এমন মহতী উদ্যোগে সঙ্গী হতে পেরে আমরা গর্বিত। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের এই ধরনের সবুজ উদ্যোগ আরও বিস্তার করা প্রয়োজন।” তিনি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ক্লাবের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং দূর প্রবাসে থেকে সামাজিক কাজে সহযোগিতা পাঠানো প্রবাসী সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় প্রবীণ ও তরুণরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, এ ধরনের ফলজ গাছ রোপণের ফলে একদিকে যেমন প্রকৃতির খাদ্য শৃঙ্খল ও ভারসাম্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে আগামী প্রজন্ম পাবে একটি সুফলা-সবুজ পরিবেশ। তবে চারাগুলো যেন গবাদিপশু বা অবহেলায় নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাই মিলে পরিচর্যা করার অঙ্গীকার করেন তারা।
উল্লেখ্য, সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে উত্তর মনোহরখাদী লায়ন্স ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দৃষ্টান্তমূলক কাজ করে আসছে। ইতিপূর্বে সংগঠনটি নিজস্ব উদ্যোগে এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কে সোলার লাইট স্থাপন করে আলোর মুখ দেখিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রসারে ও সমাজ সচেতনতায় তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে চাঁদপুর সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. রাহাত আমিন পাটওয়ারী, লায়ন্স ক্লাবের উপদেষ্টা সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একসময় যা ছিল বাঙালির প্রাত্যহিক খাবারের অনুষঙ্গ, সেই রুপালি ইলিশ এখন সাধারণ মানুষের জন্য রীতিমতো বিলাসী পণ্য। তবে মৎস্য গবেষকরা পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যাতে মাছটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরে আসে। নদীর জলাশয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার, প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত সংকট মোকাবিলার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে তারা আশাবাদী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নদী কেন্দ্রের (চাঁদপুর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তায়েফা আহমেদ জানান, দূষণ, নাব্যতা সংকট ও পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উজানের দিকে ইলিশের বিচরণ কমেছে। বর্তমানে ইলিশের মজুত, বিচরণ ও উৎপাদন নিয়ে ‘পপুলেশন ডায়নামিকস অ্যান্ড স্টক অ্যাসেসমেন্ট অব টেনুয়ালোসা ইলিশা ইন বাংলাদেশ’ গবেষণাসহ ছয়টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। ড. তায়েফা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “নদীর জলাশয়কে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারলে ইলিশের আগের প্রাচুর্য আবারও চাঁদপুরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”
মৎস্য গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট ৫ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল, যার মধ্যে চাঁদপুরে উৎপাদন ছিল ৩৩ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারাদেশে উৎপাদন কমে ৫ লাখ মেট্রিক টনে নামলেও চাঁদপুরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৪৭২ মেট্রিক টনে। তবে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা দিয়েছে; ইলিশের ডিম ও রেণু পোনার উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে সারাদেশে ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮০২ কেজি ডিম উৎপাদন হলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৬৪ কেজিতে। ফলে রেণু পোনা ও বেঁচে থাকা জাটকার সংখ্যা আনুপাতিক হারে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চাঁদপুরে ইলিশের উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টনে।
চাঁদপুরের জেলেরা উৎপাদন ও নদীতে মাছের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। রাজরাজেশ্বরের জেলে বাচ্চু বেপারি ও খলিল জানান, নদীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল টেনেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। উপরন্তু তেলের দাম বৃদ্ধিতে জীবিকা নির্বাহ করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
নদীতে সরবরাহ কম থাকায় চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাটে দাম বেড়ে গেছে আকাশচুম্বী। স্থানীয় ব্যবসায়ী মেজবাহ উদ্দিন ও সম্রাট বেপারি জানান, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ ১৭৫০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় কেজিতে ৫শত থেকে ৬শত টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। অসাধু উপায়ে প্রজনন ও জাটকা মৌসুমে নিধন এবং সাগরে ট্রলিং জালের ব্যবহারকে ইলিশের ঘাটতির প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন আড়তদার ও পাইকাররা।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম জানান, ইলিশের দাম কমাতে উৎপাদন বৃদ্ধির বিকল্প নেই। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার নদীতে পরিচালিত হবে কঠোর অভিযান।
নিষেধাজ্ঞাকালীন চাঁদপুরের ৪২ হাজার ৭৯০ জন নিবন্ধিত জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হবে। চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসাইন জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গবেষকদের বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ, ডুবোচর খনন এবং প্রজনন মৌসুমে প্রশাসনিক কঠোরতা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে আবারও ইলিশের চেনা প্রাচুর্য ফিরে আসবে এবং মাছটি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন চাঁদপুরবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর, ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান রাজপথ প্রদক্ষিণ করে। মিছিল চলাকালীন নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর -৩ আসনের সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন- "তারেক রহমান বলেছেন- 'আজকের এই সমাবেশ ষড়যন্ত্রের দুরভিসন্ধিকে প্রতিরোধ করার সমাবেশ।' আমরা চাঁদপুরে গত ১৭ বছর এই সহকর্মীদের সাথে নিয়ে চাঁদপুরবাসীকে সঙ্গে করে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। আজকে কেউ কেউ লং মার্চের নামে বক্তব্য দিয়ে এক বনে এক বাঘ সাজে! বক্তব্য দিয়ে বলে কি- আঙ্গুল দেখিয়ে আমাদেরকে বলে, 'এক দফা'! স্বঘোষিত নানার জন্ম হয়েছে এখন বাংলাদেশে! এই বাংলাদেশে কোনো স্বঘোষিত নানার জায়গা হবে না! এই বাংলাদেশে কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতাকর্মীর জায়গা হবে না!
যারা আমাদের এই চাঁদপুরে আরামে ঘুমায় আর নিষিদ্ধ ঘোষিত অঙ্গ সংগঠনের নামে মিছিল করে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করে। এখনো আমরা আপনাদের ব্যাপারে কোনো ধরনের ডিসিশন নেই নাই। যারা এই কাজে লিপ্ত হবেন, এই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যারা এই কাজে উসকানিদাতা থাকবেন এবং আমাদের দলীয় কেউ যদি তাদেরকে সহযোগিতা করেন- সবাই সমানভাবে দোষী সাব্যস্ত হবেন।
আপনাদের কাছে অনুরোধ- আপনারা আপনাদের পাড়া-মহল্লাতে এই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন এবং যারা স্বঘোষিত নানা দাবি করে, তাদেরকে প্রতিরোধ করার জন্য যা যা প্রয়োজন তা তা করা হবে। জনগণকে নিয়ে আমরা প্রতিরোধ করব। তারেক রহমান জনগণের প্রধানমন্ত্রী!
এক দফা এক দাবি- আমাদের স্লোগান ছিল। আমরা বলতাম- 'এক দফা এক দাবি, শেখ হাসিনা কবে যাবি?' আপনারা চান্দুরা কোথায় ছিলেন ১৭ বছর? বিল্ডিংয়ের ছাদের উপর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ৩ তারিখ আর ৪ তারিখ জুলাই মাসে কই ছিলেন। আমাদের ১৭ বছরের মতো রাজনীতি করতে হবে। আমরা কিন্তু কচি খোক না! আমরা কি বুঝি না? নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের লগে মিল করে আপনারা এক দফা এক দাবির ঘোষণা দিচ্ছেন! বাংলাদেশের জনগণ এত চুদু না।
একটি নিরপেক্ষ জরিপে বলেছে, বিএনপির পপুলারিটি ৫২% এই মুহূর্তে। প্রধানমন্ত্রীর ৬৫%! প্রধানমন্ত্রীর পপুলারিটি আর বিএনপির পপুলারিটি একই। আমরা প্রধানমন্ত্রীর... আমাদের প্রিয় নেতা, উনার পপুলারিটি রক্ষা করতে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে যা যা করা দরকার, আমরা তাই করব। সবাই চোখ-কান খোলা রাখবেন। মাদকের ব্যাপারে কোনো রকমের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইভটিজিংয়ের ব্যাপারে কোনো রকমের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজদের ব্যাপারে কোনো রকমের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকমের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।"
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট একেএম. সলিম উল্যা সেলিম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ মাঝি, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শাহজাহান কবির খোকা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন, যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল আলম সূর্য, সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মান্নান খান কাজল, আবু হানিফ কাকন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সফিউদ্দিন উদ্দিন বাবলু, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন পাটোয়ারী, সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের শত শত নেতাকর্মী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আনন্দমুখর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করা। ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আগত নেতৃবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করে নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক তৎপরতা ও আসন্ন দুর্গাপূজা আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার" এই চেতনাকে সামনে রেখে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সম্প্রীতি ও সহযোগিতায় উৎসব সফল করার দীপ্ত প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
উৎসবের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এই নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বর্ধিত সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় চাঁদপুর জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ এবং যুগ্ম সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা। তারা জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও স্থানীয় পরিস্থিতি সভার সামনে তুলে ধরেন।
এ বছর চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলায় মোট ২৩২টি মণ্ডপে সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে বর্তমানে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে দেবী প্রতিমা গড়ার কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। সেই সাথে আলোকসজ্জা ও মণ্ডপ সজ্জার প্রস্তুতিও জমে উঠেছে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৬ দিনব্যাপী এই প্রাণের উৎসব। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সাহাপুর এলাকায় পৌরসভা গেইট সংলগ্ন ওমর ফারুকের প্রবাসীর মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গোডাউনের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, আগুনে প্রায় ৫ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকান ও গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে নুরুল হকের কনফেকশনারি দোকান, ওমর ফারুকের ইলেকট্রিক দোকান এবং শাহজাহান মিয়ার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পাশাপাশি পাশের একটি ফার্মেসি, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান এবং দুটি গোডাউনের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
খবর পেয়ে সেনবাগ ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় শামীম, মিরন, ইব্রাহিম, অনিক, জাহিনসহ আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেন। ঘটনাস্থলে সেনবাগ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ