শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩৬ পি.এম
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আনন্দমুখর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করা। ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধরের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আগত নেতৃবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করে নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক তৎপরতা ও আসন্ন দুর্গাপূজা আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার" এই চেতনাকে সামনে রেখে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সম্প্রীতি ও সহযোগিতায় উৎসব সফল করার দীপ্ত প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
উৎসবের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এই নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বর্ধিত সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় চাঁদপুর জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ এবং যুগ্ম সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা। তারা জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও স্থানীয় পরিস্থিতি সভার সামনে তুলে ধরেন।
এ বছর চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলায় মোট ২৩২টি মণ্ডপে সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে বর্তমানে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতে দেবী প্রতিমা গড়ার কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। সেই সাথে আলোকসজ্জা ও মণ্ডপ সজ্জার প্রস্তুতিও জমে উঠেছে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৬ দিনব্যাপী এই প্রাণের উৎসব। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সাহাপুর এলাকায় পৌরসভা গেইট সংলগ্ন ওমর ফারুকের প্রবাসীর মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গোডাউনের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, আগুনে প্রায় ৫ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকান ও গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে নুরুল হকের কনফেকশনারি দোকান, ওমর ফারুকের ইলেকট্রিক দোকান এবং শাহজাহান মিয়ার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পাশাপাশি পাশের একটি ফার্মেসি, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান এবং দুটি গোডাউনের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
খবর পেয়ে সেনবাগ ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় শামীম, মিরন, ইব্রাহিম, অনিক, জাহিনসহ আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেন। ঘটনাস্থলে সেনবাগ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্ণীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান কর্মসূচির সমালোচনা করে বলেছেন, “নতুন করে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছে।” শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্ণীপুরের টুমচর ইউনিয়নের ইলির গোজা এলাকায় বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় নদীর তীররক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা যে আসন পেয়েছেন, সে আসনের দায়িত্ব পালন করুন। জনগণ সরকারকে পাঁচ বছরের জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে। দেশের উন্নয়নের কাজে সহযোগিতা করুন।” আবুল খায়ের ভূঁইয়া আরও বলেন, “ইসলামের নামে যারা নানা ধরনের কথা বলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের এসব রাজনীতি আর চলবে না।” সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি ও জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতেই বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বি-স্ট্রং প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সামিউল হক, ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, লক্ষ্ণীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান, সাবেক জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. ফয়েজ আহাম্মেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইলির গোজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “নদীভাঙন আমাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা। আমরা চেষ্টা করে যাব, যাতে ভবিষ্যতে এ এলাকার মানুষকে নদীভাঙনে উদ্বাস্তু বা শরণার্থীর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।” স্থানীয় বিএনপির সভাপতি মাসুদুর রহমান এর সভাপতিত্বে এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়া আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বি-স্ট্রং প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর তীর রক্ষায় টেকসই কাজ করা হবে।
জিওটেক্সটাইলের সঙ্গে সিমেন্টের ব্লক ব্যবহার করে কাজটি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি করতে হবে। আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “আগের মতো শুধু ব্লক ফেলে বা জিওব্যাগ ফেলে কাজ শেষ করে দেওয়া হবে না। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজগুলো তদারকি করবেন।”
তিনি আরও বলেন, লক্ষ্ণীপুর-২ নির্বাচনী এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে আরও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সড়ক, ব্রিজ ও লিংক রোড নির্মাণের ক্ষেত্রেও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ব্রিজ নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে মাটি ভালো এবং ব্রিজ টেকসই হবে, সেখানেই ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। জনগণ যেন দীর্ঘদিন এর সুফল ভোগ করতে পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। লিংক রোডের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী লিংক রোড নির্মাণ করা হবে। এ জন্য কাউকে তদবির করতে হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “কোনো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা অর্থের অপচয় হতে দেওয়া হবে না। আমরা জনগণের খেদমতগার, আমরা জনগণের সেবক; শাসক নই।” এর আগে অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে তিনি এলাকার উন্নয়নকাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্লক ফেলে বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় নদীর তীররক্ষা কাজের উদ্বোধন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় জুম্মার নামাজ আদায়ের সময় মসজিদের ভেতরে নাহিদ ইসলাম (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। আহত নাহিদ ইসলাম একই এলাকার বাসিন্দা ও সাইফুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুম্মার নামাজ চলাকালে পূর্বশত্রুতার জেরে কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে নাহিদ ইসলামের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার গুলশানে সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলে অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে কাজী হামিদুর রহমান (৪৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে খিলক্ষেত থানার পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া হামিদুর রহমানের বাসস্থান খিলক্ষেত থানার বড়ুয়া দেওয়ানপাড়া এলাকায়। তার পিতার নাম মৃত কাজী আব্দুল মতিন এবং মাতার নাম হাসিনা বেগম।
তিনি জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। ওই মিছিলে মোটরসাইকেলে অংশগ্রহণকারী হামিদুর রহমান সামনের সারিতে অবস্থান করছিলেন এবং স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। মিছিলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খিলক্ষেত থানার পিংক সিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামিদুর রহমান খিলক্ষেত থানাধীন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত আলীর বডিগার্ড হিসেবেও পরিচিত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ