বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:৩১ পি.এম
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : দেশপ্রেম এবং দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং ক্লাব (টিসিডিসি) আয়োজিত ‘১ম জাতীয় বিতর্ক উৎসব ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এবং পরবর্তীতে ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের পরও কাক্সিক্ষত সাংস্কृतिक পরিবর্তন না হওয়ায় আমরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সারাদেশে সেই প্রয়োজনীয় সাংস্কৃতিক পরিবর্তন দেখতে চাই।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে উপাচার্য বলেন, দেশের ব্যাংক, বীমা, কর্পোরেট খাত ও বেসরকারি চাকরির সিংহভাগ ক্ষেত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের দখলে রয়েছে। এমনকি প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান এবং গ্রামীণফোনের সিইও-এর মতো উচ্চপদে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই নিজেদের ছোট না ভেবে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষাঙ্গণে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ এবং গঠনমূলক প্রতিযোগিতার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে এবং শিক্ষার্থীদের নিজেদের একাডেমিক ও সহপাঠ্যক্রমিক অঙ্গনের স্বার্থে কাজ করতে হবে।
বিতর্কের মাধ্যমে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এ সময় তিনি তেজগাঁও কলেজকে বিভিন্ন ক্লাবভিত্তিক শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি 'মডেল' হিসেবে গড়ে তোলার কথাও ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।
‘তারুণ্যের কলতানে, মুক্তির জয়গানে জেগে উঠুক বাংলাদেশ’এই স্লোগানে আয়োজিত এই বিতর্ক উৎসবে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সর্বমোট ৬৪টি দল অংশগ্রহণ করে।
তেজগাঁও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার এবং মো. ফখরুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিজের আর্থিক টানাপোড়েনের কথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে জানাতে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম কেঁদে ফেলেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণের সময় রেদোয়ানুল ইসলাম এ ঘটনার অবতারণা করেন।
জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ক্ষেত্রে আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন রেদোয়ানুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার এ মামলায় উপস্থিত এক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করতে যাচ্ছিল ট্রাইব্যুনাল। এ সময় কিছু বলতে ট্রাইব্যুনালের কাছে রেদোয়ানুল অনুমতি চান।
ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দিলে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘন ঘন ডেট (মামলার তারিখ) দিলে আমার সমস্যা হয়। ঘন ঘন ডেট দিলে আইনজীবীর টাকা দিতে পারি না। আর্থিকভাবে আমার সঞ্চয় বা অন্য কিছু নেই। ফলে ঘন ঘন ডেট দিলে বেতনের টাকা আইনজীবীকে দেব নাকি সংসার চালাব?’ এ কথা বলার সময় তিনি কেঁদে ফেলেন।
সঙ্গে সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল এই বিষয়ে রেদোয়ানুলের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনজীবী শাহিনুর রিজনেবল জানান ফি নেওয়া হচ্ছে এবং বাড়তি সময় নেওয়া হচ্ছে না বলে জানান।
তখন ট্রাইব্যুনাল রেদোয়ানুলকে বলেন, ‘ঘন ঘন ডেট দিয়ে মামলা শেষ করে দিলে আপনাকে আইনজীবীর পেছনে খরচ করতে হবে না।’ এসময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমটি ট্রাইব্যুনালকে জানায় যে রেদোয়ানুলের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের সুযোগ আছে।
এরপর ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘ওনি (রেদোয়ানুল) কেঁদে ফেলেছেন। বলছেন, আমি পারছি না। আমি সংসার চালাব নাকি উকিলকে ফিস দেব। এটা আমার হার্ট টাচ করেছে।’
এ সময় প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার মন্তব্য করেন, তাহলে এই মামলা যেদিন থাকবে, ওই দিন অন্য কোনো মামলা না রাখলে ভালো হবে। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। ওই দিন অন্য কোনো মামলা রাখা হবে না বলেও জানান ট্রাইব্যুনাল।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় রেদোয়ানুল ইসলাম ছাড়া অন্য তিন আসামি হলেন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মো. রাফাত-বিন-আলম মুন, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। তাদের মধ্যে রেদোয়ানুল ও রাফাত-বিন-আলম গ্রেপ্তার আছেন। অন্য দুই আসামি পলাতক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত নতুন মোড় নিচ্ছে। একদিকে রয়েছে আকস্মিক হামলার খবর, অন্যদিকে চলছে সামরিক শক্তির নতুন বিন্যাস ও অর্থনৈতিক কৌশল। এমন অস্থিরতার মাঝে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
হুথি পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ জানিয়েছে, তারা নাজরান শহরের বিমানবন্দর এবং আরামকো তেল স্থাপনার মতো সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
এসব উত্তেজনার মধ্যে সাগরপথে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি নতুন করে সাজাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ এখন ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। দীর্ঘ সময় ধরে সাগরে থাকা ‘ইউএসএস লিংকন’-এর কর্মীদের একধরনের সংকট তৈরি হওয়ার পর নতুন এই রণতরি সেখানে পাঠানো হলো।
অন্যদিকে, ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ খুব একটা কাজে আসছে না। তেহরানের ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম জানিয়েছেন, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দফা সংঘাত প্রমাণ করে, ইরান বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাণিজ্য করে তারা প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি সচল রেখেছে।
তিনি বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বদলে অর্থনৈতিক চাপের কথা বলছেন মূলত বৈশ্বিক বাজার স্বাভাবিক রাখতে এবং তেলের দাম কমাতে। তবে আগামী শরতে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক অভিযানে নামতে পারে বলে ধারণা করছেন এই বিশ্লেষক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলার পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৮৪টি ইয়াবা, ৮৮ কেজি ১৫৩ গ্রাম গাঁজা, ৬৮১ লিটার ২৫ মিলিলিটার চোলাই মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ১৫১টি অভিযান পরিচালনা করে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৮৪ পিস ইয়াবা, ৮৮ কেজি ১৫৩ গ্রাম গাঁজা, ৬৮১ লিটার ২৫ মিলিলিটার চোলাই মদ, ৪৭ বোতল স্কফ সিরাপ, ২০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ৪৭ বোতল ভারতীয় মদ। এ ঘটনায় ৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ১০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে ৩৬ হাজার ২৮০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বল্প সময়ে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার জন্য যথেষ্ট হাতিয়ার রয়েছে, তাদের কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা লক্ষ্য নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেনিফার গ্যাভিটো আল জাজিরাকে জানিয়েছেন যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো ইতোমধ্যে ইরানের অর্থনীতিকে যথেষ্ট দুর্বল করে ফেলছে। তিনি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন চাইলে এই চাপকে আরও বাড়াতে সক্ষম হবে। তবে জেনিফার গ্যাভিটো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের হাতে হাতিয়ার আছে ঠিকই, কিন্তু এটি একদমই কোন কৌশল নয়। অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বা ইরান পিছু হটবে—এমন কোন প্রমাণ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।’
ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনার বিস্তারিত একেবারেই পরিষ্কার নয়। তবে তার হাতে বেশ কিছু বিকল্প রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সই করা এক আদেশে জানিয়েছেন, যারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, তাদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানোর প্রস্তাব থাকতে পারে। এর পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ নতুন শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিতে পারে। এই অবস্থায় ইরানের সঙ্গে যুক্ত বন্দর, বিমান সংস্থা, কোম্পানি বা জাহাজগুলো বিশ্ব বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
বেসত, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের পাশাপাশি, তেহরানের বিরুদ্ধে কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক চাপকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। অবশেষে, এই লড়াইয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী, সেটি এখনও সকলের কাছেই অজানা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ