০১:২৮ পি.এম
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ২০২৫-২০২৭ চক্রের ফাইনালে এখনও কোনো দল নিজেদের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি, তবে সম্প্রতি ক্রিকেট মাঠে ঘটে যাওয়া কিছু রোমাঞ্চকর ফলাফল ফাইনালের লড়াইকে দারুণভাবে জমিয়ে তুলেছে। এক দিনের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত দুটি বড় ম্যাচের ফলাফল এবং পয়েন্ট টেবিলের পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দলগুলো এখন নতুন সমীকরণের সম্মুখীন হয়েছে।
শনিবার ঘরের মাঠে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানের ব্যবধানে পরাজিত করেছে। এই দারুণ জয়ের ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেওয়ার পাশাপাশি আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানও নিজেদের দখলে নিয়েছে প্রোটিয়ারা। বর্তমানে ১২৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা র্যাংকিংয়ের শীর্ষে অবস্থান করছে, আর ১২২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া দুই নম্বরে নেমে গেছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার এই ঐতিহাসিক জয়ের ঠিক আগে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। একদিনের ব্যবধানে হওয়া এই দুটি টেস্টের ফলের পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। অস্ট্রেলিয়ার হারের সুবাদে নিউজিল্যান্ড পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ বলেন, ‘এসি মিলানের কাছে আমি ঋণী’
বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ৯টি দলের মধ্যে আর মাত্র ১০টি টেস্ট সিরিজ বাকি রয়েছে। ফলে ফাইনালে ওঠার চূড়ান্ত লড়াইয়ে টিকে থাকতে প্রতিটি দলের জন্য বাকি ম্যাচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এক নজরে দেখা যাক ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান পরিস্থিতি ও দলগুলোর ফাইনালে ওঠার সমীকরণ:
১. নিউজিল্যান্ড
বাকি ম্যাচ: ভারত (২ টেস্ট, ঘরের মাঠে), অস্ট্রেলিয়া (৪ টেস্ট, অস্ট্রেলিয়ায়), শ্রীলঙ্কা (২ টেস্ট, ঘরের মাঠে), পাকিস্তান (২ টেস্ট, পাকিস্তানে)।
কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার হারের পর ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে নিউজিল্যান্ড। এই চক্রে তাদের সামনে বাকি আছে আর ১০টি টেস্ট। যদি তারা ছয়টি ম্যাচ জিততে পারে, তবে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬৪.৬ শতাংশে, যা ফাইনাল খেলার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের ড্রাফটে নাহিদ-রিশাদসহ ১০ বাংলাদেশি
তবে সাতটি জয় ও তিনটিতে হার নিয়ে যদি তারা এই চক্র শেষ করতে পারে, তবে পয়েন্ট হবে ৭০.৮৩ শতাংশ, যা ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাকে বহুগুণ জোরালো করবে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে দুটি এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি টেস্ট সিরিজ তাদের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।
২. দক্ষিণ আফ্রিকা
বাকি ম্যাচ: বাংলাদেশ (২ টেস্ট, ঘরের মাঠে), ইংল্যান্ড (৩ টেস্ট, ঘরের মাঠে), শ্রীলঙ্কা (২ টেস্ট, শ্রীলঙ্কায়)।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজ জয়ে ফাইনালের দৌড়ে বেশ শক্ত অবস্থানে উঠে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭১.৪২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছে প্রোটিয়ারা।
আরও পড়ুন: গ্রিলিশের দুই রাতের মদ্যপান, এভারটনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি
দক্ষিণ আফ্রিকার বাকি সাত ম্যাচের পাঁচটিই অনুষ্ঠিত হবে নিজেদের মাটিতে। বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজে যদি তারা সব ম্যাচ জিততে পারে, তবে টেম্বা বাভুমার দলের পয়েন্ট ৭১.৪২ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে যদি তারা বাকি ম্যাচগুলোর মধ্যে কেবল চারটি জেতে, তবে পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬৪.২৮ শতাংশে, যা ফাইনালের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৩. অস্ট্রেলিয়া
বাকি ম্যাচ: নিউজিল্যান্ড (৪ টেস্ট, ঘরের মাঠে), ভারত (৫ টেস্ট, ভারতে)।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার আগে ১০ ম্যাচের আটটিতে জয় ও দুটিতে হার নিয়ে ৮০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টানা দুই হারে এই চক্রে প্রথমবারের মতো শীর্ষ দুইয়ের বাইরে ছিটকে গেছে তারা।
আরও পড়ুন: ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে রোমা ও অ্যাস্টন ভিলা ম্যাচে
বর্তমানে ৬৯.২৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে নেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া। বাকি নয়টি টেস্টের মধ্যে অন্তত ছয়টিতে জয় পেলে তাদের পয়েন্ট ৬৭.২ শতাংশ হবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এবং ২০২৭ সালের শুরুতে ভারতের বিপক্ষে ৫ টেস্টের কঠিন সিরিজটি তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। তবে চারটিতে জয় ও কয়েকটি ড্র নিয়েও তারা ফাইনালে খেলার রেসে টিকে থাকতে পারে।
৪. ভারত
বাকি ম্যাচ: নিউজিল্যান্ড (২ টেস্ট, নিউজিল্যান্ডে), অস্ট্রেলিয়া (৫ টেস্ট, ঘরের মাঠে)।
কলম্বোয় ম্যাচ ড্র করার পর ৫১.৫২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। বাকি থাকা সাতটি টেস্টের সবকটিতে জিতলে তাদের পয়েন্ট গিয়ে ঠেকবে ৭০.৩৭ শতাংশে। এমনকি ছয়টিতে জিতলেও তা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৫ শতাংশে।
আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে পন্থের ফিটনেস অনিশ্চিত, জুরেলের সুযোগ বেড়েছে
তবে যদি পাঁচটিতে জয় ও একটি ড্র নিয়ে তারা আসর শেষ করে, তবে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যান্য দলগুলোর ফলাফলের দিকে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মাঠে যদি ০-২ ব্যবধানে হেরে বসে, তবে টিম ইন্ডিয়ার ওপর চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। এরপর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে ৫-০ ব্যবধানে হারালেও ভারতের পয়েন্ট হবে ৫৯.২৬ শতাংশ, যা দিয়ে ফাইনালের পথ বেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে।
৫. বাংলাদেশ
বাকি ম্যাচ : ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১ টেস্ট, ঘরের মাঠে), দক্ষিণ আফ্রিকা (২ টেস্ট, দক্ষিণ আফ্রিকায়), ইংল্যান্ড (২ টেস্ট, ঘরের মাঠে)।
ঘরের মাঠে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে হারের স্বাদ পেলেও ৪৭.৬২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ ফাইনালের রেস থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেছে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের তীব্র সমালোচনা করলেন ডেভিড ওয়ার্নার
বাকি থাকা পাঁচটি টেস্টের প্রতিটিতে যদি টাইগাররা জয় তুলে নিতে পারে, তবে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু এর মধ্যে আর একটি ম্যাচ হারলেই পয়েন্ট নেমে আসবে ৬১.১১ শতাংশে, যা দিয়ে শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে।
৬. শ্রীলঙ্কা
বাকি ম্যাচ : পাকিস্তান (২ টেস্ট, পাকিস্তানে), নিউজিল্যান্ড (২ টেস্ট, নিউজিল্যান্ডে), দক্ষিণ আফ্রিকা (২ টেস্ট, ঘরের মাঠে)।
এ পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচ খেলে ৩৩.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে বেশ পিছিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ড্র করার সুবাদে ফাইনালে খেলার ক্ষীণ আশা এখনও বেঁচে আছে তাদের। বাকি থাকা ছয়টি টেস্টের সবকটিতেই যদি তারা জয় তুলে নিতে পারে, তবে তাদের পয়েন্ট বেড়ে ৬৬.৬৭ শতাংশে পৌঁছাবে। সেক্ষেত্রে অন্য দলগুলোর ফলাফল যদি লঙ্কানদের অনুকূলে যায়, তবে ফাইনালে খেলার একটি দারুণ সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন