বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৯ পি.এম
গোপালগঞ্জ, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কাশিয়ানী উপজেলা গোপালগঞ্জের একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলের বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে ভরে যায়। এ পানিতে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা ফুল জন্ম নেয়। বর্ষা মৌসুমে কাশিয়ানী উপজেলার তিন হাজার মানুষ শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
কৃষকদের বর্ষা মৌসুমে তেমন কাজ না থাকায়, এলাকার অনেক কৃষক, বেকার এবং অন্যান্য পেশার লোকজন বর্তমানে শাপলা সংগ্রহের পেশায় যুক্ত হয়েছেন। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই শাপলা একদিকে সবজির চাহিদা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষাকালে কাজ না থাকা বেকার মানুষের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
উপজেলার সিংগা, রাহুথড়, হাতিয়াড়া, শিল্টাসহ বিভিন্ন বিলে ভোরে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষরা নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে শাপলা সংগ্রহ করেন। এ পেশায় কোনো পুঁজির প্রয়োজন না হওয়ায় এটি বেশ লাভজনক।
শাপলা ফুল সাধারণত বর্ষায় ডুবে যাওয়া বোরো ধানক্ষেত, পাটক্ষেত ও আমন ধানক্ষেতের মধ্যে বেশি জন্মায়। শাপলা শুধুমাত্র জাতীয় ফুল নয়, বরং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে একটি জনপ্রিয় সবজি হিসেবেও পরিচিত।
শাপলা বিক্রির জন্য উপজেলার রাহুথড়ে একটি পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে। ভোরের আলো ফুটতেই আশপাশের গ্রামসহ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শাপলা সংগ্রহকারীরা এখানে জড়ো হন। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে বাজার মুখরিত হয়ে ওঠে। শাপলা ফুলের সাদা আভায় পুরো বাজার আচ্ছাদিত হয়ে যায়। পাইকাররা এসব শাপলা কিনে জেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল ও লোহাগড়ায় বিক্রি করেন।
রাহুথড় শাপলার পাইকারি আড়তের ইজারাদার শংকর কুমার বসু বাসস’কে জানান, প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষরা শাপলা সংগ্রহ করে নৌকায় করে পাইকারি দামে বিক্রির জন্য এখানে নিয়ে আসেন। পাইকাররা এসব শাপলা কিনে ভ্যান, ইজিবাইক ও নছিমন করে কাশিয়ানী সদরসহ যশোর, খুলনা, আলফাডাঙ্গা ও ভাটিয়াপাড়া নিয়ে বিক্রি করেন। প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০ গাড়ী শাপলা এখান থেকে বিভিন্ন জেলায় যায়।
শাপলা সংগ্রহকারী গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বর্ষাকালে শাপলা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন প্রায় ৫-৭শ’ টাকার শাপলা সংগ্রহ করতে পারি। ভোরে রাহুথড় বাজারে পাইকারি দামে বিক্রি করে দেই।’
কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো এজাজুল করীম বাসস’কে জানান, ‘শাপলা একদিকে মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। কাশিয়ানীর বিলাঞ্চলে বর্ষাকালে কোনো ফসল হয় না। তখন কৃষকদের কোনো কাজ থাকে না। তারা তখন বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে সংসারের খরচ যোগান। প্রায় তিন হাজার পরিবার শাপলা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা চেষ্টার প্রতিক্রিয়া হিসেবে করা হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে এই তথ্য জানান। খবর জিও নিউজের
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আত্মরক্ষার সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে নির্ভুল বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব স্থান থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণ ও সংরক্ষণ করা হতো।’
একদিন আগে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছিল যে, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আটটি ড্রোনকে সময়মতো শনাক্ত করে এবং সেগুলোকে বাধা দিয়ে ভূপাতিত করে। এর মধ্যে চারটি তোরখাম সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এবং বাকি চারটি কোহাটের কাছের পার্বত্য এলাকায় ভূপাতিত করা হয়।
আতাউল্লাহ তারার বলেন, পাকিস্তানের হামলাগুলো ছিল ‘পরিকল্পিত, নির্ভুল, নিয়ন্ত্রিত ও আনুপাতিক’। তিনি জানান, পাকিস্তানে হামলার চেষ্টার সঙ্গে সরাসরি জড়িত শনাক্ত সামরিক স্থাপনাগুলোতেই হামলা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর আফগান ভূখণ্ড থেকে ড্রোন পাঠিয়ে পাকিস্তানের ওপর যে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে, ইসলামাবাদ তার তীব্র নিন্দা জানায়। এটি পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং ‘গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য আগ্রাসন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পাকিস্তান বহু বছর ধরে আফগান তালেবান সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে আফগানিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি ও তাদের সহযোগী নেটওয়ার্ক থাকার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
তার দাবি, তালেবান সরকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক ড্রোন অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে।
তারার বলেন, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনুপ্রবেশকারী সব ড্রোন শনাক্ত, অনুসরণ ও ধ্বংস করেছে। ফলে সেগুলো নির্ধারিত কোনো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আফগান ভূখণ্ড থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কিংবা আফগান তালেবান সরকার নিজে কোনো হামলা চালালে পাকিস্তান তা মেনে নেবে না। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এছাড়া, তালেবান সরকারকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর, দৃশ্যমান ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তবে আতাউল্লাহ তারার সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়াতে চায় না এবং আঞ্চলিক শান্তি, সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই অবস্থানকে দুর্বলতা বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করার মানসিকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
তিনি বলেন, পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নাগরিকদের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। আফগান তালেবানের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড হলে তার দৃঢ় ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ যদি হাতছাড়া হয়, তবে দেশ আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, একাত্তরের ঘাতক এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তি আজ একত্রিত হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। একইসাথে, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালালে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে বলে তিনি চরম হুঁশিয়ারি দেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান বলেন, যখন সরকার রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মূল ধারায় আলোকপাত করছে, তখন একটি মহল পতিত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। জামায়াত আমীরের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার হুমকির মধ্যে স্পষ্ট যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার পরিবর্তে জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারের যৌক্তিক সংস্কারকাজে বাধা সৃষ্টি করছে। এমনকি, জ্বালানি সংকটের মতো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ইস্যুকে পুঁজিকরে তারা লংমার্চের নামে রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
জামায়াত নেতৃত্বের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রাশেদ খান বলেন, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার যে মনোভাব জামায়াত দেখাচ্ছে, তা আত্মঘাতী। তাদের এই ইন্ধনেই নিষিদ্ধঘোষিত ও গণধিকৃত ছাত্রলীগ-যুবলীগ রাজপথে মিছিল করার দুঃসাহস পাচ্ছে। জামায়াত নেতাদের মনে রাখা উচিত- যে আওয়ামী লীগকে তারা ফেরাতে চাচ্ছে, সেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে আবারও তাদের নেতাদের ফাঁসি দেবে। সুতরাং, এই দেউলিয়া রাজনীতি বন্ধ করে জামায়াত নেতাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে সকালে শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাশেদ খান। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বিনোদপুরে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ফলে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী রাফিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে রুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালে গিয়ে রাফিদের চিকিৎসার বিষয়টি পর্যালোচনা করেন।
তারা হাসপাতালের মহাপরিচালকের সাথে আলোচনা করে জানতে পারেন যে, মাথায় গুরুতর আঘাতের ফলে রাফিদের মস্তিষ্কে রক্ত জমে রয়েছে। উন্নত চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ অবস্থায়, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন এবং সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বুকিং দেওয়া হয়।
রাফিদ শাহরিয়ার রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিনোদপুর বাজারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল আকস্মিকভাবে ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় সেটিকে সাইড দিতে গিয়ে রাফিদ নিয়ন্ত্রণ হারান। ফলে বাইক থেকে ছিটকে পড়ে তার মাথা সড়কের ডিভাইডারে সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং সাময়িকভাবে অপারেশন থিয়েটারেও নেওয়া হয়েছিল।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, তার অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তিনি কোমায় যাওয়ার আগের পর্যায়ে রয়েছেন, অর্থাৎ বর্তমানে কোমা স্কেলে তার অবস্থা ৩.৫ বলে জানা গেছে। তবে রাজশাহীতে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্ভব না হওয়ায় শেষ চেষ্টা হিসেবে ঢাকায় নিয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে বিলম্ব হয় এবং দুপুর ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থী রাফিদের দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে আমরা তার চিকিৎসার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সকালে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলি। তার মাথায় গুরুতর আঘাতে মস্তিষ্কে রক্ত জমেছে। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার রাজশাহীতে সম্ভব না, চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে প্রশাসনের থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করি। রাফিদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার এই সংকটময় সময়ে রুয়েট প্রশাসন তার পাশে আছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক এটাই প্রত্যাশা। রাফিদের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।”
দুর্ঘটনার বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রুয়েট ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সিএমই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হিমেল ইসলাম বলেন, “বিনোদপুর বাজারে হঠাৎ শব্দে আমরা সচেতন হই। পরক্ষণে এ দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে পারি। তারপর আমরা ভাইকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং বর্তমানে তার অবস্থা অবনতির দিকে রয়েছে বলে জানতে পারি।”
এদিকে রাফিদের চিকিৎসার জন্য রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ফান্ড সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি ক্রাউড ফান্ডিং সংগ্রহ হয়েছে। তার পরবর্তী চিকিৎসায় আরও ১৮-২০ লক্ষ টাকার অর্থের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা গেছে। রাফিদের দ্রুত সুস্থতার জন্য রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ, যিনি দাউদ নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে সিআইডি মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করেছে। ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে ভুয়া টেন্ডার এবং যৌথ ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার পর এই মামলা করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফয়সাল ১ কোটি ৯৩ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আদাবর থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল লতিফ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেছেন। তবে সিআইডির সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তাকে ফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারা যায়নি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ফয়সাল একজন পেশাদার প্রতারক। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে ভুয়া টেন্ডার, যৌথ ব্যবসার প্রলোভন এবং বাকিতে মালামাল ক্রয় করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ফয়সাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাল্টিপল ট্যুরিস্ট ভিসার অধিকারী। এনসিবি আবুধাবি সূত্রে জানা গেছে যে, তিনি ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দুবাই থেকে দেশে ফিরে আসেন। অপরাধলব্ধ আয় অবৈধভাবে পাচার করে দুবাইয়ে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া, জালিয়াতির অর্থ গোপন করতে তার স্ত্রী শাহেদার এনআরবিসি ব্যাংক সেনপাড়া শাখার হিসাবে বারবার টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে গত বছরের ৪ নভেম্বর ৬২ লাখ টাকা নগদ জমা করে এফডিআর করা হয়। সিআইডির অনুসন্ধানে জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের তথ্যপ্রমাণ মেলায় ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ৫৩টি হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন।
অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, অপরাধলব্ধ আয় গোপন ও বৈধ করার উদ্দেশ্যে আসামিরা বিভিন্ন ব্যাংকে জালিয়াতিপূর্ণ একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় ফয়সালকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্তে তার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিআইডি ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এরই মধ্যে ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে ৮ মার্চ গ্রেফতার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। এরপর থেকে দুজন দেশটির কারাগারে আছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ