ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেপালে এত বড় বিপর্যয়ের পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল


নেপালে এত বড় বিপর্যয়ের পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল

উজানে তুষারধস ও নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে হড়পা বান, নাকি হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যা—এ বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের নিকটবর্তী ভোতে কোশি নদীতে বুধবার সকালে আকস্মিকভাবে প্রবল স্রোতের হড়পা বান নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি ফুলে-ফেঁপে উঠে সেতু, সড়ক ও বসতিগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটে। নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৪০৩ জন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি পর্যটক বলে জানা যাচ্ছে।

তবে এত বড় বিপর্যয়ের পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও স্যাটেলাইটের কিছু তথ্য নির্দেশ করছে যে, নেপাল-চীন সীমান্তের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় তুষার ও পাথরের বিশাল ধসের কারণে লহেন্দে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পরে জমে থাকা পানির চাপের ফলে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে হঠাৎ নিচের দিকে প্রবল জলস্রোত নেমে আসে। এটি ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

তবে আরেকটি আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিজ্ঞানীরা খতিয়ে দেখছেন যে, কোনো হিমবাহের হ্রদ ভেঙে আকস্মিক পানি নেমে এসেছিল কি না। পরিষ্কার স্যাটেলাইট ছবি এবং একাধিক উৎসের তথ্য যাচাই না হওয়া পর্যন্ত বন্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

ভূমিকম্প নয়, বরফ-পাথরের ধস?

ঘটনার পরপরই তিব্বত এলাকায় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে পাওয়া তথ্য বলছে, প্রথমে যে কম্পন অনুভূত হয়েছিল, সেটি বড় ধরনের বরফ ও পাথরের ভূমিধসের কারণেও হতে পারে।

কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) রিমোট সেন্সিং ও জিও ইনফরমেশন বিশ্লেষক সার্থক শ্রেষ্ঠ জানান, চীন সীমান্তের দিকে প্রাথমিক মূল্যায়নে অস্বাভাবিক কোনো বিষয় ধরা পড়েনি। তাদের ধারণা, নেপালের অংশে একটি পাথুরে বরফধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে লহেন্দে নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে একের পর এক তীব্র বন্যা সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র শান্তি মহাতও জানিয়েছেন, একটি তুষারধসের কারণে নদীর গতিপথ আটকে যাওয়ার প্রাথমিক তথ্য তারা পেয়েছেন। আইসিআইএমওডি চীনের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে তাদের সঙ্গে তা শেয়ার করেছে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি এখনো প্রাথমিক মূল্যায়ন। আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এই মুহূর্তে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরে বন্যার প্রকৃত কারণ আরও পরিষ্কার হবে।

কীভাবে হড়পা বান হলো

বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ব্যাখ্যা হলো, উঁচু পাহাড় থেকে বরফ ও পাথরের বিশাল একটি অংশ ধসে লহেন্দে নদীর ওপর পড়ে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পানি জমতে থাকে। পাহাড়ি এলাকায় এমন প্রাকৃতিক বাধা বা অস্থায়ী বাঁধ দীর্ঘ সময় টিকে থাকে না।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

একপর্যায়ে জমে থাকা পানির চাপ বেড়ে গেলে সেই বাধা ভেঙে যায়। তখন অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি, পাথর, বরফ ও পলিমাটি নিচের দিকে ধেয়ে আসে। এই প্রবল স্রোতই ভোতে কোশি নদীতে হড়পা বানের সৃষ্টি করে।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত কায়স্থ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, নেপাল ও চীনের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তুষারধসের এই ধারণা করা হচ্ছে। তার মতে, নেপালের দিক থেকে তুষারধস নেমে লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দিয়েছিল। পরে জমে থাকা পানি প্রবল স্রোতে বেরিয়ে এসে ভোতে কোশীতে বিপর্যয় ঘটায়।

ভূমিকম্পের তথ্যও মিলেছে

তুষারধসের আশঙ্কার পাশাপাশি ওই এলাকায় ভূমিকম্পের তথ্যও পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এর কেন্দ্র ছিল গোসাইকুণ্ড হ্রদ থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

তবে এই ভূমিকম্পই বন্যার কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ভূমিকম্পের কম্পনের সঙ্গে বরফ-পাথরের বড় ধরনের ধসের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও বিজ্ঞানীরা খতিয়ে দেখছেন।

হিমবাহের হ্রদ ভেঙেছিল কী

বন্যার আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হলো হিমবাহের হ্রদ ভেঙে যাওয়া। হিমবাহ গলে পাহাড়ের কোলে বড় হ্রদ তৈরি হলে সেটিকে হিমবাহ হ্রদ বলা হয়। এই ধরনের হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসে। পাহাড়ি নদীতে তখন ভয়াবহ হড়পা বান তৈরি হতে পারে।

এবারের ঘটনাতেও এমন কোনো হিমবাহ হ্রদ ভেঙেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, নেপাল বা তিব্বতের কোথাও কোনো হিমবাহের হ্রদ ভেঙে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

তবে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কায়স্থ বলছেন, ওই এলাকায় অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে। গত বছরও একই এলাকায় হিমবাহের হ্রদ ভেঙে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ৮ জুলাই নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে লহেন্দে নদীর একটি হিমবাহ হ্রদ ভেঙে আকস্মিক জলস্রোত নেমে এসেছিল বলে তখন নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছিল। সেন্টিনেল স্যাটেলাইটের ছবির বিশ্লেষণেও একই তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।

এবার ভারী বৃষ্টি বড় কারণ নয়

এবারের বন্যাকে শুধু অতিবৃষ্টির ফল হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। কারণ, বন্যার আগে রাসুয়া এলাকায় উল্লেখযোগ্য ভারী বৃষ্টির তথ্য নেই।

অধ্যাপক কায়স্থের মতে, পানি যেভাবে হঠাৎ প্রবল স্রোতে নিচের দিকে নেমে এসেছে, তাতে উজানে কোথাও পানি আটকে যাওয়ার পর একসঙ্গে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনাই বেশি। অর্থাৎ তুষারধস, ভূমিধস কিংবা হিমবাহ হ্রদ ভেঙে যাওয়ার মতো কোনো আকস্মিক ঘটনা এর পেছনে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে

কেন বারবার এমন বিপর্যয়?

হিমালয় এখন জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হিমবাহ দ্রুত গলছে। এতে নতুন নতুন হিমবাহ হ্রদ তৈরি হচ্ছে এবং পুরোনো হ্রদগুলোর পানির পরিমাণও বাড়ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ের বরফ ও মাটির স্থিতিশীলতাও কমে যাচ্ছে।

আইসিআইএমওডির জলবায়ু ও পরিবেশ ঝুঁকি বিভাগের প্রধান চিয়াংগং ঝাং সতর্ক করেছেন, উজানে এখনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে থাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিতে পারে।

এ কারণে এবারের ঘটনা শুধু একটি আকস্মিক পাহাড়ি বন্যা নয়; এটি হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশেরও একটি সতর্কবার্তা।

২০১৯ সালের একটি গবেষণাতেও বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের হিমবাহগুলো দ্রুত বরফ হারাচ্ছে। এর ফলে তুষারধস, হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।

আসল কারণ জানতে আরও তথ্য দরকার

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য থেকে তুষারধস ও নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার তত্ত্বটি সবচেয়ে জোরালো বলে মনে হচ্ছে। তবে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাতিল করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ভূমিকম্পের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দুর্গম হিমালয় অঞ্চলে মেঘ ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে স্যাটেলাইট ছবিও সব সময় পরিষ্কার পাওয়া যায় না। ফলে উজানে ঠিক কোথায় এবং কীভাবে বরফ-পাথরের ধস হয়েছে, কোথায় পানি আটকে ছিল কিংবা কোনো হিমবাহ হ্রদ ভেঙেছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই পরিষ্কার- হিমালয়ের মতো উচ্চঝুঁকির এলাকায় বরফ, পাথর, হিমবাহ ও নদীর স্বাভাবিক ভারসাম্যে সামান্য পরিবর্তনও মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেই ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছিনতাইকারীকে বমি করিয়ে সোনার কানের দুল উদ্ধার করলো পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ এম


ছিনতাইকারীকে বমি করিয়ে সোনার কানের দুল উদ্ধার করলো পুলিশ

ঢাকার যাত্রাবাড়ী মোড়ে এক নারীর স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর সময় সেলিম (২৮) নামে এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে ট্রাফিক পুলিশ। পরে বমি করিয়ে তার পেট থেকে ছিনতাই করা সোনার কানের দুল উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

ট্রাফিক যাত্রাবাড়ী জোন সূত্রে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্ব পালনের সময় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা এক নারীর চিৎকার শুনে দেখতে পান, এক ব্যক্তি ছিনতাই করে দৌড়ে পালাচ্ছেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করেন।

পরে তল্লাশি করে সেলিমের কাছে ছিনতাই হওয়া সোনার কানের দুল পাওয়া যায়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দুলটি গিলে ফেলার কথা জানান। এরপর তাকে বমি করানো হয়। একপর্যায়ে তার পেট থেকে সোনার কানের দুল বের হয়ে আসে।

আটক সেলিম ও ভুক্তভোগী নারীকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যাত্রাবাড়ী থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আঙুল মটকানো ভালো না খারাপ? কী বলছে গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ এম


আঙুল মটকানো ভালো না খারাপ? কী বলছে গবেষণা

মানুষের জীবনে অনেক ধরনের অভ্যাস রয়েছে যা তাদের অজান্তেই ঘটে। এর মধ্যে আঙুল ফোটানো একটি সাধারণ অভ্যাস। যখন কাজের মাঝে একটানা টাইপ করতে করতে ক্লান্তি অনুভব হয়, তখন আঙুল ফোটালে ‘কট’ শব্দ হয়। এতে এক ধরনের অদ্ভুত শান্তি অনুভূত হয়। তবে অনেকেই বলেন, এই অভ্যাস পরিত্যাগ করা উচিত। তাদের মতে, এতে বাতের সমস্যা হতে পারে। আবার কেউ কেউ আঙুল ফোটানোর উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেন। তাহলে আঙুল মটকানো আসলে ভালো, না খারাপ? বিজ্ঞান কী বলছে এ বিষয়ে?

শরীরের অস্থিসন্ধিতে (যেমন হাতের আঙুলের যেখানে চাপ দেওয়া হয়) কিছু খালি স্থান রয়েছে। এই স্থানগুলো তরল অস্থিমজ্জা দ্বারা পূর্ণ থাকে। আগে মনে করা হতো, আঙুল ফোটানোর সময় অস্থির মাঝে ফাঁক সৃষ্টি হয়। এর ফলে বুদ্বুদ তৈরি হয়, যা বেরিয়ে আসার সময় শব্দ সৃষ্টি করে।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের’ একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাঝে মাঝে আঙুল ফোটানো বা হালকা শব্দ করা জয়েন্ট বা হাড়ের বড় ক্ষতি করে না। অনেকেই ক্লান্তি দূর করার জন্য বা মানসিক তৃপ্তির জন্য আঙুল মটকান। চিকিৎসকরা বলেন, এটি নিয়মিত না করলে ভয়ের কিছু নেই। আঙুল ফোটানোর সঙ্গে সরাসরি অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্পর্ক নেই। তবে যদি আঙুল ফাটানোর সময় ব্যথা অনুভূত হয় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডা. বেরেজিকলিয়ান বলেছেন, আঙুল টানাটানি বা ফোটানোর সঙ্গে শরীরের হাতের ক্ষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তার দাবি, আঙুল ফোটানোর অভ্যাস ব্যাপক। যদি এটি ক্ষতিকর হতো, তাহলে এ বিষয়ে অনেক রিপোর্ট পাওয়া যেত। কিন্তু তা হয়নি। তাই আঙুল ফোটানোর সঙ্গে হাড়ের সমস্যা বা বাতের সম্পর্ক নেই।

ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক আনগার ৬০ বছর ধরে নিজের ওপর একটি পরীক্ষা চালিয়ে আসছেন। তিনি প্রতিদিন নিয়মিতভাবে বাহাতের আঙুল ফুটিয়েছেন কিন্তু ডান হাত ধরেননি। এত দীর্ঘ পরীক্ষার ফলাফল? দুই হাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য তিনি খুঁজে পাননি। এই আবিষ্কারের জন্য ২০০৯ সালে তিনি ‘আইজি নোবেল’ বা ইগনোবেল পুরস্কারও অর্জন করেছেন।

এখন প্রশ্ন হলো, আঙুল মটকানো কি সম্পূর্ণ নিরাপদ? মোটেই তা নয়। বাতের সমস্যা থাকলে অন্য জটিলতা হতে পারে। ক্রমাগত আঙুল মটকালে সাইনোভিয়াল মেমব্রেন ছিঁড়ে যেতে পারে এবং জয়েন্টগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এছাড়া, যারা খুব ঘন ঘন আঙুল মটকান, তাদের আঙুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কবজির হাড়ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে, ফলে হাতের শক্তি কমে যেতে পারে। তাই আঙুল মটকানোর অভ্যাস পরিবর্তন করাই ভালো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ড্রাগন ফল যাদের জন্য নিরাপদ নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০১ এম


ড্রাগন ফল যাদের জন্য নিরাপদ নয়

ড্রাগন ফলকে ‘সুপার ফ্রুট’ হিসেবে অনেকেই অভিহিত করেন। বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিদের মধ্যে এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল। এর ব্যতিক্রমী স্বাদ, আকর্ষণীয় রং এবং পুষ্টিগুণের কারণে অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ফলটি অন্তর্ভুক্ত করেন।

ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বিদ্যমান। প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফ্রুটে ৬০ কিলোক্যালরি শক্তি, ১৩ থেকে ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩ গ্রাম ফাইবার এবং ১ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এত পুষ্টিগুণ থাকা সত্ত্বেও ড্রাগন ফল সবার জন্য নিরাপদ নয়।

কারা খাবেন

পুষ্টিবিদরা জানান, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার এবং আয়রন সমৃদ্ধ এই ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। একইসঙ্গে রক্তাল্পতার সমস্যা থাকলে তা সমাধানেও সহায়ক, বিশেষ করে ড্রাগনে বিদ্যমান আয়রন উপাদান। অনেকের হজমজনিত সমস্যা দেখা দেয়। যাদের এই ধরনের সমস্যা রয়েছে, তারা ড্রাগন ফল খেতে পারেন। এতে থাকা ফাইবার হজমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও এটি কার্যকর। ডায়াবেটিসের জন্যও এটি উপকারী। এছাড়া শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে ড্রাগন ফল কার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান।

কারা খাবেন না

হজমে সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের খালি পেটে ড্রাগন ফল খাওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান। এ ধরনের সমস্যায় খালি পেটে ড্রাগন খেলে পেট ফাঁপা, ডায়েরিয়া, বমি বা অস্বস্তি বোধ হতে পারে। কিডনি রোগ বা কিডনিতে পাথরের প্রবণতা থাকলে সীমিত পরিমাণে ড্রাগন ফল খাওয়া উচিত। কারণ, ড্রাগনে অল্প পরিমাণ অক্সালেট থাকে, যা কখনও কখনও কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ হতে পারে। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া সবচেয়ে ভালো।

এছাড়া গর্ভবতী নারী এবং স্তন্যদানকারী মায়েরা ড্রাগন ফল পরিমাণমতো খান। একসঙ্গে খুব বেশি ফল খাওয়া উচিত নয়। যদি কোনো শারীরিক জটিলতা না থাকে, তাহলে সুস্থ মানুষ নিশ্চিন্তে ড্রাগন ফল খেতে পারেন।

খাওয়ার পরিমাণ

একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য দিনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত ড্রাগন ফল খাওয়া যথেষ্ট। শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ অর্ধেক করা উচিত। তারা ৫০ থেকে ৭৫ গ্রাম পর্যন্ত খেতে পারেন। তবে হজমজনিত সমস্যা থাকলে দই বা অন্যান্য ফলের সঙ্গে মিক্সড ফ্রুটস সালাদ হিসেবে খেতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালের আকস্মিক বন্যায় কানাডার ২৪ নাগরিক নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ এম


নেপালের আকস্মিক বন্যায় কানাডার ২৪ নাগরিক নিখোঁজ

কানাডার পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ফলে ২৪ জন কানাডিয়ান নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দেশটিকে সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘নেপালকে সহায়তা দিতে কানাডা প্রস্তুত।’

কার্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, নেপালের ভোতেকোশি নদীর তীরে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ‘একেবারেই ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগের ফলে বিপদে পড়া মানুষ, স্বজন হারানো পরিবার এবং যারা এখনও প্রিয়জনদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন না, তাদের কথা কানাডীয়রা গভীরভাবে ভাবছেন।

এছাড়া, কানাডার প্রধানমন্ত্রী ওই অঞ্চলে অবস্থানরত কানাডীয় নাগরিকদের দ্রুত নিজেদের উপস্থিতি নিবন্ধনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

নেপালের একটি পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বন্যার পর দেশটিতে ২৪ জন কানাডীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নেপালে বন্যার পর জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছেন, ডব্লিউএইচও প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ ও দুর্গত এলাকায় পাঠিয়েছে। তিনি উদ্ধারকারীদের ‘নিঃস্বার্থ’ কাজের জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এর আগে ডব্লিউএইচও জানিয়েছিল, তারা নেপালে ওষুধ ও বহুমুখী তাঁবু সরবরাহ করছে। পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ, রোগের নজরদারি জোরদার এবং দুর্গত জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংস্থাটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%