মো: সুমন হাসান বাপ্পি, স্টাফ রিপোর্টার
বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:২৩ পি.এম
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে আলোচনা এখন চলছে।
যদি তিনি রাষ্ট্রপতি হন, তবে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যাবে এবং সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন, সেই বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা এবং ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনের নাম।
ড. শামারুহ মির্জা পেশায় চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং গবেষক। তিনি দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করলেও বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সংযুক্তি রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের সময়ও তিনি বাবার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
অন্যদিকে, মির্জা ফয়সল আমিন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা। তিনি এর আগে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা থাকার কারণে তার নামও জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক ভিত্তি, জনপ্রিয়তা এবং ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা প্রাধান্য পেতে পারে।
এদিকে, মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে বিএনপির সিদ্ধান্তের সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সম্ভবনামূলক প্রার্থী নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা চলমান রয়েছে। আজ রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা মঞ্চস্থ হতে পারে বলে জানা গেছে।
তবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসা না পর্যন্ত আলোচনায় থাকা কোনো নামকেই চূড়ান্ত বলা হবে না।
সবকিছু মিলিয়ে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন শুধু নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিষয় নয়, বরং এটি ঠাকুরগাঁও বিএনপির পরবর্তী নেতৃত্বের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করে দিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট ২০২৬ : অন্যান্য অনেক প্রতিযোগিতার মতো এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে শুরুতেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত এবং পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। ড্র অনুযায়ী দুই দল শুধুমাত্র পদকের লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে।
পুরুষদের প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দুই বাছাই ভারত এবং পাকিস্তান একেবারেই মুখোমুখি হতে নাও পারে। শেষ পর্যন্ত যদি তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়, সেটা কেবল স্বর্ণপদকের ম্যাচ অথবা ব্রোঞ্জপদকের প্লে-অফেই তাদের দেখা হতে পারে।
নারীদের প্রতিযোগিতাতেও একই ড্র পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, সেখানেও ভারত-পাকিস্তান লড়াই শুধুমাত্র ফাইনাল অথবা ব্রোঞ্জপদকের ম্যাচে হতে পারে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের আইচিও নাগোয়া শহরে এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হবে। তবে ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর। প্রথমে নারীদের ক্রিকেট শুরু হবে। ২২ সেপ্টেম্বর নারীদের ফাইনালের পর পুরুষদের প্রতিযোগিতা শুরু হবে।
পুরুষদের ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করবে ১০টি দল। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেয়েছে। বাকি ছয় দল - আফগানিস্তান, নেপাল, হংকং, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া এবং ওমান নকআউট পর্বে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়বে।
ভারতকে কোয়ার্টার ফাইনাল-২-এ রাখা হয়েছে, আর পাকিস্তান রয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল-১-এ। উভয় ম্যাচই ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপ পর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে।
সেমিফাইনালের ড্র অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনাল-২-এর বিজয়ী খেলবে কোয়ার্টার ফাইনাল-৩-এর বিজয়ীর বিপক্ষে। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনাল-১-এর বিজয়ী মুখোমুখি হবে কোয়ার্টার ফাইনাল-৪-এর বিজয়ীর। সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১ অক্টোবর।
অতএব, ভারত এবং পাকিস্তান একে অপরের মুখোমুখি হতে পারে কেবল স্বর্ণপদকের ম্যাচ অথবা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। এই দুই ম্যাচই ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
নারীদের প্রতিযোগিতায়ও একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। নারীদের প্রতিযোগিতায় শীর্ষ বাছাই ভারত। পাকিস্তান চতুর্থ বাছাই, তাদের ওপরে রয়েছে শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ।
কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত খেলবে জাপানের বিপক্ষে। যদি তারা জেতে, তাহলে সেমিফাইনালে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে বাংলাদেশ অথবা হংকং, চীন।
অন্যদিকে, পাকিস্তান কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার জন্য থাইল্যান্ডের বিপক্ষে লড়তে যাচ্ছে। যদি তারা জেতে, তাহলে সেমিফাইনালে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে শ্রীলঙ্কা অথবা মালয়েশিয়া।
অর্থাৎ নারীদের প্রতিযোগিতাতেও দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য লড়াই হতে পারে কেবল ফাইনাল অথবা ব্রোঞ্জপদকের প্লে-অফে। এই দুই ম্যাচই ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
ক্রিকেট ইভেন্টের সবগুলো ম্যাচ নাগোয়ার পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতার সব ম্যাচ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে।
ভারত ইতোমধ্যেই পুরুষ এবং নারী দুই দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। পুরুষ দলকে নেতৃত্ব দেবেন শ্রেয়াস আইয়ার, আর নারী দলের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবী কবে উদযাপিত হবে। চাঁদ দেখা না যাইলে, পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের গণনা শুরু হবে ১৫ আগস্ট থেকে। ফলে, ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।
সভায় আলোচনা করা হয় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে পাওয়া তথ্য।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পবিত্র সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে শুক্রবার (১৪ আগস্ট)। তারপর থেকে ১৫ আগস্ট রবিউল আউয়াল মাসের গণনা শুরু হবে। রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ অনুযায়ী ২৬ আগস্ট দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক ড. মু. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে আরাফাত রহমান কোকোর ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আমিনুল হক কোকোর নামে বগুড়ায় ২০ একর জমিতে জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর পল্লবীর ২ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘দেশের ক্রিকেট আজ যে অবস্থানে এসেছে, এর পেছনে আরাফাত রহমান কোকোর অবদান রয়েছে। তিনি ছিলেন খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সংগঠক। নিজে ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাব প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন ক্রিকেটের বিকাশে।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোকোর ক্রিকেট উন্নয়নের নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে ‘হোম অব ক্রিকেট’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে ক্রিকেটের অবকাঠামো এবং খেলোয়াড় তৈরিতে কোকোর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল। তার উদ্যোগে একাডেমিভিত্তিক ক্রিকেট উন্নয়নের পাশাপাশি তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে কোচ এনে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে একাডেমিভিত্তিকভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। তার লক্ষ্য ছিল দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেটকে সমন্বিত করে একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করা।’
কোকোর মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার সময় পরিবার থেকে দূরে থেকেই পৃথিবী ত্যাগ করতে হয়েছে তাকে।'
আমিনুল হক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহমর্মিতার রাজনীতির গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন, ‘আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চাই না। সহমর্মিতার রাজনীতির মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই।’
এ সময় তিনি আরাফাত রহমান কোকোর নামে বগুড়ায় ২০ একর জমির ওপর একটি জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দেন এবং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাত্র ১১ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের দুই জেলায় বড় ধরনের দুটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে গেল। কক্সবাজারে সকাল ৬টার দিকে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিকেলে নেত্রকোণায় পিকআপ ভ্যান ও ট্রাকের সংঘর্ষে আরও চারজন নিহত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নারান্দিয়া এলাকায় এই শেষ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে দুর্ঘটনায় নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নিহত চারজনের মধ্যে একজন নারী এবং তিনজন পুরুষ। দুর্ঘটনার পর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম দুর্ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পিকআপ ভ্যানে চালকসহ মোট আটজন ছিলেন। ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনার দিকে আসার পথে নারান্দিয়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা সারবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে পিকআপ ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে যায়।
সংঘর্ষের ফলে পিকআপ ভ্যানে থাকা দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁদের মধ্যে একজন নারী ছিলেন। স্থানীয় লোকজন আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও দুজন মারা যান। পরে গুরুতর আহত একজনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার প্রথম আলোকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় দুজন ঘটনাস্থলে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজন—মোট চারজন মারা গেছেন। গুরুতর আহত চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
এর আগে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা লেগুনার সংঘর্ষ ঘটে, যেখানে চারজন প্রাণ হারায় এবং ৫ জন আহত হন। হতাহতরা সবাই লেগুনার যাত্রী ছিলেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেগুন বাগিচা গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসীম উদ্দিন (২৫), খুটাখালীর ফুলছড়িস্থ শিয়া পাড়ার মৃত মনজুর আলমের ছেলে মোহাম্মদ শাহেদ (২৭), খুটাখালীর নতুন অফিস এলাকার আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫) এবং পার্শ্ববর্তী ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারিয়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রফিক (২৮)।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, খুটাখালী নতুন অফিস মাদরাসা পাড়ার আবদুল সামাদের ছেলে জিয়াবুল হক (৪০), খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া গ্রামের বদরুদ্দোজার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৫), ঈদগাঁও উপজেলার নাপিতখালী এলাকার আলী মিয়ার ছেলে সৈয়দ আলম (৫০) এবং তার ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার (১৯) ও কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার কিরনতলী গ্রামের রহমত করিমের ছেলে সৈয়দ করিম (৩০)।
ডুলাহাজারার মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘লাল সবুজ পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী এসি বাস চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে পৌঁছায়। তখন বিপরীত দিক থেকে ঈদগাঁও থেকে চকরিয়ামুখী একটি যাত্রীবাহী লেগুনার (অথবা স্থানীয় ভাষায় জিটু গাড়ি) সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের কারণে লেগুনাটির ছাদ পর্যন্ত উপড়ে যায় এবং গাড়িতে থাকা নয়জন যাত্রীর সবাই গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয় জনতার সহায়তায় মালুমঘাট হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে।
আহতদের প্রথমে কাছের মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুপুর একটার দিকে একে একে আরও তিনজনের মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত বাকি ৫ জন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার এসআই মো. শামছুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় লেগুনার ৯ যাত্রীর মধ্যে চারজন মারা যান এবং আহত হন আরও পাঁচজন যাত্রী। তারা বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ভোরে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ার সময় সংঘটিত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ক্রেন দিয়ে মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ