০৩:২৮ পি.এম
মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্মদিন বা ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন প্রসঙ্গে একটি বিশেষ বার্তা প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, নবীজি (সা.) এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা প্রকাশের জন্য এর সর্বোত্তম উপায় হলো তার সুন্নাহ অনুসরণ করা।
শায়খ সুদাইস 'মাওলিদ উদযাপনের বিধান সম্পর্কে একটি ব্যাখ্যা' শীর্ষক বক্তব্যে বলেন, কোরআন ও সুন্নাহতে মাওলিদ উদযাপনের কোন ভিত্তি নেই। মহানবী (সা.), তার সাহাবি এবং খুলাফায়ে রাশেদিন কেউই এ ধরনের আয়োজন করেননি। এইভাবে তিনি মুসলমানদের আহ্বান জানান যে, দ্বীনের মধ্যে নতুন কোনো রীতি সংযোজন থেকে বিরত থাকার জন্য।
এ প্রসঙ্গে তিনি কোরআনের নির্দেশনা তুলে ধরে বলেন, কোনো বিষয়ে মতভেদ দেখা দিলে তা আল্লাহ ও তার রাসুলের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি কয়েকটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্বীনে নতুনভাবে উদ্ভাবিত বিষয় বা বিদআত থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
শায়খ সুদাইস বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর পর যারা জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তাই তিনি রাসুলের সুন্নাহ এবং সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদিনের পথ দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করার ওপর জোর দেন।
তিনি সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এর বক্তব্যও উল্লেখ করেন যে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করা যাবে না। পাশাপাশি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, মানুষ কোনো বিষয়কে ভালো মনে করলেও, বিদআত একটি ভ্রষ্টতার পথ হতে পারে।
শায়খ সুদাইস ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার বক্তব্য উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শরিয়তে ভিত্তি নেই এমন কোনো সময় বা দিনকে ধর্মীয় উপলক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করা সঠিক নয়। তার মতে, রবিউল আউয়াল মাসে নবীজি (সা.)-এর জন্মদিন হিসেবে বিশেষ আয়োজন করা পূর্ববর্তী নেককার মুসলমানদের রীতি ছিল না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক মাওলিদ অনুষ্ঠানে এমন কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে, যা ইসলামের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোথাও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, অপচয় কিংবা গান-বাজনার মতো আয়োজনও দেখা যায়। অথচ নবীজি (সা.) এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের নামে এমন কোনো রীতি গ্রহণ করা উচিত নয়, যার নির্দেশ তিনি নিজে দেননি।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
শায়খ সুদাইস বলেন, আল্লাহ ও তার রাসুলকে ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ হলো রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণ করা। তিনি কোরআনের সেই আয়াতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে বলা হয়েছে, 'তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে রাসুলের অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন।'
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি মুসলমানদের উদ্দেশে বলেন, বিদআত ও ভ্রান্ত পথ থেকে দূরে থেকে নবীজি (সা.) এর সুন্নাহ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও রাসুলুল্লাহ (সা.) এর আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে তার প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসার প্রকাশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন