ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অভিযানে ১৫৭ জন গ্রেফতার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার


রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অভিযানে ১৫৭ জন গ্রেফতার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার

রাজশাহী, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের চলমান অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ রোববার রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন থানায় মোট ৪৮টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে দস্যুতা ১টি, চুরি ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১টি এবং অন্যান্য খাতের ৪৫টি মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই সময়ে হত্যা, ডাকাতি, যৌতুকের জন্য হত্যা, সাইবার অপরাধ কিংবা দ্রুত বিচার আইনে কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

আরও পড়ুন: গোদাগাড়ীতে শতবছরের সম্প্রীতি, একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির

এছাড়া একই সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ৫টি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিচালিত অভিযানে পুলিশ মোট ১৫৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে পরোয়ানাভুক্ত আসামি ৬২ জন, সাজাপ্রাপ্ত ১২ জন, তদন্তাধীন মামলার আসামি ৭২ জন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় ১১ জন রয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে ১৭ জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালীন পুলিশ আসামিদের হেফাজত থেকে ২টি বার্মিজ চাকু, ২ গ্রাম হিরোইন, ১৬ পিস ইয়াবা, ১২৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ২ কেজি ২শ’ গ্রাম গাঁজা এবং ৯শ’ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেছে। তবে এ সময়ে কোনো চোরাচালান পণ্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেনি।

রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে, প্রকৃত সংবাদ প্রাপ্তি সকলের অধিকার এবং অপতথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। পুলিশিং সেবা প্রদান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৯২৩ জন এবং চলতি মাসে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৪ হাজার ৭০৮ জন নাগরিককে প্রত্যক্ষ সেবা প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে সময়মতো না এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান হুইপ দুলুর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিবিয়ায় জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩২ পি.এম


লিবিয়ায় জাতীয় ঐক্য ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক পার্লামেন্টের নেতৃত্বের পরিবর্তন, যা ১২ বছর পর ঘটেছে, দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন স্পিকার আল-সালেহিন আবদুন নবী আল-আবিদির নির্বাচনের ফলে পূর্বাঞ্চলের সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের প্রভাব আরও দৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। এই পরিবর্তনটি দেশটির বিভক্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নির্বাচন আয়োজনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

১২ বছরের নেতৃত্বের অবসান

আগের স্পিকার আগুইলা সালেহ ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি পার্লামেন্টের সদস্যরা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারদের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১২ মাসে সীমিত করার বিধান অনুমোদন করেন। এর পরদিন নতুন স্পিকার হিসেবে আল-সালেহিন আবদুন নবী আল-আবিদি নির্বাচিত হন।

তবে আগুইলা সালেহ নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে আইনগতভাবে অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তার বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন যে, তিনি আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই সিদ্ধান্ত নিতেন। কিছু সপ্তাহ আগে পার্লামেন্টের সদর দপ্তরে প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছিল।

নেতৃত্ব পরিবর্তনের পেছনে পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ কাজ করে থাকতে পারে। তবে নতুন নিয়মে স্পিকারের মেয়াদ সীমিত হওয়ার ফলে পদটির স্বাধীনতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের সামরিক নেতৃত্বের প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।

হাফতারের প্রভাব বলয়ে নতুন স্পিকার

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান আরব আর্মড ফোর্সেসের ব্যাপক সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। নতুন স্পিকার আল-আবিদির নিয়োগকে এই ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে পার্লামেন্টের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আল-আবিদি ও আগুইলা সালেহ—দুজনই ওবেইদাত গোত্রের সদস্য। পূর্বাঞ্চলের সাইরেনাইকা অঞ্চলে এই গোত্রের উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে; তবরুক এলাকায় তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। লেখকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একই গোত্র থেকে নতুন স্পিকার নির্বাচনের ফলে স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং গোত্রভিত্তিক অসন্তোষ এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে নেতৃত্বের পরিবর্তনের তাৎপর্য শুধু গোত্রীয় সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আল-আবিদি অতীতে লিবিয়া-তুরস্ক পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ফলে তুরস্কের সঙ্গে তার যোগাযোগ পূর্বাঞ্চলের নেতৃত্বকে আঙ্কারার সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করতে পারে।

তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম লিবিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত পূর্বাঞ্চলের হাফতারপন্থী শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ অবস্থায় নতুন স্পিকারের কূটনৈতিক যোগাযোগ আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় কতটা কার্যকর হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগে নতুন অনিশ্চয়তা

লিবিয়ার রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রীয় সমস্যা হলো, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ ও সশস্ত্র শক্তির প্রভাব বজায় রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার এবং পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক-সামরিক কাঠামোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা, বৈধতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছে।

আগস্টে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতার মাধ্যমে ২৪ মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজনের রূপরেখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ৫ অক্টোবর ত্রিপোলিভিত্তিক উচ্চ পরিষদ ওই সমঝোতার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে।

এমন পরিস্থিতিতে পূর্বাঞ্চলের পার্লামেন্টে নেতৃত্ব পরিবর্তন জাতীয় সমঝোতার প্রক্রিয়ায় নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সামরিক নেতৃত্বের প্রভাববলয়ে আরও কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।

তবে নেতৃত্ব পরিবর্তন নিজে থেকেই জাতীয় ঐক্যের সম্ভাবনা শেষ করে দেয় না। নতুন স্পিকার যদি পার্লামেন্টের স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারেন এবং নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে কার্যকর আলোচনা এগিয়ে নিতে পারেন, তাহলে সমঝোতার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তেলসম্পদ ও রাষ্ট্রীয় অর্থের নিয়ন্ত্রণ

লিবিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ গভীরভাবে যুক্ত। দেশটির অর্থনীতি তেল ও গ্যাসনির্ভর। জিডিপির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি এবং সরকারি রাজস্বের ৯৫ শতাংশেরও বেশি আসে এই খাত থেকে।

তাই বাজেট অনুমোদন, উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের ওপর প্রভাব বিস্তার করা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন ও বাজেট অনুমোদনের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ত্রিপোলিভিত্তিক লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকই রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনা ও অর্থপ্রদানের প্রধান কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করছে। ফলে পূর্বাঞ্চলের পার্লামেন্টে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেই জাতীয় কোষাগারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বদলে যায় না। তা সত্ত্বেও বাজেট অনুমোদন এবং নির্দিষ্ট প্রকল্পে বরাদ্দের সিদ্ধান্ত পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতাকাঠামোর অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।

নতুন স্পিকার যদি সামরিক নেতৃত্বের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল হন, তাহলে প্রতিরক্ষা ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্পের সিদ্ধান্তে পার্লামেন্টের স্বাধীন নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

পুনর্গঠন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে পুনর্গঠন ও অবকাঠামো উন্নয়নও ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। খলিফা হাফতারের ছেলে বেলকাসেম হাফতার লিবিয়া ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ফান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তহবিলটি পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত।

তহবিলটির আর্থিক তদারকি এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসনের বৃহত্তর ব্যয়ব্যবস্থার সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন। বেলকাসেম হাফতার অবশ্য তহবিলের নিরীক্ষাব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত জাতীয় বাজেটের বাইরে ব্যয়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যে স্বাধীন নিরীক্ষা, চুক্তি প্রকাশ এবং পার্লামেন্টারি তদারকির গুরুত্ব বেড়েছে। সামরিক, আইনপ্রণয়ন ও উন্নয়নসংক্রান্ত কর্তৃত্ব যদি পরস্পর-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে জবাবদিহি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

নতুন স্পিকারের সামনে তাই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে—পার্লামেন্ট উন্নয়ন প্রকল্পের চুক্তি যাচাই করতে পারে কি না, সরকারি অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে কি না এবং সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের স্বাধীন পর্যালোচনা নিশ্চিত করতে পারে কি না।

মিসর-তুরস্কের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা

লিবিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মিসর পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নিজের সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচনা করে। অন্যদিকে তুরস্ক পশ্চিম লিবিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক পক্ষগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

পূর্বাঞ্চলের পার্লামেন্টের সঙ্গে আরও পূর্বানুমানযোগ্য সম্পর্ক মিসরের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। একই সঙ্গে তুরস্কের সঙ্গে আল-আবিদির পূর্ববর্তী সংসদীয় যোগাযোগ আঞ্চলিক সম্পর্ক পরিচালনায় নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে এসব সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে নতুন স্পিকার কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং লিবিয়ার বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন তার ওপর।

নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রকৃত পরীক্ষা

লিবিয়ার নতুন পার্লামেন্টারি নেতৃত্বের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক, পার্লামেন্টের স্বাধীনতা বজায় রাখা, রাষ্ট্রীয় অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং জাতিসংঘ-সমর্থিত নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।

শুধু নিয়মিত পার্লামেন্ট অধিবেশন আয়োজন করলেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর স্বাধীনতা প্রমাণিত হবে না। বরং বাজেট ও পুনর্গঠন প্রকল্পের ব্যয় যাচাই, চুক্তি প্রকাশ, নিয়মের ধারাবাহিক প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই নতুন নেতৃত্বের প্রকৃত ভূমিকা মূল্যায়ন করা সম্ভব।

লিবিয়ার সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং সেখান থেকে পাওয়া আর্থিক ও রাজনৈতিক সুবিধার বড় ভূমিকা রয়েছে। নতুন স্পিকারের উত্থান পূর্বাঞ্চলের ক্ষমতাকাঠামোকে আরো সংহত করবে, নাকি পার্লামেন্টকে জাতীয় সমঝোতার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

শেষ পর্যন্ত আল-আবিদির নেতৃত্বের সাফল্য নির্ভর করবে তিনি সামরিক-রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে পার্লামেন্টের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারেন কি না এবং বিভক্ত লিবিয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করতে পারেন কি না, তার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিক আমির খসরুর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


সাংবাদিক আমির খসরুর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক ও ভয়েস অফ আমেরিকার সাবেক বাংলাদেশ প্রতিনিধি আমির খসরুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

রোববার, মন্ত্রী এক শোকবার্তায় উল্লেখ করেন, মরহুম আমির খসরু তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যু দেশের গণমাধ্যম জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।

মন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১১ অক্টোবর ২০২৬-এর মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


১১ অক্টোবর ২০২৬-এর মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশিত

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত হচ্ছে। দেশের কোটি কোটি মানুষ বিদেশে অবস্থান করছেন। বিদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রবাসীদের লেনদেনের সুবিধার্থে আজকের (৮ অক্টোবর, ২০২৬) মুদ্রার বিনিময় হার তুলে ধরা হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের

তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশের মুদ্রা বাজারে ডলারের ক্রয় মূল্য ১২৩.১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিক্রির জন্য দাম রাখা হয়েছে ১২৩.২২ টাকা। গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ১০ পয়সা। ইউরোর ক্রয়ের ক্ষেত্রে দাম ১৩৭ টাকা ৬৯ পয়সা এবং বিক্রির জন্য ১৩৭ টাকা ৯২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনশীল হতে পারে।

১৩৮.০৩

৯৬.২৩

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদি সরকারের চ্যালেঞ্জ: কংগ্রেসের বদলে ককরোচ জনতা পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


মোদি সরকারের চ্যালেঞ্জ: কংগ্রেসের বদলে ককরোচ জনতা পার্টি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই তরুণদের আন্দোলন বর্তমানে বেকারত্ব, শিক্ষাব্যবস্থা ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে রাজপথে সরব। প্রতিষ্ঠিত বিরোধী দল কংগ্রেসের পাশাপাশি নতুন এই আন্দোলনও মোদি সরকারের রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে পৌঁছানোর পর আটক করা হয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচির জন্য দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানীতে দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়।

রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

৩১ বছর বয়সী দীপকের উত্থানের শুরু চলতি বছরের মে মাসে ঘটে। বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে তুলনা করে দেওয়া এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘সব তেলাপোকা একসঙ্গে হলে কী হবে?’

ছোট্ট এই ব্যঙ্গাত্মক পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এর ফলস্বরূপ গড়ে ওঠে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, যা শুরুতে অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হলেও পরে তরুণদের প্রতিবাদী আন্দোলনে রূপ নেয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে দিল্লিতে আন্দোলনের নেতাদের পাশাপাশি বিরোধী রাজনীতিক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীদেরও আটক করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রভাব

ককরোচ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে আন্দোলনকারীরা বিষয়টি সামনে এনে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরে আন্দোলনের চাপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়।

গত ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টানা জনচাপের মধ্যে তার পদত্যাগ মোদির মন্ত্রিসভার জন্য বিরল ঘটনা ছিল। এরপর থেকে দীপ ও তার সমর্থকেরা সরকারি স্কুলের অবকাঠামো, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রচার চালিয়ে আসছেন।

ভোটার তালিকা

এবার আন্দোলনের কেন্দ্রে ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন। বিরোধীদের অভিযোগ, তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, সংশোধনপ্রক্রিয়ায় চিহ্নিত বিভিন্ন এন্ট্রির কারণে নাম বাদ পড়ার সংখ্যা বেড়েছে এবং ভুলভাবে বাদ পড়া যোগ্য ভোটাররা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।

দীপ ও তার সমর্থকেরা নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার এই পরিবর্তন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্বাচনী সুবিধা বাড়াতে পারে। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কংগ্রেসের বাইরে নতুন শক্তি

ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে মোদি সরকারের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে পরিচিত কংগ্রেস। তবে ককরোচ আন্দোলনের উত্থান দেখাচ্ছে, তরুণদের ক্ষোভ এখন শুধু প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর একটি আন্দোলনও শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও নির্বাচনপ্রক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনমত সংগঠিত করতে পারে।

দীপ নিজেও তার সংগঠনকে প্রচলিত রাজনৈতিক দল নয়, বরং সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার একটি চাপ সৃষ্টিকারী আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য, আন্দোলনকারীরা ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাবেন না; গণতন্ত্র রক্ষায় তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা ও গণআটকের ঘটনা আন্দোলনটিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বিষয়টি ভারতের গণতান্ত্রিক পরিসর, বিরোধী মতের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%