সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩২ পি.এম
মার্সেলো গ্যালার্দো প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। ইকুয়েডর ২০৩০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য আর্জেন্টাইন এই কোচকে নিয়োগ দিয়েছে।
দেশটির ফুটবল ফেডারেশন একটি বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চলতি বছরের বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট পর্বে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর কাছে ইকুয়েডরের হতাশাজনক হারের পর সেবাস্তিয়ান বেকাসেস পদত্যাগ করেন। গ্যালার্দো তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
৫০ বছর বয়সী গ্যালার্দো আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটের কোচ হিসেবে একাধিক শিরোপা অর্জন করেছেন। তবে জাতীয় দলের দায়িত্বে এটি তার প্রথম অভিজ্ঞতা।
ইকুয়েডর ফুটবল ফেডারেশনের (এফইএফ) সভাপতি ফ্রান্সিসকো এগাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মন্তব্য করেন, “মার্সেলো গ্যালার্দোকে আমরা তার জয় করা শিরোপাগুলোর জন্য চেয়েছি, তবে তার চেয়েও বেশি করে তিনি যা প্রতিনিধিত্ব করেন, তার জন্য। ইকুয়েডরে স্বাগতম, মার্সেলো।”
আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত গ্যালার্দো রিভার প্লেটের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচ হিসেবে পরিচিত। প্রথম দফায় ক্লাবটির দায়িত্ব পালনকালে তিনি ১৪টি শিরোপা জিতেছেন, যার মধ্যে দুটি কোপা লিবার্তাদোরেসও অন্তর্ভুক্ত।
তবে রিভার প্লেটে তার সাম্প্রতিক দ্বিতীয় দফার অধ্যায়টি হতাশাজনক ছিল। নতুন কোনো শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়ে ফেব্রুয়ারিতে বাজে ফর্মের ধারাবাহিকতার পর তিনি পদত্যাগ করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে শক্তিশালী একটি দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে ইকুয়েডর। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার পর তারা দ্বিতীয় স্থানে থেকে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল।
তাদের দলে আর্সেনালের পিয়েরো হিনকাপি এবং পিএসজির উইলিয়ান পাচোর মতো আন্তর্জাতিক তারকারাও রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সুফলভোগীদের মধ্যে বকনা বাছুর, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ ও স্কুলব্যাগ, খেলাধুলার সামগ্রী এবং অসহায়-দরিদ্র মানুষের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে, যা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। সভাপতিত্ব করেন চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, কৃষক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অহিদুজ্জামান মোল্লা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এজিএম বাদল আমিন, সাবেক বিএনপি সভাপতি শাজাহান শিকদার, সাবেক বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী, যুবদল সভাপতি মোজাফফর হোসেন জাফর, প্রস্তুতি কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা, মোস্তফা কবির বেপারী, ছাত্রদল সভাপতি শুভ সালাউদ্দিন মোল্লাসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে সুফলভোগী খামারিদের হাতে বকনা বাছুর, শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ ও স্কুলব্যাগ, খেলাধুলার জন্য ফুটবলসহ বিভিন্ন সামগ্রী এবং অসহায়-দরিদ্র মানুষের মাঝে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, বিগত সরকারের আমলে নির্যাতন-নিপীড়নের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের সেবক হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। তিনি দেশনায়ক তারেক রহমানের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে জনকল্যাণে কাজ করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, “দলমত নির্বিশেষে আমরা সকলের সেবক— এ কথাটি সবসময় মনে রাখতে হবে। নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমপি বাবুল আরও বলেন, নিজেদের মধ্যে দলাদলি, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তিনি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, প্রশাসনকে সহযোগিতা করা এবং দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে এমপি বাবুল বলেন, নিজ দলের কোনো নেতাকর্মী মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এদিকে চরভদ্রাসনবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত গোপালপুর-মৈনট ফেরিঘাট নিয়েও সুখবর দেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি জানান, ফেরিঘাটের কাজের জন্য বরাদ্দ হয়েছে এবং অতি দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। এতে চরভদ্রাসনসহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ সুগম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটি দুপুর ১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত চলে। এতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পরও কিছু সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ড ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে যদি চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের হাতে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র থাকে এবং তারা সেটি ব্যবহার করে। সংশ্লিষ্টরা এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণের সময়ে নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের একটি অংশ চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে অবস্থান করেন। একই স্থানে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারেও পাল্টা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মধ্যে সংঘর্ষের মতো ঘটনাও ঘটে।
পরে চাকরিচ্যুত এস আলমের লোকজন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। এরই মধ্যে চাকরিচ্যুতদের সিংহবাগই ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন—এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এ বিষয়ে কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তারা। পরে তারা এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, চাকরিতে বহাল না থাকলে আইডি কার্ড ব্যবহার করা যায় না। যারা করছে তারা ঠিক করেনি।
ব্যাংকাররা জানান, চাকরিচ্যুত হওয়ার পর ওই ব্যাংকের আইডি কার্ড ব্যবহার করা সরাসরি নিষিদ্ধ। এটি কেন হচ্ছে, তা তারা জানেন না। তবে কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এভাবে আইডি কার্ড ব্যবহার করা নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। চাকরিচ্যুত হওয়ার পরও তারা আইডি কার্ড ব্যবহার করতে পারেন না। তাদের তো আইডি কার্ড জমা দেওয়ার কথা ছিলো।
তিনি বলেন, পৃথিবীর কোন প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে দেওয়া বা চাকরিচ্যুত হওয়ার পর ওই প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড এভাবে ব্যবহার করতে পারে না।
চাকরি নেই, পরিচয়পত্র কেন?
একজন কর্মীর চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক কর্মসম্পর্কও শেষ হয়। এ অবস্থায় কর্মীর ব্যবহৃত পরিচয়পত্র, প্রবেশ কার্ড, অফিসের বিভিন্ন ডিজিটাল সিস্টেমে প্রবেশাধিকার এবং অন্যান্য অনুমোদন প্রত্যাহার করা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। বিশেষ করে ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচয় ও প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ একটি ব্যাংকের পরিচয়পত্র শুধু কর্মীর নাম বা পদবির পরিচায়ক নয়; অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোনো ব্যক্তি চাকরিতে না থেকেও পুরোনো পরিচয়পত্র ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এখনও ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত হতে পারেন।
এতে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের প্রতিনিধিত্ব এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে শুধু পরিচয়পত্র হাতে থাকা এবং সেটি ব্যবহার করে ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রবেশ বা কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করার বিষয় এক নয়। তাই অভিযোগটি কতটা গুরুতর, তা নির্ভর করবে ওই ব্যক্তিরা কোথায়, কী উদ্দেশ্যে এবং কী ধরনের পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন তার ওপর।
চাকরিচ্যুতদের আন্দোলন অব্যাহত:
ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি পুনর্বহালের দাবি নতুন নয়। চলতি বছরও চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে কয়েক হাজার চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
জুলাই মাসেও চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে চাকরিতে পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য পরিশোধের দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কতটা ঝুঁকি?
ব্যাংকিং খাতে কর্মীদের পরিচয়পত্র ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। একজন কর্মী চাকরি হারানোর পর তার পুরোনো পরিচয়পত্র সক্রিয় থাকলে বা সেটি দেখে কেউ তাকে ব্যাংকের বৈধ কর্মকর্তা মনে করলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, শাখা, ভল্ট, নথি সংরক্ষণ এলাকা, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত অংশে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
চাকরিচ্যুত কোনো ব্যক্তি যদি পুরোনো পরিচয়পত্র দেখিয়ে এসব এলাকায় প্রবেশের সুযোগ পান, তাহলে বিষয়টি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে বর্তমানে চাকরিচ্যুত কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন বা পুরোনো আইডি দেখিয়ে কোনো ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন— এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ব্যাংকের বক্তব্য এবং প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রয়োজন।
ব্যাংকের করণীয় কী?
অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে পুরোনো পরিচয়পত্র ফেরত নেওয়া, হারানো বা ব্যবহৃত পরিচয়পত্র বাতিল করা এবং ব্যাংকের প্রবেশাধিকার ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো চাকরিচ্যুত ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচয় ব্যবহার করে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কি না, সেটিও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ, নিরাপত্তা বিভাগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীর অফিসের পরিচয়পত্র, প্রবেশাধিকার, ই-মেইল, অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার ও অন্যান্য অনুমোদন বাতিলের ব্যবস্থা থাকা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মী পুরোনো পরিচয়পত্র নিজের কাছে রাখলেও সেটি ব্যবহার করে বর্তমান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলে তা ভিন্ন বিষয়। তাই অভিযোগের ক্ষেত্রে ‘আইডি কার্ড থাকা’ এবং ‘আইডি কার্ড ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করা’—এই দুই বিষয় আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ইনকিলাবকে বলেন, চাকরিচ্যুত বা চাকরি ছেড়ে দিলে ওই প্রতিষ্ঠানে আইডি কার্ড ব্যাবহার করা কোনোভাবেই সম্ভব না। শুধু ব্যাংক নয়, কোন প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে দিলে বা চাকরিচ্যুত হলে, ওই প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড ব্যবহার করা যায় না।
তিনি বলেন, এটার জন্য কোনো ব্যাংকিং আইন লাগে না। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যার সাথে আপনার সম্পর্ক ছেদ ঘটছে, তার পরিচয়পত্র আপনি কীভাবে ব্যবহার করেন?
চাকরিচ্যুতরা ইসলামী ব্যাংকের আইডি কার্ড এখনো ব্যবহার করছে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আমি আপনাকে কমন যেটা প্র্যাকটিস সেটা বললাম।
এ বিষয়ে কথা বলতে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হোসাইনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেনি। পরে তাকে টেক্সস পাঠানো হলেও তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলে অবস্থানরত অতিথিদের তথ্য নিয়মিতভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "প্রয়োজনের সময় যাতে এসব তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়, সে জন্য হোটেলগুলো থেকে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।"
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা-পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক। তিনি বলেন, "এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে ডিউটি করতে হবে, যাতে কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি না হয় এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি না থাকে।"
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সেজন্য রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। কমিশনার প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে তাদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেন।
সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, সব থানার অফিসার ইনচার্জ এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হকসহ (৭৫) গ্রেফতার হওয়া আরও ৯ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ইদ্রিসুল আলম (৫৫), তাড়াইল উপজেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাঈল সিরাজী (৩২), বাড্ডা থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন মামুন (৫০), আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী বিল্লাল গাজী (৩৫), বাড্ডা থানা শ্রমিক লীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সচিব জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ (৪৩), শ্রমিক লীগের সক্রিয় কর্মী সোহেল (৩০), কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী আরিফুর রহমান দীপু (২৭) ও নিরব খান (২২)।
পুলিশ আজ তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার গ্রেফতারকৃত রেহানা পারভীন, সাইফুল ইসলাম, জুয়েল শিকদার, নাজিম উদ্দিন, সাহেদ, শান্ত শেখ, হারুন মাইজভাণ্ডারী, খালেদ মাহমুদ ফয়সাল ও সফিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অজ্ঞাতনামা ৮০ থেকে ১০০ জন নেতাকর্মী পাকা রাস্তায় জড়ো হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য বহন করে মিছিল নিয়ে পুলিশ প্লাজার দিকে যাওয়ার সময় তারা সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ ও এলাকায় নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ