ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ট্রাম্প পরিবারের স্বার্থের সংঘাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না


ট্রাম্প পরিবারের স্বার্থের সংঘাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যা ইচ্ছা তাই বলেন এবং যা ইচ্ছা তাই করেন। তিনি প্রচলিত নিয়ম, নীতি বা ধারণাকে একেবারেই গুরুত্ব দেন না। স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি যেন তার মাথায় নেই বললেই চলে।

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে ট্রাম্প, তার পরিবার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে শত কোটি ডলারের সম্পদ বৃদ্ধি করেছেন। এবং এটি করেছেন বেশ প্রকাশ্যে। ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করেছেন, যেখানে দুর্নীতি বা স্বার্থের সংঘাতের আলোচনা পর্যন্ত আসে না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ের আয়োজন এই পরিস্থিতিকে কিছুটা পরিবর্তন করেছে। এমন অবস্থায় কিছু রিপাবলিকান সিনেটরও মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে, তাহলে বিষয়টি অনেক দূর গড়াতে পারে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য বদলাতে গিয়ে বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ইরান

 

গত সপ্তাহে প্রোপাব্লিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ রুশ ধনকুবের উমর ক্রেমলেভ গত মে মাসে বাহামাসে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ের উৎসবের কিছু অংশের খরচের জন্য কয়েক লাখ ডলার পরিশোধ করেছিলেন। এর পরপরই ট্রাম্প জুনিয়রের স্ত্রী তাদের দুজনের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেন যে, ‘প্রিয় বন্ধু উমর আমাদের বিয়ের পর অত্যন্ত উদারভাবে আমাদের জন্য দুটি অবিশ্বাস্য উৎসবের রাতের আয়োজন করেছিলেন।’

তিনি এই ব্যবস্থার মধ্যে কোনো অনিয়ম থাকার বিষয়টিকে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু একজন প্রতিদ্বন্দ্বী বিদেশি নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর কাছ থেকে এত বড় ব্যক্তিগত উপহার গ্রহণ করা কেন সমস্যা হবে না; তা বোঝা বেশ কঠিন।

ঘটনাটিকে আরো রহস্যময় ও জটিল করে তুলেছে প্রেসিডেন্টের অপর পুত্র এরিক ট্রাম্পের একজন মুখপাত্রের প্রোপাব্লিকার কাছে দেওয়া একটি মন্তব্য। তিনি বলেছেন, ‘এই ব্যক্তিটি (ক্রেমলেভ) কে, সে সম্পর্কে এরিকের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই এবং তিনি কখনো তার নামও শোনেননি।’ অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চও বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট জানেনই না এই ব্যক্তিটি কে।

আরও পড়ুন: ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

 

ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়ের আয়োজনে লাখ লাখ ডলার খরচ বন্ধুকে তার ভাই এবং বাবা চেনেই না; এটি অনেকের কাছে অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। তবে এই সপ্তাহের সবচেয়ে বড় খবর হলো, কিছু রিপাবলিকান সিনেটরও এখন এই প্রশ্নগুলো তুলতে শুরু করেছেন। ইউটার সিনেটর জন কার্টিস এই প্রক্রিয়ার সূচনা করেন।

গত সপ্তাহে তিনি এই পুরো ব্যবস্থাকে সরাসরি ‘দুর্নীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত মঙ্গলবার তিনি সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির কাছে একটি তদন্ত এবং ট্রাম্প জুনিয়রকে তলব করার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এখন আরো তিনজন রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্প জুনিয়রকে নিয়ে তদন্তের ধারণার প্রতি বিভিন্ন মাত্রায় সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সিনেটের সীমিত কার্যদিবসের কারণে এই ধরনের তদন্ত করা অবাস্তব বা জটিল হতে পারে। অন্যদিকে লুইসিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসডি জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবির পর তিনি কিছুটা শান্ত বা আশ্বস্ত হয়েছেন যে ট্রাম্প জুনিয়র ক্রেমলেভের টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন। যদিও ক্যাসডি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, এই বিষয়টি এখনো অপ্রমাণিত।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ, তদন্ত চলছে

রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট প্রেসিডেন্টের ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে; এটি কার্যত ভাবাই যায় না। বিগত দশকগুলোতে হয়তো এমনটা ঘটতে পারত, কিন্তু ট্রাম্পের আমলে এটি অত্যন্ত উসকানিমূলক হবে এবং রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই সরাসরি গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করবে।

 

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি ক্ষমতা ফিরে পায়, তাহলে প্রেসিডেন্টের ছেলেকে তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে তখন সিনেট বিপাকে পড়বে অগ্রাধিকার নিয়ে। স্বার্থের সংঘাতের এতগুলো বিষয় সামনে, কোনটা ফেলে কোনটা তদন্ত করবে তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম দুই বছর তদন্ত করার মতো সম্ভাব্য বহু বিষয়ের জন্ম দিয়েছে। তবে একসঙ্গে অনেকগুলো বিষয়ের পেছনে ছুটলে, কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের দিকে জনগণের মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার ঝুঁকি তৈরি হবে।

নিরাপত্তা উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প কাতারের রাজ পরিবারের কাছ থেকে একটি নতুন জেট বিমান গ্রহণ করেছেন, যা তিনি এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করছেন। ক্ষমতা ছাড়ার পর সেটি তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হারমিত ধিলন বিচার বিভাগের পদত্যাগ করেছেন

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা পরপরই ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে ট্রাম্পের ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছেন।

বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে ট্রাম্পের এমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টগুলোতে আগাম প্রবেশের সুবিধা বিক্রি করছে তার নিজেরই সোশ্যাল মিডিয়া কম্পানি। এর ফলে যারা অর্থ পরিশোধ করছে, তারা সাধারণ আমেরিকানদের তুলনায় একটি কৌশলগত বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।

 

শেয়ার কেনার মাত্র কয়েকদিন পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের বারবার বিভিন্ন কম্পানির প্রচারণা চালান। ট্রাম্প পরিবারের বিদেশে ব্যবসায়িক লেনদেন এবং মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সেগুলোর ঘনিষ্ঠতা বা প্রভাব।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘থিওডোর রুজভেল্ট’

এই বিষয়গুলোর যেকোনো একটি নিয়ে তদন্ত শুরু হলে এমন কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, যা রিপাবলিকানরা এতদিন এড়িয়ে যেতে পেরেছেন।

প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের স্বার্থের সংঘাত আগামী দিনগুলোতে মার্কিন রাজনীতিকে আরো সংঘাতময় করে তুলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিবাদের উত্থানে কেউ রক্ষা পাবে না: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


ফ্যাসিবাদের উত্থানে কেউ রক্ষা পাবে না: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবে না। তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সরকার ও বিরোধী দলকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

 

রিজভী বলেন, "ফ্যাসিবাদের উত্থান হলে কেউ রক্ষা পাবে না। এর পুনরাবৃত্তি ঘটলে রাষ্ট্রই থাকবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের নেতারা বর্তমানে সরকারি দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করছেন এবং তারা ফ্যাসিবাদের ভাষায় কথা বলছেন।

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, "শুধু জল্লাদ নয়, মীর জাফররা চারপাশে অবস্থান নিয়ে আছে।" তিনি অভিযোগ করেন, পাশের দেশ থেকে বোমা রেখে ছবি তুলে পাঠানোর জন্য টেলিফোনে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এবং এর পর তারা টাকা দেওয়ার কথা বলছেন।

বিরোধী দলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, কর্মসূচি পালন করা তাদের অধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, কথা বলার স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার বিরোধী দলের লং মার্চে বাধা দেয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পল্টন মোড় থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


পল্টন মোড় থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ককে হকারমুক্ত ঘোষণা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে, ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম সরেজমিনে হকারমুক্ত ঘোষিত সড়কগুলো পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময়, ডিএসসিসি প্রশাসক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ বসলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি। তারা নিজেরাও স্বেচ্ছায় এসব মূল সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা নগরবাসীকে ফুটপাত ও সড়কে স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে চাই।"

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, রমনা ভবন সংলগ্ন পূর্বপাশের ফুটপাতে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা রেখে নির্ধারিত জায়গায় নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত নির্দিষ্টসংখ্যক হকার বসতে পারবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত স্থান, সময়, সংখ্যা ও নিবন্ধনের বাইরে যত্রতত্র হকার বসে জনভোগান্তি তৈরির কোনো সুযোগ নেই এবং নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

হকারদের নিবন্ধন ফি কমানোর দাবির বিষয়ে প্রশাসক বলেন, "বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনামা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

পরিদর্শনের সময়, ডিএসসিসি প্রশাসক প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মূল সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম তদারকি করেন।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘের নারী নেতৃত্ব প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ পি.এম


জাতিসংঘের নারী নেতৃত্ব প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত ‘ইউএনজিএ প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স’-এ বক্তব্য প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারী নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউএনজিএর সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি নারীর নেতৃত্বকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রান্তিক অবস্থান থেকে মূল কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নারীরা নেতৃত্ব দিলে বিশ্ব এগিয়ে যায়।’ তাঁর বক্তব্যে বৈশ্বিক নেতৃত্বে নারী-পুরুষের অসম প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও উঠে আসে।

খলিলুর রহমান জানান, বর্তমানে বিশ্বের প্রতি সাতটি দেশের মধ্যে ছয়টি এখনও পুরুষ নেতৃত্বাধীন। একইভাবে ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনাগুলোতে মধ্যস্থতাকারী ও আলোচকদের মাত্র ৫ শতাংশ নারী ছিলেন। এসব তথ্য তুলে ধরে তিনি নারী নেতৃত্বকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এবারের ‘ইউএনজিএ প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স’-এর মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তুলতে আস্থা পুনর্গঠন ও পরিবর্তন মোকাবিলায় নারীর নেতৃত্ব।’ আয়োজনে নারীর পূর্ণ, সমান ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, লিঙ্গ-সংবেদনশীল নীতিনির্ধারণ ও অর্থায়ন এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয় ও ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর এই প্ল্যাটফর্মের আয়োজন করা হয়। নারী নেতাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত বিনিময়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীর নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এবারের বৈঠকে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে নারীর পূর্ণ অংশগ্রহণ, নারীবান্ধব নীতিনির্ধারণ এবং বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাজিলের ডানপন্থী রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করছেন মিশেল বলসোনারো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ পি.এম


ব্রাজিলের ডানপন্থী রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করছেন মিশেল বলসোনারো

ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্বামী গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যেই ব্রাজিলের ডানপন্থী রাজনীতিতে নিজের স্থান তৈরি করছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল বলসোনারো।

সিনেট নির্বাচনে সম্ভাব্য জয় তার জন্য ২০৩০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাব্য সিঁড়ি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৪৪ বছর বয়সী মিশেল বলসোনারো একজন শান্ত স্বভাবের ও গভীরভাবে ধর্মপ্রাণ নারী।

তার গাঢ় বাদামি চুল বব কাটে রয়েছে।

তবে ৪৫ বছর বয়সী সৎ ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের।

আগামী ৪ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে কঠিন লড়াইয়ে রয়েছেন ফ্লাভিও।

সম্প্রতি ফ্লাভিও প্রকাশ্য বিরোধের সময় মিশেলের বিরুদ্ধে তার প্রতি অসম্মান ও দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ করেন।

পরে ফ্লাভিওর নির্বাচনী সমাবেশে মিশেলকে আর দেখা যায়নি।

ব্রাসিলিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মিশেল বলেন, তার ৭১ বছর বয়সী স্বামী ও সাবেক কট্টর ডানপন্থী নেতা জাইর বলসোনারোর দেখাশোনা করা প্রয়োজন।

অসুস্থতার কারণে মানবিক বিবেচনায় তাকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টার দায়ে তিনি ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজধানী ব্রাসিলিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী সিনেটর পদে মিশেল বলসোনারোর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। অথচ তিনি খুব কমই নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এর আগে, তিনি লিবারেল পার্টির (পিএল) নারী শাখার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নামলে তিনি তার স্বামী ও তুলনামূলক কম আগ্রাসী, তবে লড়াকু স্বভাবের ছেলে ফ্লাভিওর চেয়ে ভিন্ন সুরে কথা বলেন।

ব্রাসিলিয়ায় গাড়িবহর নিয়ে যাওয়ার সময় এক বামপন্থী ব্যক্তির প্রতিবাদী স্লোগানের মুখে মিশেল হাসিমুখে বলেন, ‘আপনি লুলার সঙ্গে, আমি জাইর বলসোনারোর সঙ্গে। তবে পারস্পরিক সম্মান থাকলে সবকিছুই ঠিকঠাক চলে।’

ডানপন্থী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণার ভিডিওতে তাকে রাখতে রাজধানীতে ছুটে আসছেন।

মিশেলের ভাই ও উপদেষ্টা এডুয়ার্ডো তোরেস এএফপিকে বলেন, ‘এই সিনেট নির্বাচন কেবল শুরু। আজ মিশেলই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।’

পিএলের এক সূত্র এএফপিকে জানায়, সৎ ছেলের সঙ্গে বিরোধের পর মিশেলের অবস্থান ‘আরও শক্তিশালী’ হয়েছে।

মিশেল তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ্যে বলেননি। তবে চলতি বছরের নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

পরে তার স্বামী ছেলে ফ্লাভিওকে নিজের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেন।

ওই সূত্র বলেছে, ২০৩০ সাল ‘এখনো অনেক দূরের বিষয়’ হলেও মিশেল ‘ইতোমধ্যেই ডানপন্থী রাজনীতিতে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছেন।’

ফেদেরাল ইউনিভার্সিটি অব পারানার রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্রাজিয়েলা তেস্তা বলেন, মিশেল বলসোনারো ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান মা ও গৃহিণীদের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র’ হিসেবে কাজ করছেন। পুরুষদের তুলনায় এই গোষ্ঠীকে ‘বলসোনারোবাদে আকৃষ্ট করা কঠিন।’

সৎ ছেলের সঙ্গে বিরোধ নিয়ে বিস্তারিত একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করার পর, নিজ দলেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি।

তার বন্ধু ও সিনেটর দামারেস আলভেস এএফপিকে বলেন, এই সমালোচনার ‘মূল কারণ হলো, মিশেল পুরুষদের তৈরি করে দেওয়া ছোট বাক্সের মধ্যে থাকেননি।’

মিশেল বধিরদের জন্য সাংকেতিক ভাষার দোভাষী। ২০১৯ সালে তার স্বামীর প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এই দক্ষতাকে কাজে লাগান।

ফার্স্ট লেডি থাকার সময় মঞ্চে তার আত্মবিশ্বাস বেড়েছিল। তবে এখনো স্বামীর তুলনায় প্রকাশ্যে কম কথা বলেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমে তিনি সতর্ক থাকেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%