বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৪ পি.এম
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মনুষ্যবিহীন সাবমেরিন আটক হওয়ার পর, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের নজরদারি বলয় বা ‘চোখ ফাঁকি’ দেওয়ার জন্য কোনো আধুনিক প্রযুক্তি সক্ষম নয়।
বুধবার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক সাবমেরিন আটকের ঘটনাটিকে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অভিযান পারস্য উপসাগরে ইরানের নজরদারি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি প্রমাণ।
মোহেব্বি বলেন, ‘২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীতে যোগ হওয়া সবচেয়ে আধুনিক চালকবিহীন সাবমেরিনটি আটক হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, হরমুজ প্রণালীতে আমাদের নজরদারি বলয় ভেদ করে কোনো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পার হতে পারবে না।’
তিনি আরও জানান, ‘পারস্য উপসাগরের ওপর আধিপত্য আমাদের প্রযুক্তি-দক্ষ তরুণদেরই।’ এদিকে, তিনি মার্কিন বাহিনীকে ‘গালফ অব পিগস’-এ ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে, মঙ্গলবার আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, তারা হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক চালকবিহীন ডুবোযান (সাবমেরিন) আটক করে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, যানটিকে ‘ডাইভ-এলডি’ (Dive-LD) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। ২০২৫ সালে এটি মার্কিন নৌবাহিনীর ‘আনম্যানড আন্ডারসি ভেহিকেল গ্রুপ ১’-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এবং ২ দশমিক ৭ টন ওজনের ডাইভ-এলডি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও অনুসন্ধান, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, অবকাঠামো পরিদর্শন এবং মাইন বা সমুদ্রতলস্থ বিস্ফোরক শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়করণের মতো কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
প্রকাশিত কারিগরি তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি পানির নিচে একটানা ১০ দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতা পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম। তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমানোর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নকশাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তথ্যগুলো তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক তার প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমানোর জন্য ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালু করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না এবং থাকলে তা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে।
প্রধানমন্ত্রী জবাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোর নিয়ে সরকারের তিন স্তরের মহাপরিকল্পনার কথা সংসদে তুলে ধরেন।
ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর নকশা চূড়ান্ত হয়েছে, তবে প্রয়োজন অর্থায়ন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই করিডোরে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন (নকশা) প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
কবে নাগাদ এটি চালু হবে-এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে এই রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা সম্ভব হবে, ফলে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে আসবে।
দূরত্ব কমাবে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন
রেলপথের দূরত্ব কমানোর বিষয়ে সংসদ নেতা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব কমাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি ‘কর্ডলাইন’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই কর্ডলাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুই শহরের দূরত্ব কমার পাশাপাশি ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। ফলে অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।
পুরো রুট হচ্ছে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন
প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত অংশের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইনের কাজ শেষ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া টঙ্গী-আখাউড়া অংশের প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নও শেষ পর্যায়ে। আশা করা যাচ্ছে, এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা, সব জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব ও সচিবদের তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারের দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে অভিন্ন রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আল্পস অঞ্চলের দেশ স্লোভেনিয়া জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইয়ানশার নেতৃত্বে স্লোভেনিয়া ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস শুরু করেছেন।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের আচরণ নিয়ে সম্প্রতি ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হলেও স্লোবেনিয়া এই প্রবণতার বিপরীত পথে হাঁটছে।
এর অংশ হিসেবে ইসরাইল বুধবার লুবলিয়ানায় দেশটির প্রথম দূতাবাস উদ্বোধন করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে।
লুবলিয়ানা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এটি আগের মধ্য-বামপন্থী সরকারের নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে ওই সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্যতম কঠোর সমালোচক ছিল। তারা ওই অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে।
এ পদক্ষেপ এমন একদিন পর নেওয়া হলো, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইসরাইলের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক নিন্দা বাড়তে থাকায় ইউরোপের সরকারগুলোর নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি।
ইয়ানশা চলতি বছরের শুরুতে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রায়ই তার বিরোধ হয়। পশ্চিম তীরের বসতি নিয়ে ইইউর অবস্থানের বিরোধিতা করায় তিনি ইসরাইলের প্রশংসা পেয়েছেন।
ইয়ানশার নেতৃত্বে স্লোভেনিয়া বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিজেদের নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করেছে। ইসরাইলের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। নেতানিয়াহু ও তার দুই মন্ত্রীর ওপর দেওয়া প্রবেশ নিষেধাজ্ঞাও বাতিল করেছে।
ইসরাইলের শীর্ষ কূটনীতিক গিদিওন সার বুধবার স্লোভেনিয়ায় তার প্রথম সরকারি সফরে দূতাবাসটি উদ্বোধন করবেন। তার মন্ত্রণালয় ইয়ানশাকে ‘ইসরাইলের বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইয়ানশা বলেছেন, তার সরকার উদারপন্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলবের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে ‘শুধু স্লোভেনিয়ার পররাষ্ট্রনীতি স্বাভাবিক করছে।’
দৈনিক দেনেভনিকের কলামিস্ট দারিয়ান কোশির সপ্তাহাহের শেষে এক মন্তব্যে বলেছেন, ইইউতে ইয়ানশা ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ট্রোজান হর্স’ হিসেবে কাজ করছেন। এপ্রিলের নির্বাচনে হেরে যাওয়া হাঙ্গেরির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের জায়গা তিনি নিয়েছেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট দানিলো তুর্ক এএফপিকে বলেন, স্লোভেনিয়া ‘ইসরাইলি নীতির একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।’
লুবলিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক তুর্ক বলেন, ‘এটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রকৃত শিক্ষিত সমাজ গঠনের জন্য শুধুমাত্র সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করাই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষা হবে সকলের মৌলিক অধিকার এবং এটি মানুষের দ্বারে পৌঁছে দিতে হবে।
এছাড়া, শিক্ষাকে দক্ষতাভিত্তিক, ক্যারিয়ারমুখী এবং সুদৃঢ় নৈতিকতার ভিত্তিতে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভাষা শিক্ষাকে শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ টিএমটিই (ট্রেনিং অব মাস্টার ট্রেনার্স ইন ইংলিশ) সদস্য সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় শুধুমাত্র পড়া ও লেখার প্রথাগত অনুশীলনে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখার চারটি মৌলিক দক্ষতার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নতুন কারিকুলামে শ্রবণ (লিসেনিং) ও কথন (স্পিকিং) দক্ষতায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পড়া ও লেখা ছাড়াও, শুনে বোঝা, সঠিকভাবে কথা বলা এবং নিজের ভাব প্রকাশের দক্ষতা গড়ে তোলার জন্য নতুন কারিকুলামে প্রয়োজনীয় অনুশীলন ও কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিশেষত বৈশ্বিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ভাষাগত দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ভাষা শিক্ষার চারটি মৌলিক স্তম্ভ হলো—শুনে বোঝা, বলে প্রকাশ করা, পড়ে বোঝা এবং লিখে প্রকাশ করা।
এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে শুনে বোঝার দক্ষতা তৈরি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ভাষা আয়ত্ত করার মূল চাবিকাঠি হলো শ্রবণ ও অনুশীলন।
শ্রেণিকক্ষে শুধুমাত্র পাঠ্যবইনির্ভর পাঠদানের সমালোচনা করে শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভিডিও, ওয়ার্কবুক, ডিজিটাল কনটেন্ট ও খেলার মাধ্যমে পাঠদানকে আরো আনন্দময় করতে আধুনিক শিক্ষণ-উপকরণ ব্যবহারের নতুন প্রস্তাব নিয়ে আসতে হবে। সরকার ফলাফলনির্ভর সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক নীতিগত পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর।
টিএমটিই বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক রিয়াজ পারভেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের উপপরিচালক মারিয়া রেহমান।
অনুষ্ঠানে টিএমটিই বাংলাদেশের সদস্যসহ শিক্ষা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ