ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাপানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ঢাবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ


জাপানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ঢাবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ

ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের বৃহত্তম শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ার ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর উপ-পরিচালক জুম্পেই তানিগুচির নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

আজ সোমবার অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে।

প্রতিনিধিদলের অপর সদস্য হচ্ছেন জাপানের রিটসুমেইকান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি কোয়ো তোকুরিকি।

আরও পড়ুন: কালিয়াকৈর বাইপাসে যানজটের অবসান, মহাসড়কে ফিরেছে শৃঙ্খলা

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল এবং ড. মো. মনির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘ক্লিন ঢাকা ক্যাম্পেইন’ পরিচালনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন, যেখানে জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন।

এছাড়া, জনগণের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রেক্ষাপটে ঢাকা-নারিতা রুটে ফ্লাইট দ্বিগুণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন এবং ‘ক্লিন ঢাকা ক্যাম্পেইন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গভীর আগ্রহ প্রকাশের জন্য অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন, ক্ষতিপূরণ পাবেন ভুক্তভোগী ও পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২২ পি.এম


গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন, ক্ষতিপূরণ পাবেন ভুক্তভোগী ও পরিবার

মন্ত্রিসভা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এই নতুন আইনে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও প্রতিষ্ঠানে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আইনটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করবে।

এতে আরও বলা হয়, আইনটিতে গুম হয়েছে এমন ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের জন্য তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; যদি তা সম্ভব না হয় তবে রাষ্ট্র থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া, এই আইনে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য অনুমতি, পাঁচ বছর পরে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এই আইনে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্নকরণ এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, যদি মরদেহ পাওয়া যায় বা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপের বিধান এই আইনে যুক্ত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানিতে ১২.৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তৈরি পোশাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানিতে ১২.৪৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তৈরি পোশাক

ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুলাই মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি আগের মাসের তুলনায় ১২.৪৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে, দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত, তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতও উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ রপ্তানি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশের মোট পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪.৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। যা ছিল ২০২৬ সালের জুনে ৪.২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

দেশের মোট রপ্তানি আয় থেকে সিংহভাগ যোগান দেওয়া তৈরি পোশাক খাত জুলাই মাসে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জুলাইয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেটি জুন মাসের ৩.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ১৪.৭৩ শতাংশ বেশি।

জুলাই মাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি ৯১৮.৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ০.২৫ শতাংশ বেশি।

দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ছিল জার্মানি, যেখানে রপ্তানি হয়েছে ৪৯৫.৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৭৮.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে ভারত ও সৌদি আরবে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ভারতীয় বাজারে রপ্তানি ১৫.৩০ শতাংশ এবং সৌদি আরবে ১০.৬৪ শতাংশ বেড়েছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে এই শক্তিশালী মাসভিত্তিক পুনরুদ্ধার চলতি অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে নীতিনির্ধারক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সামনে শরৎকাল ও বছরের শেষের উৎসব মৌসুমকে ঘিরে নতুন রপ্তানি আদেশ পাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিকারকেরা অপ্রচলিত বাজারে সম্প্রসারণ এবং নতুন পণ্য যুক্ত করার মাধ্যমে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পার্বত্য চট্টগ্রামে মা-শিশুর পুষ্টি ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে সমন্বিত প্রকল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


পার্বত্য চট্টগ্রামে মা-শিশুর পুষ্টি ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে সমন্বিত প্রকল্প

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে গর্ভবতী মা এবং শিশুর পুষ্টি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার চারটি উপজেলার মোট ২০টি ইউনিয়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা হচ্ছে আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস। এই প্রকল্পে সহযোগিতার সঙ্গে রয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)। প্রকল্পটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সহায়তায় বাস্তবায়িত হবে।

২১ আগস্ট, সোমবার এই উদ্যোগের প্রতি অবহিতকরণের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন কৌশল, উপকারভোগী নির্বাচন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং মা ও শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মিজ নাজমা আশরাফী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নাইউপ্রু মেরি, সিভিল সার্জন নূয়েন খীসা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেন এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক অনুকা খীসা।

এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাপছড়ি, বালুখালী ও কুতুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন এনজিও প্রধান, হেডম্যান এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি সদর, কাউখালী ও কাপ্তাই উপজেলা এবং বান্দরবান সদর উপজেলা রয়েছে। এসব উপজেলার নির্ধারিত ২০টি ইউনিয়নে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পটির দুটি প্রধান স্তম্ভ হলো—মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (MCBP) এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (DRR) ।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে MCBP কার্যক্রম এবং ইউনিয়ন পরিষদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে DRR কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পের ধারণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভৌগোলিকভাবে দুর্গম, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এবং আর্থ-সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চল। এই অঞ্চলে পাহাড় ধস, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, খরা এবং সুপেয় পানির সংকট এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর প্রতিনিয়ত ঝুঁকি ফেলছে।

বিশেষ করে দুর্যোগের সময় গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

প্রকল্পে গর্ভাবস্থা থেকে শিশুর জীবনের প্রথম ১,০০০ দিনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে পুষ্টির ঘাটতি শিশুর শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গর্ভবতী মা এবং শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পের আওতায় গর্ভবতী নারীদের গর্ভাবস্থার ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া মাসিক আর্থিক সহায়তা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এছাড়া প্রকল্পের DRR অংশের মধ্যে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে Community Risk Assessment (CRA) বা কমিউনিটির পর্যায়ে দুর্যোগ ঝুঁকি নিরূপণ করা হবে। এর ভিত্তিতে Risk Reduction Action Plan (RRAP) প্রণয়ন করা হবে।

ঝুঁকি হ্রাসে সুরক্ষা দেয়াল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানির স্থানসহ ছোট আকারের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ফার্স্ট এইড কিট সরবরাহ এবং দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হবে।

জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কৌশলগত দিকনির্দেশনা, উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং এবং আন্তঃদপ্তর সমন্বয় করা হবে। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, এলজিইডি ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন।

ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, পাড়া কর্মী এবং কমিউনিটি ভলান্টিয়াররা উপকারভোগী যাচাই, উঠান বৈঠক, দুর্যোগ ঝুঁকি নিরূপণ ও বিভিন্ন কার্যক্রম তদারক করবেন।

প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের তথ্য সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী Management Information System (MIS)-এ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ই-মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল সরেজমিনে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন ও গুণগত মান যাচাই করবে।

এ ছাড়া অভিযোগ প্রতিকারের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনলাইন GRS এবং আশিকার স্থানীয় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন এই উদ্যোগের মাধ্যমে গর্ভবতী মা ও শিশুর পুষ্টি গ্রহণের মান উন্নত হবে এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকি নিরূপণ এবং ছোট অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

দীর্ঘমেয়াদে পার্বত্য অঞ্চলে শিশুদের খর্বকায় (Stunting) ও কৃশকায় (Wasting) হওয়ার হার কমানো, শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করা এবং দুর্যোগ-সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি স্বাস্থ্যবান, সক্ষম এবং দুর্যোগ-সহনশীল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্র পরিচালনায় তারেক রহমানের নতুন মাত্রার প্রশংসা চীনা রাষ্ট্রদূতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


রাষ্ট্র পরিচালনায় তারেক রহমানের নতুন মাত্রার প্রশংসা চীনা রাষ্ট্রদূতের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনমুখী, বাস্তববাদী ও দক্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

তিনি আরও বলেন, এই নেতৃত্ব দেশের জটিল উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আজ (সোমবার) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস-বিস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী ‘কমপারেটিভ গভর্ন্যান্স ফোরাম ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেছেন, ‘চীন সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে।’

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে রাজনৈতিক ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। এক সঙ্গে একক শিল্পনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে গিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে হবে এবং উন্নয়নের জন্য আরও অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চেন ঝিমিন। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বিস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান।

ইয়াও ওয়েন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের নতুন সরকার উন্নয়নমুখী নীতি অনুসরণ করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত জুনে চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছিলেন, ওই সফরে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশ-চীনের ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার করা এবং নতুন যুগের জন্য অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

রাষ্ট্রদূতের ভাষায়, ‘সফরটি অত্যন্ত সফল ছিল এবং এটি দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।’

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উদ্ধৃতির মাধ্যমে ইয়াও ওয়েন বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেভাবেই বদলাক না কেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চীন দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সমঝোতাটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ‘স্বর্ণালি ৫০ বছর’-এর ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছে। এ ছাড়া বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা বাড়ানো এবং দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে আরও সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

ইয়াও ওয়েন বলেছিলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার পরিধি ও মান ক্রমাগত বাড়ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময়ও দুই দেশের অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময় দুই দেশের জনগণের মধ্যে সংযোগের একটি কার্যকর সেতুবন্ধন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ফোরামের অংশগ্রহণকারীরা রাষ্ট্র পরিচালনা, দারিদ্র্য বিমোচন ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

বিস ও ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত চার দিনের ফোরামে চীনের রাষ্ট্র পরিচালনায় আধুনিকায়ন ও সুশাসন সক্ষমতার অভিজ্ঞতা, ‘ফোর গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস’ এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%