ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধুপুরে বিনামূল্যের পাঠ্যবই কেলেঙ্কারি


মধুপুরে বিনামূল্যের পাঠ্যবই কেলেঙ্কারি

টাঙ্গাইলের মধুপুরে সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার নরকোনা এলাকায় প্রায় এক টন বিনামূল্যের পাঠ্যবই জনতার হাতে আটক হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। এ ঘটনায় ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেন ও মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নৈশপ্রহরী তোফায়েল আহমেদকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।
তবে স্থানীয় শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, শুধু ভাঙারি ব্যবসায়ী ও নৈশপ্রহরীকে আসামি করে মামলা হওয়ায় বই সরবরাহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত অন্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বছরের পর বছর অবিক্রীত বইয়ের হিসাব, অতিরিক্ত চাহিদাপত্রের মাধ্যমে বই সংগ্রহ এবং এসব বই শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে—এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের চাহিদার ভিত্তিতে সরকার বিনামূল্যের পাঠ্যবই সরবরাহ করে। পরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা অফিস থেকে বই সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করে।
অভিযোগ রয়েছে, মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস প্রতিবছর অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে প্রায় পৌনে চার লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ বইয়ের চাহিদাপত্র পাঠায়। সরবরাহ করা বইয়ের মধ্যে জুন পর্যন্ত সাধারণত দুই থেকে আড়াই লাখ বই বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুদামে সংরক্ষিত থাকার কথা।
গত শিক্ষাবর্ষেও প্রায় চার লাখ বইয়ের চাহিদাপত্র পাঠানো হয় এবং চাহিদা অনুযায়ী পুরো বই সরবরাহ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। জুন পর্যন্ত প্রায় পৌনে দুই লাখ বই বিতরণের পর প্রায় সোয়া দুই লাখ বই অবশিষ্ট থাকার কথা বলা হচ্ছে। এসব বইয়ের বর্তমান অবস্থান ও হিসাব নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কারণে পাঠ্যবই অবিতরণকৃত থেকে গেলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উপজেলা পাঠ্যবই বিতরণ কমিটির সম্মতিক্রমে নিলামের মাধ্যমে তা বিক্রির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সাল থেকে মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অবিতরণকৃত পাঠ্যবই নিলামের মাধ্যমে বিক্রির কোনো কার্যকর নজির নেই।
স্থানীয় কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের দাবি, গত দেড় যুগে এভাবে প্রায় ৩৫ লাখ বই অবিতরণকৃত থাকার কথা বলা হলেও সেগুলোর সঠিক হিসাব ও পরিণতি স্পষ্ট নয়। এত বিপুলসংখ্যক বই কোথায় গেল, কীভাবে হিসাব সমন্বয় করা হয়েছে এবং কোনো কোনো বই কীভাবে ভাঙারির দোকানে পৌঁছেছে—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় শারদীয় দুর্গাপূজার পুনর্মিলনী ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

স্থানীয় কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় একাডেমিক অফিসার মহিউদ্দীন আহমেদের প্রভাব বেড়েছে। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাহিদাপত্রের মাধ্যমে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বই আনা, অবিতরণকৃত বই গুদামজাত করে রাখা এবং পরে সেগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্রির সঙ্গে একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের কোনোটি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বই পরিবহনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রকৃতপক্ষে যতসংখ্যক বই পরিবহন করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি বই পরিবহনের বিল দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
একাডেমিক অফিসার মহিউদ্দীন আহমেদ এসব বিষয়ে নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, চাহিদাপত্র পাঠানো, অবিতরণকৃত বইয়ের হিসাব এবং গুদামজাতকরণের বিষয়গুলো মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, মহিউদ্দীন আহমেদ ২০১৫ সালে মধুপুরে যোগদানের পর দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে রয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে তার ঘিরে একটি প্রভাববলয় গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। ওই বলয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বই সংগ্রহ ও অবিতরণকৃত বই বিক্রির অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের দাবি।
তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাবুল হাসান বলেন, তিনি মাত্র সাত মাস ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা পাঠ্যবই-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে বর্তমান একাডেমিক অফিসার এবং আগে দায়িত্বে থাকা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বিস্তারিত বলতে পারবেন।
অন্যদিকে টাঙ্গাইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, জেলা শিক্ষা অফিসের এ বিষয়ে কোনো দায় নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো বই অবিতরণকৃত অবস্থায় থাকার কথা নয়। মধুপুরে এত বই কীভাবে অবিতরণকৃত অবস্থায় থেকে গেল বা চোরাই পথে বিক্রি হলো, তার দায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা পাঠ্যবই বিতরণ কমিটিকেই বহন করতে হবে।

মধুপুর উপজেলা পাঠ্যবই বিতরণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক পাঠ্যবই-সংক্রান্ত অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তদন্ত শেষে কমিটিই বলতে পারবে কেন এসব ঘটনা ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত।
এদিকে এক টন সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই আটকের ঘটনা সামনে আসার পর শুধু আটক বইয়ের উৎস ও গন্তব্য নয়, গত কয়েক বছরের বইয়ের চাহিদাপত্র, সরবরাহ, বিতরণ, অবিতরণকৃত বইয়ের হিসাব, গুদামজাতকরণ এবং নিলামসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব নথি পর্যালোচনা করা হলে সরকারি বই সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইল জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল নির্বাচিত হয়েছেন মধুপুর সার্কেল এএসপি আরিফুল ইসলাম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোসেনপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


হোসেনপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত
 
‎কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎
‎বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। 
‎
‎জানা গেছে, উপজেলার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজ, ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  রেকসোনা খাতুন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাদিকুর রহমান, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার রেজাউল করিম সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষকরা।
‎
‎এ সময় ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুব সমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে বাকেরগঞ্জে খেলাধূলার সামগ্রী বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি।

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ পি.এম


যুব সমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে বাকেরগঞ্জে খেলাধূলার সামগ্রী বিতরণ

যুব সমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে পারলে মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ক্রীড়াপ্রেমী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক সিকদার রেজাউল কবির রেজা।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলসকাঠী গুড়িয়া গ্রামে আয়োজিত খেলাধূলার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

কলসকাঠী সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক ও কলসকাঠী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজাউল কবির রেজার সভাপতিত্বে আদর্শ যুব সমাজ গঠনে যুবকদের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সিকদার রেজাউল কবির রেজা বলেন, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে তরুণদের দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন প্রয়োজন। সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব ও ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করে। কলসকাঠী সচেতন নাগরিক সমাজের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আলোচনা সভা শেষে যুব সমাজের মাঝে খেলাধুলার সামগ্রী ফুটবল ও জার্সি বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনার দোগাছীতে শিশু কলি হত্যা মূল দুই আসামি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ সজিব হোসেন স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


পাবনার দোগাছীতে শিশু কলি হত্যা মূল দুই আসামি গ্রেফতার

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলনিয়া গ্রামে ১০ বছর বয়সী শিশু মোছা. কামরুন্নাহার কলি হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুলনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হয়। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের সঙ্গে ইটসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঘটনার দিন আসামি মোস্তফা ও ইয়াসিন কৌশলে শিশুটিকে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর পরিচয় ফাঁসের ভয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে হলুদ রঙের প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রথমে ঘরের খাটের নিচে রাখা হয়। পরদিন রাতে বস্তাটি আরেকটি সাদা বস্তায় ইটসহ বেঁধে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত ডোবায় ডুবিয়ে রাখা হয়।
এদিকে, এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বাড়ি তল্লাশির ঘোষণার পর আসামিরা লাশ সরানোর চেষ্টা করে। তবে দুর্গন্ধ ও আশপাশে কুকুরের ডাকে আতঙ্কিত হয়ে তারা বস্তাবন্দি মরদেহটি সেফটি ট্যাংকের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, তদন্তে গ্রেফতারকৃত মোস্তফার মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনার দিন সকালে সে শিশুটির ছবি গোপনে ধারণ করে পরে মুছে ফেললেও সেগুলো পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। যা তার অপরাধের পূর্বপরিকল্পনা ও উদ্দেশ্যের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— মোঃ মোস্তফা কামাল (৫৫), গ্রাম কুলনিয়া, দোগাছী, পাবনা এবং মোঃ ইয়াছিন আলী (২১), স্থায়ী ঠিকানা সিরাজগঞ্জ হলেও বর্তমানে কুলনিয়ায় বসবাসরত।
পাবনা জেলা পুলিশ জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এর দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলেও জানানো হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ, মেঝে-করিডোরে চিকিৎসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৯ পি.এম


কাউখালীতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ, মেঝে-করিডোরে চিকিৎসা

পিরোজপুরের কাউখালীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা সরকারি হাসপাতালে শয্যা ও স্থান সংকট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেক ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও করিডোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডের শয্যা পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে করিডোর এবং সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি মেঝেতে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের মশারির ভেতরে রাখা হলেও একই স্থানে সাধারণ রোগীদের অবস্থানের কারণে মশাবাহিত এ রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ১৭ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ পর্যন্ত ১৬১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে রোগীদের দেখতে আসা স্বজনরা বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অবিলম্বে পৃথক ভবন বা আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অবহেলিত এই উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নির্মাণাধীন ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার।
অবশ্য স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হলেও জেলার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কাউখালীতে বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে।
কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কর্মকার জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ওষুধ, প্রয়োজনীয় স্যালাইন এবং বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার অ্যান্টিজেন কিট সরবরাহ রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রচুর সুপারি ও নারিকেল গাছ থাকায় গাছের গোড়া বা পাতায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কাজ করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ সম্পর্কে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ রেহানা আক্তার জানান, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জলাশয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মশার বংশবৃদ্ধি রোধে বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত মশক নিধন ওষুধ ছিটানো এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%