শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:২৫ পি.এম
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে আগামীকাল শনিবার ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এই কর্মসূচির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১০ কিলোমিটার। এতে ১৯ জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশগ্রহণ করবেন। আয়োজকেরা আশা করছেন, লংমার্চে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে।
শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব তথ্য তুলে ধরেন। আগামীকালের লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি ও কর্মসূচির বিস্তারিত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে তৃতীয় দফায় এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। আগের দুটি লংমার্চের তুলনায় এবারের কর্মসূচি সবচেয়ে দীর্ঘ।
তিনি আরও বলেন, লংমার্চের সফলতার জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাত দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
সাত দফা দাবির প্রথমটি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের গণরায় অস্বীকার করে রাজনৈতিক সংকট আরো গভীর করছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত দুটি ভোটের একটির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, অথচ অন্যটির ফলাফল অস্বীকার করা হচ্ছে। এটি দ্বিচারিতা ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল।
তিনি বলেন, সরকার আন্তরিক হলে আগামী ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ওই আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষ নিহত এবং প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকে এখনো দেশে-বিদেশে চিকিৎসাধীন। জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের, বিশেষ করে যারা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস, সার ও জ্বালানি সংকটের কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বরং নতুন করে গ্যাসসহ বিভিন্ন জ্বালানির দাম বাড়ানোর উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারকে অবিলম্বে এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েই চলেছে। এমনকি সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সরকারের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণ চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জেলা প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ নিয়োগ, ডিলারশিপ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। হাটবাজার, ঘাট, বালুমহাল, পরিবহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। চাঁদাবাজির ধরন বদলায়নি, শুধু চাঁদাবাজদের পরিচয় ও দলের নাম পরিবর্তন হয়েছে।
লংমার্চে ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে শুরু করে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ মোট ১৯ জেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেবেন বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কর্মসূচি সফল করতে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ঢাকা ও খুলনা রেঞ্জের পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
লংমার্চের কারণে মহাসড়কে সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে বলে স্বীকার করেন জামায়াতের এই নেতা। এ জন্য সাধারণ মানুষ, পথচারী, পরিবহনশ্রমিক, ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে তাঁরা মহাসড়কের এক পাশ ব্যবহার করে কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করবেন।
লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের সর্বোচ্চ ধৈর্য, সংযম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য, স্লোগান কিংবা প্রতিপক্ষকে আঘাত করে এমন আচরণ করা যাবে না। পথে নতুন কোনো জেলা থেকে গাড়ি বহরে যুক্ত হলে সেগুলো বহরের একেবারে শেষ প্রান্তে যুক্ত করতে হবে।
নিরাপত্তা, চিকিৎসা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি। দীর্ঘ যাত্রার জন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় খাবার, পানি, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী সঙ্গে রাখতে হবে। প্রত্যেক গাড়ির টোলের টাকাও নিজ দায়িত্বে প্রস্তুত রাখতে হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, আগামীকাল শনিবার সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। এরপর সকাল ৮টায় ছয় শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। পথে আরো গাড়ি যুক্ত হয়ে বহরের সংখ্যা দেড় হাজারে পৌঁছাতে পারে।
লংমার্চের পথ হবে ঢাকা থেকে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাটের ফকিরহাট, রূপসা সেতু হয়ে খুলনা। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে বহর। সেখানে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন লংমার্চের নেতাকর্মীরা।
পথে ছয়টি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সকাল নয়টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় প্রথম পথসভা হবে। এরপর বেলা ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে এবং বেলা ২টায় ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে পথসভা হবে। বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড়ে এবং বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।
শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার লংমার্চ সফল করতে দেশবাসী, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তাঁর বক্তব্যে ব্যবহৃত ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি নিজের কথার সংশোধনও করেছেন।
তিনি জানান, যে বক্তব্যটি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, সেখানে ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
আজ শুক্রবার, তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে বলেন, "সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া আমার বক্তব্যে ব্যবহৃত একটি শব্দের সংশোধন ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করতে চাই।" তিনি উল্লেখ করেন, সেদিনের অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার প্রসঙ্গে তিনি কথা বলেছিলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, "সমাজে তারা অনেকেই অবহেলা, বঞ্চনা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হন।" এসব বাধা অতিক্রম করে তাদের শিক্ষায় এগিয়ে আসার বিষয়টিই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শব্দ সংশোধন করে বলেন, "বক্তব্যের সময় ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। এখানে আমার অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’।"
ফেসবুক পোস্টের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, "দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে।" সেদিনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষার সুযোগ এবং তাদের শিক্ষাগত অর্জনকে উৎসাহিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এ অভিযোগ করেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে পোস্টাল ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার, মো. তারেক রহমান তার ফেসবুক পেজে এই দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জামায়াত গালিগালাজের মাধ্যমে জয়ী হতে চায়। ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন দেখলে বোঝা যাবে, মানুষ গালিকে সমর্থন করেছে কি না। মো. তারেক প্রশ্ন তোলেন, "মানুষ কি নিজেকে বিপদে ফেলবে, অসহিষ্ণু-উগ্রদের নির্বাচিত করে?"
জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে তিনি মন্তব্য করেন, ‘তারা মূলত, ড. ইউনূসের দয়ায় পাস করে বিরোধী দল হয়েছে। পোস্টাল ভোটে জালিয়াতির মাধ্যমে জামায়াতের আমির এবং নাহিদকে নির্বাচিত করা হয়েছে।’
মো. তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত বিদ্রোহী প্রার্থীদের টাকা দিয়ে কিনে নির্বাচন করানোর একটি কৌশল গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘ভোট ভাগ করে জনগণের চাহিদাকে তারা পরাজিত করেছে এবং ওই এলাকাকে প্রকৃত জনপ্রতিনিধির নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত করেছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, অন্য এলাকা থেকে ভোটার স্থানান্তর করে ভোট ম্যানিপুলেট করা হয়েছে। প্রকৃত ভোটারদের চাহিদাকে পরাজিত করে তারা ভোটারদের অধিকার মেরে খেয়েছে।
তিনি প্রশ্ন করেন, "এগুলো ছাড়া গালিগালাজ করা এই দল কয়টা আসন পেত?"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে ৩৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এবং অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ২১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আটকদের মধ্যে চিহ্নিত মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩৬ দিনে পুলিশ পাঁচ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে মুচলেকায় তিন হাজার ১৫১ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে, এবং বাকি দুই হাজার ৯৫ জনকে নিয়মিত মামলা ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, ‘কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কুমিল্লা জেলার মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ১৮টি থানায় জেলা পুলিশের সকল ইউনিট এবং ডিবি পুলিশ একযোগে অভিযান পরিচালনা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অভিযানে কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে এবং প্রত্যেকটি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে, যেখানে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে, সেসব স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পুলিশের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ৩৫১ জনকে আটক করা হয়েছে, তাদের অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ২১৯ জনকে মুচলেকায় জিম্মায় প্রদান করা হয়েছে।’
উঠতি বয়সের কিশোররা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ‘কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, এ বিষয়ে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ রোধ করতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চার লাখ টাকার ঋণ, সংসারের অভাব-অনটন এবং কিস্তি পরিশোধের উদ্বেগ—এসবের চাপের কারণে দুই মেয়েকে হত্যা করার পর মা আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলায় মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পর এ তথ্য জানায় পুলিশ। তবে, পুলিশি ধারণা প্রত্যাখ্যান করে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করেছেন মামলার বাদী ও নিহত নারীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খান এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ৩ মার্চ বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলার তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী বিশ্বাস (৩৪) এবং তার দুই মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাস (৩) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিন সকালে পরিচ্ছন্নতার কাজের জন্য দুই মেয়েকে নিয়ে ডাকবাংলায় গিয়েছিলেন ইতি রানী। এ ঘটনায় তার স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে ইতি রানী দুই মেয়েকে নিয়ে ডাকবাংলায় প্রবেশ করেন। পরে তারা তৃতীয় তলায় যান। সকাল ১০টা ৫০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে বড় মেয়ে আরাধ্যা ৩ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পর ইতি রানী ছোট মেয়ে অনুরাধাকে ৪ নম্বর কক্ষে রেখে ৩ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন।
ফুটেজ অনুযায়ী, প্রায় ২২ মিনিট পর সকাল ১১টা ১৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে ইতি রানী ৩ নম্বর কক্ষ থেকে বের হয়ে ১১টা ১৩ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে ৪ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তাদের কাউকেই জীবিত অবস্থায় কক্ষ থেকে বের হতে দেখা যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে ইতি রানী দুই মেয়েকে কোমল পানীয় অথবা খাবার পানির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে পান করানোর পর শ্বাসরোধে হত্যা করে থাকতে পারেন। পরে নিজেও চেতনানাশক ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চিকিৎসকদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ইতি রানীর মৃত্যুর বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার মৃত্যু হয়েছে ‘বেঞ্জোডায়াজেপিন’ জাতীয় রাসায়নিকের বিষক্রিয়ায় এবং তা আত্মহত্যাজনিত।
অন্যদিকে, আরাধ্যা ও অনুরাধার মৃত্যুর কারণ হিসেবে একই ধরনের রাসায়নিকের বিষক্রিয়ার পাশাপাশি আঘাতজনিত শ্বাসরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মৃত্যু হত্যাজনিত বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। তবে তিনজনের কারও ক্ষেত্রে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চার লাখ টাকার বেশি ঋণ—
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস পেশায় সুপারি ব্যবসায়ী এবং দর্জি। তার ছোট টেইলারিং দোকান এবং সীমিত পরিসরের সুপারি ব্যবসা থেকে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন ছিল। তাদের পুরোনো বসতভিটা প্রায় ৩০ বছর আগে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে তারা সরকারি জায়গায় বসবাস করছিলেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইতি রানী পাঁচটি এনজিও থেকে মোট ২ লাখ ২৭ হাজার ৭২৩ টাকা এবং দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস একটি এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এ ছাড়া অনিল রায় ও বাবুল রায়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নেন তারা। সব মিলিয়ে তাদের ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৭ হাজার ৭২৩ টাকা।
তদন্তে বলা হয়েছে, ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে ইতি রানী মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগতেন। সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ও স্বামীকে সহযোগিতার জন্য মৃত্যুর প্রায় দুই মাস আগে মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যোগ দেন তিনি। পারিবারিক আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ তার হতাশার অন্যতম কারণ ছিল বলে পুলিশ মনে করছে।
মামলার বাদী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আমরা এখনো হাতে পাইনি। তাতে কী লেখা এসেছে, তাও জানি না। ঋণের কারণে আমার স্ত্রী দুই সন্তানকে মেরে ফেলবে, তা হতে পারে না। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই।’
বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খান জানিয়েছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার আলামত, সাক্ষ্যপ্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন। খুব শিগগিরই আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ