১১:৪৬ পি.এম
ভবদহের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও কপোতাক্ষের অববাহিকা যশোরের মণিরামপুরের মানুষের জন্য একসময় দুর্ভোগের কারণ ছিল। তবে বর্তমানে সেই জল অনেকের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।
নদী, বিল, বাওড়, পুকুর ও মাছের ঘেরকে কাজে লাগিয়ে যশোরের মণিরামপুরে স্থানীয় চাহিদার চার গুণেরও বেশি মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে। এমনকি কিছু জেলার মোট উৎপাদনের চেয়েও বেশি মাছ এখানে উৎপন্ন হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কসবায় সিএনজি অটোরিকশায় মিলল ১৬ বোতল বিদেশি মদ, গ্রেপ্তার ১
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মণিরামপুরে তিনটি নদী, ১২টি খাল, ১৩টি বিল, পাঁচটি বাওড়, প্রায় পাঁচ হাজার পুকুর ও ১১ হাজার মৎস্য ঘের অবস্থিত। বছরে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৩৯ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়।
বিপরীতে, উপজেলার স্থানীয় চাহিদা ৯ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন। উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
এই উপজেলায় পাবদা, শিং, মাগুর, টেংরা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাসকার্প, কমন কার্প এবং গলদা চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। কৃষিনির্ভর মানুষের একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করেছেন।
সফল মৎস্য চাষি আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, ‘একসময় ভবদহের পানি আমাদের জন্য ছিল কষ্টের নাম। এখন সেই পানিকে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষ করে সংসার চলছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে। সঠিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেলে মণিরামপুরের মাছ চাষ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
আরও পড়ুন: আপন চাচাতো বোন পরিচয়ে প্রবাসীর স্ত্রী'র সঙ্গে মাদক কারবারি নয়নের পরকীয়া! অবশেষে জনতার হাতে আটক
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেছেন, ‘মণিরামপুরে মৎস্য চাষ এখন শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মৎস্য দপ্তর নিয়মিত কাজ করছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন জানিয়েছেন, ‘মণিরামপুরের মৎস্য সম্পদ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। আত্মকর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতা সৃষ্টিতে মাছ চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের নানা উদ্যোগে এ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
মৎস্যজীবী ও চাষিরা জানিয়েছেন, মৎস্য দপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় চাষিদের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের কারণে উৎপাদনে ধারাবাহিক সাফল্য এসেছে। ফলে একসময় যে জলাবদ্ধতা মণিরামপুরের মানুষের কাছে অভিশাপ ছিল, সেই জলই এখন অনেকের জীবনে হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন