শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৮ পি.এম
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীতে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য হল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরা। অন্য দুই দাবির মধ্যে রয়েছে—একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সাইবার আইনসহ সব কর্তৃত্ববাদী আইন বাতিল করা।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনসংলগ্ন এলাকায় এক সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এই গণবিক্ষোভের ডাক দেন। সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ঢাকাবাসীকে ৩০ অক্টোবর বেলা ৩টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণবিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
গণবিক্ষোভের সফলতার জন্য এনসিপি এদিন থেকে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেছে। সমাবেশ শেষে কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণসহ গণসংযোগ করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
নাহিদ ইসলাম সমাবেশে বলেন, “আমাদের দাবি সুস্পষ্ট। আমরা মনে করি এই যে ব্যর্থতা, সার্বিকভাবে এই ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও জনগণের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। বরং সংবিধান কাটাছেঁড়া করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতেও গত সাত মাসে সরকার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। জ্বালানিমন্ত্রীকে কথা বলতেও দেওয়া হয় না, তিনিও এখন কথা বলেন না। এই অবস্থায় তারও মন্ত্রিসভায় থাকার অধিকার নেই।
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, মন্ত্রিসভায় অন্যান্যদের ব্যর্থতার তালিকা দীর্ঘ হতে পারে। আপাতত এই দুই মন্ত্রীকে সরিয়ে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা উচিত। এর আগে তথ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিন আগে একজন প্রতিমন্ত্রীকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। কিন্তু যাঁদের দায়িত্বে সবচেয়ে বেশি অবহেলার অভিযোগ রয়েছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না।
নাহিদ ইসলাম আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির আঁতাতের অভিযোগ তুলে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ও সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার অনেক খবর এসেছে। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে টানতে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া, মামলা-বাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেল করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এখনো আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে একধরনের সমঝোতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হচ্ছে। গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়েও সরকার কী করবে, তা স্পষ্ট করতে পারেনি।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার বন্দোবস্তের পরিবর্তন হয়নি। শুধু সরকার বা ব্যক্তির পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, রাষ্ট্রের বিদ্যমান বন্দোবস্তের পরিবর্তন করতে হবে। তিনি সরকারকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সমাবেশে বলেন, “অনেকে হাল ছেড়ে দিলেও জনগণের অধিকার আদায় এবং সরকারকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে এনসিপি আবারও রাজপথে নেমেছে। আমরা গণ-অভ্যুত্থানের আগেও যেভাবে মাঠে নেমেছিলাম, এবারও ঠিক সেভাবে নেমেছি। এই সময়ে অনেক রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই সরকারকে কিছু বলা যাবে না, ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না। কিন্তু আমরা বলছি—এই সরকারকে অবশ্যই সবকিছুর জবাবদিহির আওতায় আনা যাবে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করা যাবে।”
সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীবাসীসহ সারা দেশের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তার রোধ, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেছেন। শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত নজিরবিহীন এই বৈঠকে ফিলিস্তিন, ইয়েমেন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও উঠে এসেছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে নতুন গঠিত ‘আর৪’ গোষ্ঠীর চার সদস্যদেশ—তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বসফরাস প্রণালির তীরবর্তী একটি হোটেলে এই আলোচনা শুরু হয়। এর আগে ইউরোপীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিনিধিরা পৃথক বৈঠক করেছেন।
আলোচনার কেন্দ্রে হরমুজ ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের দপ্তর জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের বৈঠকে মূলত হরমুজ প্রণালি এবং সৌদি আরবের পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে। মিলিব্যান্ড হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ অধিকার ও স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরবেন।
তার দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের কৌশলগুলো কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে, তা তুলে ধরবেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সৌদি আরবে হামলা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও সুয়েজ খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও তিনি সতর্ক করবেন।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ইরান-সংকটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। অঞ্চলটিতে চরম অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে এই প্রথম এ ধরনের কাঠামোয় বৈঠক হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে প্যারিস।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, যেসব সংকট সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেরা সৃষ্টি করেনি, অথচ সবার ওপর প্রভাব ফেলছে, সেগুলো মোকাবিলায় ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করাই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।
হুথিদের হামলায় চাপে সৌদি আরব
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এসব হামলার কারণে দেশটির প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রপথে অবরোধের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশটির তেল রপ্তানিও হুমকির মুখে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব মিত্রদেশগুলোর সমর্থন পেয়েছে। বুধবার আকস্মিক সফরে সৌদি আরবে গিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু তেল টার্মিনাল সুরক্ষায় ফরাসি বাহিনী সহায়তা করবে।
এর আগের দিন যুক্তরাজ্য জানিয়েছিল, হুতিদের হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তা করতে তারা যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আঞ্চলিক দেশগুলোর দায়িত্বের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। বৈঠকের আগে এক মধ্যস্থতাবিষয়ক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘স্থায়ী সমাধান বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া যায় না।’
তুরস্কের কর্মকর্তাদের মতে, ইস্তাম্বুলের বৈঠকে ফিদান তুলে ধরবেন যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে তুরস্ক আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব উদ্যোগ ও নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সহযোগিতা কাঠামোকে অগ্রাধিকার দেয়।
ফিদান আরো জোর দেবেন, বিদ্যমান বিরোধগুলোকে একে অপরের সংকট বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না। কোনো সংঘাতকে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে দেওয়া উচিত নয় এবং আঞ্চলিক উত্তেজনাও যেন বৃহত্তর অস্থিতিশীলতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান
বৈঠকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানাবেন ফিদান। তুরস্ক এসব সহিংসতাকে ‘বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করে।
একই সঙ্গে হুতি হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি তুরস্কের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করবেন তিনি। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেবেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হবে। ইস্তাম্বুলের বৈঠকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাও গুরুত্ব পাবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যাতে ওই অঞ্চলে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে তুরস্কের প্রচেষ্টা তুলে ধরবেন ফিদান।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা এবং ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ায় আট দেশের এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতা বা সংঘাত বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের রুহের মাগফিরাত কামনায় কুলখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কুলখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
উক্ত কুলখানি ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাসির উদ্দিন অসীম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন, সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি এবং রেল মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুববিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবী, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মরহুম সালাহউদ্দিন আহমেদ গত ১৩ অক্টোবর রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন ১৪ অক্টোবর তাঁর তিন ধাপে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত প্রথম জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও শান্তিকামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরির একটি পোস্টে উঠে এসেছে সমাজের দ্বিচারিতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
একজন শিক্ষক মাদ্রাসার ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগের পর এক বডিবিল্ডারের থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে বলতে শুরু করেছেন—দেশে আইন আছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। নিঃসন্দেহে, অপরাধের বিচার আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত; কাউকে নিজের হাতে শাস্তি দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, মসজিদের ইমাম মাওলানা রঈস উদ্দিন যখন কথিত মব ভায়োলেন্সের শিকার হয়ে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন, তখন এই একই কণ্ঠগুলো কোথায় ছিল? তখন কি আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের কথা সমানভাবে উচ্চারিত হয়েছিল?
আইনের শাসন কি সবার জন্য সমান নয়?
একটি ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রতিবাদ করা হবে, আরেকটি ঘটনায় নিরপরাধ বা অভিযুক্ত—যে-ই হোক, জনতার হাতে সহিংসতার শিকার হলে নীরব থাকা হবে—এমন দ্বিমুখী অবস্থান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরির বক্তব্যের মূল প্রশ্নটি তাই গুরুত্বপূর্ণ: অন্যায়ের প্রতিবাদে আমাদের নীতি কি ব্যক্তি, পরিচয় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে যায়?
মনে রাখতে হবে, অভিযোগের বিচার করবে আইন ও আদালত; উন্মত্ত জনতা নয়। মব ভায়োলেন্স কখনো ন্যায়বিচার নয়, আর নীরবতা কখনো অন্যায়ের সমাধান নয়।
“উন্মত্ত জনতার সুনির্দিষ্ট মস্তিষ্ক কিংবা বিবেক থাকে না”—এই কথাটির তাৎপর্য হলো, আবেগের বশে জনতার হাতে বিচার তুলে দিলে নিরপরাধ মানুষের জীবনও বিপন্ন হতে পারে।
আমরা চাই, প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, অপরাধী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হোক এবং মব সহিংসতায় জড়িতদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হোক। ন্যায়বিচার নির্বাচিতভাবে নয়—সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতের রুকনদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "আমরা থামব না; থামার সুযোগ নেই।" তিনি উল্লেখ করেন, সিটি নির্বাচনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে কাজ করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের অতীত সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, "এই অবস্থান ধরে রাখতে রুকনদের মান বাড়াতে হবে।"
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, কিন্তু তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ