শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩৩ এম
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী এই ট্রেনটি কক্সবাজার পর্যন্ত চলবে। ফলে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ মধ্যবর্তী বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা তাদের নিজ নিজ স্টেশন থেকে সরাসরি কক্সবাজারে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। ট্রেনটি রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে এবং সকাল ৬টায় কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে ২৬ অক্টোবরের যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
ফেরার পথে, কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টায় ট্রেনটি ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, রোববার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার জন্য ২৭ অক্টোবরের টিকিট বিক্রি শুরু হবে শনিবার (১৭ অক্টোবর)।
কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম মাস্টার মো. মেহেদী হাসান সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, মহানগর এক্সপ্রেসের জন্য কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত সর্বনিম্ন ভাড়া ৬৮৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সর্বনিম্ন ভাড়া ২৪০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫৪৭ টাকা।
মধ্যবর্তী জেলার যাত্রীদের সুবিধা
বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া এবং চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশন থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ঢাকার কমলাপুর থেকে ছেড়ে মহানগর এক্সপ্রেস বর্তমানে ১২টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। তবে, বর্ধিত রুটে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনে আগের মতোই থামবে ট্রেনটি।
রেলওয়ের দাফতরিক আদেশ অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেসে ১৬টি কোচ থাকবে। ট্রেনটির আসনসংখ্যা ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ৭৩৬ করা হয়েছে।
কুমিল্লার বাসিন্দা রোকেয়া বেগম মন্তব্য করেন, সরাসরি ট্রেন না থাকায় আগে কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার যেতে বাড়তি সময় ও ঝামেলা পোহাতে হতো। নতুন ট্রেন চালু হলে স্টেশন পরিবর্তন না করেই কক্সবাজার যাওয়া যাবে। এতে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন খাতও উপকৃত হবে।
আরেক যাত্রী আবির হোসেন বলেন, বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতির কারণে আরও বেশি মানুষ কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখা জরুরি। নিয়মিত বিলম্ব কমানো গেলে যাত্রীদের আগ্রহ আরও বাড়বে।
টিকিটপ্রাপ্তি ও সময়ানুবর্তিতা নিয়ে প্রত্যাশা
নতুন ট্রেন চালুর খবরে খুশি হলেও যাত্রীরা টিকিটের সহজলভ্যতা, কালোবাজারি বন্ধ এবং সময়মতো ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। যাত্রী সাবিনা হক বলেন, নতুন ট্রেন চালু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। তবে সহজে টিকিট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী যাতায়াত করতে পারেন।
পর্যটক কেয়া হক জানান, অনলাইন ও অফলাইন; কোনো মাধ্যমেই অনেক সময় সহজে ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না। টিকিট বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া এবং টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. জয়নাল আবেদীন সময় সংবাদকে জানান, মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর ঢাকা থেকে ট্রেনটির যাত্রা শুরু হবে। আর ২৭ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার স্টেশন থেকে নিয়মিত যাত্রীসেবা চালু হবে। যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে স্টেশন কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।
তবে স্টেশনে কিছুটা জনবলসংকট রয়েছে বলে জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাবের আশা
মহানগর এক্সপ্রেস চালু হলে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, সরাসরি ট্রেন যোগাযোগের ফলে মধ্যবর্তী জেলার মানুষের জন্য কক্সবাজার ভ্রমণ সহজ হবে। এতে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাতে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।
হোটেল কক্স-টুডের মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ সময় সংবাদকে বলেন, নতুন ট্রেন চালুর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীরা নিজ নিজ এলাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ পাবেন। এতে দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল-রেস্তোরাঁর পাশাপাশি পরিবহন, মাছ ও সবজির বাজার এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা ও নিয়োগের উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।
রেলওয়ের এই উদ্যোগে কক্সবাজারের সঙ্গে দেশের মধ্যবর্তী জেলাগুলোর সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে নতুন ট্রেনের সুফল পুরোপুরি পেতে টিকিটের সহজলভ্যতা, সেবার মান ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন যাত্রীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ শিক্ষকতার ক্যারিয়ার শেষ করে অবসরে গেলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসা. রেহানা আক্তার। প্রিয় শিক্ষিকার বিদায়কে স্মরণীয় করে তুলতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ফুলে সাজানো গাড়িতে করে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
নিমসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রেহানা আক্তারের অবসর উপলক্ষে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে সম্প্রতি প্রয়াত শিক্ষিকা মোসা. পারুল আক্তারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও নিমসার জুনাব আলী কলেজের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শরিফুল ইসলাম। মোকাম ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মো. গোলাম সারওয়ারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে প্রয়াত শিক্ষিকা পারুল আক্তারের আত্মার মাগফিরাত এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রেহানা আক্তারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া করা হয়।
সহকারী শিক্ষক মোসা. জান্নাতুল ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে রেহানা আক্তারের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী তুলে দেয়া হয়। এ সময় বক্তারা তাঁর শিক্ষকতা জীবনের অবদান স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে মোকাম ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা শেষে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা রেহানা আক্তারকে ফুলে সাজানো গাড়িতে করে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেন। প্রিয় শিক্ষিকাকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ফুলে সজ্জিত গাড়িতে তাঁর বাড়ি ফেরার দৃশ্য হয়ে ওঠে শিক্ষকতার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার এক আবেগঘন স্মারক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট দেখতে চাওয়ার কারণে ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার এবং টিকিট কালেক্টরকে (টিসি) মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যাত্রী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। হামলায় আহত হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার সাকির জাহান এবং টিকিট কালেক্টর সঞ্জিত মণ্ডল। তাদের পরে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে স্টেশনমাস্টারের কক্ষের সামনে এই ঘটনা ঘটে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ এবং রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তনগর মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে পৌঁছায়। এ সময় টিকিট পরীক্ষা করছিলেন টিসি সঞ্জিত মণ্ডল।
১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের প্রধান ফটকে এক যাত্রীর কাছে টিকিট দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এরপর তাকে স্টেশন থেকে বের হওয়ার ফটকে আটকে রাখা হয়। এ নিয়ে ওই যাত্রীর সঙ্গে টিসির বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে সঞ্জিত মণ্ডল ওই যাত্রীকে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে ওই যাত্রী ফোন করে তার সহযোগীদের ডেকে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন যুবক সেখানে উপস্থিত হন। স্টেশন ও পুলিশ সূত্রের মতে, ওই যাত্রী নিজেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম মিয়া বিষয়টি মীমাংসা করে ওই যাত্রীকে ছেড়ে দেন। স্টেশন কর্মকর্তা ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাঁড়ি থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে ওই যাত্রী আরও ৮ থেকে ১০ জন যুবককে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটাসহ স্টেশনে আসেন। এ সময় স্টেশনমাস্টারের কক্ষের সামনে টিসি সঞ্জিত মণ্ডলকে একা পেয়ে তারা মারধর শুরু করেন।
সঞ্জিত মণ্ডলের চিৎকার শুনে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার সাকির জাহান। হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন। পরে স্টেশনের অন্যান্য কর্মচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ভারপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার সাকির জাহান বলেন, ‘ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করা এক যাত্রীকে আইন অনুযায়ী আটক করায় টিকিট কালেক্টরের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমিও হামলার শিকার হই। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শাহ আলম মিয়া জানান, বিষয়টি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্টেশন কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। হামলাকারীরা শহরের কান্দিপাড়া এলাকার মাইমলহাটির বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের শিবচরে একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের আঘাতে উপজেলা বিএনপির নেতা শহিদুল ইসলাম নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিবচর পৌরসভার কলেজ মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শহিদুল ইসলাম শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে কলেজ মোড়সংলগ্ন একটি মসজিদে নামাজ শেষে শহিদুল ইসলাম বাজারের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাঁকে ধাক্কা দেয়, ফলে তিনি সড়কে পড়ে যান।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মোটরসাইকেলটি জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলচালক পালিয়ে গেলেও মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরো সিরাজগঞ্জ শহর বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়েছে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শহরের প্রতিটি সড়কে নানা রঙের বাহারি বাতি জ্বলে উঠছে। এই আলোকসজ্জার সৌন্দর্য উপভোগ করতে রাত হলেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হচ্ছেন শহরবাসী। পাশাপাশি, পূজার এই আয়োজন দেখতে আসছেন পার্শ্ববর্তী জেলার দর্শনার্থীরাও।
মন্দিরে মন্দিরে দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সাজসাজ রব চলছে। মৃন্ময়ী প্রতিমা থেকে চিন্ময়ী ত্রিনয়নী দেবী দুর্গা নতুন রূপে সেজে উঠেছেন। প্রতিদিন ঢাক-ঢোল ও কাঁসির বাদ্যে ফুল, ফলসহ নানা নৈবেদ্য দিয়ে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন ভক্তরা।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে শহরের প্রতিটি সড়ক নানা রঙের বাহারি আলোকবাতিতে সাজানো হয়েছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই এসব বাতি জ্বলে উঠছে। ফলে পুরো সিরাজগঞ্জ শহর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। পূজা উপলক্ষে শহরজুড়ে এই আলোকসজ্জার আয়োজন দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উৎসবের আমেজ বেড়েছে কয়েক গুণ। অনেকেই রাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হচ্ছেন এবং মুঠোফোনে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু জানান, রাত হলেই দূরদূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীরা আলোকসজ্জার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মধ্যরাত পর্যন্ত উৎসবের এই আয়োজন উপভোগ করছেন। পাশ্ববর্তী জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা পূজার আয়োজন দেখতে আসছেন। পূজা উপলক্ষে নিজের শহরের বাহারি আলোকসজ্জা দেখে সবাই খুশি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আলোকসজ্জায় আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে পুরো শহরজুড়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে প্রতিটি সড়কে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে ট্রাফিক পুলিশ।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সিরাজগঞ্জে ৫৪২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ