শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১৮ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন-এমপি মন্তব্য করেছেন যে, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় অগ্রসর হওয়ার জন্য নিজস্ব জ্ঞান ও মননের গভীরতা অপরিহার্য। মানুষের মনোজগৎ, প্রকৃতি, মহাবিশ্ব, আধ্যাত্মিকতা এবং সর্বশক্তিমানের বিশালতা সম্পর্কে অনুসন্ধানী চিন্তা, জিজ্ঞাসা ও বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা একজন সাহিত্যিকের মধ্যে থাকা আবশ্যক। কেবল ছন্দ মিলিয়ে ছড়া লেখা এবং সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে সভ্যতার গতিপথ বিশ্লেষণ করা যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জ্ঞান, গভীর মনন এবং প্রকৃতিকে বোঝার সক্ষমতা। গৌরনদী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে চন্দ্রদ্বীপ সাহিত্য সমাজ, বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি সমাজের আয়োজনে শুক্রবার কবি-সাহিত্যিকদের মিলনমেলা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান-২৬ উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মতো প্রতিভাবান সাহিত্যিকদের সৃষ্টির গভীরে প্রবেশ করলে তাদের জ্ঞান ও চিন্তার ব্যাপ্তি উপলব্ধি করা যায়। রবীন্দ্রনাথের ‘আকাশ ভরা সূর্য-তারা’ গানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বিজ্ঞান ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে গভীর ধারণা না থাকলে এমন বিস্ময়কর সৃষ্টির জন্ম দেওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং সাহিত্যিকদের শুধু সাহিত্য নয়, বিজ্ঞান, ইতিহাস, সমাজ, প্রকৃতি এবং মানুষের মনোজগতসহ জ্ঞানের প্রতিটি শাখা সম্পর্কে ধারণা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
সাহিত্যে গভীরতার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, মাত্র ১৭ বছর বয়সে একজন তরুণ সাহিত্যিক মানুষের প্রেম ও মনোজগতের জটিল অনুভূতিকে যেভাবে গল্পে তুলে ধরতে পারেন, তা বিস্ময়কর। মানুষের মনে ভালোবাসার যে সূক্ষ্ম রসায়ন কাজ করে, সেটি গভীরভাবে উপলব্ধি ও ব্যাখ্যা করার জন্য বয়সের পাশাপাশি প্রয়োজন তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ও অসাধারণ কল্পনাশক্তি। তাই সাহিত্যিকের প্রধান শক্তিগুলোর একটি হলো মানুষের মনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, সাহিত্যিকের কল্পনাশক্তি যত সমৃদ্ধ হবে, তার সৃষ্টিশীলতার পরিধিও তত বিস্তৃত হবে। চারপাশের মানুষ, প্রকৃতি ও সমাজকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারলেই কল্পনার ডানা মেলে দেওয়া সম্ভব। জ্ঞানের পরিধি যত বাড়বে এবং পর্যবেক্ষণ যত তীক্ষ্ণ হবে, ততই একজন সাহিত্যিক মানুষের অসীম মনোজগতের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হবেন।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অপরিসীম প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রেম, বিদ্রোহ, আনন্দ-বেদনা কিংবা পারিবারিক অনুভূতি-জীবনের প্রায় প্রতিটি আবেগে তাদের সৃষ্টি মানুষের মনে ফিরে আসে। সুতরাং নতুন প্রজন্মের সাহিত্যিকদেরও জ্ঞান, মনন, পর্যবেক্ষণ ও কল্পনাশক্তিকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইব্রাহীম, মানিকগঞ্জ আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল ড. হারিস মিজান, বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কবি, পাঠক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোয় যেন পুরোনো দুঃস্মৃতিই ফিরে এসেছে। গতকাল রাতে উয়েফা নেশনস লিগে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছে ইতালি।
এটি ইতালির কোচ রবার্তো মানচিনির জন্য দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুতে হতাশার একটি চিত্র তুলে ধরেছে। তবে, একটি হার দিয়ে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংকটের ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। সমস্যার শিকড় আরও গভীরে নিহিত রয়েছে।
তরুণদের খেলার সুযোগ কম
ইতালির ঘরোয়া ফুটবলে তরুণদের নিয়মিত খেলার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সিরি ‘আ’-তে ইতালির জাতীয় দলের জন্য যোগ্য অনূর্ধ্ব-২১ খেলোয়াড়দের ‘ম্যাচ টাইম’ পর্যবেক্ষণ করা লিগগুলোর মধ্যে খুবই কম—মাত্র ১.৯ শতাংশ।
বিদেশি খেলোয়াড়ের আধিক্য
সিরি ‘আ’-তে বিদেশি খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এফআইজিসির হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মৌসুমে সিরি ‘আ’-তে জাতীয় দলে খেলার যোগ্য নয় এমন বিদেশি খেলোয়াড়েরা মোট খেলার ৬৭.৯ শতাংশ মিনিট মাঠে ছিলেন। ফলে ইতালিয়ান তরুণদের মাঠে থাকার সুযোগ কমে গেছে।
প্রতিভা আছে, কিন্তু পরিচর্যার ঘাটতি
মানচিনি কয়েক বছর আগে মন্তব্য করেছিলেন, ইতালিতে প্রতিভার সংকট তেমন নেই, কিন্তু পরিচর্যার অভাব রয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তরুণদের মেলে ধরার সুযোগ না দেওয়া।
অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সংকট
ইতালির স্টেডিয়াম ও ফুটবল অবকাঠামো ইউরোপের শীর্ষ দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি পেশাদার ফুটবলে বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি ও ঋণ পরিশোধের চাপও রয়েছে।
জাতীয় দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও তারকার অভাব
ইতালি জাতীয় দলে অনেক দিন ধরেই কিংবদন্তিতুল্য বা বড় মাপের তারকা ফুটবলার নেই, যাদের তরুণরা অনুসরণ করতে চাইবে। উদাহরণস্বরূপ, জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার কথা বলা যেতে পারে। এই গোলকিপারকে বর্তমানে জাতীয় দলের বড় তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ এক দশক ধরে দেশের জার্সি গায়ে জড়ালেও তিনি একবারও দলকে বিশ্বকাপে তুলতে পারেননি। ২০২১ সালে ইউরো জয় ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সাফল্য বলতে গেলে নেই বললেই চলে।
কোচ নিয়োগ নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল
ইতালির ফুটবলে মাঠের বাইরের অস্থিরতা সংকটকে আরও বাড়িয়েছে। জাতীয় দলের প্রধান কোচ নিয়োগ নিয়ে ফেডারেশনের ভেতরে মতবিরোধ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আন্দ্রেয়া পিরলোকে কোচ হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার কারণে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে ফেডারেশনের কারিগরি পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পাওলো মালদিনি। পরে মানচিনিকে ফেরানো হয়েছে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে। তবে কোচ পরিবর্তনের পরেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ধারাবাহিকতা না থাকার কারণে বারবার নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে ইতালিকে। এর প্রভাব পড়ছে খেলোয়াড় নির্বাচন, কৌশল এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রিসের ঐতিহাসিক রাজধানী এথেন্সে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি একটি আকস্মিক গ্যাস লিকেজের ফলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণে ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে সত্তরোর্ধ্ব একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং তাঁর গ্রীক স্ত্রী রয়েছেন, যা স্থানীয় গণমাধ্যম এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে।
এই ঘটনা শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এথেন্সের একটি ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটন এলাকা প্লাকায় (Plaka) আক্স্রো পলিস ও হ্যাড্রিয়ান্স গেটের নিকটে ঘটে।
গ্রীক রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটি (ERT)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের সময় ব্রিটিশ নাগরিক ও তাঁর স্ত্রী ভবনটির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। একইসাথে, ভবনটির প্রথম তলার একটি স্বল্পমেয়াদী ভাড়াটে (শর্ট-টার্ম রেন্টাল) ফ্ল্যাটে অবস্থানরত চার আমেরিকান পর্যটকও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ক্রাইম ইউনিট জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে গ্যাস লিকেজের কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ভবনটি মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে যায় এবং আশপাশের তিন ব্লকের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল আধুনিক সেন্সর, ক্যামেরা ও ট্র্যাকার কুকুরের সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে। এথেন্সের মেয়র হারিস দুকাস জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (FCDO) জানিয়েছে, তারা ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিটিশ নাগরিকদের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে এবং এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরের মিরপুর জোনের সদস্যরা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার। এছাড়া মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য ডা. মঈন উদ্দিন, আব্দুল্লাহ মুয়াজ এবং মনিরুল ইসলাম মৃধা প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান উল্লেখ করেন, সন্ত্রাসীরা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে রাতের অন্ধকারে লুটপাটের পর ভাঙচুর করে তা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, গত এক দশক ধরে অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। সভ্য সমাজে রাতের অন্ধকারে একটি মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি প্রশ্ন করেন, সরকারের প্রশাসন কোথায় ছিল? নাকি আমরা মেনে নেব, সরকার ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে?
মাহফুজুর রহমান সরকারের কাছে দাবি জানান, সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা হোক। তিনি সতর্ক করে বলেন, গরিব-দুঃখী মানুষের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি নজর দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের ওপর যারা জুলুম করবে, তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে।’ মিছিলটি শাহ আলী মাজার গেইট থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-১ গোলচত্বরে এসে পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং তরুণদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন তরুণ, উদ্যোক্তা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘প্রি-কপ৩১ কনফারেন্স অন রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ শীর্ষক সম্মেলনে তারা এসব বক্তব্য তুলে ধরেন। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (ইআরপিডিএফ) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন।
সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ডিএসসিসি পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও ক্লিন এনার্জি উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ভাবনা বাস্তবায়নে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো যায়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে নিশ্চিত করতে দেশের অবস্থানকে আরো জোরালো করতে হবে। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসাকে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ রোধ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাস্তবভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত এবং বিজ্ঞানসম্মত মনিটরিং ব্যবস্থার বিকল্প নেই। তিনি নগর এলাকায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণের মাধ্যমে পরিবেশের সার্বিক উন্নতি সম্ভব বলে উল্লেখ করেন।
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত নির্ভরতা মৎস্য সম্পদের ওপর ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ ও গরম পানির কারণে নদীদূষণ, অক্সিজেনের ঘাটতি ও মাছের ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ফেজ-আউট এবং বিদ্যমান স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা জানান।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআর-এর উপপরিচালক রউফা খানম বলেন, দেশে বিদ্যমান সবুজ উদ্ভাবনগুলোকে কার্যকর ও টেকসই করতে সরকারি তহবিলের পাশাপাশি কপ জলবায়ু অর্থায়নের সরাসরি প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশনের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তরুণ গবেষক ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সভাপতির বক্তব্যে এইচ এম সুমন বলেন, তরুণদের জলবায়ু নীতি নির্ধারণে শুধু দর্শক বা ধারণার উৎস হিসেবে রাখা যাবে না; তাদের মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নকারী হিসেবেও সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের সময়ের দাবি তুলে ধরেন।
দিনব্যাপী এ সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, পরিবেশবিদ ও গবেষকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দুই শতাধিক তরুণ, উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী ও উন্নয়নকর্মীসহ অনেকেই অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ