০১:৫৭ এম
রাজধানীর মিরপুর ও আশপাশের অঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের নামে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরাসরি উসকানি ও নাশকতায় জড়িত রয়েছে। সরকারি দায়িত্বশীল মহল থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সাধারণ শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চলছে।
সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ডটি সরকার, মালিক ও শ্রমিক—এই তিন পক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করবে।
এই পরিস্থিতিতে, শ্রমিকের ছদ্মবেশে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ার পর পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা এই নাশকতা চালাচ্ছে।
ডিবি পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মূলত স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন, বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকের ছদ্মবেশে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এবং দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির দুরভিসন্ধি ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের ছদ্মবেশ ধারণ করে বা তাদের অন্তরালে থেকে এই নাশকতা পরিচালনা করছে।
রোববার মিরপুর এলাকায় আন্দোলনের নামে রাস্তা অবরোধ করে সহিংসতা শুরু হলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন কয়েক ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এতে তীব্র যানজটের পাশাপাশি হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আরও পড়ুন: প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন