ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

দিল্লিতে বিক্ষোভের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হবে


দিল্লিতে বিক্ষোভের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হবে

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরকে নিষিদ্ধ করার পর, বিক্ষোভের জন্য তিনটি বিকল্প স্থান চিহ্নিত করেছে দিল্লি পুলিশ। এই স্থানগুলো হলো রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড। তবে নতুন এই স্থানগুলোতে বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে দূরত্ব, ভাড়া, ছায়ার অভাব এবং উৎসবের মৌসুমে জায়গা পাওয়া নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তিনটি স্থানের মধ্যে রামলীলা ময়দান দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকার সবচেয়ে কাছে অবস্থিত। তবে সেখানে কর্মসূচি আয়োজন করতে ভাড়া দিতে হয় এবং উৎসবের মৌসুমে জায়গাটির চাহিদাও বেশি থাকে। অন্যদিকে, সিবিডি গ্রাউন্ড ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে অবস্থিত। আর বুরারি ময়দান রাজধানীর কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে। ফলে এসব স্থানে বিক্ষোভ হলে যন্তর মন্তরের মতো রাজনৈতিক ও জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

লেখক ও দিল্লির নগরজীবনের ইতিহাসবিদ সোহেল হাশমির মতে, ইন্ডিয়া গেটের কাছে বোট ক্লাবের সবুজ চত্বর থেকে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এখন প্রতিবাদের স্থান ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে আরও দূরে সরিয়ে নিলে সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের মতো ভারতেও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা : প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

তিনি বলেন, আগে খোলা জায়গায় মানুষ একত্র হয়ে সরকারের কাছে নিজেদের দাবি জানাতে পারতেন। ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছেই কয়েক হাজার, এমনকি কয়েক দশ হাজার মানুষ জড়ো হতে পারতেন। ওয়াশিংটনে মানুষ ক্যাপিটল হিলের ঠিক বাইরেও সমবেত হতে পারেন। তাহলে দিল্লিতে কেন প্রতিবাদকারীদের আরও দূরে সরিয়ে নেওয়া হবে?

রামলীলা ময়দান: কাছে হলেও খরচ বেশি

যন্তর মন্তর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামলীলা ময়দান। তিনটি বিকল্প স্থানের মধ্যে এটি দিল্লির কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকার সবচেয়ে কাছাকাছি। দীর্ঘদিন ধরেই এখানে রাজনৈতিক সমাবেশ, মিছিল ও বিভিন্ন গণআন্দোলনের কর্মসূচি হয়ে আসছে।

তবে এখানে কর্মসূচি আয়োজনের জন্য অর্থ খরচ করতে হবে। দিল্লি পৌর করপোরেশনের (এমসিডি) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রায় ১২ একর আয়তনের এই মাঠ ভাড়া নিতে প্রতিদিন ৫০ হাজার রুপি দিতে হয়। এর পাশাপাশি ফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে জমা দিতে হয় ৫৫ হাজার রুপি। এ ছাড়া দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের অনাপত্তিপত্রও নিতে হবে।

আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনিদের জমি কেড়ে নিয়ে নৈতিকতা হারিয়েছে ইসরাইল: বারাক ওবামা

ওই কর্মকর্তা জানান, মাঠের অর্ধেক অংশ ভারী যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি অংশ বুকিং দেওয়া হয়। তবে মাঠের ছোট কোনো অংশ আলাদাভাবে ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই; পুরো নির্ধারিত অংশই বুক করতে হয়।

ফলে ছোট সংগঠন বা যেসব গোষ্ঠীর বড় জায়গার প্রয়োজন নেই, তাদের জন্য এই মাঠ ব্যবহার করা ব্যয়বহুল ও অসুবিধাজনক হতে পারে। যন্তর মন্তরের মতো গাছপালায় ঘেরা পরিবেশও এখানে নেই। খোলা মাঠে পর্যাপ্ত ছায়া না থাকায় গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিক্ষোভ চালানো কঠিন হতে পারে।

এমসিডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাঠটি ২৭ বার বুক করা হয়েছে। এরই মধ্যে রামলীলা অনুষ্ঠান ও মেলার প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় উৎসবের মৌসুমে সেখানে কর্মসূচি আয়োজনের জন্য খালি সময় পাওয়া আরও কঠিন হতে পারে।

সিবিডি গ্রাউন্ড: চারপাশে আবাসিক এলাকা, যানজটের আশঙ্কা

আরও পড়ুন: ফিলিপাইন চীনের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে ‘পরোক্ষ হুমকি’ বলল

পূর্ব দিল্লির শাহদারায় অবস্থিত ১২ একর আয়তনের সিবিডি গ্রাউন্ডের দেখভাল করে দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ডিডিএ)। বিয়ে ও বড় ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য পরিচিত এই মাঠের চারপাশে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ফলে এখানে বিক্ষোভ হলে যানজট এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পূর্ব দিল্লির আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোর যৌথ সংগঠন ইস্ট দিল্লি আরডব্লিউএ জয়েন্ট ফ্রন্টের প্রধান বি এস ভোহরা বলেন, আশপাশের ভবন ও ব্যস্ত সড়কের কারণে জায়গাটি বিক্ষোভের জন্য উপযুক্ত নয়।

তার ভাষ্য, মাঠের কাছেই একটি হোটেল, দুটি বিপণিবিতান, অসংখ্য বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল এবং আবাসিক এলাকা রয়েছে। মাঠের মাঝখানে কিছু খোলা জায়গা থাকলেও সেখানে বিক্ষোভ আয়োজন করা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি মাঠের ভেতরেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিয়ের প্যান্ডেল দেখা যায়।

ভোহরার মতে, বিক্ষোভের সময় প্রায়ই ব্যারিকেড বসানো ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

আরও পড়ুন: ভূমধ্যসাগরে ৪৭০০ বছরের পুরোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার

ডিডিএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিবিডি গ্রাউন্ডও ভাড়া দিয়ে ব্যবহার করতে হয়। সেখানে বিনা মূল্যে বিক্ষোভ করার কোনো ব্যবস্থা থাকবে কি না, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বুরারি ময়দান: বড় জায়গা, কিন্তু রাজধানীর কেন্দ্র থেকে দূরে

তিনটি বিকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় বুরারি ময়দান, যা নিরঙ্কারি ময়দান নামেও পরিচিত। উত্তর-পশ্চিম দিল্লিতে অবস্থিত প্রায় ৫০ একর আয়তনের এই মাঠ জন্তর মন্তর থেকে আনুমানিক ১৮ কিলোমিটার দূরে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকা থেকেও এটি বেশ দূরে অবস্থিত।

বড় আয়তনের কারণে এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাবেশ আয়োজন করা সম্ভব। তবে মূল উদ্বেগ হলো, এখানে বিক্ষোভ হলে তা নীতিনির্ধারক, সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের নজরে কতটা আসবে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়ছে, উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি

২০২৪-২৫ সালের কৃষক আন্দোলনের সময়ও বিক্ষোভকারীদের জন্য সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বুরারি ময়দানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলো সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জায়গাটিকে ‘খোলা কারাগার’ বলে আখ্যা দেয়। তাদের অভিযোগ ছিল, জনবিচ্ছিন্ন অবস্থান ও চারপাশের বেড়ার কারণে বিক্ষোভকারীদের সেখানে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হবে। এতে আন্দোলন জনসাধারণের দৃষ্টির আড়ালে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

শুধু খোলা মাঠ হলেই চলবে না, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সোহেল হাশমির মতে, বিক্ষোভের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু কত মানুষ জড়ো হতে পারবেন, তা বিবেচনা করলেই হবে না। বরং প্রতিবাদকারীরা যাদের কাছে নিজেদের দাবি পৌঁছাতে চান, তাদের কাছাকাছি থাকার সুযোগও থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বিক্ষোভস্থল এমন জায়গা হওয়া উচিত, যেখানে মানুষের কথা শোনা যাবে, সংবাদমাধ্যম সহজে পৌঁছাতে পারবে এবং জনপ্রতিনিধিরা এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।

আরও পড়ুন: জাপানে যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক

হাশমির মতে, যন্তর মন্তরের জায়গা ছোট ছিল এবং সেখানে কিছু সমস্যা ছিল ঠিকই। কিন্তু বুরারি, রামলীলা ময়দান ও সিবিডি গ্রাউন্ডেরও নিজস্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব স্থান ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে হওয়ায় প্রতিবাদকারীদের দাবি তুলে ধরা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামজাকে ছাড়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করবে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


হামজাকে ছাড়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করবে বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরু হতে আর মাসখানেকও বাকি নেই। তবে টুর্নামেন্টের মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বাংলাদেশ একটি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ৪ নভেম্বর থেকে সাফের পর্দা উঠলেও ফিফা উইন্ডোর আগে অধিকাংশ প্রবাসী ফুটবলারকে দলে পাচ্ছে না লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।

ফিফার অফিশিয়াল উইন্ডো শুরু হবে ৯ নভেম্বর থেকে। অথচ বাংলাদেশ দলের সাফে অভিযান শুরু হবে আগামী ৫ নভেম্বর, ভুটানের বিপক্ষে। ফলে প্রথম ম্যাচে ভিন্ন কম্বিনেশনের দল নিয়েই মাঠে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরীর ক্লাব ম্যাচ রয়েছে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। হামজার পাশাপাশি অন্যান্য প্রবাসীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সূচি জটিলতা দেখা দিয়েছে।

জাতীয় দল কমিটির এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘সাফে উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য আমরা পূর্ণ স্কোয়াড পাব না। ৯০ শতাংশ প্রবাসী খেলোয়াড়কে ৯ নভেম্বরের পরে পাব। ফলে প্রথম ম্যাচের পর হয়তো আমাদের ভিন্ন দল নিয়ে খেলতে হবে। সাফের ক্যাম্প শুরু হবে ২৫ অক্টোবর।’

আসন্ন টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি হিসেবে অনঅফিশিয়াল উইন্ডোতেই প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাফুফে। এ প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতি জানান, বিদেশ থেকে কোনো দলকে এনে বা কোনো ক্লাবের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ঘরোয়া লিগের মাঠের করুণ দশা এবং ফুটবলারদের চোটের ঝুঁকি কমানোর বিষয়টিও ফেডারেশন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

সর্বশেষ আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯ গোল হজম করে বাংলাদেশ চরম ভরাডুবির শিকার হয়েছিল। যার ফলে জাতীয় দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি বর্তমানে তোপের মুখে রয়েছেন। কোচের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে বাফুফে প্রধান বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের পরিবর্তন আসা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বরং দলের প্রয়োজনে যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্তের পথ খোলা রয়েছে। আসিয়ান কাপ নিয়ে প্রতিটি বিভাগকে জবাবদিহিতার আওতায় এনেছি। আমি নিজেও কমিটির কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও আরো দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

ভবিষ্যতে প্রবাসী প্রতিভাবান ফুটবলারদের জাতীয় দলে নিয়ে আসার পরিধি আরও বাড়াতে চায় ফেডারেশন। এর অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য বছরে দুটি ক্যাম্প ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের পাশাপাশি ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও বাংলাদেশিদের খোঁজে এ ধরনের ট্যালেন্ট হান্ট কার্যক্রম চালানোর কথা নিশ্চিত করেছেন বাফুফে সভাপতি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৪ কোটি টাকার মেডিকেল স্কুলে নেশাখোরদের আস্তানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


৩৪ কোটি টাকার মেডিকেল স্কুলে নেশাখোরদের আস্তানা

নবনির্মিত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) অবস্থান টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কাইতকাই মৌজায়। চার বছর আগে ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু, প্রতিষ্ঠানটি এখনও চালু হয়নি। কবে চালু হবে, সে বিষয়ে কেউ কিছু জানাতে পারছেন না। ফলে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানটি চার বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এই পরিত্যক্ত অবস্থার কারণে নেশাখোররা ধীরে ধীরে এখানে আস্তানা গড়ে তুলতে শুরু করেছে। ম্যাটসের একাডেমিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর গত পাঁচ বছরে সারা দেশে ১২টি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) নির্মাণ করেছে। এর মধ্যে একটি হলো টাঙ্গাইলের মধুপুর ম্যাটস। পৌরশহরের টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর পাশে কাইতকাই এলাকায় পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানে ব্যয় হয়েছে ৩৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো নির্মাণ কাজ ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হয়। এখানে ছয়টি পৃথক ভবন রয়েছে, যার মধ্যে একাডেমিক ভবন, অধ্যক্ষের বাসস্থান, ছাত্র হোস্টেল, ছাত্রী হোস্টেল, শিক্ষক কোয়ার্টার এবং চতুর্থ শ্রেণির কোয়ার্টার অন্তর্ভুক্ত। এগুলো চার, পাঁচ ও ছয়তলাবিশিষ্ট।

স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার মোহাম্মদপুরের নূরানী কনস্ট্রাকশন প্রায় পাঁচ বছর আগে অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শেষ করে। তবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরে হস্তান্তরে সময় লাগে দুই বছর।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মধুপুরের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলটি চালু করার জন্য সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ এখান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই।

টাঙ্গাইলে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে চারটি ম্যাটস রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সরকারিভাবে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় আরেকটি সরকারি ম্যাটস টাঙ্গাইলে স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুলবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে ঝিনুকের চুন তৈরির ঐতিহ্যবাহী শিল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


ফুলবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে ঝিনুকের চুন তৈরির ঐতিহ্যবাহী শিল্প

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক খাবার হিসেবে পান অন্যতম। শহরের তুলনায় গ্রামে আপ্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এই পান। ভোজন রসিকদের ভোজন শেষে তৃপ্তির ঢেকুর তোলার জন্য পানের বিকল্প নেই। আপ্যায়নে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে খাবার শেষে পান থাকা চাই। পানের প্রধান আকর্ষণ হলো সুপারি ও চুন। চুন সাধারণত দুই ধরনের উৎপাদন হয়ে থাকে- পাথরের চুন ও ঝিনুকের চুন। তবে পানের সঙ্গে ঝিনুকের খোলস থেকে তৈরি চুনের স্বাদ অনেক বেশি; তাই এই চুনের কদর অনেক বেশি।

এক সময় নদী, নালা, খাল, বিল ও জলাশয় ছিল প্রচুর। তখন জলাশয়ে ব্যাপকহারে ঝিনুক পাওয়া যেত। তখন চুনের চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনও ছিল যথেষ্ট। স্বল্প মজুরি ও সহজলভ্য কাঁচামালের কারণে চুন উৎপাদন করে কারিগররা ভালোভাবে সংসার চালাতে পারতেন।

কিন্তু কালের বিবর্তনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ঝিনুকের চুন উৎপাদনের কুটিরশিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। জলাশয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে ঝিনুকের সংকট দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি জ্বালানি ও মজুরির দাম বৃদ্ধির ফলে অনেকে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন। যে কয়েকটি পরিবার এখনও এই পেশায় রয়েছেন, তাদের অবস্থাও খুবই করুণ। তাদের মতে, আগুনে পুড়ে ঝিনুক থেকে চুন তৈরি হলেও সংসারে অভাবের আগুন নিভতে চায় না।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চুনিয়াপাড়া (যুগিপাড়া) গ্রামে এখনও টিকে আছে ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরির ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি। যদিও অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন, বংশ পরম্পরায় শতবছর ধরে চলে আসা এই পেশাকে এখনও আঁকড়ে ধরে রেখেছেন ওই গ্রামের ৮টি পরিবার। তাদের কাছে এই পেশা শুধুমাত্র জীবিকার অবলম্বন নয়, বরং চুনিয়াপাড়ার পরিচয়ের একটি অংশও। তাদের পরিচয়ের মাধ্যমেই এই গ্রামের নাম চুনিয়াপাড়া হয়েছে। এই পাড়ার নারী-পুরুষের জীবনযাত্রা এখনো ঝিনুক থেকে চুন তৈরির ওপর নির্ভরশীল।

সরেজমিনে রাজারামপুর চুনিয়াপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, চুনিয়া পরিবারের নারী-পুরুষরা সবাই ঝিনুক থেকে চুন তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ ঝিনুক সংগ্রহ করছেন, কেউ সেগুলো রোদে শুকাচ্ছেন, আবার কেউ মাটির চুল্লিতে ঝিনুক সাজিয়ে আগুন জ্বালাচ্ছেন। এরপর দীর্ঘ সময়ের উত্তাপে ঝিনুক সাদা ছাইয়ে পরিণত হচ্ছে। সেই ছাই থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় চুন তৈরি করছেন তারা। এভাবেই বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখে শত বছরের ঐতিহ্য রক্ষা করছেন তারা।

কারিগররা জানান, ফুলবাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার নদী-নালা ও খাল-বিল থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহের পর ঝিনুকগুলো প্রথমে রোদে শুকানো হয়। পরে বিশেষভাবে তৈরি মাটির চুল্লিতে সাজিয়ে উচ্চ তাপে দীর্ঘ সময় পোড়ানো হয়। পোড়ানোর পর ঝিনুক সাদা ছাইয়ের মতো হয়ে গেলে তা থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় চুন তৈরি করা হয়। একজন কারিগর প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ কেজি চুন তৈরি করেন। পরে এসব চুন পাইকারি ও খুচরা দরে স্থানীয় হাট-বাজারসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হয়। এই পদ্ধতিতে তৈরি চুনের স্থানীয় হাট-বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে পান খাওয়ার জন্য ‘ঝিনুক চুন’ খুবই জনপ্রিয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজারামপুর চুনিয়াপাড়া গ্রামে শতাধিক পরিবারের বসবাস। একসময় অনেক পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে অনেকে পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে গেছেন। বর্তমানে মাত্র ৮টি পরিবার এই ঐতিহ্যবাহী পেশা ধরে রেখেছেন। এসব পরিবারের প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ ঝিনুক সংগ্রহ, চুল্লিতে পোড়ানো, চুন তৈরিসহ বিক্রির কাজে যুক্ত রয়েছেন।

চুন তৈরির কারিগর বিমল চন্দ্র দেবনাথ ও তার স্ত্রী গীতা রানী দেবনাথ বলেন, ‘আমাদের বাপ-দাদারা এই কাজ করে গেছেন।আমরাও অনেক কষ্ট করে এটি ধরে রেখেছি। ঝিনুক সংগ্রহ করতে আগের চেয়ে বেশি কষ্ট হলেও এই চুনই আমাদের জীবন-জীবিকার অবলম্বন।’

স্থানীয় চুন কারিগর নেপাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘বর্তমানে খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় আগের মতো সহজে ঝিনুক পাওয়া যায় না। এর সঙ্গে জ্বালানির দামও বেড়েছে। ফলে চুন তৈরির খরচ অনেক বেড়ে গেছে।’ সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ক্ষুদ্র কুটিরশিল্পকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। এতে কারিগরদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হতে পারে।

শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামেদুল ইসলাম বলেন, ‘বংশপরম্পরায় চুনিয়াপাড়ার চুন কারিগররা ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। চুন কারিগররা যাতে উন্নত প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ পান, সে বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সভায় আলোচনা করা হবে।’

শত বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ, কাঁচামালের সহজ লভ্যতা ও আর্থিক সহায়তা পেলে রাজারামপুর চুনিয়াপাড়ার ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরির এই কুটিরশিল্প টিকে থাকতে পারে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহরিয়ারের বিলাসী জীবনযাপন কলকাতায়, সিলভিয়াকে নিয়ে টাকা আসে যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


শাহরিয়ারের বিলাসী জীবনযাপন কলকাতায়, সিলভিয়াকে নিয়ে টাকা আসে যেভাবে

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সাবেক এমপি শাহরিয়ার আলম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট খুব ভোরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি রাজশাহী ছেড়ে সড়কপথে গেদে সীমান্তে পৌঁছান। এরপর তিনি ভারতে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে থাইল্যান্ড হয়ে রাশিয়ায় চলে যান।

বর্তমানে শাহরিয়ার কলকাতার নিউটাউনে সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফুটের একটি আলিশান ফ্ল্যাটে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সিলভিয়া পারভীন লেনির সঙ্গে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। সেখানে তিনি স্থায়ী নিবাস গড়েছেন এবং তার জন্য দেশে থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে। তার বিশাল ফ্ল্যাটে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, কেন্দ্র এবং রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাসিত নেতারা নিয়মিত আসা-যাওয়া করছেন। দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে শাহরিয়ার চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল সফর করছেন।

রাজশাহীতে শাহরিয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজশাহীর তিনটি থানায় শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৪ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলাটি দায়ের করে। এছাড়া শাহরিয়ার আলমের ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শাহরিয়ার বাঘার পার্শ্ববর্তী নাটোরের লালপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মর্ত্তুজা বাবুর মেয়ে সিলভিয়া পারভীন লেনিকে ২০১৯ সালের দিকে বিয়ে করেন। এটি ছিল তার দ্বিতীয় বিয়ে। মন্ত্রিত্বের প্রভাব এবং দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে লেনির মা রোকসানা মর্ত্তুজাকে ২০২১ সালে লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার মেয়র বানান শাহরিয়ার। লেনিকে লালপুরে কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি করে দেন। এছাড়া ঢাকার গুলশানে তাকে ৩৬০০ স্কয়ার ফুটের একটি রাজকীয় ফ্ল্যাট উপহার দেন।

বর্তমানে শাহরিয়ার ব্যবসার বিশাল সাম্রাজ্য ও আর্থিক বিষয়গুলো দেখভাল করছেন তার আপন ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল, বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী নাঈমুল বাশার চৌধুরী, মুহাম্মদ সাঈদ, রাজশাহীর ছাত্রলীগ নেতা হাসানুর সজল, বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতার ছেলে তানজিম এবং চারঘাটের তসিকুল নামের এক ব্যক্তিসহ একটি শক্তিশালী চক্র।

যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

শাহরিয়ারের গার্মেন্ট ব্যবসা দেখছেন শক্তিশালী চক্র। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শাহরিয়ারকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কৌশলী শাহরিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার শুরু করেন এবং তার অর্থনৈতিক উত্থান ঘটে। দ্রুত তার গার্মেন্ট ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে এবং তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান রেনেসাঁ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে বর্তমানে গ্রুপটির মূল পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। গ্রুপটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী নাঈমুল বাশার চৌধুরী এবং পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম মুহাম্মদ সাঈদ। এই প্রতিষ্ঠানে শাহরিয়ারের ব্যবসা দেখভাল করছেন এমডি বাশার এবং পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদ।

ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেড দেশের আরেকটি শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির মূল মালিক চারজন। এ প্রতিষ্ঠানের এমডি শাহরিয়ার আলম। এই প্রতিষ্ঠানটিতেও শাহরিয়ারের অনুপস্থিতিতে তার প্রতিনিধিত্ব করছেন নাঈমুল বাশার চৌধুরী।

ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট টেক্সটাইলস লিমিটেড। এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারের রয়েছে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। এখানে তার পক্ষে আর্থিক বিষয় দেখভাল করেন নাঈমুল বাশার চৌধুরী। এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য তার (নাঈমুল) দুটি নম্বরে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। তবে রেনেসাঁ গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদ বলেন, ‘শাহরিয়ার আলম শেয়ারহোল্ডার। উনি এখন নেই। ব্যবসা চলছে। লোকজন কাজ করছেন।’ শাহরিয়ারের ব্যবসা দেখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি ব্যবসাতে অনেকদিন থেকেই নেই। ব্যবসা আমরা চালাচ্ছি। এখন মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলব।’

শাহরিয়ারের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সম্পদ দেখছেন তার বাবা, ভাই ও রাজনৈতিক সহযোগীরা। আওয়ামী লীগ শাসনমালে অংশীদারত্বে ব্যবসা ছাড়াও শাহরিয়ার ব্যক্তিগতভাবে গড়ে তোলেন নানা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান দেখভাল করছেন শাহরিয়ার আলমের বাবা মো. শামসুদ্দিন, তার আপন ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও রাজশাহী জেলার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাসানুর সজল, বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতার ছেলে তানজিম এবং চারঘাটের তসিকুল নামের এক ব্যক্তিসহ একটি শক্তিশালী চক্র।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে রাজশাহী মহানগরীর অভিজাত এলাকায় দুইশ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহরিয়ার গড়ে তোলেন বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের এমডি শাহরিয়ারের বাবা হলেও বর্তমানে বিএনপিপন্থি সংগঠন ড্যাবের চিকিৎসকরা এটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। চাউর রয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীতে শীর্ষ দুটি রাজনৈতিক দলের ফান্ডে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো ঝামেলা ছাড়া নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছেন শাহরিয়ার।

রাজশাহীর বাঘার ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। ২০২০ সালে গোলাম হোসেনের শতকোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৪০ বিঘা জমি ক্ষমতা আর প্রতারণার মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে জোরপূর্বক নিয়ে নেন শাহরিয়ার। এরপর সেখানে গড়ে তোলেন বরেন্দ্র এগ্রো ফার্ম। গোলাম হোসেন সে সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও জমি উদ্ধার করতে পারেননি।

শাহরিয়ার বাবা শামসুদ্দিন এবং ভাই সাইফুল ইসলাম বাদলসহ তার রাজনৈতিক সহযোগীরা ঢাকা ও রাজশাহীতে এসব সম্পদ দেখভাল করছেন। এ ব্যাপারে শামসুদ্দিন ও তার ছেলে বাদলকে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা সাড়া দেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%