বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৯ পি.এম
দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন তাসনিম ঐশি। ২২ বছর বয়সী এই তরুণী পার্থের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করে নতুন জীবনের পথে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই পথচলা আর দীর্ঘ হলো না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে পার্থের উত্তরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাসনিম প্রাণ হারান। একই গাড়িতে থাকা তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তাসনিম অস্ট্রেলিয়ায় আসেন।
কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, তাসনিম এডিথ কোওয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত অন্য তিনজন হলেন লাবিব, বিপুল ও ঈশিতা। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৮টার দিকে পার্থ শহর থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে ব্রেটন বে এলাকার ইন্ডিয়ান ওশান ড্রাইভে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, একটি ধূসর রঙের বিএমডব্লিউ গাড়ি সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে পাশের গাছে ধাক্কা দেয়। তাসনিম গাড়ির সামনের যাত্রী আসনে ছিলেন। এতে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর তাসনিম গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পাঠানো হয় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনায় আহত অন্য তিনজনের মধ্যে দুই তরুণকে রয়্যাল পার্থ হাসপাতালে এবং অপর যাত্রীকে পার্থ চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি পোশাক মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে গার্মেন্ট পল্লীর মসজিদ মার্কেটসংলগ্ন আবুল হোসেন মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে আবুল হোসেন মার্কেট থেকে হঠাৎ ধোঁয়া দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আক্তার হোসেন অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট পল্লী ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। আগুন নেভাতে সমিতির আনসার সদস্য, কর্মকর্তা ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসেন। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বগুড়া লেখক চক্রের উদ্যোগে আগামী ২৭-২৯ নভেম্বর তিন দিনের একটি কবি সম্মেলন বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ম্যাক্স মোটেলে সংগঠনের সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ। সভাটি সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কবি ইসলাম রফিক। সভায় বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা এ্যাড. পলাশ খন্দকার, কবি প্রাবন্ধিক খৈয়াম কাদের, সাধারণ সম্পাদক গল্পকার আব্দুর রাজজাক বকুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক এস এম আনিছুর রহমান, আসর পরিচালনা সম্পাদক কবি আবু রায়হান, গণ সংযোগ সম্পাদক কবি অনন্য রাসেল, নির্বাহী সদস্য ছড়াকার আমির খসরু সেলিম, কবি মাহাবুব টুটুল এবং কবি শাকিবুল শাকিল। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কবি কামরুজ্জামান মাসুম, কবি হাবীবুল্লাহ জুয়েল, কবি মনসুর রহমান তানসেন, কবি শাহানূর শাহিন, কবি শুভ্রা সাহা, বাণী রাণী পাল, শাহানা পারভীন, পারভীন নাহার এবং বখতিয়ার হোসাইন।
সভায় কবি সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কালাম আজাদকে আহবায়ক এবং ইসলাম রফিককে সদস্য সচিব করে কবি সম্মেলন উদযাপন পরিষদ গঠন করা হয়। সভায় কবিদের আবাসন, খাবার, পরিবহন, উপহার সামগ্রী, বাজেট, প্রকাশনা, ব্যানার, কবি ও কবিতার ফেস্টুন তৈরী করাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রধান অতিথি ও কবি সম্মেলন উদযাপন পরিষদের আহবায়ক কালাম আজাদ তার বক্তব্যে বলেন, "বগুড়া লেখক চক্র একটি ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য সংগঠন। সংগঠনের দীর্ঘদিনের সুনাম এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জেলা বিবেচনা করে কবি সম্মেলন সফল করতে সবার সহযোগিতা নিয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।" তিনি জানান, কবি সম্মেলনে একাধিক মন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। কবি সম্মেলন সফল করতে তিনি সংগঠনের সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পরকীয়া ও পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রীর ছুরিকাঘাতে স্বামী রাশেদুল ইসলাম(৪১) মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার(৮ অক্টোবর) ভোর ৫ টার দিকে উপজেলা ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদুল ইসলাম লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের মৃত সুরমান আলীর পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী সাভার এলাকায় গার্মেন্টসে পোশাককর্মী হিসেবে কাজ করতেন। এই সুযোগে তারা উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা এলাকায় জমি ক্রয় করে সন্তানসহ বসবাস করে আসছিলেন। এ সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ ও স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে নিয়ে পরকীয়ায় লিপ্ত থাকার বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে স্বামীকে ধারালো ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করলে তার নাড়িভুড়ি বের হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়ির সামনে থেকে অটোরিকশাযোগে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পথিমধ্যে তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্ত্রী হাসনা বেগম তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ছুরি ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরে শেষ মুহূর্তে ইলিশের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যেখানে শতাধিক ক্রেতা খালি হাতে ফিরছেন। সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার শেষ সময়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ইলিশের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও মাছের অভাবে তারা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। ফরিদপুর সদরপুর, চরভদ্রাসন, ভাঙ্গা, সালথা এবং নগরকান্দা উপজেলা বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে এমনই পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার ঠিক আগের মুহূর্তে ইলিশ কেনার জন্য বাজারে প্রচুর ক্রেতার সমাগম ঘটে। কিন্তু অধিকাংশ মাছের দোকানে পর্যাপ্ত ইলিশের জোগান ছিল না।
শেষ মুহূর্তে বাজারে আসা ক্রেতারা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরেও তাদের পছন্দের ইলিশ পাননি। কিছু দোকানে অল্প কিছু ইলিশ থাকলেও তার দাম ছিল অত্যধিক। ফলে অনেক ক্রেতা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দাম ও ঘাটতির কারণে মাছ না কিনে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
তবে কিছু ক্রেতা খোঁজাখুঁজির পর ইলিশ কিনতে পেরে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী কাজী রায়হান বলেন, "নিষেধাজ্ঞার আগে পরিবারের জন্য একটা ইলিশ কেনার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বাজারে এসে দেখি মাছ নেই বললেই চলে। বেশ কয়েকটি দোকান ঘোরার পর শেষ পর্যন্ত একটা মাছ পেয়েছি।"
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বস্ত্র ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, "ইলিশ কিনতে এসে প্রথম দিকে কোনো মাছ পাচ্ছিলাম না। অনেক ঘুরে শেষ পর্যন্ত পেয়েছি, তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম।"
মাছ না পেয়ে ফিরে যাওয়া একাধিক ক্রেতা জানান, রাত ১২টার পর থেকে টানা ২২ দিন ইলিশ কেনাবেচা বন্ধ থাকবে, তাই তারা শেষবারের মতো মাছ কিনতে এসেছিলেন। কিন্তু সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সরবরাহ আরও কমে যায়, যা হতাশাজনক।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগের শেষ সময়ে হঠাৎ ইলিশের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই তুলনায় আড়ত থেকে সরবরাহ কম থাকায় বাজারে এই সংকট তৈরি হয়েছে। যে সামান্য পরিমাণ ইলিশ এসেছে, তা আসা মাত্রই চড়া দামে বিক্রি হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও প্রদর্শনীর ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ