০৭:০৯ পি.এম
‘বর্ষাকালে পানি ভেঙে পায়ে হেঁটে তিন কিলোমিটার দূরে স্কুলে যেতাম। শত কষ্টের মধ্যেও স্কুলে যাওয়া আপাতত বন্ধ করিনি।
কিন্তু আমার এসএসসির ফলে গ্রামবাসী আনন্দিত হলেও মা-বাবার মনে আনন্দ নেই। কারণ আমার ভ্যানচালক বাবার পক্ষে আমাকে ভালো কলেজে পড়ানোর সামর্থ্য নেই।’
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া এই শিক্ষার্থী তানিয়া নাসরিন এসব কথা বলছে। চলতি বছর যশোরের কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই হতদরিদ্র পরিবারটিতে অভাব অনটন নিত্যদিনের সঙ্গী। তার বাবা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালায়। কিন্তু অভাবের মাঝেও তানিয়া বিজ্ঞান বিভাগে যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার এই সাফল্য সত্ত্বেও, ভবিষ্যতে মেয়ের লেখাপড়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বাবা আবুল হোসেন ও মা ফরিদা বেগম।
এসএসসি পরীক্ষায় তানিয়ার সাফল্যের খবর পাওয়ার পর শনিবার উপজেলার ব্যাসডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে জানা যায়, গ্রামটি বছরের প্রায় ছয় মাস জলাবদ্ধ থাকে। সেখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাকে বর্ষার সময় পানি ডিঙ্গিয়ে যাতায়াত করতে হয়।
তানিয়া জানায়, এইচএসসি পাসের পর তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে। সে তার ভাষ্যে বলেছে, ‘আমার এসএসসির ফলে গ্রামবাসী আনন্দিত হলেও মা-বাবার মনে আনন্দ নেই। কারণ আমার ভ্যানচালক বাবার পক্ষে ভালো কলেজে পড়ানোর সামর্থ্য নেই।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
এ কারণে আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অন্যের সহায়তা ছাড়া পূরণ হওয়া সম্ভব নয়।’
গ্রামের বাসিন্দা শাহানাজ পারভীন বলেন, ‘তানিয়া এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে আমাদের জলাবদ্ধ গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছে। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষে উচ্চ শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। অভাবের মাঝে মেয়েটি ভালো ফল করেছে এবং এলাকায় সুনাম অর্জন করেছে।’
তানিয়ার মা ফরিদা বেগম বলেন, ‘মেয়েটার মুখে ঠিকমতো খাবার দিতে পারিনি। তবুও সে পড়া চালিয়ে গেছে। একটি দিনের জন্যও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেনি। স্কুলের স্যারেরা মেয়েটাকে পড়াশুনার বিষয়ে সাহায্য করেছেন। এখন কীভাবে মেয়েকে পড়াবো, তা জানি না।’
তানিয়ার বাবা আবুল হোসেন বলেন, ‘মেয়ে পড়াশোনা নিয়ে স্বপ্ন পূরণে আমার সামর্থ্য নেই। তার মুখের দিকে তাকালে মন খারাপ হয়ে যায়। যদি মেয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে, তাহলে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ তার কাছ থেকে চিকিৎসা পেয়ে উপকৃত হবে।’ তিনি সমাজের দানশীলদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্রভাত কুমার বসু বলেন, ‘তানিয়া আমাদের প্রতিষ্ঠানের গর্ব। স্কুল থেকে সাধ্যমতো তাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। এ কারণে আমাদের স্বাভাবিকভাবেই তার উচ্চশিক্ষা নিয়ে চিন্তা রয়েছে। সমাজের দানশীল ও বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে এই অদম্য মেধাবী একদিন ডাক্তার হয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় এগিয়ে আসতে পারবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন