ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সার্কিট হাউসে উইপোকা দেখে ক্ষোভে কক্ষ ত্যাগ করলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা


সার্কিট হাউসে উইপোকা দেখে ক্ষোভে কক্ষ ত্যাগ করলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা

কুমিল্লা সার্কিট হাউসে বরাদ্দকৃত কক্ষে উইপোকা দেখে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের রাগে ক্ষোভে সেখানে রাত যাপন না করে অন্যত্র চলে গেছেন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান। তিনি জানান, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) লংমার্চ কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে ডা. তাহের কুমিল্লায় আসেন।

মাহবুবর রহমান আরও জানান, ‎১১ দলীয় জোটের লং মার্চ উপলক্ষে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে পৌঁছান কুমিল্লা ১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তার রাত্রিযাপনের জন্য সার্কিট হাউসের ‘রাধাচূড়া-২০২’ কক্ষটি বুকিং করা হয়। রাত ১০টার দিকে যখন তিনি ওই কক্ষে বিশ্রাম নিতে যান, তখন কক্ষজুড়ে প্রচুর উইপোকা দেখতে পান।

আরও পড়ুন: রুয়েটে জঙ্গল থেকে সাইকেল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করলেন আনসার সদস্য

এ সময় তিনি পুরো কক্ষ, ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও কম্বলেও উইপোকা দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে বলেন। তিনি একটি কম্বলও চান। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে এমপির এপিএস আরিফুর রহমান বিষয়টি মোবাইলে কুমিল্লার এনডিসিকে অবহিত করেন। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় বিরোধীদলীয় এ উপনেতা সার্কিট হাউস ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে, কক্ষ জুড়ে উইপোকা সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান মন্তব্য করেন, কুমিল্লা সার্কিট হাউজ একটি আধুনিক মানের ভবন, যা সুসজ্জিত। এখানে দেখভালের জন্য সরকারি জনবলও রয়েছে। কিন্তু ভিআইপি অতিথিদের আবাসনের ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

তিনি বলেন, "সেখানে উইপোকা বেশ দাপট দেখাচ্ছে। তাই অপেক্ষা করেও বিকল্প কক্ষ না পেয়ে আমাদের নেতা (ডা. তাহের) সার্কিট হাউজ ছেড়ে অন্যত্র রাত যাপন করছেন।"

আরও পড়ুন: বেতাগীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা নেজারত ডেপুটি কালেক্টরের (এনডিসি) সরকারি নম্বরে কল করা হলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন সার্কিট হাউজে আরও কক্ষ খালি ছিল। তবে অন্য একটি কক্ষের চাবি আনতে দেরি হওয়ায় বিরোধীদলীয় উপনেতা চলে গেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেনাল্টি মিস করলেন এমবাপ্পে, ‘দ্বিতীয় মরিনিও যুগে’ প্রথম বার হারল রিয়াল মাদ্রিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ এম


পেনাল্টি মিস করলেন এমবাপ্পে, ‘দ্বিতীয় মরিনিও যুগে’ প্রথম বার হারল রিয়াল মাদ্রিদ

দ্বিতীয় দফায় এসে জোসে মরিনিও যেন রিয়াল মাদ্রিদকে রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিলেন। লা লিগার মিশন শুরু হয়েছিল হ্যাটট্রিক জয়ে। তবে চতুর্থ ম্যাচে এসে যে ঘুড়ি গোত্তা খেল, তা হলো কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসের পর রিয়াল মাদ্রিদ ১-০ গোলে হেরেছে, এবং এই হার এসেছে রিয়াল বেতিসের কাছে, যারা লেভান্তের কাছে ৫ গোল খেয়ে হেরেছিল।

শুক্রবার রাতের শুরু থেকেই রিয়াল মাদ্রিদ অনেক সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু গোলের দেখা পায়নি। ভিনিসিয়ুসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। বিরতির আগে এমবাপ্পে দুটি বড় সুযোগ নষ্ট করেন। তার প্রথম শট নাতানের গায়ে লাগে। এরপর মার্ক বার্ত্রা দারুণ একটি ব্লক করেন। বিরতির পর ভালেস জুড বেলিংহামের শট ঠেকিয়ে দেন।

খেলা শুরু হওয়ার পরপরই এমবাপ্পের একটি শট বারের সামান্য পাশ দিয়ে চলে যায়। দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে।

ম্যাচ শেষ হতে দশ মিনিটেরও কম সময় বাকি থাকতে গোলের সুযোগ আসে স্বাগতিক বেতিসের সামনে। নেলসন দেওসার হেড কোর্তোয়ার হাতে লাগে, কিন্তু তিনি বলটি ধরে রাখতে পারেননি। বলটি প্যারটের কাছে যায় এবং তিনি সহজেই গোল করেন। এই ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এটি তার প্রথম গোল। গ্রীষ্মে তিনি এজেড আলকমার থেকে এই ক্লাবে আসেন।

খেলা শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে এমবাপ্পে প্রায় সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার একটি শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। একটু পর বদলি খেলোয়াড় কার্লোস এসপি জালে বল জড়িয়েও ফেলেছিলেন। কিন্তু বাধ সাধে ভিএআর, পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

সময় ফুরিয়ে আসছিল। মাদ্রিদ পিছিয়ে ছিল ১ গোলে। তাই গোলের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিল দলটা। ঠিক সেই সময়ে বেতিস ডিফেন্ডার নাতান সুযোগটা তুলেই দিয়েছিলেন রিয়ালের হাতে। ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করেন তিনি এবং রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন।

কিন্তু এমবাপ্পের শট খুব দুর্বল ছিল। স্বাগতিক গোলরক্ষক ভালেস ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি ঠেকিয়ে দেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাতটি পেনাল্টি গোল করার ধারা এখানেই থেমে যায় এমবাপ্পের।

মাদ্রিদ চেয়েছিল পেনাল্টিটি আবার নেওয়া হোক। তাদের দাবি ছিল, মার্ক বার্ত্রা লাইনের আগে এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু রেফারিরা এই দাবি মানেননি। শেষ পর্যন্ত পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে যায় বেতিস।

এর ফলে ২০১৪-১৫ মৌসুমের পর এই প্রথম মাদ্রিদ লিগের প্রথম চার ম্যাচের মধ্যে একটিতে হারল। আগামীকাল রোববার বার্সেলোনা ভ্যালেন্সিয়ায় মাঠে খেলবে। এই ম্যাচ জিতলে তারা মাদ্রিদের চেয়ে তিন পয়েন্টে এগিয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি খেলবে ভারত, নেপথ্যে যে ২ কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ এম


জাপানের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি খেলবে ভারত, নেপথ্যে যে ২ কারণ

আইসিসি ইভেন্টের বাইরে ভারতকে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০-এর বাইরে থাকা দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে দেখা যায় না তেমন। ভারত কখনোই জাপানের মুখোমুখি হয়নি, যাদের র‍্যাঙ্কিং ৪০ এর বাইরে।

বর্তমানে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের ৪১ নম্বরে থাকা জাপানের বিপক্ষে খেলতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর তোচিগি প্রদেশের সানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারত জাপানের মুখোমুখি হবে।

দ্বিপাক্ষিক এই ম্যাচের উদ্দেশ্য ক্রিকেটীয় নয়। শুক্রবার জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জেসিএ) এবং ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ম্যাচের মাধ্যমে ভারত-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তির উদযাপন শুরু হবে। সুজুকি কাপের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হবে এই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যেকোনো ফরম্যাটে এটি ভারত ও জাপানের প্রথম মুখোমুখি লড়াই হতে যাচ্ছে। বর্তমানে ভারত আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে অবস্থান করছে। তারা বর্তমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন এবং তিনবারের শিরোপাজয়ী দল। অপরদিকে, জাপান আইসিসির পুরুষ টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ৪১ নম্বরে রয়েছে।

এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার আরেকটি কারণও রয়েছে, যা ক্রিকেটীয়। এবারের এশিয়ান গেমস জাপানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারত এই ম্যাচের মাধ্যমে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। এই গেমসে দুই দল একসঙ্গে খেলবে।

১০টি দল নিয়ে এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত।

ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান ভিভিএস লক্ষণ এই সফরে প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়মিত প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর দেশে থেকে যাবেন, কারণ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে ভারতের। সেই সিরিজের দায়িত্বে থাকবেন তিনি।

লক্ষণ কোচ হিসেবে বেশ সফল। বিশেষ করে এশিয়ান গেমসে। ২০২৩ সালে হাংজু এশিয়ান গেমসে ভারতকে সোনার পদক জিতিয়েছিলেন লক্ষণ।

ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আইয়ারকে নিযুক্ত করা হয়েছে, এবং সহ-অধিনায়ক তিলক ভার্মা।

ভারতীয় পুরুষ দলের হয়ে অভিষেকের সময় সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় ছিলেন কিশোর প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী। তিনিও ভারতের ১৫ সদস্যের এশিয়ান গেমস দলে আছেন। পেস আক্রমণের প্রধান ভরসা জসপ্রীত বুমরাহও দলে রয়েছেন।

ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্টের বাছাই দল হিসেবে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে।

গ্রুপ 'এ'-তে আফগানিস্তান, জাপান এবং নেপাল রয়েছে। গ্রুপ 'বি'-তে হংকং, চীন, মালয়েশিয়া এবং ওমান রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে।

এশিয়ান গেমসে এবার ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে চতুর্থবারের মতো। প্রথম দুই আসরে ভারত অংশ নেয়নি। এবার তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা নিয়ে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদির কাছে ৫৭৫ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০১ এম


সৌদির কাছে ৫৭৫ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫৭৫ কোটি ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন প্রদান করেছে। এ তথ্যটি দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। খবরটি মিডল ইস্ট আইয়ের মাধ্যমে জানা গেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশনস-এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ (জেডিএএম-ইআর) বিক্রির সম্ভাব্য প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এসব অস্ত্রের প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৭৫ কোটি ডলারের এজিটি-১৫০০ ইঞ্জিন বিক্রির অনুমোদনও দিয়েছে। এসব ইঞ্জিনের প্রধান ঠিকাদার হানিওয়েল।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এই অস্ত্র ও সরঞ্জাম সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলা, নিজ ভূখণ্ডের নিরাপত্তা জোরদার এবং মার্কিন ও অন্যান্য উপসাগরীয় মিত্রদের ব্যবহৃত সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে সাহায্য করবে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি, সৌদি আরবের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র হিসেবে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনলে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ এম


চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনলে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা কী?

বাংলাদেশ প্রথম যে যুদ্ধবিমান চীন থেকে কিনেছিল, তার আনুষ্ঠানিক নাম এফ-৬। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ চীন থেকে এসব যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছিল।

ঢাকার বিজয়স্মরণী থেকে জিয়া উদ্যানের দিকে গেলে রাস্তার মোড়ে যে মাঝারি আকারের যুদ্ধবিমান দেখা যায়, সেটি এ ধরনের বিমান। বিমানটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর উন্মুক্ত প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক নাম এফ-৬ হলেও চীনে বিমানটি জে-সিক্স নামে পরিচিত।

বাংলাদেশ বর্তমানে চীন থেকে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে, যার নাম জে-টেন সি ই। সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে আলোচিত এই যুদ্ধবিমানটি দিয়েই পাকিস্তান তার প্রতিপক্ষ ভারতের অত্যাধুনিক রাফাল বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

রাফাল ভূপাতিত করার দাবি নিয়ে তখন আলোচনা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও চীনের জে-টেন বিমান নিয়ে খবর-বিশ্লেষণ উঠে আসে।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহের কথা বলছে, যেখানে চীনের এই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান জে-টেন কেনার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, ইতোমধ্যেই এই বিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে গেছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের পরিকল্পনায় শুধু যুদ্ধবিমানই কি যথেষ্ট? আকাশ প্রতিরক্ষা, প্রশিক্ষণ, যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবকাঠামো বিবেচনায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত?

আর চীনের এই যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতায় কতটা পরিবর্তন আনবে?

বাংলাদেশের প্রথম যুদ্ধবিমান কোন দেশের?

বাংলাদেশ ১৯৭৭ সালে চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনে, এটি সত্য। তবে প্রথম যুদ্ধবিমানের বহর এসেছিল আরও কয়েক বছর আগে ১৯৭৩-৭৪ সালে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন তখন বাংলাদেশকে বিনামূল্যে যুদ্ধবিমান উপহার দিয়েছিল। এটি ছিল তখনকার অত্যাধুনিক সুপারসনিক যুদ্ধবিমান মিগ-২১।

‘এগুলো ছিল একেবারে ফ্যাক্টরি ফ্রেশ। কারখানা থেকে বের হয়েই আমরা পেয়েছিলাম। মানে রাশান বিমানবাহিনীর বাইরে আমরাই প্রথম পেয়েছিলাম। এমনকি ভারতও আমাদের কয়েক বছর পর মিগ-২১ পেয়েছিল। তখনকার এই অত্যাধুনিক বিমান আমাদের এগিয়ে দিয়েছিল অনেক’, বলছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী, যিনি তখন বিমানবাহিনীর একজন তরুণ অফিসার ছিলেন।

‘শুধু যুদ্ধবিমান নয়, এর সঙ্গে যত ধরনের মিসাইল, বোমা, রকেট - সব আমাদের দিয়েছিল। তখন থেকেই বিমানবহর শুরু হলো বলা যায়। তখন তো আমাদের কিছুই ছিল না। যুদ্ধের পর এয়াফিল্ডগুলো মেরামত হচ্ছিল। এমনকি ব্যাচের পর ব্যাচ প্রশিক্ষণের জন্য রাশিয়া পাঠানো হয়েছিলো’, যোগ করেন ইশফাক ইলাহী চৌধুরী।

বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে এখন কী আছে?

বাংলাদেশ প্রথম যুদ্ধবিমান পায় সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে, সেটি হচ্ছে মিগ-২১। এরপর বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান সংগ্রহের মূল উৎস পরিবর্তিত হয়ে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ১৯৭৭ সালে চীন থেকে এফ-৬, এরপর আশির দশকে আনা হয় এফ-৭।

বাংলাদেশ এরপরও যুদ্ধবিমান কিনেছে। তবে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে একটি বড় পরিবর্তন আসে ১৯৯৯ সালে। তখন রাশিয়া থেকে আটটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনে বাংলাদেশ। সেগুলো ছিল সেসময়ে পৃথিবীর অন্যতম সেরা আকাশ প্রতিরক্ষা ফাইটার জেট।

কিন্তু ২০২৬ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর বহর বেশ পুরনো হয়ে পড়েছে। একটি অংশ এখন অচল, আরেকটি অংশ পুরনো হয়ে অচল হওয়ার পথে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের বিমানবহরে এখন আসলে কী আছে? সরকারিভাবে অবশ্য এর কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না।

তবে সামরিক তথ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট 'ওয়ারপাওয়ার বাংলাদেশ' এর হিসেবে এর একটি চিত্র পাওয়া যায়। যেখানে দেখা যায় বাংলাদেশের বিমান বাহিনী বহরে এখন বিমান আছে ২১২টি। এর মধ্যে যুদ্ধ বিমান রয়েছে ৪৪টি।

এই ৪৪টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে রাশিয়ার মিগ-২৯ আছে আটটি। আর চীনের নির্মিত এফ-৭ যুদ্ধবিমান ৩৬টি। এই মডেলগুলো কিছুটা পুরনো।

এছাড়াও আছে ১৪টি ইয়াক-১৩০ বিমান। যেগুলো প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হলেও হালকা আক্রমণ চালানোর উপযোগী। রাশিয়া থেকে বিমানগুলো কেনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

চীনের এফটি সেভেন প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান, যুক্তরাষ্ট্রের লকহিডের দুটি সিরিজের কৌশলগত পরিবহণ বিমানও আছে বাহিনীতে।

বিমানবাহিনীর বহরে ৭৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে বলেও ওয়ারপাওয়ার বাংলাদেশে তথ্য দেওয়া আছে। এর মধ্যে রাশিয়ার এমআই সিরিজের ৩৬টি হেলিকপ্টার আছে।

আর যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত সেসনা, বেলের বিভিন্ন মডেলের হেলিকপ্টার আছে ২৪টি।

এর পাশাপাশি ফ্রান্স, ইতালি, চেকোস্লোভাকিয়া (চেক রিপাবলিক) থেকে কেনা কিছু প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টারও ব্যবহার করে বাংলাদেশ।

এছাড়া বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর কাছে ৪৪টি ড্রোন রয়েছে বলে জানাচ্ছে ওয়েবসাইটটি। এর মধ্যে ৩৬টিই স্লোভেনিয়ায় নির্মিত ব্রামর সি ফোর আই।

তুরস্কের তৈরি বায়রাক্তার টিবি টু আছে ছয়টি। গত বছরই এগুলো যুক্ত হয়।

‘বাংলাদেশের মিগ-২৯ একটু আধুনিক। কিন্তু সেটাও এখনকার যুগে পুরোনো। এর বাইরে আমাদের বাকি যা আছে সবগুলো আরো পুরনো থ্রি-জি প্রযুক্তির। অথচ এখন যে যুদ্ধ হচ্ছে, সেখানে ফোর পয়েন্ট ফাইভ-জি এমনকি ফাইভ-জি প্রযুক্তির স্টেলথ বিমানও ব্যবহার হচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশের বিমানবহর আধুনিকায়ন করার বিকল্প ছিল না। এখন চীন থেকে যে বিমানগুলো আনা হচ্ছে সেগুলো আধুনিক ফোর পয়েন্ট ফাইভ জি প্রযুক্তির। সুতরাং এটা একটা ভালো সিদ্ধান্ত’, বলেন বিমান বাহিনীর সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার।

শুধু যুদ্ধ বিমান কেনাই কি যথেষ্ট?

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের ২০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ। এগুলোকে বলা হচ্ছে মাল্টিরোল ফাইটার জেট।

অর্থাৎ বিমানগুলো আকাশ প্রতিরক্ষায় একইসঙ্গে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী। যেমন-

এয়ার টু এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ এটি আকাশসীমায় শত্রুবিমানকে প্রতিরোধ করতে ব্যবহার করা যায়।

এয়ার টু গ্রাউন্ড অর্থাৎ শত্রু দেশের মাটিতে কোনো টার্গেট থাকলে সেখানে বোমবর্ষণে দক্ষ।

ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ সেনাবাহিনী কোথাও যুদ্ধরত আছে, এই বিমান গিয়ে তাদেরকে সাপোর্ট দিতে পারে। মেরিটাইম এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ সমুদ্রে নৌবাহিনীকে সাপোর্ট দেওয়া।

‘এই একটা বিমান, যেটা আমরা কিনতে যাচ্ছি, এটা একাই সব ধরনের কাজ করতে পারে’, বলেন বিমান বাহিনীর সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার।

তিনি এটাও বলেন যে, আধুনিক যুদ্ধপরিস্থিতিতে শুধু যুদ্ধবিমানই যথেষ্ট নয়। রাডার, জ্যামিং প্রযুক্তি, মিসাইলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার দেখা যায়। এছাড়া বিমান-নৌ-সেনা অস্ত্র সরঞ্জামের মধ্যে একধরণের 'রিয়েল টাইম' সমন্বয়ের উপরও যুদ্ধের সফলতা নির্ভর করছে।

সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার অবশ্য বলছেন, বাংলাদেশ শুধু যুদ্ধ বিমান কিনছে না, বরং এর সঙ্গে 'ফুল প্যাকেজ' আনা হচ্ছে।

‘এটা আসলে একটা ফুল প্যাকেজ। শুধু এয়ারক্রাফট কিনলে তো হবে না। এখানে স্পেয়ার পার্টস থাকে, মেইনটেন্যান্স থাকে, এসবের জন্য দশ বছরের একটা কন্ট্রাক্ট থাকে। প্লাস এরসঙ্গে বাড়তি ইক্যুইপমেন্ট নেওয়া হয় সামনে কী সিনারিও হতে পারে, কী কী লাগতে পারে সেটা হিসেব করে।’

‘এই এয়ারক্রাফটে জ্যামার তো ইনবিল্ড থাকবে, রাডার থাকবে। এর সঙ্গে সার্ভেইল্যান্স ক্যাপাসিটি চাইলে সেটা নেওয়া যায়। এগুলোর জন্য আলাদা ইক্যুইপমেন্ট প্যাকেজে থাকে। আরও থাকে মিসাইল অর্থাৎ লং রেঞ্জ মিসাইল যেটা হচ্ছে বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ। চোখে দেখা যায় না। কিন্তু টার্গেট করে হামলা করা যায়। পাকিস্তান এটা ভারতের সঙ্গে ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে। সেই একই এয়ারক্রাফটই তো আমরা কিনছি’, তিনি বলেন।

এছাড়া বাংলাদেশে এখন আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য 'গ্রাউন্ড বেইজড রাডার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা' সম্প্রতি চালু হয়েছে বলে জানান বাশার।

এটা শত্রু বিমান আক্রমণের আগাম সতর্কতা দেবে এবং টার্গেট নির্ধারণ করে প্রতিরোধ গড়তে সাহায্য করবে।

‘আমরা এখন এয়ারক্রাফটের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাটা নিয়ে আসব এবং এটা সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করব। এছাড়া আমাদের কাছে ড্রোন আছে। আমরা অলরেডি চীনের সঙ্গে চুক্তি করেছি। আমাদের কেনা এয়ারক্রাফটগুলো রাডার ব্যবস্থা থেকে যে ছবি পাবে, সেটার ভিত্তিতে এই ড্রোনগুলোকে গাইড করে নির্দিষ্ট দিকে পাঠাতে পারবে।’

অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আছে?

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিমান থাকলেই হয় না। এগুলো পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো লাগে।

তাছাড়া বিমানগুলোকে কোথায়, কীভাবে রাখা হবে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিমান ওড়ার আগে অর্থাৎ মাটিতে থাকার সময়ই যদি শত্রুপক্ষের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে সেই বিমান কোনো কাজে লাগবে না। ফলে বিমানগুলোকে লুকিয়ে রাখা এবং এর জন্য শক্ত অবকাঠামো দরকার হয়।

একইসঙ্গে দরকার হয় একাধিক রানওয়ে। কারণ রানওয়ে ধ্বংস হলে বিমান তখন আর উড্ডয়নেরই সুযোগ পাবে না।

একাত্তর সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঠিক একই পরিস্থিতিতে পড়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী। সেই সময় ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বোমা হামলায় তেজগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়েতে বড় বড় গর্ত বা ফাটল তৈরি হয়।

যার ফলে পাকিস্তানি বিমানগুলোর পক্ষে উড্ডয়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

রানওয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে পাকিস্তানের ১৪ নং স্কোয়াড্রনের অত্যাধুনিক স্যাবর ফাইটার জেটগুলো মাটির ওপর একরকম অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

বিমানগুলো ভারতীয় বিমানের সহজ টার্গেটে পরিণত হয় এবং মাটিতে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস হয়।

কিন্তু বাংলাদেশের এক্ষেত্রে বিমান পরিচালনা বা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কী আছে?

এমন প্রশ্নের উত্তরে বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী অবকাঠামো দুর্বলতা আছে বলে জানান।

‘আমাদের বিমানবাহিনীর সবচেয়ে বড় একটা সমস্যা হচ্ছে যে, এর নিজস্ব কোনো এয়ারফিল্ড নেই। আমাদের প্রত্যেকটি এয়ারফিল্ড যেগুলো আমরা এখনো ব্যবহার করছি যেমন-ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর - এগুলো বেসামরিক যানবাহনের সঙ্গে মিলে ব্যবহার করছি। যশোরে বেসামরিক ব্যবহার কম। কিন্তু সেটা আবার ভারতীয় সীমান্তের খুব কাছে। আর ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তো সামরিক-বেসামরিক বিমান, হেলিকপ্টার সবই চলাচল করে।’

এছাড়া যুদ্ধ বিমান লুকিয়ে রাখার জন্য কংক্রিটের শক্ত অবকাঠামোও সেভাবে নেই বলে জানান তিনি।

‘এগুলো খুব ব্যয়বহুল। বোমার বিরুদ্ধে টিকে থাকার উপযোগী করে বানাতে হয়। সুতরাং খরচ অনেক বেশি। কিন্তু এগুলো আমাদের বানাতে হবে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া আলাদা অন্তত একটা বিমানঘাঁটি দরকার যেটা সামরিক ডিজাইন মেনে সামরিক ব্যবহারের জন্য থাকবে। সেখানে মাল্টিপল রানওয়ে থাকবে যেন একটা রানওয়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়’, বলেন ইশফাক ইলাহী চৌধুরী।

বাংলাদেশের বর্তমানে যুদ্ধবিমানের জন্য ব্যবহার উপযোগী এয়ারফিল্ড আছে ১৩টি।

‘এরমধ্যে সবগুলোকে আমরা হয়তো সবসময় অপারেশনাল রাখতে পারব না। কারণ সেই সক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের এখন চারটা এয়ারবেইজ - ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, কক্সবাজার - এই চারটা থেকে সহজেই অপারেট করতে পারি। আরও ২/৩টি এয়ারফিল্ড আছে, যেগুলো আমার জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারি। এই রানওয়েগুলোকে অ্যাকটিভ রাখতে হবে।’

বলেন সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার। একইসঙ্গে তিনি জোর দেন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হার্ড এয়ারক্রাফট শেল্টার থাকতে হবে। বিপদের সময় যেন লুকিয়ে রাখা যায় কিংবা কন্টিনিউয়াস মুভমেন্টে রাখা যায়। এছাড়া ঘাঁটিগুলোতে আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম থাকতে হবে যেন শত্রু বিমান আসার খবর পেলেই বিমানগুলো আকাশে উঠে যেতে পারে। এটাতে আমাদের হয়তো শতভাগ সক্ষমতা নেই। কিন্তু অন্তত ৫০ থেকে ৬০ ভাগ সক্ষমতা আছে আমাদের।’

চীনা নির্ভরতার কারণ কী?

বাংলাদেশ বহুমাত্রিক সামরিক সক্ষমতা তৈরি করতে চায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এর জন্য দেশটি মূলত চীনা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।

নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে শুরু করে রণতরী কিংবা সেনাবাহিনীর ট্যাংক, সাঁজোয়া যান থেকে শুরু করে আকাশ প্রতিরক্ষা - সবকিছুর বড় অংশটাই আসে চীন থেকে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সাবমেরিন রয়েছে দু'টি। দুটিই চীনের তৈরি এবং ২০১৭ সালে এগুলো নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়।

এছাড়া গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সব মিলিয়ে নৌযান রয়েছে ১১৭টি। এর মধ্যে সাতটি ফ্রিগেট বা রণতরী আছে বাংলাদেশের।

সঙ্গে আরও আছে ছয়টি কর্ভেট যুদ্ধজাহাজ। কর্ভেট জাহাজগুলোর মধ্যে চারটি চীনের, দুটি যুক্তরাজ্যের।

ফ্রিগেটগুলোর চারটির নির্মাতা চীন, দুইটির যুক্তরাষ্ট্র আর একটি দক্ষিণ কোরিয়ার। কিন্তু চীন কীভাবে বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের প্রধান উৎস হয়ে উঠলো?

এর কয়েকটি কারণ আছে-

প্রথমটি হচ্ছে, কম টাকায় আধুনিক অস্ত্র। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, চীনের যুদ্ধবিমানগুলোর সমমানের যেসব বিমান ইউরোপ বা আমেরিকায় আছে, সেগুলোর তুলনায় চীনের যুদ্ধবিমানগুলো ‘অর্ধেকেরও কম বা ওয়ান থার্ড খরচে পাওয়া সম্ভব’।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে, প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত-মিয়ানমারের থেকে ভিন্ন ধরনের বিমান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা। যেটা বাংলাদেশকে কৌশলগত সুবিধা দেবে। ভারত ও মিয়ানমার দুটি দেশই রাশিয়ার তৈরি বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। বাংলাদেশ ভিন্ন ধরনের বিমান ব্যবহার করলে সেটা দুই দেশের কাছেই 'অচেনা' থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

তৃতীয় কারণ হচ্ছে, চীন-বাংলাদেশ দুই দেশের ধারাবাহিক উষ্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।

আর চতুর্থটি হচ্ছে, চীনা অস্ত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর মতো শর্তের বেড়াজাল নেই।

‘ইউরোপ বা আমেরিকা কিন্তু শর্ত দেয়- কার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন, কখন ব্যবহার করছেন। যেমন পাকিস্তান এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কিনেছে। তারা কিন্তু এটা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে না। যেখানে এফ-১৬ আছে, এরকম প্রত্যেক ঘাঁটিতেই আমেরিকার লোক আছে। তারা সর্বক্ষণ মনিটর করে। কিন্তু চীন এরকম কোনো শর্ত দেয় না’, বলেন ইশফাক ইলাহী চৌধুরী.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%