ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষিণ আফ্রিকা অচেনা কন্ডিশন নিয়ে সতর্ক করল স্টার্ক


দক্ষিণ আফ্রিকা অচেনা কন্ডিশন নিয়ে সতর্ক করল স্টার্ক

আগামী ৯ অক্টোবর ডারহাম টেস্টের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আট বছরের দীর্ঘ বিরতির পর খেলতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। আসন্ন টেস্ট সিরিজের প্রতি অজানা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের মূল অস্ত্র মিচেল স্টার্ক। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই অসময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর উভয় দলের জন্যই একটি অজানা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে, বৃষ্টি এবং প্রাক-মৌসুমের অপরিচিত কন্ডিশন (আবহাওয়া ও পিচ) এই সিরিজের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে স্টার্ক বলেন, ‘এখানে একটি অজানা পরিস্থিতি রয়েছে। তবে এটাই টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য এবং সামনে যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন, আপনাকে সেটার সাথেই মানিয়ে নিতে হবে।’

 

আরও পড়ুন: বায়ার্নের গোলবন্যায় ৬-১ গোলে ভাসল লাইপজিগ

আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সূচনা করবে অস্ট্রেলিয়া। অক্টোবর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রচুর বৃষ্টি হয়, যা টেস্ট ম্যাচগুলোতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বৃষ্টি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে স্টার্ক জানান, এবারের কন্ডিশন দেশটির প্রচলিত আবহাওয়ার চেয়ে অনেকটাই আলাদা হতে পারে।

৩৬ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পেসার—যিনি ডরবান মাঠে অস্ট্রেলিয়ার খেলা সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচে ৯টি উইকেট নিয়েছিলেন—জানান, সাম্প্রতিক ভেজা আবহাওয়ার কারণে পিচ সাধারণত শুষ্ক থাকার বদলে ভিন্ন রূপ নিতে পারে। সাধারণত এখানকার শুষ্ক কন্ডিশন রিভার্স সুইংয়ে সহায়তা করে, তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

আরও পড়ুন: দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হার

স্টার্ক আরো যোগ করেন, ‘এখানকার আবহাওয়া বেশ ভ্যাপসা ও আর্দ্র। আমরা এখানে আসার আগেই বৃষ্টি নিয়ে কথা হচ্ছিল। মৌসুমের এই সময়ে সাধারণত যে শুষ্ক ভাব থাকে, তা হয়তো এখনই দেখা যাবে না।’

আগামী কয়েকটি দিন এবং ম্যাচের দিনগুলোতে আবহাওয়া কেমন রূপ নেয়, তা দেখা বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

জিম্বাবুয়ে সফরে অস্ট্রেলিয়ার ওডিআই সিরিজে স্টার্ক, প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজেলউডের অনুপস্থিতিতে ভালো করেছেন নাথান এলিস। তার প্রশংসা করে স্টার্ক বলেন, ‘ওডিআই দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করার জন্য সে সত্যিই দারুণ পারফর্ম করছে এবং কোনো সন্দেহ নেই যে এই তিন ম্যাচেও সে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’

আরও পড়ুন: ইয়ামালের নৈপুণ্যে বেতিসকে উড়িয়ে আরো শক্ত অবস্থানে বার্সা

তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টটি আগামী ৯ অক্টোবর ডরবানে শুরু হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদায়ী বেলায় ওসির হাতে হাঁস-মুরগি ও লাউ উপহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


বিদায়ী বেলায় ওসির হাতে হাঁস-মুরগি ও লাউ উপহার

থানার ওসি বিদায় নিচ্ছেন। সাধারণত বিদায়ী কর্মকর্তাদের হাতে ফুলের তোড়া-মালা তুলে দেওয়া হয়। তবে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে একটি ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেল।

বিদায়ী ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসেনের হাতে ফুলের পাশাপাশি উঠেছে বাড়ির গাছের লাউ, জাম্বুরা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফল। কেউ কেউ ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে হাঁস-মুরগি এবং কয়েক হালি ডিম তুলে দিয়েছেন। এই ব্যতিক্রমী উপহারগুলো দিয়েই স্থানীয়রা প্রিয় কর্মকর্তাকে বিদায় জানিয়েছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানায় বিদায়ী ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসেনকে বিদায় জানানো এবং নবাগত ওসি জে ও এম তৌফিক আজমকে বরণ করে নিতে একটি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয়রা বিদায়ী ওসিকে ফুলের মালা ও তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কেউ স্মৃতিচারণ করেন, কেউ ছবি তোলেন। তবে আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও স্থানীয়দের ভালোবাসার প্রকাশ ছিল বাড়িতে উৎপাদিত লাউ, ফলমূল এবং নিজেদের পালিত হাঁস-মুরগির উপহার। তারা নিজেদের বাড়ির জিনিস প্রিয় কর্মকর্তার হাতে তুলে দিয়ে তাকে বিদায় জানান।

যাত্রাপুর গ্রামের হাবেজা বেগম বলেন, ‘এমন ওসি আমরা কখনো দেখিনি। আমাগো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করছেন। যে কেউ তার কাছে আইনি সহায়তা পেয়েছেন। আজ তার বিদায়, তাই আমার বাড়ির গাছের জাম্বুরা নিয়ে এসেছি।’

হাফেজা বেগমের মতো আরো কয়েকজন বয়স্ক নারী জানান, ওসি থাকাকালীন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো ছিল। তিনি সবার খোঁজ খবর রাখতেন। তাই আমাদের ছেলেরা বিপথে যাওয়ার সাহস পায়নি। তিনি আজ চলে যাচ্ছেন, তাই আমরা হাঁস-মুরগি, ডিম, লাউসহ বাড়িতে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের সবজি তার জন্য নিয়ে এসেছি।

চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের ৮০ বছর বয়সী চাঁন মেম্বার বলেন, ‘আফজাল ওসি আমাগো চরে চুরি-ডাকাতি কমাইছে, মাদকখোর ধরাইছে। চরের শান্তি রক্ষায় মেলা কাজ করছে। আমরা শান্তিতে ছিলাম।’

স্থানীয়দের এমন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, ‘ফজরের নামাজের পর বের হতাম। বিভিন্ন বাজারে ঘুরতাম, মানুষের সঙ্গে কথা বলতাম। অনেকেই জানতেন না আমি থানার ওসি। চরাঞ্চল, গোপীনাথপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘চাকরি করলে বদলি হতেই হবে। হরিরামপুরে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। বিদায়বেলায় হরিরামপুরবাসী যেভাবে সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলব না।’

অনুষ্ঠান শেষে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে করে নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসেন। থানার বাইরে অপেক্ষায় থাকা স্থানীয়রা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কেউ হাত নেড়ে বিদায় জানান, কেউ আবার আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চোখের পানি মুছতে থাকেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাঠালিয়া ভূমি অফিসে নাজির আব্দুর রহিমকে ঘিরে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ ফাইল আটকে রাখা, কৃত্রিম জটিলতা ও অনৈতিক অর্থ দাবির অভিযোগ; তদন্তের দাবি ভুক্তভোগীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. রনি সিকদার, চীফ রিপোর্টার

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


কাঠালিয়া ভূমি অফিসে নাজির আব্দুর রহিমকে ঘিরে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ ফাইল আটকে রাখা, কৃত্রিম জটিলতা ও অনৈতিক অর্থ দাবির অভিযোগ; তদন্তের দাবি ভুক্তভোগীদের

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার মো. আব্দুর রহিমকে ঘিরে ঘুষ, হয়রানি, ফাইল আটকে রাখা এবং সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অনৈতিক অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘সদু রহিম’ নামে পরিচিত বলে অভিযোগকারীদের দাবি। ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানা অজুহাতে হয়রানি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কাঠালিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী তালিকায় ‘আঃ রহিম’ নামের একজনকে নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার পদে দেখানো হয়েছে। একই তালিকায় তার একটি মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নামজারি (মিউটেশন), রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান-সংক্রান্ত কাজসহ ভূমি অফিসের বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তারা নির্ধারিত সরকারি ফি দেওয়ার পরও অতিরিক্ত অর্থের দাবির মুখোমুখি হচ্ছেন। কেউ অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ফাইলে নানা ধরনের ত্রুটি দেখিয়ে কাজ বিলম্বিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

‘টাকা না দিলে ফাইল আটকে থাকে’-অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো সেবাগ্রহীতা নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে সরকারি ফি পরিশোধ করলেও ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি না করে বিভিন্ন অজুহাতে দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়। কখনো কাগজপত্রে ত্রুটি, কখনো জমি নিয়ে বিরোধ কিংবা অন্য কোনো জটিলতার কথা বলে সেবাগ্রহীতাকে ঘুরানো হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি হলে একই ধরনের ফাইল দ্রুত এগিয়ে যায়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

দালালনির্ভর সেবা ব্যবস্থার অভিযোগ: স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। এ সুযোগে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী বা কথিত দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দালালের মাধ্যমে গেলে কাজ দ্রুত করার আশ্বাস দেওয়া হলেও সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের চাপ নিতে হয়। তবে নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার আব্দুর রহিমের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট দালালচক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়েও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বেনামি অভিযোগ তৈরি করে হয়রানির অভিযোগ: অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কোনো কোনো জমির মালিককে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বেনামি বা ভুয়া অভিযোগ তৈরির ঘটনাও ঘটছে। পরে ওই অভিযোগ বা বিরোধ নিষ্পত্তির নামে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অভিযোগ গুরুতর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নথি, অভিযোগপত্র, ফাইলের গতিবিধি এবং অফিসের কার্যক্রম যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

আগেও কাঠালিয়া ভূমি অফিস নিয়ে সংবাদ প্রকাশ: কাঠালিয়া ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কাঠালিয়া উপজেলা সদর ৪ নম্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ, হয়রানি ও দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন পেশকার আসাদুজ্জামান শুভোসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। এরও আগে ২০২১ সালে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে কাঠালিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের তৎকালীন নাজির মাঈনুলকে ঘিরে একটি কথিত সিন্ডিকেটের অভিযোগ এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির বিষয় উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমিত সাহা যোগদানের পর কথিত সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অর্থাৎ, কাঠালিয়া ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, ঘুষ ও দালালনির্ভরতার অভিযোগ নতুন নয়—তবে অতীতের প্রতিবেদনের অভিযোগ এবং বর্তমানে আব্দুর রহিমকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ একই ঘটনা বা একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ নয়। বিষয়গুলো আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সরকারি সেবার লক্ষ্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি: কাঠালিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সরকারি ওয়েবসাইটে অফিসটির ভিশন হিসেবে দক্ষ, স্বচ্ছ, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। মিশনেও আধুনিক ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমি-সংক্রান্ত সেবা ও অভিযোগ জানানোর জন্য অনলাইন ব্যবস্থা রয়েছে এবং জাতীয় ভূমি সেবা হটলাইন ১৬১২২-এর কথাও কাঠালিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তের দাবি: অভিযোগকারীদের দাবি, কাঠালিয়া ভূমি অফিসের গত কয়েক মাসের নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, রেকর্ড-সংক্রান্ত ফাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি যাচাই করা হলে অনিয়মের কোনো চিত্র থাকলে তা বেরিয়ে আসতে পারে। তারা ঝালকাঠির জেলা প্রশাসন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে কাঠালিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে সুমি রানী বল দায়িত্ব পালন করছেন; সরকারি কর্মকর্তা তালিকা অনুযায়ী তিনি ১৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে যোগদান করেন।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রহিমের বক্তব্য প্রয়োজন: নাজির-কাম-ক্যাশিয়ার মো. আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানা এবং তা প্রকাশ করা সংবাদটির ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংস্করণে সংযোজন করা হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে সুরক্ষা পাবেন, অন্যদিকে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ থাকলেও তার নিষ্পত্তি হবে। তাই কাঠালিয়া ভূমি অফিসের কার্যক্রম, ফাইল নিষ্পত্তির সময়, সরকারি ফি আদায় এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। চলবে.........

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘে ট্রাম্পের অসত্য দাবির বাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


জাতিসংঘে ট্রাম্পের অসত্য দাবির বাহার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ প্রদান করেছেন। এই ৩৮ মিনিটের ভাষণে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ট্রাম্পের ভাষণে উল্লেখিত কিছু অতিরঞ্জন এবং অসত্য দাবির বিষয়ে আলোকপাত করেছে। যদিও ট্রাম্প জাতিসংঘে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছিলেন।

জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প তার একটি প্রায়শই করা মিথ্যা দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আটটি যুদ্ধের সমাধান করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয় ছিল।’

তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, রুয়ান্ডা ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ভারত ও পাকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং গাজার যুদ্ধের কথা বলছেন। তিনি পূর্বে দাবি করেছিলেন যে তাঁর অবসান ঘটানো অন্য দুটি যুদ্ধ ছিল— গত বছরের ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সংঘাত এবং মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার একটি কথিত যুদ্ধ।

ট্রাম্পের এই ৮টি যুদ্ধ থামানোর দাবি স্পষ্টতই একটি অতিরঞ্জন। তার তালিকায় এমন দুটি পরিস্থিতির কথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা তার কার্যকালে আসলে কখনোই যুদ্ধ ছিল না। মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার পরিস্থিতিটি ছিল একটি ইথিওপিয়ান বাঁধ প্রকল্প নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ, এটি কোনো যুদ্ধ নয়। সার্বিয়া ও কসোভোর মধ্যে যে রহস্যময় কথিত সমস্যার তিনি সমাধান করেছেন বলে দাবি করছেন, সেটিও কোনো যুদ্ধ ছিল না। তাছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও রুয়ান্ডা ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার যুদ্ধটি এখনও শেষ হয়নি। ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ থামানোর দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও ইসরাইল সেই ভূখণ্ডে ঘন ঘন হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে।

ট্রাম্প অবশ্য ২০২৫ সালে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত সংঘাতটির অবসান ঘটাতে সাহায্য করেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে ২০২৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি নতুন যুদ্ধ শুরু করতে ইসরাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দেয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেষ পর্যন্ত মানুষের ওপর আক্রমণ করতে পারে বা মানুষকে মেরে ফেলতে পারে—এমন মারাত্মক সতর্কবাণীগুলোকে ট্রাম্প তার ভাষণে উপহাস করে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এই সতর্কবাণীগুলো আসছে “ঠিক সেইসব মানুষের কাছ থেকে যারা বলেছিল যে আমরা সবাই ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের’ কারণে ১২ বছরের মধ্যে মারা যাব। যে শব্দটির নাম পরবর্তীতে বদলে ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ রাখা হয়েছিল। কারণ গ্রহটি শীতল হচ্ছিল, উষ্ণ নয় এবং কেউই মারা যায়নি।”

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সম্পর্কে তার এই একটিমাত্র বাক্যের মধ্যে অন্তত চারটি বড় ভুল রয়েছে। প্রথমত, ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ শব্দগুচ্ছটি প্রচলিত হলেও ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়ন’ শব্দগুচ্ছটির ব্যাপক ব্যবহার এখনও বজায় রয়েছে। এই দুটি শব্দের অর্থ সম্পুর্ণ আলাদা। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা দুটি শব্দই ব্যবহার করেন; সাধারণত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা বোঝাতে তারা ’বৈশ্বিক উষ্ণায়ন’ ব্যবহার করেন, আর সেই প্রবণতার কারণে পৃথিবী জুড়ে যে বহুবিধ প্রভাব দেখা দিচ্ছে তা বোঝাতে ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ শব্দটি ব্যবহার করেন। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেলের ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ’ক্লাইমেট চেঞ্জ ২০২৩: সিন্থেসিস রিপোর্ট’। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, প্রধানত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাধ্যমে, সুনিশ্চিতভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটিয়েছে; যার ফলে ২০১১-২০২০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১৮৫০-১৯০০ সালের তুলনায় ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।’

দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প ঠিক কোন সময়ের কথা বলছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে না জানালেও, তিনি এই বাস্তব সত্যটি স্বীকার করেননি যে পৃথিবী ক্রমাগত উষ্ণ হচ্ছে, শীতল নয়। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা গত জানুয়ারিতে জানিয়েছে যে, ‘রেকর্ড অনুযায়ী বিগত ১১ বছর ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম ১১টি বছর; যার মধ্যে ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সাল ছিল ইতিহাসের তিনটি সবচেয়ে বেশি উষ্ণ বছর; যা নাসার গবেষণাতেও উঠে এসেছে। যদিও ২০২৫ সাল ২০২৪ সালের মতো অতটা উত্তপ্ত ছিল না।

তৃতীয়ত, উষ্ণায়নের এই নানা প্রভাবের কারণে ‘কেউই মারা যায়নি’; ট্রাম্পের এমন দাবির সাথে বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেন। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা অসম্ভব হলেও, কিছু হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা কোটিতে পৌঁছাতে পারে। আর এই মৃত্যুর ধারা চলতেই থাকবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ’২০৩০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া এবং অতিরিক্ত গরমের কারণেই প্রতি বছর আনুমানিক আরও আড়াই লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।’

চতুর্থত, কোনো ব্যক্তি হয়তো কোথাও বলে থাকতে পারেন যে ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আমরা সবাই ১২ বছরের মধ্যে মারা যাব’। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের কোনো প্রতিবেদনে বিষয়টিকে এভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ২০১৮ সালে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের বহুল আলোচিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, প্রাক-শিল্পায়নের যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হলে আগামী ১২ বছরের মধ্যে কার্বন নির্গমন মারাত্মকভাবে কমিয়ে আনতে হবে। বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন যে এই সীমা পার হয়ে গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য মারাত্মক ও প্রাণঘাতী প্রভাবগুলো আরও প্রকট হবে। যদিও ২০১৮ সালের প্রতিবেদনটিকে রাজনীতিবিদরা প্রায়শই অতি-সরলীকরণ করেছিলেন, তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি কখনোই এটি ছিল না যে ‘আমরা সবাই ১২ বছরের মধ্যে মারা যাব’। তাদের মূল বক্তব্য ছিল যে ভবিষ্যৎ ভালো রাখার জন্য আগামী ১২ বছরের মধ্যে বড় ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের জোয়ার বইছে; তার নিজের এই পূর্ববর্তী ভুল দাবির একটি কিছুটা সতর্ক সংস্করণ এবার ট্রাম্প পেশ করেছেন। জাতিসংঘে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা সারা বিশ্ব থেকে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছি। ‘তাঁর এই 'প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত' করার নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়ার পরেও এই সংখ্যাটির কোনো দৃশ্যমান ভিত্তি নেই। হোয়াইট হাউস কখনোই এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। প্রেসিডেন্ট যখন জাতিসংঘে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ওয়েবসাইটেই দাবি করা হয়েছিল যে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ‘১১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের’ প্রধান বিনিয়োগ ঘোষণা এসেছে, যা প্রেসিডেন্টের উল্লেখ করা ‘২১ ট্রিলিয়ন ডলারের’ প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক কম। তাছাড়া, ২০২৫ সালে একটি বিশদ পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, হোয়াইট হাউসের তৈরি করা সেই তালিকায় ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের অস্পষ্ট বিনিয়োগের অঙ্গীকার বা ওয়াদাকে গণনা করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ছিল মূলত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক আদান-প্রদান সম্পর্কিত, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি কোনো বিনিয়োগের বিষয় নয়। এমনকি সেখানে এমন কিছু অস্পষ্ট বিবৃতিও যুক্ত করা হয়েছিল যা সাধারণ অঙ্গীকারের পর্যায়েও পড়ে না।

হোয়াইট হাউসের এই হিসাবের মধ্যে যেমন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার রয়েছে, তেমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানির অঙ্গীকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ফেডারেল তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী দেখা যায়, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৃত নতুন প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩২ বিলিয়ন ডলার।

ট্রাম্প তার ভাষণে ইরানের সাথে যুদ্ধের পক্ষে দীর্ঘক্ষণ সাফাই গেয়েছেন। এবং তিনি দাবি করেছেন, ‘কাপুরুষ ও দেশদ্রোহীরা বলতে পছন্দ করবে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু তা সত্যি নয়। আমাদের কাছে এত বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, যা আমরা কখনো ব্যবহার করার কথা ভাবতেও পারি না এবং আমরা এমন স্তরে এগুলো তৈরি করছি যা আমরা আগে কখনো করিনি।’

মার্কিন গোলাবারুদের মজুদের বর্তমান সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কিত গোপন তথ্যে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নেই এবং ট্রাম্প কাদের ‘কাপুরুষ ও দেশদ্রোহী’ বলছেন তাও স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের সাথে যুদ্ধ যে মার্কিন গোলাবারুদের অন্তত কিছু স্তরের মজুদ কমিয়েছে; তা কেবল গণমাধ্যমই রিপোর্ট করেনি; প্রতিরক্ষা বিভাগ তদারকি করা ফেডারেল ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং ফেডারেল কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসও গত সপ্তাহে প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে মূলত একই কথা বলেছে।

ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি অ্যাকুইজিশন অফিস জানিয়েছে যে, ‘এই (যুদ্ধে) গোলাবারুদ ব্যয়ের ফলে কৌশলগত ইনভেন্টরিতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং গোলাবারুদ পুনরায় সরবরাহের ক্ষেত্রে শিল্প ভিত্তির বাধাগুলোকে উন্মোচন করেছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাকুইজিশন অফিস আরো উল্লেখ করেছে যে পেন্টাগন প্রশমন কৌশলগুলো বাস্তবায়ন শুরু করলেও, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তির উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন। প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বাধাগুলো রয়ে গেছে সলিড রকেট মোটর উৎপাদন, উচ্চ-মানের বিস্ফোরক ও প্রোপেল্যান্টের প্রাপ্যতা এবং দক্ষ উৎপাদন শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে।’

কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ‘মিসাইল ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি রয়েছে এবং এই যুদ্ধ কয়েক বছরের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইন্টারসেপ্টরের একটি হ্রাসপ্রাপ্ত মজুদের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে একটি সংক্ষিপ্ত সংঘাতের সময় ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ করার আগেও প্রতিরক্ষা বিভাগের কাছে ইন্টারসেপ্টরের মজুদ সীমিত ছিল। বাজেট অফিসের গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ২০২৫ সালের জুন থেকে এই গোলাবারুদগুলোর ইনভেন্টরির অর্ধেক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রতিরক্ষা বিভাগ সম্প্রতি যে পরিমাণ মিসাইল ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, সেগুলোর বর্তমান কম উৎপাদন হার এবং ঐতিহাসিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধির জটিলতা বিবেচনা করলে, প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্টারসেপ্টরের মজুদ পুনর্গঠন করতে সম্ভবত অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে; এমনকি উৎপাদন বাড়ানো হলেও।’

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অপরাধের হার কমার যে চিত্র, তা আবারও বাড়িয়ে উপস্থাপন করেছেন। তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘গত বছরের ২০ জানুয়ারি আমি যখন ওয়াশিংটন, ডিসি-তে এসেছিলাম, তখন এটি অপরাধে জর্জরিত ছিল এবং এখন অপরাধের হার ৮৭ ভাগ কমে গেছে এবং আমরা এটিকে শতভাগে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’ এই ৮৭ ভাগ কমার দাবিটি মোটেও সঠিক নয়।

যদিও এই বছর ওয়াশিংটনে সামগ্রিক অপরাধের হার প্রকৃতপক্ষে কমেছে। তবুও স্থানীয় পুলিশ বিভাগ গত সোমবার পর্যন্ত মোট ১৫ হাজারেরও বেশি অপরাধ রেকর্ড করেছে এবং তা প্রকাশ্য নথিতে জানিয়েছে। ২০২৪ সালের একই তারিখের তুলনায় এটি প্রায় ২৩ ভাগ কমেছে। কিন্তু ট্রাম্প বারবার যে ৮০ শতাংশের বেশি কমার দাবি করছেন, তা কোনোভাবেই নয়।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট গত আগস্ট মাসে এক প্রতিবেদনে জানায় যে, দেশের রাজধানীতে অপরাধের হার ৮১ ভাগ, ৮৮ ভাগ বা ৯২ ভাগ কমে গেছে বলে ট্রাম্প যে দাবিগুলো করেছেন, হোয়াইট হাউস তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেসব প্রতীকে ইউপি নির্বাচন হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


যেসব প্রতীকে ইউপি নির্বাচন হবে

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। আগামীতে স্থানীয় সরকারের সকল স্তরের নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সাধারণ সদস্য এবং সাধারণ সদস্য আসনের জন্য প্রতীক বরাদ্দ করেছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। তবে আজ বুধবার সেই প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যানদের জন্য ২০টি, সংরক্ষিত আসনে ১০টি এবং সাধারণ সদস্য প্রার্থীদের জন্য ১২টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কোন পদে থাকছে কী প্রতীক

চেয়ারম্যান পদের জন্য বরাদ্দকৃত ২০টি প্রতীক হলো: কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি টেক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা এবং হাঁস।

সাধারণ আসনের জন্য বরাদ্দকৃত ১২টি প্রতীক হলো: উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব এবং মোরগ।

সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বরাদ্দকৃত ১০টি প্রতীক হলো: আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ এবং হেলিকপ্টার।

এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনী অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, দেশের ও বিদেশের প্রার্থীর নিজস্ব এবং নির্ভরশীলদের সম্পদের হিসাবও দিতে হবে।

বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়ে যাবে।

এদিকে, চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যয়ের সীমা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য পদপ্রার্থীর ব্যয় ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%