০২:৩৩ এম
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম এবং জার্মানির লেরয় সানের পায়ের দিকে খেয়াল করেছেন কি? তাদের মোজার পেছনের দিকটি দেখলে বিশাল বিশাল ফুটো দেখা যাবে। পেছনে কাটা এবং পাশে ছেঁড়া—যেন কেউ কাঁচি দিয়ে কাটছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই সেদিন মাঠে নেমেছিলেন কাটা মোজা পরে। কিন্তু বেলিংহাম ও সানেদের মোজার এমন অবস্থা কেন? এই প্রশ্নের উত্তর বের করেছে ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য অ্যাথলেটিক।
মূল কারণটি খুবই সহজ—আরাম। আধুনিক ফুটবল মোজা তৈরি হয় পলিয়েস্টার দিয়ে। এটি টেকসই এবং জলরোধী হলেও, পায়ে পরে একে আড়ষ্ট লাগে এবং নড়াচড়ায় বাধা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন : হুমায়ুন কবীর
অনেকে মনে করেন, পেছনে ফুটো থাকলে পায়ের পেশিতে চাপ কমে, রক্ত চলাচল ভালো হয়, ক্র্যাম্পের ঝুঁকি কমে, আর এভাবে স্বাধীনভাবে খেলা যায়। ক্রিকেটে এর কাছাকাছি উদাহরণ দেখা যায়—ফাস্ট বোলাররা অনেক সময় জুতোর সামনের দিকে ফুটো করে রাখেন।
কিন্তু বিজ্ঞান কি বলে? চিকিৎসাবিশেষজ্ঞরা এই যুক্তির সঙ্গে একমত নন। ফুটবলারদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান থ্রিসিবি পারফরম্যান্সের একজন চিকিৎসক রাজ ব্রার বলেছেন, মোজা কাটা যে পায়ের চাপ কমায়, এর পক্ষে কোনো চিকিৎসাগত প্রমাণ নেই। বরং মাঠের বাইরে ‘রিকভারির’ জন্য কাজ করে হাই-প্রেশার কম্প্রেশন মোজা, যেগুলো পরে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং ফোলাভাব তা কমায়।
হামেলস মোজা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান নির্বাহী অ্যালান ভাদ নিলসেন জানান, কিছু ব্র্যান্ডের লোগো স্পষ্ট রাখতে মোজা এতটা শক্ত বোনে তৈরি করা হয় যে, তা পরতে কষ্ট হয়। তবে নতুন প্রযুক্তিতে এখন কুশনিং, কম্প্রেশন জোন এবং মেশ ইনসার্ট যোগ করা হচ্ছে—যাতে পা ঠান্ডা এবং শুকনো থাকে।
সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যে সবাই বেলিংহাম ও সানেদের এভাবে মোজা পরা নিয়ে একমত নন। সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল তার পডকাস্টে ২০২৪ সালে বলেছেন, ‘ওদের কাছে চার শো জোড়া বুট রয়েছে, এবং সব মাপমতো তৈরি। নাইকি বা স্পনসরের মোজা একটু বড় সাইজের দিতে পারবে না—এটি আমি মানি না।’
আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে টেক সিটি গড়তে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
তবে বিশ্বকাপে এমন মোজা পরিধান করতে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন