০৯:৫৪ এম
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মাঝরাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার রহস্যজনক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনে উল্লেখ করা ঠিকানা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর নিয়ে নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, আলোচিত মোটরসাইকেলটির (ঢাকা মেট্রো-ল ৫১-৫৩২৪) রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া দুটি মোবাইল নম্বরই ভুয়া। নম্বর প্লেটের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। দুটি মোবাইল নম্বরের মধ্যে একটির শেষ তিন সংখ্যা ১৫২, যা এক শোরুম মালিকের।
তবে তিনি জানিয়েছেন, ওই মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি এবং কিভাবে তার নম্বর সেখানে এসেছে, তা তিনি জানেন না। অন্য একটি নম্বর দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে।
আরও পড়ুন: অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি - মো. তমিজ উদ্দিন এমপি
প্রসঙ্গত, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে বাইকের তিন আরোহীকে ঢাকার রাস্তায় দেখা যায়। ওমরাহ সফর শেষ করে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করেন।
তিনি লক্ষ্য করেন, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীটির পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল। সন্দেহজনক এই দৃশ্য দেখে প্রত্যক্ষদর্শী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার চেষ্টা করেও সংযোগ পাননি। পরে তিনি মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটসহ স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
টঙ্গী পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। রেজিস্ট্রেশনের অসংগতি ও মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
ফেসবুক পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে কমেন্টে দাবি করা হয়, মেয়েটি উত্তরার একটি বারে মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ওই আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়, ‘এই মেয়েটা উত্তরায় একটি বারে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে তাকে হুইলচেয়ারে করে নিচে নামানো হয়। আমি ওই বারে ছিলাম। তাই বিষয়টি জানি।’
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে ছয় বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে কামরুলের ১০ বছরের কারাদণ্ড
এই দাবি সম্পর্কে কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সন্দেহ প্রকাশ করলে আইডি থেকে পাল্টা রিপ্লাই দিয়ে বলা হয়, ‘এটা আজকের ঘটনা। আমি ড্রেস দেখে মেয়েটিকে চিনেছি। আমি শিওর হওয়ার পর আমার বন্ধুদের দেখালাম। ওরাও শিওর হলো যে ওই মেয়েটাই।’
‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের ওই ফেসবুক আইডির দাবির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। এছাড়া মোটরসাইকেল মালিকের আসল ঠিকানা এবং পরিচয় নিয়ে সন্দেহ থাকায় এই প্রতিবেদনে তার নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন