বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:২৯ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী মিলে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তিনি বলেন, ৯৬ সালের মতো আওয়ামী লীগ ও জামায়াত আবারও দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে।
রাজশাহী সফরের সময়, স্নাইপার দিয়ে হত্যার হুমকি সম্বলিত এক যুবকের ফেসবুক পোস্টের পেছনে বিরোধী দলের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন রাশেদ খান। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের উসকানিতে ওই যুবক এ ধরনের দুঃসাহস দেখিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলার চাপরাইল আবু বকর বিশ্বাস মকছেদ আলী কলেজে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, ৯৬ ও ৮৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত জোট করেছিল। বর্তমানে তারা আবারও একত্রিত হয়েছে। জামায়াত ও আওয়ামী লীগ মিলে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এক যুবক ফেসবুকে স্নাইপার দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনার পেছনে বিরোধী দলের উসকানি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা উচিত। বিরোধী দলের উসকানি ও বিতর্কিত অবস্থানের কারণে ওই যুবক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করার উৎসাহ পেয়েছে।
এ সময় জামায়াতের আমিরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াতের আমির সবসময় মিথ্যা কথা বলেন। জামায়াতের নেতারা তাকে দরবেশ ভাবতে পারে, কিন্তু জামায়াতের আমির একের পর এক রাজনৈতিক মিথ্যাচার করে চলেছেন। তিনি জাসদ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সন্ত্রাস করেছেন এবং মিথ্যা কথা বলেছেন। জামায়াতে যোগ দেওয়ার পর কি তিনি মিথ্যা বলার অভ্যাস ত্যাগ করেছেন? জামায়াত ও আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রস্তুত আছে।
অনুষ্ঠানে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, যুগ্ম সদস্য সচিব ইলিয়াস রহমান মিঠু, কলেজের প্রিন্সিপাল মশিয়ার রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলে আ’লীগসহ সব ধরণের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন শ্রমিক লীগ নেতা
‘শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক’ সমস্যার কারণে আ’লীগের রাজনীতি ইস্তফা দিলেন শ্রমিক লীগ নেতা!
নড়াইল প্রতিনিধি
‘শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক’ সমস্যার কারণে আওয়ামী লীগসহ সব ধরণের রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন লোহাগড়া পৌর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ শেখ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নড়াইলের লোহাগড়াস্থ একটি রেস্তারায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে হানিফ শেখ বলেন, আমি লোহাগড়া উপজেলার রামপুর গ্রামের আবু বকর শেখের ছেলে। আমি লোহাগড়া পৌর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে ছিলাম।
বর্তমানে আমার শারীরিক অসুস্থতা এবং পারিবারিক সমস্যার কারণে সব প্রকার রাজনীতি থেকে অব্যাহতি প্রদান করলাম। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক অঙ্গ সংগঠনের কর্মকাণ্ড থেকে নিজের ইচ্ছায় স্বচিত্তে কারো প্ররোচনা ছাড়া পদত্যাগ করলাম। আমার নামের পাশে বর্ণিত পদ ও আ’লীগ থেকে আজ স্থায়ী ভাবে পদত্যাগের ঘোষণা করছি। #
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে দেড় মাসের এক শিশুকে নেওয়া হলে, দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর তার মৃত্যু ঘটে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।
মারা যাওয়া শিশুটির নাম মুয়াজ আব্দুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় বলে জানান তার মামা রাকিব হাসান।
রাকিব হাসান বলেন, ‘সকাল থেকে আমার ভাগনে খুব কান্নাকাটি করছিল। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তখন জরুরি বিভাগে কোনো ডাক্তার ছিলেন না। সেখানে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা বাইরের ওষুধের দোকান থেকে দুটি ওষুধ আনতে বলেন। ওষুধ এনে দিলে শিশুটিকে নেবুলাইজার দেওয়া হয়। এরপর তারা জানান, ডাক্তার এসে দেখবেন।’
রাকিব হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের অপেক্ষায় তারা সকাল ৯টা পর্যন্ত হাসপাতালে ছিলেন। কিন্তু এর মধ্যে কোনো চিকিৎসক না আসায় শিশুটির মৃত্যু হয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে শিশুটিকে বাঁচানো যেত কিনা- সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগে সেখানকার জরুরি চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। তবে এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির ব্র্যান্ডেনবার্গে পুলিশ রাশিয়ার পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একজন ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফেডারেল পাবলিক প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিয়মিতভাবে রাশিয়ার একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন।
জার্মানি মস্কোর ক্রমবর্ধমান গুপ্ত হামলা প্রতিরোধে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে, যা চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের মতে, তার দেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মান গোপনীয়তা আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আংশিকভাবে ‘ভাদিম ওয়াই’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ভাদিম ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন।
তিনি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিজের যোগাযোগ ব্যবহার করে জার্মানি থেকে ইউক্রেন যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। তার পাচার করা তথ্যের মধ্যে সাঁজোয়া যান, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক তৈরির বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়াও, ন্যাটোর পূর্ব সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে নিয়োজিত সামরিক কর্মী এবং বিভিন্ন ঘাঁটির অবস্থান সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্যও তার সংগ্রহে ছিল।
প্রসিকিউটররা আরো জানিয়েছেন, গুপ্তচর যে তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, তার কিছু অংশ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত বা ইন্টারনেটে পাওয়া যেত। তবে বাকি সংবেদনশীল তথ্যগুলো তিনি ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানায় কর্মরত ব্যক্তিদের কাছ থেকে গোপনে সংগ্রহ করেছিলেন।
বার্লিনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস মন্তব্যের অনুরোধে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফভি) এর তথ্যের ভিত্তিতে ব্র্যান্ডেনবার্গ রাজ্যের ওডার-স্প্রি জেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রুশ গুপ্তচর গ্রেফতারের পর জার্মান চ্যান্সেলর মের্জ বলেছেন, তিনি এই গ্রেফতারে মোটেও অবাক নন এবং ভবিষ্যতে এমন আরো ঘটনার মুখোমুখি হতে পারে জার্মানি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউরোপজুড়ে নাশকতামূলক ও সাইবার হামলা বৃদ্ধির আশঙ্কায় জার্মানি উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। অভিযুক্ত ভাদিমকে আগামীকাল শুক্রবার ফেডারেল কোর্টের বিচারকের সামনে হাজির করা হবে, যেখানে তার জামিন নামঞ্জুর করে প্রাক-বিচার আটকাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ