ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

৬ মাসে সব কাজ শেষ সম্ভব নয় : পানিসম্পদ মন্ত্রী


৬ মাসে সব কাজ শেষ সম্ভব নয় : পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন যে, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাসে সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিরোধী দলেরও এই বিষয়টি বুঝতে হবে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকায় রহমতখালী খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই কর্মসূচিটি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও জেলা কৃষকদলের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

এ্যানি উল্লেখ করেন, ‘সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাস হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কি ছয় মাসে শেষ হয়ে গেছে? বিরোধী দলের এটি বুঝা উচিত। ছয় মাসের মধ্যে তারা লংমার্চ করবেন। আমরা ফটোসেশনের রাজনীতি করি না।’

আরও পড়ুন: মাইশার মৃত্যুর পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, বিশেষজ্ঞ দল আসছে

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। গত মার্চে দিনাজপুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন, কৃষি উৎপাদন, মৎস্য চাষ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় এর সুফল দেখা যাচ্ছে। তারেক রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করা হয়েছে।

এর আগে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। মার্চে দিনাজপুরের কাহারোল থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

এ্যানি আরও বলেন, খাল খনন শুধুমাত্র একটি কর্মসূচি নয়, এটি দেশের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি বৃহৎ উদ্যোগ। দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল জনগণ পাবে।

আরও পড়ুন: বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবে নোয়াখালী-চট্টগ্রাম-সিলেট দখলের উসকানি দিলেন

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপন, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, জেলা কৃষকদলের সভাপতি মাহাবুব আলম মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার-বিরোধী দল উভয়েই ব্যর্থ: তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ পি.এম


জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার-বিরোধী দল উভয়েই ব্যর্থ: তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া জনআকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণে সরকার এবং বিরোধী দল—দুজনেই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার, বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবের কারণে জাতীয় ঐক্যের মধ্যে বিভাজন তৈরি হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে মঞ্চ ২৪ আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির অনৈক্য ও বাংলাদেশের ক্ষতি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির আন্দোলন ছিল না। এতে অংশ নিয়েছেন বিচারক, সচিব, পুলিশ কর্মকর্তা, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার, রিকশাশ্রমিক এবং শিক্ষার্থী—বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গুলি, হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যান সামনে থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা রাজপথে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষও ছিলেন।

তিনি বলেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, সেখানে অনৈক্যের সুযোগ থাকা উচিত নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; তবে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রশ্নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, মানুষের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা পরিচালিত হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিপীড়ন, হত্যাকাণ্ড কিংবা হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের কাজে ব্যবহার করা হবে না। নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হবে না এবং রাষ্ট্র দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে সুশাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল এটি বাস্তবায়নে সম্মত হয়ে স্বাক্ষর করেছে। এখন মূল মতপার্থক্য বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে। তবে জনগণ কোন পদ্ধতিতে এটি বাস্তবায়ন হবে, সেটিকে মুখ্য মনে করে না। তারা জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটে দেওয়া রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চায়।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন হবে, নাকি সংস্কারের মাধ্যমে—এটি জনগণের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা দেখতে চায়, সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন, সংসদ কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং রাষ্ট্রের কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এসেছে।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচারের ধারণা সামনে রেখে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব বিচার দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রধান অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে প্রকৃত স্বস্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কারা এবং কীভাবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল, কোন বাহিনী বা প্রতিষ্ঠান এতে ভূমিকা রেখেছিল—এসব তথ্য যথাযথভাবে নথিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করতে হবে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।

নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস পরেও কাঙ্ক্ষিত সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম বলেন, যারা ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও হেলিকপ্টারের সামনে বুক পেতে জীবন দিয়েছেন, তারা প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার না হলে হতাশ হবেন। সেই ক্ষোভ বাড়তে থাকলে আবারও আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

রাষ্ট্র সংস্কারে সরকারের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না এবং বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধানেও ব্যর্থ হচ্ছে।

সংসদ সদস্যদের ভূমিকার সমালোচনা করে তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোন প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়েছিল, তা অনেক সংসদ সদস্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি।

বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক বিরোধিতা করা এবং বিকল্প পথ তুলে ধরা বিরোধী দলের দায়িত্ব। কিন্তু তারাও এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছেন না। ফলে সরকার ও বিরোধী দল—দুই পক্ষই জনগণের গণআকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ১৭ বছরের গুম, নিখোঁজ, মামলা ও কারাবরণের ইতিহাস। এসব ত্যাগের কথা মনে রেখে সরকার ও বিরোধী দলকে জাতীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যথায় কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করতে পারে।

জুলাইয়ের শহীদ ও নিখোঁজদের পরিবারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সন্তান হারানো পরিবারের বেদনা এবং গুম হয়ে যাওয়া স্বজনের অপেক্ষায় থাকা মানুষের কষ্ট ভুলে গেলে রাষ্ট্র তার পথ হারাবে। জুলাইয়ের শহীদদের স্বপ্ন ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

সেমিনারে মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকীর সভাপতিত্বে সংগঠনটির উপদেষ্টা ডিউক হুদা, ড. ফয়জুল হক, লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ, শেখ মহিউদ্দিন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান ইস্যুতে জটিল সংকটে পড়েছে আমেরিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


ইরান ইস্যুতে জটিল সংকটে পড়েছে আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে চরম অনিশ্চয়তা ও জটিল সংকটে পড়েছে। 

ইরানকে ঘিরে চলমান সংকটে আমেরিকা আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়বে এবং এই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে হবে, এমন তথ্য সংবাদসংস্থা 'তাস'-কে জানিয়েছেন ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানি কৌশলবিদরা প্রমাণ করেছেন যে, তারা একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত, যা এই সংঘাতের রণক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের অবস্থা এমন কয়েক ডজন উদাহরণের মধ্যে একটি যা শত্রুর ক্লান্তি এবং সংঘাত সহ্য করার অক্ষমতাকে প্রকাশ করে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং ইরানি জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কার্যকলাপ চলতে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে জবাব দেওয়া আমাদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। আমাদের জোরালো প্রতিরক্ষা এবং প্রতিশোধমূলক হামলার মতবাদ অনুসারে, ইরান সংঘাতের সময় ও স্থান এমনভাবে নির্ধারণ করতে পারে যা শত্রুর সর্বাধিক ক্ষতিসাধন করবে।’

ইরানি কর্মকর্তাটি বলেন, ‘এই অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতির সম্প্রসারণ কেবল এটাই নিশ্চিত করে যে, ইরানি জনগণের সহনশীলতা ও প্রতিরোধ মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর আরও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হবে এবং আমেরিকাকে আঞ্চলিক সংকটের আরও গভীরে টেনে নিয়ে যাবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযান: ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ ও মোটরসাইকেল জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযান: ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ ও মোটরসাইকেল জব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৩ বিজিবি)।

আজ শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধীনস্থ মনাকষা বিওপির একটি বিশেষ টহলদল এই অভিযান পরিচালনা করে। জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রাম থেকে ১টি মোটরসাইকেলসহ ৭৬ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দকৃত এস্কাফ সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০,৪০০ টাকা এবং মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য ১,৪০,০০০ টাকা। উদ্ধারকৃত মালামালের সর্বমোট মূল্য ১,৭০,৪০০ (এক লক্ষ সত্তর হাজার চারশত) টাকা। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ও মোটরসাইকেল শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উলেখ্য, মাদকবিরোধী অভিযানে বিজিবির ধারাবাহিক সফলতার অংশ হিসেবে এর আগে আগস্ট মাসেও ৫৩ বিজিবি ৫২২ বোতল এস্কাফ সিরাপ, ১১৫ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ, ৩০ পিস ইয়াবা এবং ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছিল।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন ব্যক্তির শরীরে শূকরের কিডনি, ২৭১ দিন কার্যকর থাকার রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ পি.এম


মার্কিন ব্যক্তির শরীরে শূকরের কিডনি, ২৭১ দিন কার্যকর থাকার রেকর্ড

মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা শূকরের একটি কিডনি ২৭১ দিন কার্যকর থাকার একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মানুষের শরীরে জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের ঘটনা।

রোগী টিম অ্যান্ড্রুজের কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণে। ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি, ৬৬ বছর বয়সে তার শরীরে জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রতিস্থাপনের পরপরই কিডনিটি কার্যকর হতে শুরু করে এবং ২৭১ দিন ধরে রক্ত পরিশোধনের কাজ করে।

অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, এই চিকিৎসা তাকে নতুন করে বাঁচার আশা দিয়েছে। কিডনিটি কার্যকর থাকার সময় তিনি কয়েক মাস হাসপাতালে গিয়ে ডায়ালাইসিস করাতে বাধ্য হননি। তিনি উল্লেখ করেন, ডায়ালাইসিস মেশিন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সম্ভাবনাই ছিল তার কাছে সবচেয়ে বড় আশা।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের চিকিৎসক দলের মতে, এই সাফল্য প্রমাণ করে যে মানুষের কিডনি পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা রোগীদের জন্য শূকরের অঙ্গকে ‘সেতু’ হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব রোগী মানবদাতার কিডনি পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন, তাদের জন্য এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে।

তবে ২৭১ দিন পর শূকরের কিডনিটি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। চিকিৎসকরা সেটি অপসারণ করেন এবং এরপর অ্যান্ড্রুজকে ৮২ দিন ডায়ালাইসিস নিতে হয়। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি একজন মানবদাতার কিডনি পান। নতুন কিডনিটি ভালোভাবে কাজ করছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

অ্যান্ড্রুজকে জানানো হয়েছিল, মানবদাতার কিডনি পাওয়ার জন্য তাকে সাত বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। দীর্ঘ সময় ডায়ালাইসিসে থাকার বিষয়টি তার জন্য উদ্বেগের ছিল। তিনি বলেন, "সময় কমে আসায় পরিস্থিতি ক্রমেই হতাশাজনক হয়ে উঠছিল।" তাই শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগকে তিনি ‘আশা’ এবং ‘সুড়ঙ্গের শেষের আলো’ হিসেবে দেখেছিলেন।

অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য কিডনির সংকট দীর্ঘদিনের। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক লাখ মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন। অথচ প্রতি বছর সেখানে প্রায় ২৫ হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়। যুক্তরাজ্যেও সাত হাজারের বেশি মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপনের তালিকায় রয়েছেন।

অঙ্গের ঘাটতির কারণে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে অন্য প্রাণীর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন। গবেষকদের কাছে শূকরকে এ ধরনের চিকিৎসার জন্য উপযোগী প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ তাদের অঙ্গের আকার মানুষের অঙ্গের কাছাকাছি এবং শূকর পালনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

তবে সাধারণ শূকরের কিডনি মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করলে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সেটিকে বহিরাগত অঙ্গ হিসেবে শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে। এ কারণে গবেষকেরা জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত শূকর তৈরি করেছেন। অ্যান্ড্রুজের শরীরে প্রতিস্থাপন করা কিডনিটি একটি ইউকাটান মিনিয়েচার পিগ থেকে নেওয়া হয়েছিল, যার জিনে ৬৯টি পরিবর্তন করা হয়।

এসব জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শূকরের কোষের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মানুষের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সহজে শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে। পাশাপাশি কিছু মানব জিন যুক্ত করা হয়েছে, যা শূকরের টিস্যুকে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা থেকে আড়াল করতে সহায়তা করে। শূকরের ডিএনএতে থাকা সম্ভাব্য ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

প্রতিস্থাপনের পর অ্যান্ড্রুজের কিডনিতে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আক্রমণের প্রাথমিক কিছু লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। ওষুধের পরিবর্তনের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। তবে প্রায় ছয় মাস পর কিডনিটির রক্তনালিতে ক্ষতি ও প্রদাহ দেখা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত সেটি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। চিকিৎসকরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি ঠিক কী কারণে কিডনিটি ব্যর্থ হয়েছিল।

ম্যাস জেনারেল ব্রিগহামের চিকিৎসক ডা. লিওনার্দো রিয়েলা বলেন, "অঙ্গদাতার সংকট এখন একটি বড় সমস্যা। জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন এমন রোগীদের জন্য ভবিষ্যতে একটি বিকল্প হতে পারে, যাদের জীবিত মানবদাতা নেই এবং যারা দীর্ঘদিন ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল।"

চিকিৎসকরা বলছেন, অ্যান্ড্রুজের ঘটনা মানুষের শরীরে শূকরের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা যেমন দেখিয়েছে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তথ্যসূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%