ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সড়ক-রেলখাতে ব্যাপক বরাদ্দ, বাস্তবায়ন হচ্ছে নতুন পরিকল্পনা: প্রতিমন্ত্রী


সড়ক-রেলখাতে ব্যাপক বরাদ্দ, বাস্তবায়ন হচ্ছে নতুন পরিকল্পনা: প্রতিমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও রেলপথের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ জানিয়েছেন যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সড়ক ও রেলপথ খাতের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক, নিরাপদ এবং গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হবে।

রবিবার, জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যয় হবে ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে ১০৬টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় সরকারি বাসা নেওয়া চাকরিজীবীদেরকে কড়া হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে দেশে ৩ হাজার কিলোমিটার আধুনিক এবং নিরাপদ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন, পর্যটন এবং সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।

রাজধানীর যানজট নিরসনের জন্য সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে হাবিবুর রশীদ বলেন, ঢাকার অভ্যন্তরীণ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। পরিবহন ব্যবস্থাকে দক্ষ এবং পরিবেশবান্ধব করতে সরকার পাঁচ লাখ দক্ষ চালক তৈরির পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে।

রেলপথ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতে প্রায় ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ট্রেনে ইন্টারনেট সেবা চালু, প্রতিটি রেলস্টেশনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ এবং নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংযোজনের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপরেখা।

আরও পড়ুন: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব, প্রজ্ঞাপন জারি

তারপর, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ভূয়সী প্রশংসা করেন, বলেন যে এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৯ এর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলাকাটিতে এখনও বিভিন্ন স্থানে বাঁশের সাঁকো এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তার নির্দেশনায় মুগদা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা থেকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩১ পি.এম


অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে এবং এই বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সবকিছু তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

 রোববার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্যটি করেন।

 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যমুনার অভ্যন্তরে আর যমুনার কিনারেতে দেড় বছরের একটি অস্থির সময় ছিল। সেই সময় আমরা দেখেছি যে, যারা আজকে করাপশনের জন্য হিসাব নিতে বলছেন; ফরেন লোনের কথা বলছেন। এ অবস্থায়, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সবকিছু তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দিন।

তিনি আরো বলেন, করাপশন কোথায় হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, কারা করেছে—সর্বকিছু খুঁজে বের করা উচিত। কারণ, সম্প্রতি টিআইবি একটি রিপোর্ট দিয়েছে পত্রিকায়, যেখানে বলা হয়েছে—সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।

এ সময় তিনি জানান, নির্বাচন ও জাতীয় স্বার্থে জুলাই সনদে সই করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি বাজেটের প্রশংসা, ‘সংস্কার ছাড়া কার্যকরী হবে না’ বিরোধী দলের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩২ পি.এম


বিএনপি বাজেটের প্রশংসা, ‘সংস্কার ছাড়া কার্যকরী হবে না’ বিরোধী দলের দাবি

সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে তারা সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলটি বলেছে, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া এই বাজেট কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাজেট মান বজায় রেখে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক সংস্কারে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। তবে বিরোধী দলের অভিযোগ, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পরেও সরকার সেখানে উল্লেখিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা উল্লেখিত মন্তব্যগুলো করেন।

গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। এতে আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছে, যেখানে বিদায়ী অর্থবছরে প্রাথমিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাজেটে গৃহীত পরিকল্পনার সুফল তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান নাও হতে পারে, তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশবাসী এর ইতিবাচক প্রভাব দেখতে পাবেন বলে তার ধারণা।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই বাজেট একটি অত্যন্ত সংকটময় সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এই সংকট কাটিয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সর্বদা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে এবং এবারও করবে। অর্থমন্ত্রীও একটি বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন এবং তিনি সফলভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস থাকে।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এখনও ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলে তাদের জন্য রাজনীতি আরও সহজ হতে পারে।

বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদের অন্যতম স্বাক্ষরকারী দল হওয়ার পরেও বিএনপি সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে বাজেটে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবায়িত হবে, এমন বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।

তিনি দুর্নীতি বন্ধ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং অর্থপাচারে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান, যাতে বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সরকার ফারাক্কা ব্যারাজ থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে কাজ করছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কারিগরি কমিটি এই বিষয়ে কাজ করছে। একই সাথে পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রথম ধাপে ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলা উপকৃত হবে এবং প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ২৬ জেলার ১৬৩টি উপজেলার প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ এর সুফল পাবে।

তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, চলতি বছরের মধ্যেই এ প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি জেলার কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ওষুধ শিল্পের ৭৭টি কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানো এবং অব্যাহতির প্রস্তাব মানব চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের জনগণ চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ নিজ পকেট থেকে বহন করে থাকে, যেখানে তুলনামূলকভাবে থাইল্যান্ডে এই হার ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, জ্বালানি খাতকে স্বনির্ভর করে তোলার জন্য আগামী বাজেটে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় অধিক। নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান সরকার জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দিয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ ছিল।

শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে নিরাপদ হাতে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বাজেট সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়ে উঠবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বর্তমান সংসদে সরকার ও বিরোধী দল যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা ভবিষ্যতের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, বাজেটে ব্যয় কাঠামো নতুনভাবে বিন্যাস করা হয়েছে। সামাজিক অবকাঠামোয় ৩০ শতাংশ, ভৌত অবকাঠামোয় ১৮ শতাংশ এবং সাধারণ সেবায় ২৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, পরিচালন ব্যয় ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে নামানো হয়েছে এবং উন্নয়ন ব্যয় ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেছেন, বাজেটে সড়ক ও মহাসড়ক খাতে ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয়ে ব্যয় হবে ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ১০৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ৩ হাজার কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেলও নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বাজেটকে নারীবান্ধব আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এতে নারীর ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন বলেছেন, সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এসব সুবিধা যাতে প্রকৃত তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, এই বাজেট একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, এই বাজেট প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক চিত্র বদলে দেবে।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের অগ্রাধিকার প্রশংসনীয়।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য বজায় থাকলে জুলাইয়ের চেতনা অক্ষুণ্ন থাকবে এবং কোনো অপশক্তি দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না।

বাজেট আলোচনায় সরকারি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সফলতার জন্যও তাকে অভিনন্দন জানান।

এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান, নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, রাকিবুল ইসলাম, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-২) ও এটিএম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হারারে টেস্টে ব্যাটে-বলে ব্যর্থ বাংলাদেশ, এগিয়ে জিম্বাবুয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ পি.এম


হারারে টেস্টে ব্যাটে-বলে ব্যর্থ বাংলাদেশ, এগিয়ে জিম্বাবুয়ে

হারারে টেস্টের প্রথম দিনটা দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে বাংলাদেশের। ব্যাট হাতে বিপর্যয় দেখার পর বোলিংয়েও মলিন ছিল টাইগাররা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে বড় লিডের পথে এগোচ্ছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

হারারেতে আজ (২৮ জুন) একমাত্র টেস্টে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। প্রথম দিনে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে কেবল ১৪০ রানে। জবাবে জিম্বাবুয়ে ১ উইকেট হারিয় ১৩৬ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে।

 টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা জুতসই হয়নি বাংলাদেশের। শুরুতেই বিদায় নিতে হয় ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে। তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্টি নিয়েই মাঠ ছাড়তে দেখা যায় তাকে। ১৭ বল খেলে ২ রান করে ফেরেন জয়। আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামও বেশিদূর যেতে পারেননি। ২০ রান করে ফেরেন সাজঘরে।  

 তবে শুরুর ধাক্কা সামলে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুমিনুল হকের জুটিতে ভালোই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। মুমিনুলকে ফিরিয়ে ৭৭ রানের সেই জুটি ভাঙেন ন্যামহুরি। ৮১ বলে ৬০ রান করে ফেরেন মুমিনুল। এই উইকেটের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন।

 ৭৩ বলে ১৯ রান করে ফেরেন শান্ত। এরপর আর কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। মুশফিকুর রহিম, তাওহিদ হৃদয়, অমিত হাসানদের সবাই ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাতে দেড়শর আগেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।

 জিম্বাবুয়ের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন ন্যামহুরি। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন রিচার্ড এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানি এবং ব্র্যাড ইভানস।

 জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। দুই ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া এবং বেন কারান শুরু থেকেই ভালো ব্যাটিং করেছেন। ৫১ বলে ৪২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে ফিফটির ঠিক আগে সাজঘরে ফিরেন কারান।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ পি.এম


বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল পরিচালনা সহজতর করার উদ্দেশ্যে এবং চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি তাতে বিনিয়োগের ক্ষমতা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬ আজ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। এর পর বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮-এর বিধান অনুসারে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও, হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি, কারণ সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও সহায়ক জনবলের অভাব এবং সুস্পষ্ট পরিচালন কাঠামো নেই।

হাসপাতালটির কার্যকর পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে বিদ্যমান আইনে সংশোধন আনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিশ্ববিদ্যালয়কে চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে লাভজনক অথবা অলাভজনক কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান গঠন করার ক্ষমতা, সেসব প্রতিষ্ঠানে শেয়ার ক্রয়, ধারণ ও হস্তান্তরের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ক্ষমতা সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা, কোম্পানিগুলোর পরিচালনা বিধি তৈরির বিধান, সেগুলোর আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে বিনিয়োগের শর্তাবলী পরিষ্কারভাবে নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, এই কাঠামোর আওতায় আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হলে দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা চিকিৎসক, শিক্ষক ও গবেষকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, জ্ঞান ও দক্ষতা দেশে স্থানান্তরের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সরকারের বিশ্বাস যে, এই উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে চিকিৎসা প্রশিক্ষণের কার্যক্রম রেসিডেন্সি, ফেলোশিপসহ আরও শক্তিশালী হবে। শিক্ষার্থীরা উন্নত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসক, গবেষক ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব কোম্পানি থেকে অর্জিত আয় পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে বিনিয়োগ করা যাবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%