০৫:১৪ পি.এম
মেগাসিটির অবয়ব পরিবর্তন এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি বড় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চসিকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট পেশের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিমত হচ্ছে, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পুরো চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত চেহারা বদলে যাবে এবং নগরবাসী আধুনিক, টেকসই ও নিরাপদ নগরীর সুবিধা ভোগ করবেন। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, প্রকল্পগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের চিরচেনা যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বড় প্রকল্প রয়েছে, যার ব্যয় যথাক্রমে ২২০০ কোটি টাকা, ৩৫০০ কোটি টাকা এবং ২৮০০ কোটি টাকা, যা নগরের প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানে ধন্বন্তরি হিসেবে কাজ করবে।
এছাড়া সড়ক সম্প্রসারণ, ফুটপাত আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পৃথকভাবে ৪০০ কোটি, ৪৫০ কোটি এবং ১০০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় ৩০০ কোটি টাকা ও ২০৩ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়র পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: ভাঙ্গায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে হলে দিতে হবে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা
চসিকের তথ্যানুসারে, বন্দরনগরীতে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে প্রাথমিক সড়কসমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২,২০০ কোটি টাকা। এটি ছাড়া, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য নেওয়া হয়েছে দুটি বিশাল প্রকল্প। ৩৫শ কোটি টাকার প্রথম প্রকল্পে ২১টি প্রধান খালসহ অন্যান্য খালের খনন করা হবে। অন্যদিকে সিডিএ কর্তৃক বাস্তবায়িত ৩৬টি খালের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনে ব্যয় হচ্ছে ২৮শ কোটি টাকা।
নগরীকে নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত কাঠামোর আওতায় আনতে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম এবং সৌর ও সাধারণ শক্তির সমন্বয়ে 'স্মার্ট লাইটিং' প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এছাড়া নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে 'স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম' চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর দিয়ে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে আধুনিক ল্যান্ডফিল নির্মাণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক যান ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের জন্য ২৯৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় চসিকের উন্মুক্ত স্থানসমূহের উন্নয়ন ও সবুজায়নের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার বাজেট ৪৫০ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: সংঘর্ষের জন্য নেওয়া হচ্ছিল ১৪০ রাউন্ড গুলি, ধরা পড়লেন স্বপ্না আক্তার
যোগাযোগের অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রেল ক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাস নির্মাণে ১,০০০ কোটি টাকা এবং নগরীর দেওয়ানহাট ব্রিজ নির্মাণে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ। এছাড়া, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি 'কিচেন মার্কেট কাম বাণিজ্যিক ভবন' নির্মাণ করছে কর্পোরেশন। চসিকের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক 'নগর ভবন' নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে ২৭ কোটি টাকার ওপর নির্মাণ কাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই নতুন মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পগুলোর আওতায় চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে। ১২টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টির সুনির্দিষ্ট প্রাক্কলিত ব্যয় ১১ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা ও ব্যয় চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে, যা যুক্ত হলে মোট ব্যয় ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন