ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে

কাউখালীতে রাস্তার উপরে সাঁকো দিয়ে মানুষের চলাচল


কাউখালীতে রাস্তার উপরে সাঁকো দিয়ে মানুষের চলাচল

 

পিরোজপুরের কাউখালীতে, উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাউদার খাল এলাকা থেকে বড় শাপলাজা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সহজেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশের মাটি, ধসে ও ভেঙে যাওয়ার ফলে, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জীবনযাত্রার ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। ভাঙা অংশগুলো পারাপারের জন্য, স্থানীয়রা রাস্তার ওপরেই তাদের নিজস্ব উদ্যোগে অস্থায়ী কাঠের বা বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টি কিংবা জোয়ারের পানিতে রাস্তার অধিকাংশ অংশ সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। ফলে তখন চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে যায়। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শাপলাজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়তুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, একটি এতিমখানা ও একটি কওমি মাদ্রাসাসহ অন্তত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী জীবন-ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। এর সাথে এলাকার সাধারণ মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করে মোল্লারহাট ও পাঙ্গাসিয়া বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করেন। সড়কটির বেহাল দশার কারণে পুরো এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছে, "প্রতিদিন স্কুলে যেতে আমাদের এই বিপজ্জনক সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় পা পিছলে বই-খাতা নিয়ে নিচে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।" এলাকা বাসিন্দা মিরাজ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, "বহু বছর আগে সাবেক ইউপি সদস্য নূরে আলম মীর এই রাস্তার সংস্কার করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আর কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।" রাস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে, স্থানীয় ইউপি সদস্য এনায়েত হোসেন বলেন, "সরকারি বরাদ্দ পেলে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করব।" একই বিষয়ে শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানাচ্ছেন, "বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই রাস্তার সংস্কার কাজ করা হবে।"

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "শিক্ষার্থী ও এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে যেকোনো গ্রামীণ অবকাঠামো সচল রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের এই কাঁচা সড়কটির বেহাল দশা এবং সাঁকো দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে আমি অবগত হলাম। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর/কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় কিংবা এলজিইডির মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নতুন সরকারের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান

তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি

 

"মোগো প্রেত্যেকের শইল্লে চুলকানি। খাউজাইতে খাউজাইতে ক্ষ্যাত হইয়া যাইতেছে। জ্বালাপোড়ায় আর বাঁচতে পারতেছি না। এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটা হওয়ার পর থেইক্কা এই সমস্যা। চুলকানিতে আমাগো মাইয়াগো চেহারা নষ্ট হইয়া যায়। একারণে এহন এই গ্রামরে মাইয়াগোরে কেউ বিয়াও করতে চায় না। শুধু খাউজানি চুলকানি না- ক’দিন পর পর আমাগো ডায়রিয়া অয়। আরো কত সমস্যা যে মোগো জীবনসঙ্গী হইয়া গেছে বলে শেষ করা যাইতোনা।"

এই কথাগুলো বলেছিলেন বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বড় অংকুজানপাড়া এলাকার নারীরা। শনিবার (২০ জুন) বিকালে তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নতুন পাড়া গ্রামে এক উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে গ্রামের নারীরা অভিযোগ করেন। বৈঠকে উপস্থিত ২১ জন নারীর মধ্যে ১৭ জনের নিজের শরীরে এলার্জি জনিত রোগ রয়েছে বলে জানানো হয়। কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে এই উঠান বৈঠক যৌথভাবে আয়োজন করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রীর জন্য আমরা (ধরা), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ এবং পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি।

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিশন গ্রিন বাংলাদেশের পরিচালক, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক সাংবাদিক কেফায়েত শাকিল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ধরিত্রীর জন্য আমরা (ধরা) এর তালতলী-আমতলী অঞ্চল সমন্বয়ক রহমান আরিফ এবং তালতলী উপজেলা সদস্য সচিব মো. মোস্তাফিজ আকন। উঠান বৈঠকে অংশ নেওয়া নারীরা জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য জোরপূর্বক আমাদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করেছে। আজ পর্যন্ত আমরা ক্ষতিপূরণ পাইলাম না, জমিও পাইলাম না। এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্র হওয়ার পর থেকে নদীতে গরম পানি ছাড়ায়। এ কারণে আমাদের নদীতে মাছ নাই। অথচ আমাদের এলাকার পুরুষদের অধিকাংশের পেশা ছিল জেলে। তারা এখন মাছ না পেয়ে বেকার হয়ে গেছে। আমরা সবাই অর্থ সংকটে ভুগছি। এর মধ্যে আবার সবার শরীরে এলার্জিসহ নানান রোগ বাসা বেঁধেছে। আমরা কিভাবে এখন চিকিৎসা করবো? আমাদেরতো খাবারেরই টাকা নাই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেফায়েত শাকিল বলেন, "পুরো বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। ঠিক তখন কারো আপত্তিকে আমলে না নিয়ে সরকার চাইনিজ কোম্পানিকে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিল। অথচ যে চায়না কোম্পানি বাংলাদেশে এসে এই দূষণকারী বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে তারা নিজেদের দেশে এমন জীবন বিধ্বংসী প্রকল্প জীবনেও নিতে পারতো না। নতুন সরকারের উচিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা।"

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রহমান আরিফ বলেন, "এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরো তালতলীর মানুষের জীবন বিপন্ন করে দিয়েছে। এটি কোনো আইন মেনে নির্মাণ করা হয়নি। পরিবেশ আইনকে মোটেও তোয়াক্কা করা হয়নি। এখনো এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ কোনো আইন মানে না। তারা না ঢেকে কয়লা আনা নেওয়া করে, দূষিত পানি নদী/খালে ছাড়ে আর চিমনির দূষণতো আছেই। সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করতে না পারুক অন্তত এই দূষণগুলো বন্ধ করেতো মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারে।" বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. মোস্তাফিজ বলেন, "তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা ধোয়া বর্জ্য অবাধে পায়রা নদীতে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে আমাদের রূপালী ইলিশের বিচরণক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে এবং নদীতে ইলিশের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। যা আমাদের মৎস্যসম্পদ এবং এর সাথে জড়িত হাজারো জেলের জীবিকাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া আমাদের পার্শ্ববর্তী ঐতিহ্যবাহী টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই দূষিত বাতাস শুধু বনের পশুপাখির ক্ষতি করছে না, বরং স্থানীয় এলাকার মানুষের কৃষি জমি ধ্বংস করছে এবং জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে। ফুসফুসের রোগসহ নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।"

"তাহলে অবিলম্বে কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পসহ সকল পরিবেশবিনাশী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প উৎসগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
জামালগঞ্জে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ

শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় পিএফজির ১১ দফা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় পিএফজির ১১ দফা ঘোষণা

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ পিএফজির উদ্যোগে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সম্মেলন কক্ষে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের এমআইপিএস প্রকল্পের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা এবং সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংলাপে পিএফজির পক্ষ থেকে ১১ দফা ঘোষণা করা হয়। সুনামগঞ্জ পিস এম্বাসেডর নেটওয়ার্ক (প্যান) এর সমন্বয়কারী নুরুল হক আফিন্দীর সভাপতিত্বে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্টের মাঠ সমন্বয়কারী কীদরত পাশার সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বন্দে আলী। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. নাজমুন নাহার নূর (লুবনা)।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাম শাহা, উপজেলা শিক্ষা অফিসার পীযুষ কান্তি মজুমদার, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার সাব্বির সারোয়ার, ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তালুকদার, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালেক, মডেল মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ বিন ফরিদ মুছা, পুজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি শম্ভু আচার্য্য, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সহসভাপতি সঞ্জবি বরুয়া, মহিলা পরিষদের সভাপতি শেখ আয়শা।

সভা শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মোহাম্মদ বিন ফরিদ মুছা, গীতা পাঠ করেন পিএফজির নারী এম্বাসেডর বীণা রানী তালুকদার, ত্রিপঠক পাঠ করেন সঞ্জিব বরুয়া। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর কিদরত পাশা।

উক্ত সংলাপে বক্তব্য রাখেন জামালগঞ্জ উপজেলা মসজিদের ইমাম হাফেজ নূর উদ্দিন, জামালগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ওয়ালী উল্লাহ সরকার, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অঞ্জন রায়, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল খালিক, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, মাওলানা ইমরান, আলী হোসেন, সাবেক উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মারজানা ইসলাম শিবনা, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আল-আমীন, পিস এম্বাসেডর আলেয়া বেগম, ইউপি সদস্য মিনারা আক্তার বেবী রানী, ইয়থ পিস এম্বাসেডর গ্রুপের সাদিকুর রহমান স্বাধীন, শারিফ আহমদ, সালমা আক্তারসহ অন্যান্যরা।

প্রধান অতিথি বন্দে আলী অনুষ্ঠানে আসার আগে বুঝতে পারিনি যে এত ভালো একটি অনুষ্ঠান হবে, আমার মনে হচ্ছে ভাল এবং ব্যতিক্রমধর্মী একটি অনুষ্ঠানে এসেছি। আমি আশা করি আপনাদের মাধ্যমে জামালগঞ্জ উপজেলায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে। আমি যেহেতু আইন-শৃঙ্খলার কাজে জড়িত, আপনাদের সহযোগিতা আমার প্রয়োজন হবে। আপনাদের প্রয়োজনে আমাকে সবসময় পাশে পাবেন। আমরা সবাই মিলে একটি শান্তির জামালগঞ্জ গঠনে কাজ করবো। তিনি আহ্বান জানান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কে যে আমাদের সচেতন হতে হবে, সেখানে কোনো ধরণের গুজব ছড়ানো হলে না জেনে সহমত প্রকাশ করা যাবে না। যাচাই-বাচাই করতে হবে। বিশেষ মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি কার্যক্রমের সুফল কামনা করে এমন একটি ভালো উদ্যোগের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। সভায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এবং পিএফজির কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা এবং এযাবৎকালে পরিচালিত কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরা হয়। ধর্মীয়, জাতিগত এবং রাজনৈতিক সংঘাত-সহিংসতা পরিহার করে একটি শান্তি ও সম্প্রীতির জামালগঞ্জ গড়তে সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করা হয়।

ধর্মীয় নেতারা বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান থেকে সম্প্রীতির বাণী সকলের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ধর্মের নামে অধর্ম করা যাবে না। যারা ধর্মীয় অনুসাসন মেনে চলে, তারা সংঘাত সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে না। অংশগ্রহণকারীরা শান্তি সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় করণীয় বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। এ সময় শান্তি-সম্প্রীতির জামালগঞ্জ গড়তে ১১ দফা সম্বলিত ঘোষণা পাঠ ও সনদ প্রকাশ এবং স্বাক্ষর করেন উপস্থিত সকলে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৌলতখানে মেধাবৃত্তি প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


দৌলতখানে মেধাবৃত্তি প্রদান

ভোলার দৌলতখান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) কমার্স ব্যাংকের এমডি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মোঃ ওবায়দুল হক ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এ বৃত্তি প্রদান করেন। সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি শ্রেণির প্রথম মেধাবী ৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় ৩ হাজার টাকা ও তৃতীয় মেধাবী শিক্ষার্থীকে ২ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করেন। বৃত্তি প্রদানকালে তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বলেন, মোবাইল ছেড়ে পড়াশোনার প্রতি ওদের মনোযোগী ও আগ্রহী হতে হবে। এতে ভবিষ্যতের পথ উজ্জ্বল হবে। দেশ ও জাতির সেবা করার সুযোগ পাবে। এ সময় বিশিষ্ট সমাজসেবক শামসুদ্দিন সামসু মিয়া, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব কুমার হালদার, সহকারি শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন সোহাগ ও জাবের হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি দৌলতখান মহিলা কলেজ সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কুসল বিনিময় করে তাদের খোঁজখবর নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
মানবস্বাস্থ্য নিশ্চিতে

মৎস্য সম্পদের গুনগত মান রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


মৎস্য সম্পদের গুনগত মান রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার খাল-বিল ও জলাশয়ের দূষিত পানি ব্যবহার করে বরফ তৈরি হচ্ছে। ফ্রি-স্টাইলে যুগের পর যুগ দূষিত পানির মাধ্যমে প্রস্তুত বরফ দিয়ে সমুদ্র অথবা নদী থেকে আহরিত ইলিশ এবং নানা ধরনের সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণ করে বাজারজাত করানো হচ্ছে। এসব দূষিত বরফ ব্যবহার করে মাছ খাওয়ার ফলে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি মরনব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ওই দূষিত পানির বরফে সংরক্ষণ করা মাছের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে জেলেরা মাছের ন্যায্য দামও পাচ্ছে না। কলাপাড়া এলাকায় ৬০টিরও অধিক বরফকল রয়েছে, কিন্তু সেখানেও মাত্র একটি বরফকল নিরাপদ পানির ব্যবহারে বরফ উৎপাদন করে। বর্তমানে কলাপাড়ার উপকূলে ডিপ অথবা শ্যালো স্থাপন করেও সুপেয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এই কারণে ফ্রি-স্টাইলে দূষিত পানির তৈরি বরফ ব্যবহার করে প্রতি বছর অন্তত ৫০ হাজার মেট্রিকটন ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। যা মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত নয় এবং নিরাপদ নয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মানবস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং মৎস্য সম্পদের গুণগত মান বজায় রাখতে বরফ তৈরির জন্য ব্যবহৃত পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত: নিরাপদ পানির ব্যবহার, পানির লাইন পৃথকীকরণ, নিয়মিত ল্যাব টেস্ট এবং পানির ট্যাংক ও কাঠামোর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কলাপাড়া উপজেলার মুন, লাবীবা, ভাই ভাই, জমজম এবং তামান্না আইস প্লান্টের বরফকলের পানির মান যাচাইয়ের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

তিনি জানান, বরফকলগুলোর বরফ উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির উৎস এবং আশপাশের পরিচ্ছন্নতার জন্য অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। কুয়াকাটা সি ফুড আইস প্লান্টে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যায়ে ফিল্টার পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু এটি ব্যয়বহুল, তাই প্রত্যেক বরফকলে এই ধরনের ফিল্টার উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়। এর জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কুয়াকাটায় দেড় একর জমিতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, মাছ অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং দ্রুত পচনশীল খাদ্য। মাছ ধরার পর থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত এর সতেজতা বজায় রাখতে বরফ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। কিন্তু যদি মাছ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বরফ অনিরাপদ বা দূষিত পানির মাধ্যমে তৈরি হয়, তাহলে সেই বরফ মাছকে নিরাপদ রাখার পরিবর্তে জীবাণু ও রাসায়নিক দূষণের উৎসে পরিণত হতে পারে। এর ফলে মাছের গুণগত মান দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, খাদ্যজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয়, কৃষিজ রাসায়নিক, কীটনাশক, আগাছানাশক এবং সারজাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করা পানির উৎস থেকে সংগৃহীত পানি দিয়ে বরফ তৈরি হলে, সেই মাছ খেয়ে যেকোনো বিষক্রিয়া ও হরমোনজনিত সমস্যাগুলি আসতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ক্যান্সারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

দূষিত পানির তৈরি বরফ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করলে, মাছের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং দ্রুত পচনশীল হয়ে পড়ে। কারণ দূষিত বরফে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেশি থাকে। ফলে মাছ কোমল হয়ে যায়, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং বাজারমূল্য কমতে থাকে। জীবাণুর কার্যকলাপের কারণে মাছের প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায়। দূষিত বরফ ব্যবহারে জেলেদের ক্ষতি হয়, মাছ দ্রুত নষ্ট হয়, বাজারমূল্য কমে যায়, ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, ভোক্তাদের আস্থা কমে যায়, জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি ঘটে এবং রপ্তানিযোগ্য মাছের মানহীন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম ক্ষুণ্ন হয়, যার ফলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।

কলাপাড়া উপজেলার প্রাক্তন স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাঃ আব্দুর রহিম জানান, দূষিত পানির বরফে জীবাণু, ভাইরাস বা রাসায়নিক দূষক থাকতে পারে। বরফ গলে গেলে মাছের ত্বকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। খাদ্যবাহিত রোগ যেমন সালমোনেলোসিস, শিগেলোসিস, কলেরা, হেপাটাইটিস এ এবং নোরোভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ভারী ধাতু যেমন সিসা, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, পারদ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। যদি দূষিত পানির বরফে কলেরা, টাইফয়েড বা হেপাটাইটিস এ-এর জীবাণু বা ভাইরাস উপস্থিত থাকে, তাহলে মাছ দূষিত হতে পারে, এবং যথাযথভাবে রান্না না করা বা দূষিত অবস্থায় খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া, দূষিত বরফে পরজীবীর ডিম বা সিস্ট থাকলে পরজীবী সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। অন্যদিকে রাসায়নিক দূষক মাছের শরীরে জমে বিষক্রিয়া ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। ভারী ধাতু মাছের শরীরে স্থানান্তরিত অথবা জমা হতে পারে, যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বিষক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যসমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘মাছের গায়ে যদি ক্ষত বা কাটা অংশ থাকে তবে জীবাণু দ্রুত প্রবেশ করতে পারে। তবে সাধারণভাবে দূষণ সবচেয়ে বেশি হয় মাছের বাইরের অংশে। তবে মূল বার্তা হচ্ছে, দূষিত বরফ মাছের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, ‘অনিরাপদ বা দূষিত পানির তৈরি বরফ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করলে মাছ রোগজীবাণু, রাসায়নিক দূষক এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ দ্বারা দূষিত হতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে মাছের স্বাদ, গন্ধ, রং, পুষ্টিমান ও সংরক্ষণক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দূষিত বা অনিরাপদ বরফ ব্যবহারে ফলস্বরূপ আহরিত মৎস্যের আহরণ পরবর্তী ক্ষতি হয়, যার পরিমাণ প্রায় ৮%। তাছাড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ইতিমধ্যে নিরাপদ ও পানযোগ্য পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় মৎস্য অধিদপ্তর কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মাছের গুণগত মান বজায় রাখতে নিরাপদ পানির তৈরি স্বাস্থ্যসম্মত বরফ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%