ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজধানীতে সমাবেশের ডাক ১১ দলীয় জোটের


রাজধানীতে সমাবেশের ডাক ১১ দলীয় জোটের

আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট। সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হবে গণহত্যার বিচারের ধীরগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে। এই কারণে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে।

আজ সোমবার, জোটের পক্ষ থেকে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা করেন ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয় নগরে এই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশের বিষয়ে হামিদুর রহমান জানান, জামায়াত আমিরসহ জোটের দলগুলোর শীর্ষ নেতারা সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। একই দাবি নিয়ে ৪ জুলাই জেলা শহরে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানিকগঞ্জে বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫২ পি.এম


মানিকগঞ্জে বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর এলাকায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু ঘটেছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যার এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই কৃষক হলেন কাঞ্চননগর গ্রামের নেওয়াজের ছেলে কবির হোসেন (৩০) এবং রফি মিস্ত্রির ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫)। তাদের জীবিকা ছিল কৃষিকাজ।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে গাড়ির মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন কবির ও শহিদুল। হঠাৎ করে আবহাওয়া খারাপ হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যে তারা মাঠে কাজ করতে থাকায় আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত জামাল ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেছেন।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বক্তব্যে বলেন, 'বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর আমি পেয়েছি। ঘটনার স্থানটিতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে কাজ করছে।

একটি ব্যবসা শুরু করতে যেখানে আগে প্রায় এক বছর সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আদর্শ পরিস্থিতিতে একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধুমাত্র অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং এটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

এই রূপান্তরের সময়কে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদন ভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির কথা বলা হয়েছে। এ শব্দগুলো শুধু অলংকার নয়; বরং বর্তমান সরকার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি।

বাজেটে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থার জটিলতা হ্রাস এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, নিয়ম-নীতি প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশগত সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, যথাযথ পর্যালোচনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।

এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় যেসব দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তারা টিকে থাকবে এবং সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশ সরকারও এ রূপান্তরকে সমর্থন করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি) সেল’ প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সরকারের লক্ষ্য।

ফোরামের সুপারিশ প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রসার এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বিশ্বাসযোগ্য সোর্সিং ও উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুপারিশের সঙ্গে সরকার সম্পূর্ণ একমত।

ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কোথায় সময় কমানো ও প্রক্রিয়াগত ওভারল্যাপ দূর করা সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে এসব পরিবর্তন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে একটি জন ঘোষণা দেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয়union-এর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এক্সিকিউটিভ মেম্বার মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি (দ্বিপাক্ষিক-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলমহাল আইন খসড়া প্রস্তুত, থাকছে শাস্তির বিধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


জলমহাল আইন খসড়া প্রস্তুত, থাকছে শাস্তির বিধান

দেশের সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, জলাশয় দখল ও দূষণ রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য নতুন ‘সরকারি জলমহাল আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে সরকার।

খসড়া আইনে জলমহাল অবৈধভাবে দখল, ভরাট, দূষণ, প্রাকৃতিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা এবং জলজ সম্পদ বিনষ্টের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, 'দেশের নদী, খাল, বিল, হাওর, বাঁওড় ও অন্যান্য সরকারি জলমহাল শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এগুলো আমাদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে জলমহাল দখল, ভরাট, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে এসব সম্পদ যেন হুমকির মুখে পড়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর সরকারি জলমহাল আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, নতুন আইনের মাধ্যমে জলমহালের সুরক্ষা, টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এভাবে অবৈধ দখল, ভরাট, পরিবেশ বিনষ্ট এবং জলজ সম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছে, যাতে কেউ সরকারি জলমহাল ক্ষতিগ্রস্ত করার সাহস করতে না পারে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, 'এই আইন শাস্তিমূলক আইন নয় বরং এটি জলমহাল সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা, মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার একটি সমন্বিত আইন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে, যেন এটি বাস্তবমুখী ও কার্যকর হয়।'

ভূমি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন বিধিমালা, প্রশাসনিক আদেশ ও নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হলেও একটি পূর্ণাঙ্গ আইন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জলমহাল সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহারকে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের নদী, খাল, বিল, হাওর, বাঁওড়, জলাভূমি ও অন্যান্য সরকারি জলাশয়ের বড় একটি অংশ বিভিন্ন সময়ে অবৈধ দখল, ভরাট ও দূষণের শিকার হয়েছে।

এর ফলে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং পরিবেশগত ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

নতুন আইনের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

খসড়া আইনের বিধান অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি জলমহালের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হবে।

প্রতিটি জলমহালের আয়তন, অবস্থান, শ্রেণি ও ব্যবহারের ধরন নিবন্ধিত থাকবে। এতে জলমহাল সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারি সহজ হবে এবং দখল বা শ্রেণি পরিবর্তনের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

খসড়ায় জলমহালকে পরিবেশগত গুরুত্বের ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

কোনো জলমহাল যদি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাছের প্রজনন বা পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, তাহলে সরকার সেটিকে সংরক্ষিত জলমহাল হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে।

সংরক্ষিত জলমহালে বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম বা বাণিজ্যিক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।

আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের স্বার্থ সংরক্ষণ। খসড়া অনুযায়ী, জলমহাল ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও স্থানীয় প্রকৃত জেলেদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মাধ্যমে জলমহাল নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

নতুন আইন কার্যকর হলে প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

খসড়ায় জলমহাল সংরক্ষণে পরিবেশগত দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি জলমহালের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন, দূষণ সৃষ্টি, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস কিংবা জলজ পরিবেশের ক্ষতি করে, তাদের আইন অনুযায়ী শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

আইনের শাস্তি সংক্রান্ত অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, কেউ যদি অবৈধভাবে সরকারি জলমহাল দখল করে, তাহলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

একইভাবে, অনুমতি ছাড়া জলমহাল ভরাট, মাটি ফেলা বা এর শ্রেণি পরিবর্তনের চেষ্টা করলে একই ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া, কেউ যদি বাঁধ, স্থাপনা বা অন্য কোনো অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে জলমহালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। জলমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু, মাটি, পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খসড়ায় বিষ প্রয়োগ, বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে মাছ ও জলজ প্রাণী ধ্বংসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে।

আইন অনুযায়ী সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। জলমহাল সংরক্ষণ বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুতর অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যাতে অবৈধ দখলদার ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, দেশের জলমহালগুলো শুধুমাত্র মাছ উৎপাদনের উৎস নয়, বরং বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি ধারণ, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এসব জলাশয়ের রক্ষায় একটি শক্তিশালী আইন সময়ের দাবি ছিল।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকা সরাসরি জলমহালের ওপর নির্ভরশীল। জলমহাল সংরক্ষণ এবং প্রকৃত জেলেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে পরিবেশবিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, একমাত্র আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, বরং এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। জলমহাল ইজারা প্রদান, ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে আইনের প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, খসড়া আইনের ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ, মৎস্যজীবী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেয়া হচ্ছে। এসব মতামত পর্যালোচনা শেষে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঙ্গলবার ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের রি-ইস্যু নিলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ পি.এম


মঙ্গলবার ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের রি-ইস্যু নিলাম

বাংলাদেশ ব্যাংকে ১৫ বছর (রি-ইস্যু) এবং ২০ বছর (রি-ইস্যু) মেয়াদি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (২৩ জুন)।

সম্প্রতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগাযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ (ডিসিপি) একটি পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকে মঙ্গলবার ১৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড বিক্রির জন্য (অবশিষ্ট ১৩.৭৬ বছরের জন্য রি-ইস্যু) নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এই নিলামে, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ ১২ দশমিক ২৮ শতাংশ কুপন হারে ইস্যু করা ১৫ বছর মেয়াদি (আইএসআইএন নম্বর বিডি ০৯৪০৩৮১১৫৭) ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অভিহিত (লিখিত) মূল্যের ট্রেজারি বন্ড রি-ইস্যু করা হবে। এই বন্ডের মেয়াদ শেষ হবে ২০৪০ সালের ২৭ মার্চ।

আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, মঙ্গলবার ২০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড বিক্রির জন্য (অবশিষ্ট ১৮.৯৩ বছরের জন্য রি-ইস্যু) নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এ নিলামে ২০২৫ সালের ২৮ মে ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ কুপন হারে ইস্যু করা ২০ বছর মেয়াদি (আইএসআইএন নম্বর বিডি ০৯৪৫৪৬১২০২) ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অভিহিত (লিখিত) মূল্যের ট্রেজারি বন্ড রি-ইস্যু করা হবে। এই বন্ডের মেয়াদ শেষ হবে ২০৪৫ সালের ২৮ মে।

এছাড়া, উভয় ট্রেজারি বন্ডের রি-ইস্যু নিলাম প্রাইসভিত্তিক হবে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, নিলামে অংশ নিতে পারবে শুধুমাত্র সরকারি সিকিউরিটিজের প্রাইমারি ডিলারের ভূমিকায় নিয়োগ পাওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে অন্যান্য ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানও তাদের নিজস্ব খাতে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী গ্রাহকদের জন্য (যাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাব নেই) প্রাইমারি ডিলারের মাধ্যমে নিলামে বিড দাখিল করতে পারবে।

অভিহিত (লিখিত) মূল্যে প্রতি ১০০ টাকা মূল্যের বন্ড কেনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাইস ও বন্ড কেনার পরিমাণ উল্লেখ করে নিলামে অংশগ্রহণ করতে হবে। সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টার মধ্যে ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকে স্থাপিত এফএমআইয়ের মাধ্যমে বিড দাখিল করতে হবে। তবে বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি নিয়ে ম্যানুয়াল বিডস ইন সিলড কভারস পদ্ধতিতে বিড দাখিল করা যাবে।

এদিকে, নিলামে অংশগ্রহণের বিস্তারিত নির্দেশনা ইতোমধ্যে প্রাইমারি ডিলারসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%