সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৪ এম
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সন্ত্রাসবিরোধী একটি ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে। গত তিন দিন ধরে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এই অভিযানে ভারত ও আফগানিস্তানের ‘মদতপুষ্ট’ ৭১ জন নিহত হয়েছেন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসলামাবাদের এই অভিযোগের বিষয়ে কাবুল ও নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, আফগানিস্তান জানায়, পাকিস্তান থেকে কথিত দায়েশ সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে ঢোকার পর আফগান বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেছে। তবে পাকিস্তান আফগানিস্তানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদ একে ‘হাস্যকর, ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে উল্লেখ করেছে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘নুরিস্তান বা আফগানিস্তানের অন্য কোথাও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জড়িত থাকার দাবি পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ বা প্রশিক্ষণ দেওয়া কিংবা আফগানিস্তানে সক্রিয় দায়েশ বা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার অভিযোগও সম্পূর্ণ বানোয়াট।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, এসব হামলার পেছনে ভারত ও আফগানিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তবে ভারত ও আফগানিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তান আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী তালেবান সরকারকে টেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সদস্যদের দমন করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। টিটিপি বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দেশটির মাটি ব্যবহার করে টিটিপির সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আফগানিস্তান জানায়, তারা আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানোর অনুমতি দেয় না।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর এবং তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। এসব হামলার বড় অংশই টিটিপি চালিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৬ পুলিশ সদস্য ছিলেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান থেকে উৎক্ষেপণ করা ড্রোন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার পর পাকিস্তান আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়। ইসলামাবাদ এসব হামলাকে ‘পরিকল্পিত, নির্ভুল, পরিমিত ও আনুপাতিক’ বলে বর্ণনা করেছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, হামলাগুলো শুধুমাত্র শনাক্ত করা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ ছিল এবং এসব স্থাপনা ড্রোন হামলার চেষ্টার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।
পাকিস্তান আফগান তালেবানের প্রতি অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে বৈরী তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘কার্যকর, সুনির্দিষ্ট, যাচাইযোগ্য ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ’ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা জয়নাল সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বহুল আলোচিত খুনি এরশাদ শিকদারের সঙ্গে একই মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। গ্রেপ্তার হওয়া জয়নাল সরদার গৌরনদী উপজেলার বাকঁপুরা গ্রামের মৃত আহম্মদ আলী সরদারের পুত্র।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, খুলনায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে খুলনার রূপসা থানায় এফআইআর নং-৬, তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭, জিআর নং-৭৯, দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা রয়েছে।
এছাড়া, খুলনা থানার মামলা নং-০২(০৯)৯৯, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ এবং মামলা নং-০৬(০৯)৯৯, ধারা ৩০২/২০১/৩৪, দণ্ডবিধির মামলাও রয়েছে। এর মধ্যে মামলা নং-০৬(০৯)৯৯-এ আদালত জয়নাল সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর জয়নাল সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ জানায়, সাজাপ্রাপ্ত ও বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ পশ্চিম তীরে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গাজায় ইসরাইল যে ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, পশ্চিম তীরেও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, ডানপন্থি রিলিজিয়াস জিওনিজম পার্টির নেতা স্মোটরিচ এই মন্তব্য করেন। তিনি পশ্চিম তীরের কিছু অঞ্চলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সীমিত স্বায়ত্তশাসন বিলুপ্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্মোটরিচের এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘সুক্কোত’ উপলক্ষে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশের বিভিন্ন পথ ‘সম্পূর্ণভাবে বন্ধ’ করার নির্দেশ দেয়।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরের আশপাশে ইসরাইলি বাহিনী চলাচলে কড়াকড়ি আরও বাড়িয়েছে। বেশ কিছু শহর ও গ্রামের সড়ক এবং প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রামাল্লার উত্তরে তুরমুস আয়্যার প্রবেশপথও বন্ধ করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হয়রানি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াফা জানিয়েছে।
এছাড়া আবুদ, নবী সালেহ, আতারা ও তাইবেহ এলাকার প্রবেশপথ বন্ধ করা হয়েছে। ইয়াবরুদ ও আইন সিনইয়া এলাকার প্রবেশপথে সামরিক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।
স্মোটরিচ পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ওই অঞ্চলে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় সমর্থক। নির্বাচনের আগে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক জোটগুলোর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের জন্য তিনি নিজের রাজনৈতিক অংশীদারদের ছেড়ে যাবেন না।
তিনি আরও বলেন, তার রাজনৈতিক শিবির ইহুদি পরিচয়, জায়নবাদ, ভূমির প্রতি ভালোবাসা, বসতি স্থাপন এবং নিরাপত্তা নীতির মতো বিষয়গুলোতে ঐকমত্যে বিশ্বাস করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কওমি ধারার সাতটি ইসলামী দলের নেতারা নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বৈঠক করেছেন। ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ২৪ সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরী মাদরাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা অংশগ্রহণ করেন। সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
নতুন লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুই দিনের মধ্যে নিজেদের প্রতিনিধিদের নাম হেফাজতে ইসলামের মহাসচিবের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভায় ফিরে আসলে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার হুমকি দিয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেন-গভির ফিলিস্তিনি বন্দি হাসান সালামেহর কারাকক্ষে গিয়ে তাকে সরাসরি হুমকি দিচ্ছেন। তিনি সালামেহকে বলেন, ‘আমি তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে চাই।’
ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেন-গভির জানান, তিনি যদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন, তাহলে সালামেহর মতো বন্দিদের ‘মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করবেন’।
এছাড়া, একই বিবৃতিতে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার নীতিও এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান তিনি।
হাসান সালামেহ ১৯৯৬ সাল থেকে ইসরাইলে বন্দি রয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে প্রাণঘাতী কয়েকটি বোমা হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে একাধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসও বেন-গভিরের প্রকাশ করা ভিডিও নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা ভিডিওটিকে সালামেহর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘মৃত্যুর হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা করেছে।
বেন-গভিরের এই বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেশটির বন্দি নীতি এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ