ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রেশন সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১২-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা


রেশন সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১২-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা

সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দ্রব্যমূল্যের মাঝে ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক সরকারি চাকরিজীবী আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেকেই ধার-দেনা এবং ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন, যা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলে চলেছে। রেশন সুবিধা চালু হলে এই চাপ কমবে এবং কর্মীদের কাজে মনোযোগও বাড়বে। রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবে অর্থ বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি মিলেছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে নির্দেশনা দিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন মাস পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে অগ্রগতি উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাও প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি জানাতে হবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে। দেশের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ১২ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবটি পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক উত্থাপন করেছেন। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল্যবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যার কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ধার-দেনা এবং ঋণের কারণে মানসিক চাপ বাড়ছে এবং দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটছে। রেশন সুবিধা চালু হলে চাপ কমবে এবং জীবনযাত্রা সহজ হবে, পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে মনোযোগ বাড়বে। তাই ১২ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা প্রদান করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থ বিভাগের আওতাধীন এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগের সচিবকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ১২ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি স্বল্প, মধ্যম বা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন হবে কি না, সেই বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধে এবং তিন মাস অন্তর বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপ-সচিব মো. মামুন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানান, ‘ডিসি সম্মেলনে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা বই আকারে প্রকাশের কাজ করছে বিজি প্রেস। বইগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দিয়ে তাদের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠানো হবে।’ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ প্রস্তাব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হতে পারে। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ স্বল্প আয়ের জনগণের জন্যও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। ১২ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রেশন সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া। তিনি বাসস’কে জানান, ‘রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাপন বেশ কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। আবার অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অজুহাত হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা বলেন। রেশন সুবিধা চালু হলে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহজ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে সরকারকে রেশন বিতরণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। অনিয়ম হলে বা প্রকৃত উপকারভোগীরা সুবিধা না পেলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।’ ১২তম গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী বা ক্যাশিয়ার, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর এবং জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর। ২০তম গ্রেড সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন বা চতুর্থ শ্রেণির স্তর। সাধারণত এসএসসি বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতায় এসব পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এ গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী বা নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী এবং ঝাড়ুদার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা পান ১০টি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। এগুলো হলো- সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনী), বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পুলিশ বাহিনীতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক রেশন বরাদ্দ সাধারণত ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি চিনি। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মচারীরা রেশনসহ বিভিন্ন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেন। ওই সময় খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম রেশন সুবিধার পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠান। এরপর থেকেই বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যাদুর্গত মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দিল এ কে ফাউন্ডেশন—মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত মগধরা ইউনিয়নে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ পি.এম


বন্যাদুর্গত মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দিল এ কে ফাউন্ডেশন—মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত মগধরা ইউনিয়নে

মগধরা ইউনিয়নে টানা ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এ কে ফাউন্ডেশন।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইনের নির্দেশনায় ও এ কে ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায়, দুর্গত এলাকার বিভিন্ন পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

দুর্গম ও জলাবদ্ধ এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকরা পায়ে হেঁটে এবং পানি ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘরোয়া উপস্থিতি জানিয়েছে, খাদ্যসামগ্রী সহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে উপকৃত পরিবারগুলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক কার্যক্রম ভবিষতেও অব্যাহত থাকবে।

সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা যেন সকল দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘব করেন এবং মানবসেবার এই মহৎ উদ্যোগকে কবুল করেন। আমীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে নারী যাত্রীকে অশালীন স্পর্শ করার অভিযোগ বাসচালকের, ভিডিও ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


দিল্লিতে নারী যাত্রীকে অশালীন স্পর্শ করার অভিযোগ বাসচালকের, ভিডিও ভাইরাল

বাসের স্টিয়ারিং হাতে নিয়েছেন চালক। বাস ভর্তি যাত্রী রয়েছেন। এর মধ্যেই উঠেছে এক নারী যাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ, বাসচালকের বিরুদ্ধে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ঘটনা ঘটেছে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। সরকারি বাস পরিষেবা দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন বা ডিটিসির বাসে ঘটে চলেছে এই ঘটনাটা। ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়। ওই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে।

যদিও এলাকা থেকে ভিডিওটির সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজন মহিলা বাসের চালকের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। চালক তারকে অশালীনভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করছেন। চালকের এমন আচরণের সত্ত্বেও ওই মহিলা কোনও প্রতিবাদ করেননি। তিনি শুধু একটু দূরে সরে গেছেন।

বাসের ভিতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে একজন ভিডিওটি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন। ভিডিওটি যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তখন বিতর্ক শুরু হয়। গণপরিবহণে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ইন্টারনেটে কিছু ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, যদি ভিডিওটির দৃশ্যটি সত্যি হয়, তবে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নারীদের প্রতিবাদ করার পরামর্শও তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া আছে।

একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি দেখার পর মন্তব্যের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে। বেশিরভাগ নেটিজেনরা বাসচালকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন। আবার কিছু ব্যবহারকারী বলেছেন, ঘটনার সময় ভিডিও করার পরিবর্তে ওই যাত্রীর ঘটনাস্থলে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। তবে এই ভাইরাল ভিডিও-এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিটিসি কর্তৃপক্ষ এখনও কোন বিবৃতি দেয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভয়াবহ আগুনে ২টি অটোরিকশা-মোটরসাইকেল সহ গ্যারেজ পুড়ে ছাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


ভয়াবহ আগুনে ২টি অটোরিকশা-মোটরসাইকেল সহ গ্যারেজ পুড়ে ছাই

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অগ্নিকাণ্ডের একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে দুঃখজনকভাবে একটি গাড়ি রাখার গ্যারেজ পুড়ে গেছে। গ্যারেজের ভিতরে থাকা ২টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ১টি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরের ২টার দিকে উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার রোসাংগিরী ইউনিয়নের ফারুক চেয়ারম্যানের ঘাটা এলাকায় এই দুঃখজনক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, গ্যারেজটির মালিক হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা নূর আহমদ। দুপুরে আকস্মিকভাবে গ্যারেজটিতে আগুন জ্বলে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো টিনশেড কাঠামোয় ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার অনুরূপ পরিস্থিতে খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে তাদের তৎপরতার মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, যদি ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারতো, তাহলে এটি আশপাশের বিভিন্ন দালান ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে আরও বড় ধরনের ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারতো।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমার বড়ুয়া বলেন, "সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত এসেছি এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। যার ফলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।" তদন্ত সাপেক্ষে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যাবে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলোর মধ্যে একটি অটোরিকশার মালিক মোহাম্মদ জয়নাব এবং অন্যটির মালিক হচ্ছেন মোহাম্মদ মজু ইসলাম। এছাড়া পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলটির মালিক মোহাম্মদ ইয়াকুব বলে জানা গেছে।

আগুনে গাড়ি ও টিনশেডের পুরো গ্যারেজটি পুড়ে যাওয়ার কারণে মালিকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারী বৃষ্টি না আসায় সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি স্থির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


ভারী বৃষ্টি না আসায় সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি স্থির

ভারী বৃষ্টি না আসায় সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি স্থির অবস্থায় রয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২ টা পর্যন্ত জেলার অভ্যন্তরে কোন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারেনি। তবে সুনামগঞ্জ- হবিগঞ্জের সীমানায় কুশিয়ারা নদীর পানি দিরাই উপজেলার মার্কুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপরে গিয়ে ৭ দশমিক ২২ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ছাতক উপজেলায় ৮০ মিলিমিটার এবং তাহিরপুরে ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার কমে গেছে, তবে ছাতক উপজেলা পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সজীব হোসাইন জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জ এলাকায় আরও তিন দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিন দিন পর বর্ষাকালের স্বাভাবিক বৃষ্টি নিয়মিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী দুই-তিন দিন সুনামগঞ্জ এবং ভারতের মেঘালয় প্রদেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে সুনামগঞ্জের কিছু স্থানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে এবং নিন্মাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, কয়েক দিনে টানা বৃষ্টিপাত হওয়ায় খেটে খাওয়া, দিনমজুর ও শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। তবে আজ শনিবার সকাল ১০ টার পর কোথাও কোথাও সুনামগঞ্জের আকাশ কিছু পরিস্কার দেখা যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নবী নগর এলাকার অটোরিকশা চালক বাবুল মিয়া বলেন, তিন-চার দিন বৃষ্টির কারণে গ্রাম থেকে শহরে মানুষের উপস্থিতি কমেছে। জরুরি কাজ ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হয়নি। অন্য সময়ে প্রতিদিন ৫০০/৬০০ টাকা উপার্জন সম্ভব হলেও গত কয়েক দিনে অনেক কমেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালী এলাকার নদী তীরের বাসিন্দা আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে বৃষ্টির পরিমাণ কম হওয়ায় সুরমা নদীর পানি সামান্য কমেছে। যতটুকু কমেছে, ভারী বৃষ্টির হলে তার চেয়ে বেশি আবার বাড়তেও পারে। তবে গতকাল থেকে আজকের আবহাওয়া কিছুটা ভালো দেখা যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. ইমদাদুল হক জানান, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আগামী আরও দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সুরমা নদীর পানি স্থির অবস্থায় রয়েছে, তবে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি হলে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্প মেয়াদী বন্যা হতে পারে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১,৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৯২টি নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১,০৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। জেলা-উপজেলায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। চাল এবং শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে। জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%