১০:৫৭ এম
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল আলবেনিয়া। প্রধানমন্ত্রী এডি রামার বিরুদ্ধে সংরক্ষিত উপকূলীয় অঞ্চল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে দেয়ার অভিযোগ এনে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছেন দেশটির হাজার হাজার নাগরিক। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ১৪০ কোটি ইউরোর বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্প।
বিতর্কিত প্রকল্প বাতিলের দাবি নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায়। স্থানীয় সময় শুক্রবারও (৫ জুন) অসংখ্য বিক্ষোভকারী রাজধানীতে জড়ো হন। এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলে ধরেন।
তাদের অভিযোগ, সরকার উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগতভাবে স্পর্শকাতর একটি অঞ্চল বিদেশি বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করছে। বিক্ষুব্ধরা এ সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র
বিতর্কিত প্রকল্পটি জ্যারেড কুশনারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান অ্যাফিনিটি পার্টনার্স দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। নির্মাণাধীন রিসোর্টটি ১৪০ কোটি ইউরো ব্যয়ে আলবেনিয়ার একটি দ্বীপ ও অনুন্নত উপকূলীয় এলাকায় গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ওই অঞ্চলটি ফ্লেমিঙ্গো, সিল ও সামুদ্রিক কচ্ছপের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসাবে পরিচিত।
পরিবেশবাদীদের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কয়েকশ হেক্টর অক্ষত সৈকত ও জলাভূমি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। আলবেনিয়ার প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা জানায়, ভিয়োসা-নার্তা অঞ্চল হচ্ছে দেশে ফ্লেমিঙ্গোদের একমাত্র বাসা বাঁধার স্থান।
প্রতিবছর প্রায় সাত হাজার ফ্লেমিঙ্গো এই প্রসঙ্গ দিয়ে যাতায়াত করে। সংস্থাটির আশঙ্কা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এই পাখিরা সেই অঞ্চল ত্যাগ করতে পারে।
অন্যদিকে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ২০২৪ সালে জ্যারেড কুশনার আলবেনিয়া ও সার্বিয়ায় বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী
তবে বেলগ্রেডে একটি সাবেক সামরিক সদরদফতর পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা জনবিক্ষোভের মুখে গত বছর প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এবারও পরিবেশ ও উন্নয়নের দ্বন্দ্ব নিয়ে আলবেনিয়ার রাজনীতিতে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন