ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যে হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন তিন বস্তির মানুষ


যে হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন তিন বস্তির মানুষ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তির নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষ কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। এই হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসহ রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হচ্ছে।

এছাড়া, হাসপাতালের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটের মতো উন্নত চিকিৎসাসেবা সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার’– এই নীতির আওতায়। হাসপাতালটিতে বস্তিবাসীদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার এবং আট তলায় দুটি পৃথক ওয়ার্ড (পুরুষ ও মহিলা) চালু করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, উদ্বোধনের পর গত আড়াই মাসে বহির্বিভাগে ৬১০ জন সেবা নিয়েছেন এবং ২৩ জন বিভিন্ন জটিল রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সাত জনের অপারেশন করা হয়েছে এবং আরও তিন জনকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অপারেশন করা হবে।

আরও পড়ুন: যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: মিজানুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড

৫ মে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যার আইসিইউ বেড উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। একই দিনে তিনি আইসিইউ ইউনিটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন ও গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টারের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন শেষে ডা. জুবাইদা রহমান রাজধানীর তিন বস্তির মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই বস্তির নিম্নআয়ের মানুষ এই সুবিধা ভোগ করছেন।

এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় বস্তিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে সরেজমিনে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রান্তিক ও বস্তির সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে দীর্ঘদিনের আর্থিক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, এতদিন অর্থের অভাবে তারা বড় হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেতে পারতেন না। তবে, এখন তারা বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা এবং ওষুধ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত।

আরও পড়ুন: তেলের দামে বড় লাফ, দুই মাসে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা আমেনা বেগম বাসসকে বলেন, প্রায় তিন মাস আগে ছানির সমস্যার কারণে এক চোখের অপারেশন করাতে তার ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। বর্তমানে তিনি অপর চোখের অপারেশনের জন্য আবারও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এবার এই চিকিৎসার জন্য তার কোনো টাকা লাগছে না।

বিনামূল্যে এমন উন্নত চিকিৎসাসেবা পেয়ে আবেগাপ্লুত আমেনা বেগম আরও বলেন, ভাগ্য ভালো বলেই আমরা এই বিনামূল্যে সেবা পাচ্ছি। সরকারের এই উদ্যোগ তাদের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য অনেক বড় উপকার বয়ে এনেছে।

রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারের সময় বস্তিবাসীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখন আমি বিনামূল্যে সকল চিকিৎসা পাচ্ছি কুর্মিটোলা হাসপাতালে।

তিনি বলেন, এই হাসপাতালে আমাদের অনেক বেশি সম্মান দেওয়া হচ্ছে। আমাদের যে খাবারটা দেওয়া হচ্ছে, তা বেশ উন্নত।

আরও পড়ুন: বন্দরে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই তিন বস্তির মানুষ ক্যানসার ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাও এখানে বিনামূল্যে পাচ্ছেন। সেবা নেওয়ার জন্য তাদের কেবল ১০ টাকা মূল্যের একটি টিকিট কাটতে হয়। এরপর বাকি সব ধরনের চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বস্তির প্রকৃত রোগীদের সহজে শনাক্ত করার জন্য বস্তিগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। একটি সমিতির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকেরাই রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এছাড়া, হাসপাতালে আসার পর তাদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টারসহ তাৎক্ষণিক সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আমরা রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক– এই তিন বস্তির নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এই তিন বস্তির মানুষকে হাসপাতালে এসে শুধু ১০ টাকা দিয়ে একটা টিকিট কাটতে হয়। বাকি সব দায়িত্ব আমাদের।

তিনি বলেন, হাসপাতালে ক্যানসার ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাও বিনামূল্যে পাচ্ছেন এসব বস্তির মানুষ। এখানে সবারই সমান এক্সেস রয়েছে। বস্তিতেই ভলেন্টিয়ার নিয়োগ করা আছে। একটি সমিতির মাধ্যমে তারা রোগীদের আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। বস্তি থেকে আসা রোগীদের সঙ্গে নিজস্ব কোনো লোক না থাকলেও হাসপাতালের কর্মীরাই দায়িত্ব নিয়ে তাদের সম্পূর্ণ সেবা দেন।

আরও পড়ুন: রাজউকের সেবায় নতুন গতি, ৭ মাসে ১১ হাজার আবেদন জমা

সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিনাজপুর সীমান্তে ৯ নারীকে পুশইনের চেষ্টা নস্যাৎ করল বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০২ পি.এম


দিনাজপুর সীমান্তে ৯ নারীকে পুশইনের চেষ্টা নস্যাৎ করল বিজিবি

দিনাজপুরের ভাইগড় সীমান্তের মাধ্যমে ভারতীয় ৯ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।

শনিবারের (২৫ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিরামপুর উপজেলা ভাইগড় সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে।

ঘাসুড়িয়া বিওপির কোম্পানি কমান্ডার টি আলম গণমাধ্যমকে এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, শনিবার ভোরে ঘাসুড়িয়া সীমান্তের ওপারে ভারতীয় শ্রী রামপুর এলাকার ২৯১ পিলারের ২০-এস এলাকা দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ সময়, বিজিবি সদস্য এবং গ্রামবাসীর প্রতিহতের ফলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা জড়ো হতে শুরু করেন। এর ফলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তারা আবারও ভারতে ফিরে যায়।

স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব আব্দুল আজিজ বলেন, ভোরে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের বাঁশির শব্দ শুনে ঘুম থেকে উত্তেজিত হয়ে উঠি। বাড়ি থেকে বাহিরে এসে দেখি ৯ জন মহিলা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। ওই সময় গ্রামবাসী তাদের প্রতিহত করে।

স্থানীয় কাটলা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য শুকুর আলী জানান, শনিবার ভোরে ভাইগড় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা ৯ জন নারীকে জোর করে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করে। পরে গ্রামবাসী এবং বিজিবি সদস্যরা তাদের প্রতিহত করেন। সকালে ওই এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে ভাইগড় বিওপির কোম্পানি কমান্ডার টি আলম জানান, ভারত থেকে অবৈধ পথে ৯ নারী বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। পরে বিজিবি সদস্যরা তাদের ভারত সীমান্তে ফেরত পাঠিয়েছে।

তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে কোনো ভারতীয় নারী যেন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেই লক্ষ্যে বিজিবি টহল বৃদ্ধি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফের উত্তাল হতে পারে সাগর, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৩ পি.এম


ফের উত্তাল হতে পারে সাগর, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ

বঙ্গোপসাগরে আবারো একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এই লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞপ্তিতে সব সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরের মধ্যে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানতা অবলম্বন করে চলাচল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি উপেক্ষা, জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান থাকছেন ভলকার তুর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৬ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি উপেক্ষা, জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান থাকছেন ভলকার তুর্ক

ঢাকা, ২৫ জুলাই, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইসরাইলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ শুক্রবার মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে ভলকার তুর্কের মেয়াদ আরও চার বছরের জন্য নবায়ন করেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদে ১৪৪টি দেশ সমর্থন দিয়েছে, ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। এই প্রক্রিয়ায় তুর্কের মেয়াদ নবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন মেয়াদটি শুরু হবে ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর থেকে।

এএফপি’র খবর অনুযায়ী, রাশিয়ার পক্ষ থেকে তুর্কের মেয়াদমাত্র কয়েক মাস বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাখার বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, তা বিপুল ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। একইভাবে, ভোট স্থগিত রাখার যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধও গ্রহণ করা হয়নি।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারবিষয়ক প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেফ বার্টোস চার বছরের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি প্রক্রিয়াগত ও নীতিগত—উভয় দিক থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এবং অভিযোগ করেন যে, গুতেরেস পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করেছেন।

ভোটের আগে বার্টোস সতর্ক করে বলেন, ‘কোনো ভুল করবেন না: যদি এই পরিষদ পদ্ধতিগত বাড়াবাড়ি, গোপন আঁতাত এবং জাতিসংঘের পদের অপব্যবহার মেনে নেয়, তবে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে জাতিসংঘে তার সম্পৃক্ততা, অংশগ্রহণ এবং অর্থায়ন পুনর্বিবেচনা করবে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুতেরেস তাড়াহুড়ো করে সময়সূচি এগিয়ে নিয়েছেন, যাতে তার দীর্ঘদিনের বন্ধুকে চার বছরের নির্বাহী মেয়াদের সুবিধা দেওয়া যায়।

তবে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফোঁ ভলকার তুর্কের প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি ‘বিবেকের কণ্ঠস্বর’। বোনাফোঁ বলেন, প্রথম মেয়াদে তুর্ক ‘দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে’ দায়িত্ব পালন করেছেন।

অস্ট্রিয়ার নাগরিক আইনজীবী ভলকার তুর্ক ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মানবাধিকারের সর্বজনীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

তার মেয়াদকালে তিনি রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন, গাজা যুদ্ধ, আফগানিস্তান, সুদান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং নিকারাগুয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরব ছিলেন।

কিন্তু, কিউবা, চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমদের পরিস্থিতি এবং গাজা প্রসঙ্গে সরাসরি ‘গণহত্যা’ শব্দ ব্যবহারের অভাবের কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। জাতিসংঘের কিছু বিশেষজ্ঞ ও প্রতিবেদকরা এই ক্ষেত্রে ওই শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।

ভলকার তুর্কের অবস্থানের কারণে রাশিয়া ও ইসরাইলসহ কিছু দেশের সরকারের তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

শুক্রবার, রাশিয়া ও ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতরা তার মেয়াদ নবায়নের বিরোধিতা করেন। তাদের বক্তব্য ছিল যে, জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের মেয়াদ চলতি বছরের শেষে শেষ হওয়ার কারণে মানবাধিকার কমিশনার নির্বাচনের বিষয়টি তার উত্তরসূরির উপরে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষার কক্সবাজারে পর্যটকের হাতছানি, হোটেল-রিসোর্টে বিশেষ অফার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৮ পি.এম


বর্ষার কক্সবাজারে পর্যটকের হাতছানি, হোটেল-রিসোর্টে বিশেষ অফার

বর্ষার আবহে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। উত্তাল ঢেউ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সৈকতে উপস্থিত হয়েছেন হাজারো পর্যটক। পর্যটকদের নিরাপদ সমুদ্রস্নানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। এদিকে, অফ-সিজনে দর্শকদের আকৃষ্ট করতে হোটেল-রিসোর্টগুলো সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত আকর্ষণীয় মূল্যছাড় দিচ্ছে।

বর্ষার আকাশ, উত্তাল সাগর এবং প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য—সব মিলিয়ে যেন নতুন এক কক্সবাজার। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সৈকতজুড়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণা দেখা যাচ্ছে। কিছু পর্যটক ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন সমুদ্রস্নানে, আবার কেউ বালুচরে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন। অনেকেই ক্যামেরায় বন্দি করছেন তাদের প্রিয় মুহূর্তগুলো। কেবল সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট নয়; পর্যটকরা মেতেছেন শৈবাল, সুগন্ধা এবং কলাতলী সৈকতেও। যেন সাগরের তীরে এক মানবিক মিলনমেলা বসেছে। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের গন্ডি লঙ্ঘন করে পর্যটকরা পাহাড়, ঝাউবন এবং দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ জুড়েও আগ্রহী হয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাইসা জান্নাত বলেন, ‘আমি ঢাকা থেকে এসেছি। এটি আমার পঞ্চমবার কক্সবাজারে আসা, এবং প্রতিবারই সৈকতে ঘোড়ায় চড়ার অভিজ্ঞতা নিয়েছি। এবারও দারুণভাবে উপভোগ করছি। কক্সবাজারের সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ।’

আরেক পর্যটক ইয়ানুর রহমান জানান, ‘এটা সত্যিই অন্যরকম এক অনুভূতি। মনোরম আবহাওয়ায় সমুদ্রসৈকত ঘুরে বেশ উপভোগ করছি। গরমের তীব্রতা নেই, রোদে সানবার্নের ঝুঁকিও কম। সব মিলিয়ে বর্ষার কক্সবাজারের পরিবেশ দারুণ উপভোগ্য।’

এক পর্যটক সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমার কাছে শীতের চেয়ে বর্ষার কক্সবাজার বেশি উপভোগ্য মনে হয়। এই সময় পর্যটকের চাপ কম থাকে, ফলে হোটেল সংকট থাকে না। এসময় স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা যায় এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যও ভরে ভরে উপভোগ করা যায়। আমি বিভিন্ন মৌসুমে কক্সবাজারে এসেছি, তবে বর্ষাকালের আবহাওয়া এবং পরিবেশই আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগছে।’

সাগর উত্তাল থাকায় বেড়ে গেছে ঢেউয়ের পরিধি। বালুচরের একাধিক পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে খাল বা গুপ্ত গর্ত। এ কারণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। পর্যটকদের সরাসরি সচেতন করতে বালুচরে টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা।

সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) কমিউনিটি এডুকেটর নাছিমা আক্তার জানান, ‘বর্তমানে সমুদ্রসৈকতে রেড ফ্ল্যাগ বা লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যার অর্থ সমুদ্রে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সমুদ্র এখন উত্তাল থাকায় পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ যদি পানিতে নামতেই চান, তাহলে অবশ্যই হাঁটুপানির বেশি গভীরে যাবেন না এবং লাইফগার্ডের নজরদারির মধ্যেই অবস্থান করবেন। এতে কোনো জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে লাইফগার্ড দ্রুত সহায়তা করতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো প্রতিটি পর্যটককে এই ঝুঁকির বিষয়ে সচেতন করা এবং নিরাপদ থাকার বার্তা পৌঁছে দেয়া। অনেকেই আমাদের পরামর্শ মেনে চলেন, আবার কিছু মানুষ তা উপেক্ষা করেন। তবুও আমরা নিরন্তর সবাইকে সতর্ক করছি, কারণ সচেতনতাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। যারা সতর্কবার্তা মেনে চলবেন, তারাই নিজেদের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন।’

সি সেফ লাইফগার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী জয়নাল আবেদীন জানান, ‘সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে। এই সময়ে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনক রিপ কারেন্ট (ক্যানেল) তৈরি হয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ। তাই আমরা লাইফগার্ডের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। যেসকল জায়গায় ঝুঁকি বেশি, সেখানে লাল পতাকা উত্তোলন করে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে। আমাদের পেট্রোল টিম ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ প্রশিক্ষিত লাইফগার্ডরা সার্বক্ষণিক পানিতে ও সৈকতে কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যাতে যেকোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।’

বর্ষা মৌসুমকে পর্যটনের জন্য অফ-সিজন বা মন্দা মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তবে এই সময়েও কক্সবাজারে দর্শক আকৃষ্ট করতে হোটেল-রিসোর্টগুলো সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিচ্ছে।

তারকামানের হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের মহাব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, ‘বর্ষাকালে কক্সবাজারের সৌন্দর্য ভিন্ন এক রূপ ধারণ করে। বৃষ্টি, উত্তাল সমুদ্র এবং সবুজ পাহাড় মিলিয়ে প্রকৃতি এ সময় এক অনন্য সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। এই অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে বর্ষা মৌসুম পর্যটকদের কক্সবাজারে আসার উপযুক্ত সময়। পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী ও আনন্দদায়ক করতে আমাদের হোটেল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে অতিথিরা নিশ্চিন্তে অবস্থান করতে পারেন এবং বর্ষার কক্সবাজারের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%