০১:৪২ এম
রাতভর ঘুমানোর পর সকালে ঘুম ভেঙে মাথাব্যথা অনুভব করা একটি সাধারণ সমস্যা। কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে মাথা ভার হয়ে থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে কপাল বা মাথার এক পাশে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রথমে মনে করেন, ঘুমের অভাব কিংবা শরীরে পানির ঘাটতি রয়েছে। আবার কিছু লোক ভয় পেয়ে যান, এটি কি স্ট্রোকের কোনো পূর্ব সংকেত? বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে মাথাব্যথা হলেই তা স্ট্রোকের লক্ষণ নয়, তবে কিছু উপসর্গ রয়েছে, যেগুলো দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে ভারতের গুরুগ্রামের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের এমএআইআইএনএসের চেয়ারম্যান ও নিউরোলজিস্ট চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্ত কিছু ভুল ধারণা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে,
আরও পড়ুন: সমাজ ও দেশের প্রতি চিকিৎসকদের দায়িত্ববোধ থাকা উচিত : রাষ্ট্রপতি
মাথাব্যথা ছাড়াও হতে পারে স্ট্রোক
অনেকে মনে করেন, স্ট্রোক হলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হবেই। তবে চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্ত জানান, সব স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা দেখা দেয় না। অনেক সময় ব্যথা ছাড়াই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই মাথাব্যথার জন্য অপেক্ষা করলে স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
তরুণদেরও স্ট্রোক হতে পারে
স্ট্রোক শুধু বয়স্কদের মধ্যে হয়, এমন ধারণাও ভুল। চিকিৎসকের মতে, বর্তমানে ৩০ ও ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঘটনা ঘটছে। এর পেছনে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত ঘুমের মতো বিষয়গুলো দায়ী। তাই বয়স কম বলে স্ট্রোকের ঝুঁকি নেই, এমন মনোভাব ঠিক নয়। নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: বারডেমে ক্যানসার পরীক্ষার অবিশ্বাস্য মূল্য, চিকিৎসার ধরনও জানা যাচ্ছে
উপসর্গ কমে গেলেও বিপদ কেটে যায় না।
হঠাৎ কয়েক মিনিটের জন্য মাথা ঘোরা, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। অনেকেই তখন বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকের মতে, এমন সাময়িক উপসর্গও মিনি স্ট্রোক বা ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাকের (টিআইএ) লক্ষণ হতে পারে। টিআইএকে অনেক সময় বড় স্ট্রোকের আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়। এর উপসর্গ সাময়িকভাবে চলে গেলেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকতে পারে।
স্ট্রোকের চিকিৎসা ঘুমিয়ে বা ঘরোয়া উপায়ে নয়।
মাথাব্যথা বা শরীরে অস্বাভাবিক কিছু অনুভব করলে অনেকেই বিশ্রাম নেন, ঘুমিয়ে পড়েন কিংবা ঘরোয়া উপশমের চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এমন অপেক্ষা বিপজ্জনক হতে পারে।
আরও পড়ুন: সাজিনাজ হাসপাতাল ও রেডিসনের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্তের মতে, স্ট্রোকের সময় প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। যত দেরি হয়, মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতির আশঙ্কা তত বাড়ে। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসা বা বিশ্রামের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া উচিত।
যে ৫ লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
চিকিৎসকের মতে, কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। বিশেষ করে—
হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা: কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই আচমকা প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হলে, বিশেষ করে জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা মনে হলে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা ৪২৭
শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া: হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশের শক্তি কমে যাওয়া।
কথা জড়িয়ে যাওয়া: হঠাৎ কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, কথা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া।
দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন: হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, এক বা দুই চোখে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া কিংবা দৃষ্টি হারানো।
বিভ্রান্তি, বারবার বমি বা খিঁচুনি: মাথাব্যথার সঙ্গে হঠাৎ বিভ্রান্তি, বারবার বমি কিংবা খিঁচুনি দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: সোনাবাড়ীয়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেলেন শতাধিক মানুষ
এ ছাড়া কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে মাথাব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
স্ট্রোকের লক্ষণ চিনতে মনে রাখুন BE-FAST।
স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা BE-FAST পদ্ধতির কথা বলেন। এতে ছয়টি বিষয় খেয়াল রাখতে হয়।
B (Balance): হঠাৎ ভারসাম্য হারানো বা হাঁটতে সমস্যা হওয়া।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ৬ নতুন বাস রুটের উদ্বোধন, কমছে মোট রুট সংখ্যা
E (Eyes): হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি হারানো।
F (Face): মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া।
A (Arms): এক হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া বা তুলতে না পারা।
S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া।
T (Time): এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া।
প্রতিদিন সকালে মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙলে প্রথমেই এর ধরন ও কারণ বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না, রাতে পানি কম পান করছেন কি না, অতিরিক্ত মানসিক চাপ রয়েছে কি না এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন