০৫:২৩ পি.এম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে দায়ের করা নতুন মামলায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী কেরামত আলীকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (০৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী সদর থানায় দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলা মামলায় কাজী কেরামত আলীকে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতে হাজির করা হয়। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে ১৫ অক্টোবর দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজবাড়ী সদর থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় শুনানির জন্য কাজী কেরামত আলীকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে হাজির করা হয়েছিল। শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২০২৭ সালের ১৮ জানুয়ারি ধার্য করেন আদালত।
আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাবিত বিধান নিয়ে আলোচনা
এদিকে, পরবর্তীতে গোয়ালন্দ আমলি আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইনের আদালতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার একটি মামলায় কাজী কেরামত আলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলাটি ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২৩ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন রেজা তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন।
কাজী কেরামত আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম আশা জানান, এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে কাজী কেরামত আলী প্রথমে গ্রেপ্তার হন। পরে উচ্চ আদালত থেকে তিনি ওই মামলায় জামিন লাভ করেন। পরবর্তীতে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হলে সেই মামলাতেও তিনি জামিন পান। এরপর আবারও তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছিল।
আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিয়মিত হাজিরার দিন ধার্য ছিল। তবে এর আগের দিনই গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন পেশ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আদালত তা মঞ্জুর করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পর থেকেই সাবেক এ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কারাগারে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাকে এ গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আরও পড়ুন: ইউপি নির্বাচনের জন্য তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ ইসির
আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজবাড়ী সদর থানায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে উৎস সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বুধবার (৪ নভেম্বর) তাকে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন