শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩০ পি.এম
র্যাব বিলুপ্তির পর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। নতুন আইনে এই বাহিনী গঠন করা হলেও এর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আগের মতোই রয়ে গেছে। বড় পরিবর্তন বলতে কেবল সাইনবোর্ডের নামের পরিবর্তন ঘটেছে।
বর্তমানে দাপ্তরিক সব কাজের ক্ষেত্রে ‘র্যাব’-এর পরিবর্তে ‘এসআরবি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন এই বাহিনীর জন্য বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে জোরেশোরে। পাশাপাশি তাদের লোগো, পোশাক এবং পতাকায় পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তন করে নতুন সংস্থা গঠন করা হলেও সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার হবে না।
জানা গেছে, এসআরবির নেতৃত্ব, জনবল, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, তহবিল অবকাঠামো এবং কার্যক্রম-এসব কিছু এসআরবিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। নতুন আইনে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি কার্যক্রম, গ্রেফতার, জব্দ, হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ পরিচালনাসহ যেসব ক্ষমতা এসআরবিকে দেওয়া হয়েছে, তা অনেকটা র্যাবের ক্ষমতার মতোই। তাই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসআরবিকে আগের প্রতিষ্ঠানের উত্তরসূরি হিসাবেই দেখবে। নতুন নামে পরিচালিত হলেও সংস্থাটি পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিমুক্ত থাকবে-এমনটি নাও হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য। তাদের মতে, এসআরবিও র্যাবের মতো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মধ্যেই থাকবে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬-এর অধীনে নতুন নামে কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে বাহিনীটি পুরোনো এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯) অধ্যাদেশের আইনি বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসেছে। নতুন আইনে নাগরিকদের অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। র্যাবের কাঠামো নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) সদস্যদের নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যুক্ত করা। নতুন এসআরবি আইনেও সশস্ত্র বাহিনী থেকে সদস্য নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তরফ থেকে সমালোচনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাহিনীটির পুরোনো জনবল, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা এবং ক্ষমতা বহাল রেখে কেবল নাম ও আইন পরিবর্তন করায় এর কার্যক্রমে মৌলিক কোনো রূপান্তর ঘটার সুযোগ সীমিত।
সরকারের দাবি, নতুন আইনের কঠোর তদারকি ও জবাবদিহির বিধান জারি থাকলে অতীতে ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতি রোধ করা সম্ভব হবে। এসআরবির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের যে কোনো ধরনের হয়রানি বা অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, আগের সব বিতর্কিত সংস্কৃতি পরিহার করে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস দমন এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে এসআরবি কাজ করবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নাম পরিবর্তন করে নতুন সংস্থা গঠন করা হলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহার হবে না। তিনি বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) থেকে কোনো সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি বা তা প্রত্যাহার করা একটি দীর্ঘ ও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। কেবল নাম পরিবর্তন বা নতুন নামে সংস্থা পুনর্গঠন করলেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় না।
তিনি আরও জানান, নতুন সংস্থা এসআরবির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নজর থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সংস্থাটির কার্যক্রম ও আচার-আচরণ পর্যবেক্ষণ করবেন। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, কাগজ-কলমে র্যাব বিলুপ্ত হলেও এসআরবি মূলত নতুন মোড়কে পুরোনো বাহিনী। র্যাব এবং এসআরবির মধ্যে মৌলিক কোনো পরিবর্তন নেই। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসআরবিকে র্যাবের উত্তরসূরি হিসাবেই বিবেচনা করবে। সামনের দিনগুলোতে এসআরবির কর্মকাণ্ডের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে বলে তিনি জানান।
এসআরবির মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান হাবীব পলাশ যুগান্তরকে বলেন, ‘র্যাবের নাম পরিবর্তন হয়ে এসআরবি হলেও কাজের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাঘাত বা পরিবর্তন ঘটেনি। কাজ আমরা ধারাবাহিকভাবে করে যাচ্ছি। নতুন আইনের মাধ্যমে আমাদের কাজের গতি বাড়ছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘২৪-এর জুলাইয়ের পর থেকে আমাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা রয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমি মনে করি। বিদেশি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার বিষয়ে আমরা বেশ আশাবাদী।
রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় দানবে পরিণত হয় র্যাব: ২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়। ওই সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থি জঙ্গিদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার ও বিডিআরের সমন্বয়ে এই ‘এলিট ফোর্স’ গঠন করা হয়। শুরুর দিকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ভয়ংকর জঙ্গিদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধারে এই বাহিনী সফলতা অর্জন করায় সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অপরাধ দমনের মূল লক্ষ্য থেকে সরে এসে এই বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন, ভিন্নমত হরণ এবং ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা শুরু হয়। বিচারব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’র নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি চালু করা হয়। র্যাব বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টি গোপন বন্দিশালা বা ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করে, যা পরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এসব স্থানে চরম অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। অতিরিক্ত ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এই বাহিনীর সদস্যদের কোনো ধরনের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়নি। হত্যার জন্য এক প্রকার অবাধ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল এই বাহিনীকে। লাগাতার মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র্যাব এবং এর তৎকালীন ও সাবেক বেশকিছু কর্মকর্তার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপরই দেশজুড়ে র্যাবের তৎকালীন বেপরোয়া কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়ে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর র্যাবের ভূমিকা নিয়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন ও গুম কমিশনের পক্ষ থেকে এই বাহিনীকে বিলুপ্ত করার জোরালো সুপারিশ করা হয়।
র্যাবের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং হেফাজতে নির্যাতনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ র্যাবকে একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিল। র্যাবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ও নিয়মিত অভিযোগ ছিল, তৎকালীন সরকারের বিরোধী বলে পরিচিত বা সন্দেহভাজনদের আটকের পর ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা এবং পরে সেগুলোকে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসাবে চালিয়ে দেওয়া। বিরোধী দলের নেতাকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সরকারের সমালোচকদের সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে র্যাবের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন বা বছরের পর বছর তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হতো। আটককৃতদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, বৈদ্যুতিক শক দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের নিষ্ঠুর পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো।
কোন সরকারের আমলে কত অপকর্ম: ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে র্যাব গঠনের পর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগ পর্যন্ত ২০ বছরে ৩ হাজার ৬৯৯ জনকে হত্যা করে র্যাব। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরেই হত্যার শিকার হন ২ হাজার ৬৯৯ জন। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’র হিসাবে ২০১৮ সালেই মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের নামে দেশজুড়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ৪৬৬ জন এবং গুম করা হয় ৬৭৭ জনকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি জানিয়েছেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে শিগগিরই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
তিনি আজ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকা পরিদর্শনকালে এসব মন্তব্য করেন।
এ সময় নদীভাঙনকবলিত এলাকায় কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "নদী ভাঙন রোধে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, সারা দেশের নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদী এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে একটি যুদ্ধ হচ্ছে ভাঙন মোকাবিলা করা।
এ সময় তিনি স্থানীয় জনগণের জানমাল রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি নির্দেশনা দেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ ইব্রাহীম, বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্যসচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ, সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনার বাস্তবায়নে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারকে ‘সবচেয়ে বড় বাধা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি।
আল-থানি সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন যে, নেতানিয়াহু সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘনের একটি দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, মধ্যস্থতাকারীরা চুক্তিটি কার্যকর রাখতে চেষ্টা করলেও ইসরায়েলি সরকারের অবস্থানের কারণে শান্তি পরিকল্পনার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কাতার গাজা শাসনকারী হামাসের সামরিক শাখাকে কখনো অর্থায়ন করেনি বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন আল-থানি। তিনি জানান, গাজায় কাতারের পাঠানো অর্থ জাতিসংঘ ও ইসরায়েল সরকারের পূর্ণ সমন্বয় ও অনুমোদনের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে এবং হামাসের সামরিক শাখায় কাতার কোনো অর্থ দেয়নি।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কাতারের ভূমিকা নিয়েও আল-থানি কথা বলেন। তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো দেশ বা পক্ষের নৌপথ অবরোধ করে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়।
কাতার এবং ইরানের সম্পর্কের বিষয়ে আল-থানি বলেন, দুই দেশ প্রতিবেশী এবং কয়েক দশক ধরে তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, উভয় পক্ষের জন্য উদ্বেগের কারণ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য এবং পেশাগত অনিশ্চয়তা দূর করার জন্য বক্তারা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য একটি জাতীয় ন্যূনতম বেতন কাঠামো প্রণয়ন, নিয়োগ ও কর্মপরিবেশের লিখিত নীতিমালা এবং পেশাগত প্রশিক্ষণসহ ছুটি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে রুটস অ্যান্ড রুটস ফাউন্ডেশনের (আরএনআর ফাউন্ডেশন) আয়োজনে ‘কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য: একটি জাতীয় সংকটের রূপরেখা’ শীর্ষক উন্মুক্ত সেমিনারে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।
সেমিনারে ঢাকার উত্তরখানের জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলামের মহাপরিচালক মাওলানা তোফায়েল গাজালী মন্তব্য করেন, ‘মাদ্রাসা কারও বাবার সম্পদ নয়। যারা মাদ্রাসায় পড়ান, তারা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল কর্মী নন। তারা একটি প্রজন্মকে শিক্ষা দিচ্ছেন। তাই তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার স্বায়ত্তশাসন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে শিক্ষকদের বেতন, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি। মাদ্রাসার নামে স্বায়ত্তশাসন থাকবে, কিন্তু শিক্ষকরা মানবেতর বেতন পাবেন, এই ব্যবস্থা চলতে পারে না।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, কওমি মাদ্রাসার বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অত্যন্ত কম বেতনে দীর্ঘ সময় ধরে পাঠদান করে আসছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের মাসিক বেতন এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা তার ন্যূনতম জীবনযাপন ব্যয় মেটানোর জন্যও যথেষ্ট নয়। অথচ এসব শিক্ষক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন শিক্ষা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
তারা আরও বলেন, কওমি শিক্ষকদের বেতন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। ফলে সমস্যাটির প্রকৃত আকার নির্ধারণ এবং কার্যকর নীতি প্রণয়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ জন্য দ্রুত একটি জাতীয় জরিপ পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
সেমিনারে মহিলা কওমি মাদ্রাসার নারী শিক্ষকদের বেতন ও কর্মপরিবেশ পৃথকভাবে জরিপ করে লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য দূর করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আরএনআর ফাউন্ডেশনের প্রধান মাওলানা সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
সেমিনারে আলোচনা করেন, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, ধানমণ্ডি তাকওয়া মসজিদের খতিব মাওলানা সাইফুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক আশরাফ মাহদী, বাংলাদেশ গ্রীণ পার্টির আহ্বায়ক রিদওয়ান হাসান, মীর হুজাইফা, হাফেজ কেফায়েত, আবদুস সাত্তার আইনী, আবদুল গাফফার, সাঈদ আবরার নদভী, আহমাদ গালিব, জাওয়াদ আহমাদ, রুহুল আমিন সাদী, আনছারুল হক ইমরান, শারাফাত শরীফ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের শিক্ষাগত ও নৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখছেন। তাদের পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা শুধু শিক্ষকদের স্বার্থের বিষয় নয়, এটি দেশের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
আরএনআর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কওমি মাদ্রাসার স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে শিক্ষক সমাজের বেতন বৈষম্য, কর্মপরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি বাস্তবসম্মত জাতীয় নীতিগত আলোচনা এখন সময়ের দাবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরখোলাবাড়িয়ায় রাস্তা থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ ইট তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে কুদ্দুসকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি আলহাজ খন্দকার নাসিরুল ইসলাম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দিগনগর ঘাট থেকে ট্রলারযোগে মধুমতি নদীর ভাঙনকবলিত চরখোলাবাড়িয়া এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। পরে আল হেলা দাখিল মাদ্রাসার হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দাবি জানান।
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, আমি পুলিশ প্রশাসনকে বলব, ইউএনওকে বলব,অনতিবিলম্বে কুদ্দুসকে গ্রেপ্তার করতে হবে।” তিনি বলেন, রাস্তা থেকে বিপুল পরিমাণ ইট তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
নদীভাঙনের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনারা আমাকে ভোট না দিলেও আমার মনটা আমার এলাকার মানুষের জন্য কাঁদে। মানুষের বাড়িঘর, চাষাবাদের জমি, বসতভিটা, সবকিছু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আপনারা যেমন চোখের পানি ফেলছেন, আমার চোখ দিয়ে হয়তো পানি পড়ছে না, কিন্তু আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চরখোলাবাড়িয়ার নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। পরদিন পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ভাঙন পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করবেন বলেও জানান।
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, যা ভেঙেছে, তা তো ভেঙেই গেছে। কিন্তু সামনে আর ভাঙন রোধ করা যায় কি না, সেই চেষ্টার জন্য কাল থেকেই আমি লাগব।
এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “উপায় নাই ভাই, ধৈর্য ধরতে হবে। একমাত্র আল্লাহর কাছে আল্লাহর রহমত চাইতে হবে।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান খসরু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব, উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন, প্রচার সম্পাদক নিয়ামত হোসেন পারভেজ, পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান কদর, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লিটন মোল্যা, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম ও স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন মিয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ