শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৯ এম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর 'হটস্পট' হিসেবে ঘোষণার পর বিশেষ সাত দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সম্পন্ন হওয়ার পর হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৫ দিনে বিভিন্ন হাসপাতালে গড়ে ১৩ দশমিক ৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এটি কমে ১০ দশমিক ৭৯ জনে নেমে এসেছে। রোগী ভর্তির এই নিম্নমুখী প্রবণতায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেলেও সংক্রমণের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এই অবস্থায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে নতুন করে মশক নিধন ওষুধ ছিটানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স জানিয়েছেন, ১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তখন দৈনিক গড় ভর্তি ছিল ১৩ দশমিক ৭৬ জন। অপরদিকে, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ক্র্যাশ প্রোগ্রামের পর ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন ভর্তি হয়েছেন ২০৫ জন, যেখানে দৈনিক গড় ১০ দশমিক ৭৯ জন। অর্থাৎ, দুই সময়ের হিসাব অনুযায়ী হাসপাতালে রোগী ভর্তির দৈনিক গড় প্রায় তিনজন কমেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক ফখরুল ইসলাম জানান, ওয়ার্ডগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কও দূর হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ হলেও ঝুঁকি এড়াতে পৌর এলাকায় আবারও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ফগার ও স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানো হবে।”
গত সেপ্টেম্বরের শেষদিকে সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো সীতাকুণ্ডকে 'হটস্পট' হিসেবে ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। ২৬ সেপ্টেম্বর বিশেষ ক্র্যাশ কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে উপজেলায় ৫১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাতটি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু হয়।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের নালা-নর্দমা, ড্রেন, ডোবা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে লার্ভিসাইড প্রয়োগের পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ ও বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সামাজিক ও যুব সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক মাইকিং পরিচালনা করা হয়।
চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তনয় মজুমদার বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তিনি জানান, আগে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কলেজ রোড ও লোকনাথ মন্দির এলাকার মতো স্থানগুলোতে এখন নতুন করে রোগী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে কেবল হাসপাতালে রোগী ভর্তি কমাকে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সরকারি হিসাবে আক্রান্ত কমার হার ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ হলেও বেসরকারি ল্যাব ও হাসপাতালের তথ্যে এই হার ৮ শতাংশ। তবে উভয় পরিসংখ্যানের সময়সীমা ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি তুলনা করার সুযোগ সীমিত।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, হাসপাতালে ভর্তি রোগী কমলেও এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে প্রজননস্থল ধ্বংসের অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, উঠান, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত টায়ারে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পেতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন ওষুধের স্প্রের পাশাপাশি আক্রান্তের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ ও রেড জোনগুলোতে ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য পরিচিত আবাসিক হোটেলগুলো খুলতে শুরু করেছে। কলকাতা হাইকোর্ট হোটেলমালিকদের করা মামলায় ১৩টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ খারিজ করে দেওয়ার পর একে একে চালু হচ্ছে হোটেলগুলো। দুর্গাপূজার আগে হোটেলগুলো খুলতে শুরু করায় মালিক, কর্মী ও বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গত আগস্ট মাসে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও ছিলেন। ওই ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে পৌরসভা ও দমকল বিভাগ তৎপর হয়। নিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত হওয়ায় বেশ কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে হোটেলমালিকদের একাংশের দাবি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ব্যবসায়ীরা। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৩টি হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। এরপর বন্ধ থাকা হোটেলগুলো আবার চালুর পথ খুলে যায়।
হোটেল ম্যানেজাররা জানান, দুর্গাপূজার কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে বাজারে ক্রেতাদের সাড়া ভালো রয়েছে। কয়েক দিন ব্যবসা কিছুটা খারাপ গেলেও বর্তমানে আবার গ্রাহক আসছেন। পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
প্রায় দুই মাস হোটেল বন্ধ থাকায় মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। তবে মধ্য কলকাতার মার্ক স্ট্রিট, রফি আহমেদ, কিদে স্ট্রিট ও সাদার স্ট্রিটসহ বিস্তীর্ণ এলাকার বন্ধ হয়ে যাওয়া আবাসিক হোটেলগুলো আবার চালু হয়েছে। এতে আশার আলো দেখছেন বাংলাদেশি পর্যটক ও হোটেল ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশি পর্যটকরা জানান, আগের মতো সেবা পাওয়া গেলে তাদের জন্য ভালো হবে।
অন্যদিকে, কাজ হারানোর শঙ্কায় ছিলেন হোটেল কর্মীরাও। আদালতের নির্দেশে হোটেলগুলো খুলতে শুরু করায় সংশ্লিষ্টরা আবারও ভালো ব্যবসার আশা করছেন। পাশাপাশি পরিবহন খাতেও ফিরেছে ব্যস্ততা।
হোটেলকর্মী ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানান, হোটেলগুলো খুলে যাওয়ায় পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তারা আশা করছেন সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরবে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। কেউ পূজা দেখতে আসেন, আবার কেউ চিকিৎসার প্রয়োজনে আসেন। ফলে নিউমার্কেট এলাকায় আবাসিক হোটেলের চাহিদাও বেড়ে যায়। হোটেলগুলো খুলতে শুরু করায় পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। তবে ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি হোটেলগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের পুঁজিবাজারে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে সূচকের পতনের মাধ্যমে। এই পতনের ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ৯৯ কোটি টাকা কমে গেছে।
এ তথ্যটি পুঁজিবাজারের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)
সপ্তাহের মধ্যে ডিএসইর বাজার মূলধন শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ বা ৯৯ কোটি টাকা কমেছে। চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন ৬ লাখ ৮৪ হাজার ১০৭ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।
ডিএসইতে চলতি সপ্তাহে সব সূচকের মানও কমেছে। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৩.৫২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। ডিএসইএস সূচক ৯.০১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। ডিএস-৩০ সূচকও ৯.১৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৩৫৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন ছিল ২ হাজার ৭৮২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এক সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ৪২৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন ৮৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বা ১৫.৪২ শতাংশ কমেছে। চলতি সপ্তাহের প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৭০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন ছিল ৫৫৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৮২টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১২০টি কোম্পানির দাম বেড়েছে, ২২৩টির দাম কমেছে এবং ৩৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)
অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের মধ্যে প্রধান সূচক সিএএসপিআই ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ০.৫৭ শতাংশ ও ০.৭৬ শতাংশ কমে ১৪৫৭৬.৫৯ পয়েন্ট ও ৮৯৪৮.৩০ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
এছাড়া, সিএসআই সূচক ০.৯৪ শতাংশ ও সিএসই-৫০ সূচক ০.৩০ শতাংশ কমে যথাক্রমে ৭৯২.০০ পয়েন্ট ও ১০৬৮.৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসই-৩০ সূচকও ০.১৩ শতাংশ কমেছে, যা ১৩৫১৬.৬৪ পয়েন্টে রয়েছে।
চলতি সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭২ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সপ্তাহের মধ্যে লেনদেন কমেছে ৩ কোটি ০৭ লাখ টাকা।
সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ২৮৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টির দাম বেড়েছে, ১৮৬টির দাম কমেছে এবং ২৪টির কোম্পানির শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট সিটি করপোরেশনকে (সিসিক) আধুনিক, নান্দনিক ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ১৫ দফা প্রাথমিক অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন আলহাজ মাওলানা আতাউর রহমান, যিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) মনোনীত মেয়র প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর তালতলার একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি তার নির্বাচনি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
আতাউর রহমানের ঘোষিত অঙ্গীকারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সুরমা নদীর ওপর যুক্তরাজ্যের লন্ডনের টেমস নদীর আদলে দুটি নান্দনিক সেতু নির্মাণ, নগরীর বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসায় বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ এবং সিলেটকে একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী জানান, খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক সম্প্রতি সিলেট সফরকালে তাকে আসন্ন সিসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
নগরীর ১২টি প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আতাউর রহমান বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জরাজীর্ণ সড়ক, যানজট, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সুপেয় পানির সংকট নগরবাসীর জন্য অন্যতম বড় ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসব সমস্যা সমাধানের জন্য তার ঘোষিত ১৫ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা হলো—জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, ডিজিটাল নাগরিক সেবা, প্রবাসীদের বিশেষ সেবা প্রদান ও তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বিদেশে অর্জিত অভিজ্ঞতা দিয়ে সিলেটের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চাই। দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সিলেটকে একটি শান্তির নগরী করাই আমার মূল লক্ষ্য।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা এমরান আলমসহ স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিকটে ইরান সমর্থিত হুথিদের দ্বারা চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন।
বৃহস্পতিবার আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে লক্ষ্য করে এই হামলা সংঘটিত হয়। হামলার সময় পশ্চিমা সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা নিরাপদ থাকলেও, প্রধানমন্ত্রীর দুই দেহরক্ষী নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে ইয়েমেন সরকার।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোআম্মার আল-এরিয়ানি বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে জানান, হুথিরা আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর প্রাসাদসংলগ্ন এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। এর আগে, বৃহস্পতিবার প্রাসাদের কাছে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছিলেন আল-জাজিরার সংবাদদাতারা।
আল-মাশিক প্রাসাদ সৌদি সমর্থিত এবং পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের প্রধান কার্যালয় ও ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানা থেকে আল-জাজিরার সংবাদদাতা ইউসুফ মাওরি মন্তব্য করেন, পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের প্রধান কার্যালয়ে হুথিদের এই ধরনের হামলা নজিরবিহীন।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনা দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত প্রদান করছে। ইয়েমেনে সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলেও জানান মাওরি। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক অন্যান্য শক্তিগুলোও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এডেনে হামলার সময়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজেও হুথি ও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র হয়ে উঠেছে। আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত হুথিরা একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাইজ শহরটি ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর এবং শহরটি ও বিস্তৃত তাইজ গভর্নরেটের নিয়ন্ত্রণ দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পশ্চিমা সমর্থিত সরকারপন্থি বাহিনীগুলো জানিয়েছে, তারা তাইজ গভর্নরেটের উপকূলীয় শহর ধুবাবের বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা প্রতিহত করছে। সরকারপন্থি হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্স এক বিবৃতিতে জানায়, তারা সাউদার্ন জায়ান্টস ব্রিগেডের সঙ্গে মিলে বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
তাইজে সহিংসতা বাড়তে থাকায় সেখানকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে বলে সতর্ক করেছে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা। রোববার দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেখানে ‘মানবিক বিপর্যয়ের’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, গত ১১ দিনে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ২০ বার হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এছাড়া, আরও কয়েকটি বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও বন্দরে হামলা চালানো হয়েছে।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সৌদি রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিমানবন্দরে হামলার ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, যাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে যেতে।
জোটের দাবি, হুথিদের এসব হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আল-মালিকি আরও অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক অন্যান্য দেশগুলো থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করছে হুথিরা।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংবাদ সম্মেলনটি সামরিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত কিছু ব্যর্থতার জবাব দেওয়ার চেষ্টা ছিল।
তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারার ঘটনা সৌদি আরবের প্রতিরোধক্ষমতা সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, হুথিদের কর্মকাণ্ড নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এলমাসরি। বিশেষ করে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলাকে তিনি নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের একটি বড় অংশ এবং প্রধান সরকারি অফিসগুলোর নিয়ন্ত্রণ মূলত হুথিদের হাতেই রয়েছে। ২০১৪ সালের শেষের দিকে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকে তারা সেখানে নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো ও সরকার পরিচালনা করে আসছে। তবে, কূটনীতি এবং জাতিসংঘের দপ্তরে ইয়েমেনের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি ভোগ করে কথিত ‘সরকারি বাহিনী’, যাদের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত চলছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ